নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

রাজীব নুর

আমি একজন ভাল মানুষ বলেই নিজেকে দাবী করি। কারো দ্বিমত থাকলে সেটা তার সমস্যা।

রাজীব নুর › বিস্তারিত পোস্টঃ

আর্কিমিডিস

১৬ ই অক্টোবর, ২০১২ বিকাল ৩:৫৬

আর্কিমিডিস একজন গ্রিক গণিতবিদ, পদার্থবিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, জ্যোতির্বিদ ও দার্শনিক। যদিও তাঁর জীবন সম্পর্কে খুব কমই জানা গেছে, তবুও তাঁকে ক্ল্যাসিক্যাল যুগের অন্যতম সেরা বিজ্ঞানী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।কৈশোর ও যৌবনে তিনি আলেকজান্দ্রিয়ায় গিয়ে পড়াশোনা করেছেন। সেই সময় আলেকজান্দ্রিয়া ছিল জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার পীঠস্থান। ছাত্র অবস্থাতেই আর্কিমিডিস তার অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা ও সুমধুর ব্যক্তিত্বের জন্য সর্বজন পরিচিত হয়ে ওঠেন। তার গুরু ছিলেন ক্যানন। ক্যানন ছিলেন জ্যামিতির জনক মহান ইউক্লিডের ছাত্র।আর্কিমিডিসের সমাধিফলকে একটি ভাস্কর্য রয়েছে যা সমান উচ্চতা ও ব্যাসের একটি গোলক ও একটি সিলিন্ডার নিয়ে গঠিত, যা তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত আবিষ্কারগুলোর একটিকে নির্দেশ করে।



আর্কিমিডিসকে সাধারণত প্রাচীন যুগের সেরা এবং সর্বাকালের অন্যতম সেরা গণিতজ্ঞ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।যদিও রোমানরা আর্কিমিডিসের কোন ক্ষতি করার উপর নিষেধাজ্ঞা ছিল, কিন্তু রোমানদের সিরাকিউজ অবরোধের সময় এক রোমান সৈন্যের হাতেই আর্কিমিডিস নিহত হন।আর্কিমিডিসের জন্ম আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব ২১২ সালে। সিসিলি দ্বীপপুঞ্জের অন্তর্গত সাইরাকিউস দ্বীপে। পিতা ফেইদিয়াস ছিলেন একজন জ্যোতির্বিদ।আর্কিমিডিস যুদ্ধকে ঘৃণা করতেন। কারো আজ্ঞাবহ হয়ে কাজ করাও তার প্রকৃতিবিরুদ্ধ ছিল। কিন্তু যেহেতু তিনি ছিলেন সাইরাকিউসের প্রজা, সম্রাট হিয়েরোর রাজকর্মচারী, তাই নিরুপায় হয়েই তাকে সম্রাটের আদেশ মেনে চলতে হতো।সম্রাটের আদেশেই তিনি প্রায় ৪০টি আবিষ্কার করেন। তার মধ্যে কিছু ব্যবসায়িক জিনিস হলেও অধিকাংশই ছিল সামরিক বিভাগের প্রয়োজনে।



আর্কিমিডিসের কাজের খুব কম লিখিত দলিল মধ্যযুগের পর অবশিষ্ট ছিল। কিন্তু সেই অল্পকিছু দলিলই পরবর্তীতে রেনেসাঁ যুগের বিজ্ঞানীদের কাছে খুবই উপকারী বলে বিবেচিত হয়।আর্কিমিডিসের বন্ধু হেরাক্লিডিস তাঁর একটি জীবনী লিখেছিলেন, কিন্তু সেটি পরবর্তীতে হারিয়ে যায়।লিভারের মূলনীতি বোঝাতে গিয়ে আর্কিমিডিস বলেছিলেন, "আমাকে একটা দাঁড়ানোর জায়গা দাও, আমি পৃথিবীকে তুলে সরিয়ে দেব"। ১৫৮৬ সালে গ্যালিলিও গ্যালিলি বাতাস ও পানিতে ধাতব বস্তুর ওজন নির্ণয়ের জন্য একটি হাইড্রোস্ট্যাটিক নিক্তি উদ্ভাবন করেন, যা আর্কিমিডিসের কাজ দ্বারা অনুপ্রাণিত বলে বলা হয়ে থাকে।



আধুনিক বলবিদ্যার হিসাব অনুযায়ী পৃথিবীর ভর প্রায় ৬,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০ টন (সূত্র: জ্যোর্তিবিদ্যার খোঁজ খবর-আবু রেজা)। এখন ধরা যাক আর্কিমিডিস যদি ৬০ কেজি ওজনের বস্তু ১ সেকেন্ডে ১ মিটার তুলতে পারেন তাহলে পৃথিবীর সমপরিমাণ ভর তুলতে তাঁর সময় লাগবে ১,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০ সেকেন্ড বা ত্রিশ লক্ষ কোটি বছর। মনে করা যাক আর্কিমিডিস তাঁর কল্পিত আর একটা পৃথিবী পেয়ে গেছেন। এবং পৃথিবীকে উত্তোলন করতে তাঁকে যে লিভারটি তৈরি করতে হতো তার ক্ষুদ্রতম বাহু অপেক্ষা বৃহত্তম বাহুর দৈর্ঘ্য হতো ১,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০ গুন। আর্কিমিডিস সেই কল্পিত লিভার দিয়ে সেকেন্ডে ৩,০০,০০০ কিঃমিঃ বেগে (আলোর বেগ) পৃথিবী ঠেলে ১ সেঃমিঃ তুলতে সময় লাগতো প্রায় ১কোটি বছর।বলবিদ্যার নিয়ম অনুযায়ী আমরা জানি, "যান্ত্রিক সুবিধা সবসময় সরণের হ্রাসের সাথে বা সময়ের সঙ্গে জড়িত"।



আর্কিমিডিসকে হত্যা করা হয়েছিল সম্ভবত ২৮৭ সালে। বিজ্ঞানীর ছিন্ন মুন্ডু দেখে গভীরভাবে দুঃখিত হয়েছিলেন মার্কিউলাস। তিনি মর্যাদার সাথে আর্কিমিডিসের দেহ সমাহিত করেন। সূত্র:"কোন বস্তুকে তরল পদার্থে আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে নিমজ্জিত করলে বস্তুটি কিছু ওজন হারায়।বস্তুর এই আপাত হারানো ওজন বস্তুটি দ্বারা অপসারিত তরল বা বায়বীয় পদার্থের ওজনের সমান।"এই বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব আর্কিমিডিসের সূত্র নামে পরিচিত।আর্কিমিডিসের আরেকটি আবিষ্কার পুল ও লিভার।এই আবিষ্কারের ফলে বড় বড় পাথর,ভারী জিনিস,কুয়া থেকে জল তোলার কাজ সহজ হল।



আর্কিমিডিসের গণিত সংক্রান্ত উল্লেখযোগ্য আবিষ্কার

ক. বৃত্তের পরিধি এবং ব্যাসের অনুপাত ৩ ১০/৭১ ও ৩ ১/৭ এর মধ্যে অবস্থিত।

খ. অদিবৃত্তীয় অংশগুলোর ক্ষেত্রফল নির্ধারণ করেছিলেন।

গ. শঙ্কুকৃতি এবং গোলাকৃতি বস্তুর সন্বন্ধে ৩২টি প্রতিজ্ঞা উদ্ভাবন করেছিলেন।

ঘ. বলবিদ্যার তত্ত্বের ভিত হিসেবে সমতল ক্ষেত্রের সাম্যতা সন্বন্ধে তত্ত্ব নির্ধারণ করেন।

বিজ্ঞানী আর্কিমিডিস ছিলেন সেই চিরস্মরণীয় বিজ্ঞানীদের অন্যতম। তিনি ছিলেন অসাধারণ মেধা ও বুদ্ধিমত্তার অধিকারী।



স্যার আইজ্যাক নিউটনের একটা কথা দিয়েই লেখাটা শেষ করি,"পৃথিবীর মানুষ আমাকে কি ভাবে জানিনা কিন্তু নিজের সম্মন্ধে আমি মনে করি আমি একটা ছোট ছেলের মত সাগরের তীরে খেলা করছি আর খুঁজে ফিরেছি সাধারণের চেয়ে সামান্য আলাদা পাথরের নুড়ি বা ঝিনুকের খোলা।সামনে আমার পড়ে রয়েছে অনাবিষ্কৃত বিশাল জ্ঞানের সাগর।"

মন্তব্য ৩ টি রেটিং +৫/-০

মন্তব্য (৩) মন্তব্য লিখুন

১| ১৬ ই অক্টোবর, ২০১২ বিকাল ৪:১৬

আমিনুর রহমান বলেছেন: অনেক কিছু জানলাম। ভালো লাগা রইল :)

২| ১৬ ই অক্টোবর, ২০১২ বিকাল ৪:২৬

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: সেই অনাবিস্কৃত জ্ঞান ভান্ডারের খোঁজ কের রাখে!!!

চলমান জ্ঞানের সাথে পাল্লা দিয়ে বা তার সবটুকু ব্যবহারের সুযোগই যেখানে মাত্র কয়েক পার্সেন্ট এর!!!

তবুও থেমে থাকবেনা এই পথ চলা। সবকিছূর পরও সৃষ্টিপাগল, জ্ঞান পাগল লোক গুলো নিরন্তর চলছে চলবে এই পথে!!

সকল জ্ঞানীদের প্রতি অকুন্ঠ শ্রদ্ধা, ভক্তিও ভালবাসা।

৩| ১৬ ই অক্টোবর, ২০১২ বিকাল ৫:০৪

ইলুসন বলেছেন: ভাল লাগল পড়ে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.