নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আমি একজন ভাল মানুষ বলেই নিজেকে দাবী করি। কারো দ্বিমত থাকলে সেটা তার সমস্যা।
স্টল বন্ধ করে বইমেলা থেকে বের হওয়ার সময় একটা বুড়ো লোক আমাকে বলল- একটা বই নেবেন স্যার? একেবারে নতুন বই, বড় অদ্ভুত বই। আমি বুড়োটার দিকে চোখ তুলে তাকালাম। কালো জামা পরা, মাথার চুল মেয়েদের মতন লম্বা। খোচা খোচা দাড়ি। গায়ের রঙ ময়লা। ভাঙ্গা গাল। কপালে রঙ দিয়ে কি যেন আঁকা। আর চোখ দু'টো পাথরের মতো। বুড়ো লোকটা তার জামার ভেতর থেকে একটা কালো মলাটের মোটা বাঁধানো বই আমার হাতে দিলেন। বুড়ো লোকটা কিছু বলছিল- কিন্তু মানূষের ভিড়ের শব্দের কারণে আমি ঠিক শুনতে পাচ্ছিলাম না।
আমার বন্ধু'রা টিএসসি'তে অপেক্ষা করছে, চা খাবো, আড্ডা দিবো- আমার মন পড়ে আছে সেখানে। আমি বই পাগল মানুষ। নতুন বই হাতে নিয়ে দেখতেও অনেক আনন্দ হয়। আমি বুড়োকে বললাম দাম কত? বুড়োটা অবাক হয়ে কিছুক্ষন হেসে বলল- দাম? এর কোনো দাম নেই। আরে খোকা, তুমি কি টাকা দিয়ে এক আকাশ জোছনা কিনতে পারবে? অথবা এক আকাশ মেঘ? এই নাও, বলে বুড়োটা আমার হাতে বইটা দিলো এবং বলল মধ্যরাতের পর বইটা পড়বে। বুড়োর হাত থেকে বইটা নেওয়ার সময় আঙ্গুলে আঙ্গুল ঠেকে গেল, অনুভব করলাম বুড়োর হাত বরফের মতন ঠান্ডা। আমি অবাক হয়ে বুড়োটার দিকে তাকাতেই দেখি- বুড়ো হাসছে রবং তার দাঁত গুলো ঝকমক করছে। বুড়ো বিদায় নেওয়ার সময় বলল- তুমি ঠিক আমার মনের মতন কিন্তু মনে থাকে যেন, ঠিক মধ্য রাত্রের পর... এই বলে বুড়োটা ভিড়ের মধ্যে কোথায় যেন মিশে গেলো।
বন্ধুদের সাথে আড্ডায় মন দিতে পারলাম না, সারাক্ষন মাথায় বাজছে বুড়োটার কথা- ঠিক মধ্য রাত্রের পর ...। খুব তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরলাম। খুব অস্থির লাগছিল। মা বলল- কি হয়েছে? আমি একটু হেসে বললাম, কই কি হয়েছে? ভাত দাও, খুব ক্ষুধা লাগছে। তাড়াতাড়ি ভাত খেয়ে নিলাম। মা বলল- এই গপগপ করে খাবি না, প্লেন ছেড়ে দিবে না। আমি অপেক্ষা করছি কখন মধ্যরাত শেষ হবে। আমি বিছানায় শুয়ে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে আছি। কিন্তু হঠাৎ কখন ঘুমিয়ে পড়েছি জানি না।
ঘড়ির ঢ়ং ঢ়ং শব্দে ঘুম ভাঙ্গল। চেয়ে দেখি দু'টা বাজে। বইটা হাতে নিলাম। মোটা একটি বই। প্রথম পৃষ্ঠায় লেখা- 'চোখ নেই বলে দেখতে পাওনা শুভঙ্করের ফাঁকি, চোখের মধ্যে গোপন কথা গোপন করেই রাখি।' আমি পাগলের মতন একের পর এক বইয়ের পৃষ্ঠা উ্লটাতে থাকি। কোনো কিছু একবার শুরু করলে শেষ না দেখে স্বস্তি হয় না। আমার মনে হচ্ছে বুড়ো লোকটা আমার পাশেই বসে আছে। বইটার দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় লেখা-' পৃথিবীতে দুইটি জগৎ আছে। একটা বইয়ের জগৎ এবং একটা বইয়ের বাইরের জগৎ। লেখগুলো পড়েতে পড়তে আমার গায়ে কাঁটা দিচ্ছে। দেরী না করে পরের পাতায় গেলাম। তৃতীয় পৃষ্ঠায় একটা ছবি-' ঘরবাড়ি, বাগান, বাড়ির পেছনে উঁচু পাহাড়, বাগানের পেছনে সমুদ্র, সমুদ্র থেকে একটা মেয়ে উঠে আসছে। নিখুঁত ছবি। এমন সুন্দর ছবি আমি খুব কমই দেখেছি।
আমি অনুভব করছি কে যেনো আমার মাথার ভেতর বলছে- 'আশে পাশে কেউ নেই তো! তোমাকে যেন কেউ না দেখতে পায়। এই বই দিয়ে তুমি তোমার ইচ্ছে মতো যা খুশি তাই করতে পারবে। পাহাড়, নদী, সমুদ্র, মানুষ্ সমাজ- ইচ্ছে মতো সাজিয়ে নিতে পারবে তোমার মনের মতন করে।'
আমি বইটা বন্ধ করে রেখে বেলকনি এসে দাঁড়াই। একটা সিগারেট জ্বালাই। নিজের অজান্তেই আমি একটা- সমুদ্র বানাতে থাকি। বিশাল সমুদ্রের পাশে একটা পাহাড় জুড়ে দিলাম। পাহাড়ের গায়ে একটা দোতলা কাঠের বাড়ি। আমি সমুদ্রের ঢেউয়ের শব্দ শুনতে পাচ্ছি। হঠাৎ আবার মাথার ভেতর কে যেনো বলল- তুমি ইচ্ছে করলেই এই সমুদ্রে নেমে যেতে পারো। আমি স্পষ্ট দেখলাম একটা মেয়ে মুখ ভার করে সমুদ্রের পাড়ে বসে আছে। যেনো সে কারো অপেক্ষায় আছে অনেকক্ষন ধরে! বেলকনিতে দাঁড়িয়ে আমি সমুদ্রের বাতাস গায়ে মেখে নিচ্ছি। ঠান্ডা বাতাস! কি আশ্চর্য বাতাসে মেয়েটির চুল এবং শাড়ির আঁচল উড়ছে। সত্যিই, বইয়ের বাইরের জগৎ অনেক অদ্ভুত। আমার শীত শীত লাগতে শুরু করলো। এমন সময় আমি সেই বুড়োটাকে দেখতে পেলাম পাহাড়ের চূড়ায় বসে আছে। যেনো আমাকে বলছে- এসো চলে এসো। এটাই তোমার নতুন পৃথিবী। আনন্দময় পৃথিবী। আমার ইচ্ছা করছে দৌড়ে গিয়ে মেয়েটির হাত ধরি। কেন জানি মনে হচ্ছে মেয়েটির হাত বরফের মতন ঠান্ডা হবে।
(পাঁচ বছর আগের লেখা গল্প। গল্পটি আগে সামুতে পোষ্ট করেছি কিনা মনে নেই।)
০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ১২:৪৬
রাজীব নুর বলেছেন: ধন্যবাদ মন্তব্য করার জন্য।
২| ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সকাল ১১:৩৮
রূপক বিধৌত সাধু বলেছেন: কাব্যিক।
০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ১২:৪৬
রাজীব নুর বলেছেন: জ্বী।
৩| ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সকাল ১১:৪৫
সিগন্যাস বলেছেন: বইয়ের জগত এক বিস্ময়ের জগত হলেও বাঙালিরা সেই জগতকে তেমন সাজাতে পারেনি। ষোল কোটি বাঙালি খুজেও ১৬ জন ভালো লেখক পাওয়া যাবেনা। বই প্রকাশের জন্য প্রকাশকের দয়ার উপর নির্ভর করতে হয়৷
০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ১২:৪৭
রাজীব নুর বলেছেন: লেখার মান ভাল হলে প্রকাশকের অভাব হয় না।
৪| ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সকাল ১১:৫৬
মাহের ইসলাম বলেছেন: বইয়ের জগতে অনেকেই বিচরণ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ১২:৪৮
রাজীব নুর বলেছেন: এর চেয়ে ভালো জগত দুনিয়াতে নেই।
৫| ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সকাল ১১:৫৮
মেহেদী হাসান হাসিব বলেছেন: খুব ভাল একটা গল্প। ব্যাতিক্রম অনুভূতি। বানানগুল সম্পাদনা করে নিন।
০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ১২:৪৯
রাজীব নুর বলেছেন: ধন্যবাদ।
৬| ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ১২:০৯
maraj chowdhury movin বলেছেন: ভালো লাগল
০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ১২:৪৯
রাজীব নুর বলেছেন: ধন্যবাদ।
৭| ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ১২:২১
শায়মা বলেছেন: বাহ ভাইয়া!!!!!!
এক্সসেলেন্টো!!!!
কিন্তু তারপর!!!
০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ১২:৪৯
রাজীব নুর বলেছেন: তারপর--
আসবে----
০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ১২:৪৯
রাজীব নুর বলেছেন: তারপর--
আসবে----
৮| ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ১:২৯
নষ্টজীবন® বলেছেন: হ, আসলেই খুব অদ্ভুত লাগলো
ভালো লিখেছেন ভাই
০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৫৭
রাজীব নুর বলেছেন: ধন্যবাদ।
৯| ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ২:৫৪
ভুয়া মফিজ বলেছেন: কেন জানি মনে হচ্ছে মেয়েটির হাত বরফের মতন ঠান্ডা হবে। তাতে সমস্যা কি? আপনার ধরার দরকার, ধরবেন।
০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৫৮
রাজীব নুর বলেছেন: হাত ধরলেই যদি লোভ এসে হানা দেয়?
০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৫৮
রাজীব নুর বলেছেন: হাত ধরলেই যদি লোভ এসে হানা দেয়?
১০| ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ২:৫৭
সনেট কবি বলেছেন: ভাল লিখেছেন।
০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৫৮
রাজীব নুর বলেছেন: ধন্যবাদ চাচা।
১১| ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ বিকাল ৩:৩৭
মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন: Excellent
০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৫৯
রাজীব নুর বলেছেন: শুকরিয়া।
১২| ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ বিকাল ৫:৩৫
প্রামানিক বলেছেন: ভালো লাগল।
০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৫৯
রাজীব নুর বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ।
১৩| ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ রাত ৯:৩৩
বোকা মানুষ বলতে চায় বলেছেন: ভালই ছিল।
০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ রাত ১০:১০
রাজীব নুর বলেছেন: শুকরিয়া।
১৪| ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ রাত ১০:৩৮
মাহমুদুর রহমান সুজন বলেছেন: বাহ বাহ ভাই গল্পটি দারুণ হয়ছে। যৌবন কালে ঠান্ডাকে ভয় কেন!
০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সকাল ৭:৫২
রাজীব নুর বলেছেন: ধন্যবাদ।
১৫| ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সকাল ১০:৪২
নীল আকাশ বলেছেন: শুভ সকাল,
বেলকনিতে দাঁড়িয়ে আমি সমুদ্রের বাতাস গায়ে মেখে নিচ্ছি। ঠান্ডা বাতাস! কি আশ্চর্য বাতাসে মেয়েটির চুল এবং শাড়ির
আঁচল উড়ছে। সত্যিই, বইয়ের বাইরের জগৎ অনেক অদ্ভুত। আমার শীত শীত লাগতে শুরু করলো। এমন সময় আমি সেই বুড়োটাকে দেখতে পেলাম পাহাড়ের চূড়ায় বসে আছে। যেনো আমাকে বলছে - এসো চলে এসো। এটাই তোমার নতুন পৃথিবী। আনন্দময় পৃথিবী। আমার ইচ্ছা করছে দৌড়ে গিয়ে মেয়েটির হাত ধরি। কেন জানি মনে হচ্ছে মেয়েটির হাত বরফের মতন ঠান্ডা হবে। - আপনার অন্যতম সেরা লেখার অংশ এটি। আমি মুগ্ধ! এই অংশটুকু নিয়ে একটা গল্প লিখে ফেলুন। দুর্দান্ত হবে!
এই পাঁচ বছরে কি আপনি একবারের জন্যও যেয়ে মেয়েটার হাত ধরতে পেরেছেন? আনন্দময় পৃথিবীটা কি দেখতে পেরেছেন?
ধন্যবাদ আর শুভ কামনা রইল!
০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ১:১২
রাজীব নুর বলেছেন: সুন্দর মন্তব্য করার জন্য অনেক ধন্যবাদ।
১৬| ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সকাল ১০:৫৩
পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: গতকাল রাতে পড়েছিলাম । কিন্তু সময়ের অভাবে কমেন্ট করতে পারিনি। আজও একি অবস্থা। পাঁচ বছর আগের পোস্ট বেশ ভালো লাগলো।
শুভকামনা ও ভালোবাসার প্রিয় ছোট ভাইকে।
০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ১:১২
রাজীব নুর বলেছেন: ধন্যবাদ দাদা।
১৭| ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সকাল ১০:৫৬
তারেক ফাহিম বলেছেন: পুর্বের লেখা
অনেক সুন্দর হয়েছে।
অন্যান্য ব্লগের চেয়ে আজকের ব্লগটি আমার কাছে অত্যন্ত ভালো লাগছে।
০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ১:১৪
রাজীব নুর বলেছেন: শুকরিয়া ভাইজান। অনেক শুকরিয়া।
©somewhere in net ltd.
১| ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সকাল ১১:২৯
কাওছার আজাদ বলেছেন: "বেলকনিতে দাঁড়িয়ে আমি সমুদ্রের বাতাস গায়ে মেখে নিচ্ছি। ঠান্ডা বাতাস! কি আশ্চর্য বাতাসে মেয়েটির চুল এবং শাড়ির
আঁচল উড়ছে। সত্যিই, বইয়ের বাইরের জগৎ অনেক অদ্ভুত। আমার শীত শীত লাগতে শুরু করলো। এমন সময় আমি সেই বুড়োটাকে দেখতে পেলাম পাহাড়ের চূড়ায় বসে আছে। যেনো আমাকে বলছে- এসো চলে এসো। এটাই তোমার নতুন পৃথিবী। আনন্দময় পৃথিবী। আমার ইচ্ছা করছে দৌড়ে গিয়ে মেয়েটির হাত ধরি। কেন জানি মনে হচ্ছে মেয়েটির হাত বরফের মতন ঠান্ডা হবে।"
কেন দেরি করছেন ভাই। উফ, মেয়েটি আর কতক্ষণ আপনার জন্য দাঁড়িয়ে থাকবে?