নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

রাজীব নুর

আমি একজন ভাল মানুষ বলেই নিজেকে দাবী করি। কারো দ্বিমত থাকলে সেটা তার সমস্যা।

রাজীব নুর › বিস্তারিত পোস্টঃ

দাদাজান

১৩ ই অক্টোবর, ২০২১ রাত ১২:৫৮


ছবিঃ আমার তোলা।

শীতকাল এখনও আসে নি।
কিন্তু বাজারে শীতের সবজি পাওয়া যাচ্ছে। শিম, ফুলকপি, টমেটো। শিমের দাম কিছুদিন আগেও ১২০ টাকা কেজি ছিলো। এখন ৬০/৮০ টাকায় এক কেজি পাওয়া যাচ্ছে। আর দেড়, দুই মাস পর শিম হবে ২০/২৫ টাকা কেজি। এখন টোমেটো কেজি ১২০ টাকা। এই টোমেটো ১৫/২০ টাকায়ও পাওয়া যাবে। বাজারের চেয়ে রাস্তায় ভ্যানগাড়িতে বিক্রি করা সবজির দাম কম। বুদ্ধিমান মানুষরা ভ্যানগাড়ি থেকেই সবজি কিনেন। ইদানিং সবজি কিনতে আমাকে বাইরে যেতে হয় না। বাসার কাছেই একলোক বিক্রি করে। তাকে ফোনে বললেই বাসায় এসে সবজি দিয়ে যায়। তবে দাম বেশি রাখে।

গতকাল রাতে খেতে বসেছি।
অনেক কিছুই রান্না হয়েছে। পোয়া মাছ, পাঙ্গাশ মাছ। শিং মাছ। ভাবী বললেন, পোয়া মাছ রান্না করেছে সুরভি। পাঙ্গাশ মাছ রান্না করেছে ভাবীর বাবা। শিং মাছ রান্না করেছে ভাবী। সুরভি পোয়া মাছ ভেজে রান্না করেছে। পাঙ্গাশ ভাবীর বাবাকে আমি রান্না করতে দেখেছি। ভদ্রলোক রান্না করতে পছন্দ করেন। মুহুর্তের মধ্যে পাঙ্গাশ মাছ ধুয়ে, ভেজে বেগুন আলু দিয়ে রান্না করে ফেললেন। সবাই বলল, খেতে নাকি ভালোই হয়েছে। পাঙ্গাশ আমি খাই না। রাতে ভাবীর রান্না শিং মাছ খেলাম। ফুলকপি, আলু আর টোমেটো দিয়ে রান্না করেছে। খেতে খুবই ভালো হয়েছে। এক পদ দিয়েই ভাত খেলাম। আরাম পেলাম।

ইদানিং আমার একটা বাজে অভ্যাস হয়েছে।
খেতে বসলে, টেবিলে নানান পদের খাবার না থাকলে আমার খেতে ইচ্ছা করে না। অথচ আমি সব খাবার খাই না। সব সময় এক দুই পদের বেশি খাই। অন্য খাবার ছুঁয়েও দেখি না। আমার দাদারও এই অভ্যাস ছিলো। দাদা সাত পদ ছাড়া খেতে বসতেন না। দাদা অন্ধ ছিলেন। কিন্তু হাত দিয়ে গুনে দেখতেন তাকে সাত পদ দেওয়া হয়েছে কিনা। প্রায় খাটের সাইজের দাদার একটা জলচৌকি ছিলো। সেখানে আসন পেতে দাদা খেতে বসতেন। খাওয়া শেষে একটা পান। সেই পান আবার সাজিয়ে দিতে হতো দাদীকে। দাদী ছাড়া অন্য কেউ পান মুখে দিলে দাদা সেই পান খেতেন না।

দাদার সাথে আমার কিছু সৃতি আছে।
আমার নাম রেখেছিলেন আমার দাদা। দাদা গ্রামে থাকতেন। আমরা ঢাকায় থাকতাম। বাবার সাথে আমি প্রায়ই গ্রামে যেতাম। ছোটবেলা দাদার সাথে পদ্মার পাড় দিয়ে হেটেছি। বিশাল পদ্মা। বিশাল ঢেউ। দাদা সাদা পাঞ্জাবী পড়তেন। হাতে থাকতো লাঠি। দাদা নানান নিষয় নিয়ে আমার সাথে গল্প করতেন। যেন আমি একটা বড় মানুষ। দাদার হাত ধরে হাঁটতে হাঁটতে বালাসুর চলে যেতাম। বালাসুরে বেশ কিছু মিষ্টির দোকান ছিলো। দাদা আমি দুজনেই আমরা মিষ্টি পছন্দ করতাম। দই, মিষ্টি আর রসমালাই। কি স্বাদ ছিলো। এরকম স্বাদ এযুগের দই মিষ্টিতে নেই। তবে ঢাকা শহরের চেয়ে গ্রামের দেশের দই মিষ্টির মান ভালো। খেতেও মজা।

দাদা ঢাকা এলে আমাদের বাসায় উঠতেন।
দাদা দেখতে ছিলেন একদম উত্তম কুমারের মতোণ। বুড়ো বয়সেও দাদা অনেক সুন্দর ছিলেন। স্মার্ট ছিলেন। দাদার ব্যাক্তিত্ব আমাকে মুগ্ধ করতো। দাদা অন্ধ হয়ে যাবার পরও সারা বিশ্বের সব খবর রাখতেন। কিভাবে তিনি এত খবর সংগ্রহ করতেন কে জানে! দাদার সাথে যুক্তি তর্কে কেউ পারতো না। দাদা দাবা খুব ভালো খেলতেন। দাদা আমাকে শুধু বলতেন হৃদয়বান মানুষ হও। তাহলে এই দুনিয়া তোমার হবে। আমি হৃদয়বান হতে পারিনি। অনেক ক্ষুদ্রতা, তুচ্ছতা আমার ভিতর। তবে আমি আমার সমস্ত ক্ষুদ্রতা তুচ্ছতা দূর করার চেষ্টায় আছি। আমার চেষ্টা সফল হবে। দেরী হোক যায় নি সময়।

মন্তব্য ১৪ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (১৪) মন্তব্য লিখুন

১| ১৩ ই অক্টোবর, ২০২১ রাত ১:২১

কামাল১৮ বলেছেন: জিনগত একটা ধারাবাহিকতা অবশ্যই আছে।তবে স্বামীর সাথে স্ত্রীর জিন যুক্ত হয়ে প্রতিনিয়ত একটা পরিবর্তন হয় এই যা।
এক বেলায় দুই রকমের মাছ বহুদিন খাই নাই।মাছ মাংস হলেও আমি মাছ বা মাংস দিয়ে খাই।আপনাদের এখনই খাবার সময়।

১৩ ই অক্টোবর, ২০২১ দুপুর ২:২৯

রাজীব নুর বলেছেন: মানুষের সব রহস্য লুকিয়ে থাকে জিনে।
বাঙ্গালীরা মাছ ছাড়া একদিনও চলে না।
খাওয়া দাওয়া ভেছে ভেছে খেতে পারলে দীর্ঘদিন নিরোগ থাকা সম্ভব।

২| ১৩ ই অক্টোবর, ২০২১ রাত ১:৫৭

সৌর কলঙ্কে পর্যবসিত বলেছেন: আমার দাদা কৃষিকাজ করতেন। জমিজিরাত ভালোই ছিলো। লোকে সম্মান করতো। দশ গ্রাম মাথায় নিয়ে বেড়াতেন। ফুফাত ভাইদের মুখে শোনা, আমার জন্মের সময় আমার দাদা আমার খালাত ভাইয়ের সাথে ঢাকা এসেছিলেন। তখন নাকি বৃষ্টি হয়ে নটরডেমের সামনে হাটু পানি। কিন্তু কিসের কি!! পাজামা ভাঁজ করে হাঁটুর উপর তুলে জুতো হাতে নিয়ে দে হাঁটা।

আমার দাদার পছন্দের খাবারের মধ্যে দুটো জিনিসের কথা আমার মাথায় আছে। একটা হলো মুড়ি, আরেকটা মাছের মাথা। মাছের মাথা আমাকে টানেনা যদিও, কিন্তু মুড়ি জিনিসটা আমি খাই লাগামহীন। কলেজে থাকা অবস্থায় আশেপাশের বন্ধু বান্ধবদের মুখে তাচ্ছিল্যমূলক "মুড়ি খা" কথাটার প্রচলন হয়েছিলো। কিন্তু আমার বন্ধুরা আমাকে চিনতো বলে, "মুড়ি খা" বলে কখনোই মজা নিতে পারেনি। কেউ ভুলে বলে ফেললেও আমার উত্তর মুখে প্রস্তুতই থাকতো, "এনে দে, খাই"

১৩ ই অক্টোবর, ২০২১ দুপুর ২:৩১

রাজীব নুর বলেছেন: আপনার দাদার জন্য শ্রদ্ধা রইলো।
মাছের মাথা আমারও প্রিয়।

৩| ১৩ ই অক্টোবর, ২০২১ সকাল ৯:২৮

আলমগীর সরকার লিটন বলেছেন: আসলে আমরা দাদা নানা দের কথা ভুলেই যাচ্ছি জানি না কেন? তবে আমার দাদা কে দেখিনি শুনেছি আমার দাদা একজন ভাল মানুষছিলেন মসজিদে ইমামতি করতেন দশ গ্রামের মানুষকে শাসন করতেন। যাক আমাদের দাদা দের কথা নতুন প্রজন্মদের বলা উচিত-------------------

১৩ ই অক্টোবর, ২০২১ দুপুর ২:৩৫

রাজীব নুর বলেছেন: ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য। ভালো থাকুন।

৪| ১৩ ই অক্টোবর, ২০২১ সকাল ১০:৩২

ইসিয়াক বলেছেন:




আপনার পোস্টটি পড়লাম।অনেক ভালো লেখেন আপনি।আপনার লেখা আমার ভালো লাগে।প্যাঁচ গোজ নাই। ভাষার জটিলতা মুক্ত লেখা। একটানে পড়ে ফেলা যায়। কিন্তু সমস্যা একটা আছে আপনার এই পারিবারিক পোস্টগুলোতে। কেমন যেন একটু দাম্ভিকতা, অহংবোধ ফুটে ওঠে লেখার মধ্যে।সেইটা আমার ভালো লাগে না। অবশ্যই এটা আমার ব্যক্তিগত পর্যালোচনা।

যা হোক ভালো থাকবেন। ব্লগে আরও নিয়মিত হবেন আগের মত।
শুভকামনা রইলো।

১৩ ই অক্টোবর, ২০২১ দুপুর ২:৩৮

রাজীব নুর বলেছেন: আমি দুঃখিত। আসলে সঠিকভাবে লিখতে জানি না। তাই অহংকার হয়তো এসে যায়। এটা আমার লেখার দোষ। আমি অতি সাধারণ মানুষ। অহংকার আমার পছন্দ নয়।

৫| ১৩ ই অক্টোবর, ২০২১ সকাল ১০:৪০

জুল ভার্ন বলেছেন: শীত আসতে না আসতেই শীতের শব্জিতে বাজার সয়লাব হলে দাম সাধারণ ক্রেতাদের হাতের নাগালের বাইরে।

ইসিয়াক বলেছেন, "কিন্তু সমস্যা একটা আছে আপনার এই পারিবারিক পোস্টগুলোতে। কেমন যেন একটু দাম্ভিকতা, অহংবোধ ফুটে ওঠে লেখার মধ্যে।"- বক্তব্যের সাথে কিছুটা সহমত। এই লক্ষণটা শুভ নয়।

১৩ ই অক্টোবর, ২০২১ দুপুর ২:৪১

রাজীব নুর বলেছেন: ইসিয়াক ভুল কথা বলেছেন।

৬| ১৩ ই অক্টোবর, ২০২১ সকাল ১১:২৪

খায়রুল আহসান বলেছেন: আমার জন্মের আগেই আমার দাদা প্রয়াত হয়েছিলেন বলে দাদাকে কখনো চোখে দেখিনি, কিন্তু তিনি একজন জ্ঞানী, সম্মানিত ব্যক্তি ছিলেন বলে জেনেছি। পেশায় তিনি শিক্ষক ছিলেন, একজন ইসলামিক স্কলার হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন। স্থানীয় মাসজিদে ইমামতিও করতেন।

সব মিলিয়ে পাঁচমিশেলি পোস্টটি ভালো লেগেছে।

১৩ ই অক্টোবর, ২০২১ দুপুর ২:৪৩

রাজীব নুর বলেছেন: আপনার মন্তব্য আমি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করি।

৭| ১৩ ই অক্টোবর, ২০২১ দুপুর ১:৪২

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: দাদা মানেই আসলে অনেক মজার স্মৃতি - যাদের সৌভাগ্য হয়েছে দাদার সাথে জীবন যাপনের তাদের জন্য।

১৩ ই অক্টোবর, ২০২১ দুপুর ২:৪৩

রাজীব নুর বলেছেন: ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.