নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভাবছি ব্যবসা করবো। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

রাজীব নুর

আমি একজন ভাল মানুষ বলেই নিজেকে দাবী করি। কারো দ্বিমত থাকলে সেটা তার সমস্যা।

রাজীব নুর › বিস্তারিত পোস্টঃ

পুলিশ অফিসার

২৭ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ১১:২২



শাহেদ। পুরো নাম শাহেদ জামাল।
শাহেদ জামাল আমার বন্ধু। খুব ভালো বন্ধু, কাছের বন্ধু। সে একটা উপন্যাস লিখবে। উপন্যাসে নায়কের নাম থাকবে শাহেদ। শাহেদ থাকবে পুলিশ অফিসার। একজন সৎ, সাহসী পুলিশ অফিসার এবং সে তার দেশকে অনেক ভালোবাসে। আজকাল পুলিশে লোকজন ঢুকে ঘুষ খাওয়ার জন্য। সামান্য কমস্টেবলের চাকরি পাওয়ার জন্যও তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয়। টাকা দিয়ে পুলিশে জয়েন করতে হয় বলেই পুলিশ টাকা ছাড়া কিছু বুঝে না। লাখ লাখ টাকা নিয়ে এক শ্রেণির মানুষ বসে আছে পুলিশে চাকরী করার জন্য। অবশ্য পুলিশ হবার পর খুব অল্প সময়েই সেই টাকা সুদে আসলে উঠিয়ে নেওয়া যায়। খোজ নিলে জানা যাবে বেশীর ভাগ পুলিশের গাড়ি বাড়ি আর টাকার অভাব নেই। শাহেদ গাড়ি বাড়ি আর টাকার উপর তার কোনো লোভ নেই। সে পুলিশ হবে মানুষের সেবা করার জন্য। মানুষের সেবার করার চেয়ে মহৎ কাজ আর কিছু হতে পারে না।

উপন্যাসের নায়ক পুলিশে চাকরী পেয়ে যায়।
মজার ব্যাপার হলো- টাকা ছাড়াই শাহেদ পুলিশে চাকরী পায়। ধরা যাক, শাহেদ রমনা থানায় জয়েন করলো। শাহেদ মুভি দেখে-দেখে ছোটবেলা থেকেই পুলিশ হবার ইচ্ছা জন্মেছিলো। কারন শাহেদ পুলিশ হয়ে তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করবে। ঘুষ খাবে না এবং শাহেদ তার এলাকায় কোনো দুষ্টলোক রাখবে না। শাহেদ রমনা থানা এলাকায় সব মাদক বিক্রেতাদের ডেকে বলল, আজ থেকে রমনা এলাকায় মাদক বিক্রি করা চলবে না। যদি এরপর কেউ রমনা এলাকায় মাদক বিক্রি করে তাহলে তাকে বাইড়াইয়া হাড্ডি ছুটায়ে ফেলব। দেখা গেলো কোনো মাদক বিক্রেতা শাহেদের কথা কানে নিলো না। কারন মাদক বিক্রেতারা নিয়মিত থানায় টাকা দিয়েই মাদকের ব্যবসা করছে। মাদক বিক্রেতারা ভাবলো- শাহেদ নতুন জয়েন করেছে হয়তো নিয়ম কানুন কিছু জানে না। শাহেদ জানে এবং বিশ্বাস করে পুলিশ চাইলে এই ঘুনে ধরা সমাজ ঠিক করতে পারে। সে ক্ষমতা পুলিশের আছে।

শাহেদ মাদক বিক্রেতাদের ধরলো।
সিনেমার মতোন সব গুলাকে মেরে গুড়াগুড়া করে দিলো। মোটা মোটা লাঠি ওদের পিঠে ভাঙ্গল। সব গুলো মাদক বিক্রেতাকে মেরে হাসপাতালে পাঠালো এবং তাদের দিয়ে বলিয়েছে তারা আর মাদক বিক্রি করবে না। কসমও খেয়েছে। প্রয়োজনে রিকশা চালাবে। এরপর কেউ আর রমনা এলাকায় মাদক বিক্রি করে না। মাইরের উপরে কোনো ওষুধ নাই। বদমাশদের সাথে ভালো কথা বলে লাভ নাই। মাদকের ঝামেলা শেষ। এখন, শাহেদ পুরো রমনা এলাকায় ফুটপাত দখল করে রাখা লোকদের বলল, তোমরা আর ফুটপাত দখল করবে না। সাধারন মানুষের চলাচলে খুব কষ্ট হয়। তবে খালি জায়গায় তোমরা ব্যবসা করো। তবে খেয়াল রাখবে সাধারন মানুষের যেন কোনো সমস্যা না হয়। আইন মেনে চলতে হবে, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা থাকতে হবে। তবেই দেশে শান্তি বিরাজ করবে। ফুটপাতে যারা ব্যবসা করে তারা বলল, আমরা তো নিয়মিত থানায় টাকা দিয়েই এখানে ব্যবসা করছি। শাহেদ বলল, এখন রমনা থানায় আমি আছি। আমি সৎ লোক। আমার থানায় যদি কেউ টাকা নেয় তাহলে আমাকে জানাবেন। আমি ব্যবস্থা নিবো।

রমনা এলাকার ফুটপাত দখলমুক্ত হলো না।
ব্যবসায়ীরা শাহেদের কথা কানে নিলো না। শাহেদ রমনা এলাকায় সব ফুটপাত দখল করে রাখা লোকদের মারলো। মারতে মারতে হাড্ডি ভেঙ্গে দিলো। শাহেদ সাহসী। সৎ মানুষের সাহস বেশি থাকে। শাহেদের হাতে মার খেয়ে রমনা এলাকার ফুটপাত দখল মুক্ত হলো। যা সিটি করপোরেশন বছরের পর বছর ধরে করতে পারেনি। শাহেদ বিশ্বাস করে সৎ ইচ্ছা থাকলে মহৎ কাজ করা সম্ভব। এরপর শাহেদ রমনা এলাকার সমস্ত বখাটেদের ধরলো। এই সমস্ত বখাটেরা স্কুল কলেজের সামনে, শপিং মলের সামনে এবং রাস্তার মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে মেয়েদের উত্যক্ত করে। কুৎসিতভাবে চেয়ে থাকে, বাজে মন্তব্য করে। শাহদ বখাটেদের হাতে নাতে ধরলো। মারলো। মাইর ছাড়া কথা নেই। এদের বুঝিয়ে বললে কাজ হবে না। এই সমস্ত বখাটেরা বড় ভয়ঙ্কর হয়। সমস্ত বখাটেদের ধরে তাদের বাপ মায়ের কাছে নিয়ে যাওয়া হলো। বাপ মা জন্ম দিয়ে ছেড়ে দিয়েছে। এখন সমাজে নোংরামি করে বেড়াচ্ছে। কি দরকার ছিল এরকম ছেলে জন্ম দেওয়ার! দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল অনেক ভালো।

শাহেদ পুলিশে জয়েন করেছে ঘুষ খাওয়ার জন্য না।
তার দেশের প্রতি ভালোবাসা আছে। দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসা আছে। শাহেদ বখাটেদের বাপ মাকে বলল, এই ধরনের ছেলে জন্ম দিয়েছেন কেন? রাস্তায় রাস্তায় বখাটেপনা করার জন্য? ছেলে যখন জন্ম দিয়েছেন তাহলে খেয়াল রাখেন না কেন- কই যায়? কি করে? কার সাথে মিশে? এরপর যদি আপনাদের ছেলেরা এইরকম রাস্তার মোড়ে বা স্কুল কলেজের সামনে দাঁড়িয়ে বদমাইশি করে তাহলে আপনাদের ছেলেদের সাথে সাথে আপনাদেরও থানায় ধরে নিয়ে যাবো। সন্তান যখন জন্মই দিয়েছেন তাহলে তাদের দিকে খেয়াল রাখুন। সন্তানের প্রতি খেয়াল রাখলেই সন্তান বিপথে যাবে না। সন্তান জন্ম দেওয়া সহজ। সন্তানকে একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা সহজ কাজ নয়। যদি সন্তানকে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে না পারেন তাহলে দরকার নাই আপনাদের এমন ছেলের জন্ম দেওয়া। যাই হোক, এরপর রমনা এলাকায় বখাটেদের আর খুঁজে পাওয়া যায় নাই। এদিকে রমনা এলাকার জনগন শাহেদের উপর অনেক খুশি। তারা বলে প্রতিটা থানায় শাহেদের মতো এরকম একজন অফিসার থাকলে পুরো দেশের চেহারা বদলে যেত। যদিও থানার অন্যান্য ঘুষখোর পুলিশরা শাহেদের উপর নারাজ।

মন্তব্য ২২ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (২২) মন্তব্য লিখুন

১| ২৭ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ১১:৫৩

আকতার আর হোসাইন বলেছেন: হ্যাঁ, ঘুষখোরররা ভালোকেকে দেখতে পারে না।

লিখছেন নাকি তবে একটা উপন্যাস?

সত্যিই যদি এমন হতো খুব সুন্দর হয়ে যেত আমাদের দেশটা।

পুলিশ ও সাংবাদিরা জানে দেশের সমস্যা কোথায়, কিভাবে ঠিক করা যায় তাও জানে। কিন্ত এই দুই জায়গাতেই ওস্ট মানুষে ভরপুর।

২৮ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ৯:২৭

রাজীব নুর বলেছেন: একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে।

২| ২৮ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ১২:০১

চাঁদগাজী বলেছেন:


বাংলাদেশের মানুষ কিভাবে চলবে, সেটা ঠিক করে ব্যুরোক্রেটরা।

২৮ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ৯:২৭

রাজীব নুর বলেছেন: এই জন্যই তো দেশের আজ এই অবস্থা।

৩| ২৮ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ১২:০৩

চাঁদগাজী বলেছেন:


সরকারের বাজেটের টাকা কোথায় যায়, সেটা জানে ব্যুরোক্রেটরা।

২৮ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ৯:২৮

রাজীব নুর বলেছেন: সব যায় নব্য ধনীদের পেটে।

৪| ২৮ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ১২:১২

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:



রাজীব নুর ভাই,
গল্প ভালো হয়েছে। এমন দেশ দরকার। হয়তো হবে কোনো একদিন এমন দেশ - হয়তোবা।

২৮ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ৯:২৮

রাজীব নুর বলেছেন: এমন দেশ হওয়া খুব কঠিন কিছু না।

৫| ২৮ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ১২:২৭

সাইয়িদ রফিকুল হক বলেছেন: ঘটনা সত্য হলে ভালো।
এইরকম পুলিশ-অফিসার দেশে প্রয়োজন।

২৮ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ৯:২৯

রাজীব নুর বলেছেন: ঘটনা সত্য না। কাল্পনিক।

৬| ২৮ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ৩:২৩

সুপারডুপার বলেছেন:


রাজীব নূর ভাই,
বাংলাদেশে এই রকম পুলিশ অফিসারকে তার বস কয়েকদিনের মধ্যে বান্দরবনে ট্রান্সফার করে দিয়ে বলবে, "এবার বনের মধ্যে বসে মশার কামড় খাও আর ন্যায়নীতির কাজ করো !" B-)

২৮ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ৯:২৯

রাজীব নুর বলেছেন: হুম, এই রকমই হয়।

৭| ২৮ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ৭:৫৪

ইসিয়াক বলেছেন: ঘটনা সত্য হলে ভালো।
কিন্তু এই দেশে ভালো মানুষের ভাত নাই।অচিরেই সে একলা হয়ে পড়বে এবং তার মারাত্মক বিপদ আসন্ন। কারণ সব দূর্নিতীবাজেরা একই সুতোয় বাধা। তারা তাকে ফাঁদে ফেলবেই যতই সাবধানী হোক না কেন সে।

২৮ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ৯:৩০

রাজীব নুর বলেছেন: মানুষ সন জানে এবং বুঝে তারপরও এই দেশের এই অবস্থা!

৮| ২৮ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ১০:৩৬

নীল আকাশ বলেছেন: পলিশ অফিসার চরিত্র নিয়ে এই ব্লগে একমাত্র আমি গল্প লিখেছি। ভুলে গেলেন নাকি?
শবনম কাহিনীর ৩ পর্ব পড়ে আসুন। আরও এই ধরনের ঘটনা আছে।

২৮ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ১০:৩৯

রাজীব নুর বলেছেন: আমি তা অস্বীকার করি নাই ভাই।
আপনি যদি বলেন তো আর পুলিশ নিয়ে লিখব না।

৯| ২৮ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ১০:৫১

নীল আকাশ বলেছেন: অবশ্যি লিখবেন। পুলিশরাও আমাদের সমাজের অংশ।

২৮ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১:০৫

রাজীব নুর বলেছেন: ধন্যবাদ। ভালোবাসা নিরন্তর।

১০| ২৮ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ১০:৫৪

হাবিব ইমরান বলেছেন:
গল্পটা আশাবাদী করতে সাহায্য করবে। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন।

“মাদক ব্যবসায়ীদের পেটানোর কিছুদিন পর শাহেদের বদলীর আদেশ চলে এলো। তাকে বদলী করা হলো পার্বত্য বান্দরবন জেলায়। সেখানে এখন বেশিরভাগ সময় শাহেদ ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে ডিউটি পালন করে। বান্দরবনের জনসংখ্যা কম হওয়ায় তার ডিউটিতেটা কোন চাপ নেই”।

বাস্তবতা হলো ঠিক এরকম।

২৮ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১:০৬

রাজীব নুর বলেছেন: বাস্তবতা শুধু এই রকম না। আরো ভয়ঙ্কর।
শাহেদকে ঘুষের মামলা দিয়ে চাকরী চ্যুত করা হবে। কারাগারে পাঠানো হবে।

১১| ২৮ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ৮:০৭

ভুয়া মফিজ বলেছেন: ভাবছি রমনা থানা এলাকায় একটা ফ্ল্যাট কিনবো। পুরো ঢাকায় এটাকেই এখন বাসযোগ্য মনে হচ্ছে।
আপনার বন্ধুর ফোন নাম্বারটা দিয়েন। :)

২৮ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ৮:৫২

রাজীব নুর বলেছেন: ওকে। দিবো।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.