নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

রাজীব নুর

আমি একজন ভাল মানুষ বলেই নিজেকে দাবী করি। কারো দ্বিমত থাকলে সেটা তার সমস্যা।

রাজীব নুর › বিস্তারিত পোস্টঃ

আমার জীবনের ইচ্ছা গুলো

১৫ ই এপ্রিল, ২০২৩ রাত ১২:২৬



আমার জীবনে মোট ৮৪ টি ইচ্ছা রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে এই ইচ্ছা গুলো বুকের মধ্যে চাপা পড়ে রয়েছে। ৩৫ বছর পার করে ফেলেছি সেই কবে, এখনও একটা ইচ্ছাও পূরন হয়নি। এজন্য আমি কষ্ট পাই এবং আমার অনেক যন্ত্রনা হয়। আমার জীবনের কয়েকটা ইচ্ছার কথা আজ আমি বলব। আমি একটা লাইব্রেরী করতে চাই। অসংখ্য বই থাকবে আমার লাইব্রেরীতে। লোকজন এসে আমার লাইব্রেরীতে আরাম করে বসে বই পড়বে। সদস্য হতে হবে, ফর্ম কিনতে হবে অথবা মাস শেষে চাঁদা দিতে হবে এরকম কোনো নিয়ম থাকবে না আমার লাইব্রেরীতে। মানুষ পড়বে আর জ্ঞান অর্জন করবে। জ্ঞানের চেয়ে সুন্দর দুনিয়াতে আর কিছু নেই।

আমি মনে করি, একজন ক্ষুধার্থকে একবেলা পেট ভরে খাওয়ানোর চেয়ে বেশি দরকার তাকে একটা কাজের ব্যবস্থা করে দেওয়া। তাহলে সে কাজ করে নিজের পেট নিজে ভরতে পারবে তিনবেলা। এজন্য আমি কমপক্ষে একশ' অসহায় ও দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চাই। তাঁরা কর্মের মাধ্যমে নিজেকে যোগ্য ও দক্ষ করে গড়ে তুলবে। নিজেকে প্রতিষ্ঠত করবে। এবং অন্যের কাছে হাত পাতবে না। প্রয়োজনে এদের আমি ট্রেনিং দেওয়ার ব্যবস্থা করবো। একজন মানুষ সঠিক ট্রেনিং পেলে সে নিজেকে বদলে ফেলতে পারবে। প্রতিটা মানুষের মধ্যে আছে সম্ভবনা। তাকে সময় দিতে হবে, সুযোগ দিতে হবে।

ঢাকা শহরে প্রায়ই দেখা যায় অল্প বয়সী ছেলেমেয়ে গুলো রাস্তার মধ্যে সকলের সামনে জুতোর আঠা দিয়ে নেশা করছে। আমি এদের কাছে যাবো। এদের বুঝাবো এই নেশা খারাপ। এতে কোনো উপকার নেই। এই সমস্ত কিশোর কিশোরীদের আমি স্কুলে ভরতি করিয়ে দেবো। তাদের থাকা ও খাওয়ার জায়গা করে দেবো। এসব ছেলেমেয়েদের মাথায় কেউ হাতা রেখে আদর ভালোবাসার কথা বলে না। সবাই দূর দূর করে। অথচ এরা মানুষের সন্তান। এদের বাবা আছে, মা আছে। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে এদের আজ এই অবস্থা। এদের সঠিক পথে আনা কঠিন কিছু না। সরকার সেতু করবে, রাস্তা করবে, আরো অনেক কিছু করবে কিন্তু এদের জন্য কোনো ব্যবস্থা করবে না। অথচ এদের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে।

এই সমাজে বহু ছেলেমেয়ে আছে টাকার অভাবে লেখাপড়া করতে পারে না।
দরিদ্র বাবা মা লেখাপড়ার খরচ জোগাবে না খাবার যোগাবে? এরকম দরিদ্র পরিবারের ছেলেমেয়েদের আমি বলব, তোমরা মন দিয়ে লেখাপড়া করে যাও, ভালো রেজাল্ট করো। এই লেখাপড়াই তোমাদের ভবিষ্যত গড়ে দেবে। টাকার চিন্তা তোমাদের করতে হবে না। টাকার ব্যবস্থা আমি করবো। অসংখ্য ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার দায়িত্ব আমি হাসি মুখে নিতে চাই। লেখাপড়া ছাড়া জীবনে বড় হওয়া যায়া না। সঠিক শিক্ষাই মানুষকে উন্নত করে। সুন্দর পথ দেখায়। একজন হৃদয়বান ও মানবিক মানুষ বানায়। অশিক্ষিত মানুষ, কুসংস্কার বিশ্বাসী মানুষ সমাজের জন্য ক্ষতিকর। তাই আমি মানুষকে আলোর পথ দেখাবো। তাতে সমাজের উপকার হবে, দেশের উপকার হবে।

আমি আমার নিজেকে নিয়ে ভাবি না।
আমি নিজে একা ভালো থাকতে চাই না। আমি চাই সকল কে নিয়ে ভালো থাকতে। আমি মানুষকে ভালোবাসি। আমি সহজেই কোনো মানুষের মুখে পাপ দেখি না বলেই বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেই। আমি একজন রিকশা চালকের কাঁধে হাত রাখি। তার সাথে বসে চা খাই, গল্প করি। আমি মানুষ হয়ে জন্মেছি, তাই আমাকে মানুষের পাশে থাকতে হবে। মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। তবেই আমার জন্ম ও জীবন সার্থক হবে। সুন্দর হবে। আমি আমার জীবন মানুষের জন্য বিলিয়ে দেবো। কি হবে ব্যাংকে অনেক টাকা জমিয়ে? কি হবে ফ্লাট কিনে? কি হবে অনেক জমি কিনে? কি হবে দামী গাড়ি কিনে? একদিন তো মরেই যাবো। মানুষ হয়ে যদি মানুষের কথা না ভাবি, মানুষের উপকারে না লাগি তাহলে আমি কিসের মানুষ?

এই সমাজে যারা অন্যায় করে আমি তাদের বুঝাবো।
যে লোকটা ফুটপাতে বাইক উঠিয়ে, তাঁরা সাথে আমি ঝগড়া করবো না। তাকে বুঝাবো এটা অন্যায়। প্রয়োজনে সে যতবার ফুটপাতে বাইক উঠাবে আমি ততবার তাকে বুঝাবো। যে লোকটা অকারনে হর্ন বাজায়। তাকে বুঝাবো, বারবার বুঝাবো। যে পর্যন্ত সে নিজেকে না শুধরে নিবে। যে সমস্ত ছেলে গুলো রাস্তার মোড়ে আড্ডা দেয়, তাদের বুঝাবো। বারবার বুঝাবো। মানুষের জীবনে সবচেয়ে বড় অস্ত্র হচ্ছে ভালোবাসা। ভালোবাসার কাছে মানুষকে একদিন না একদিন মাথা নত করতেই হয়। আমি আমার ইচ্ছা গুলো সত্য করতে চাই। তাহলেই আমার জীবন হবে আনন্দময়। আমার জন্য দোয়া করবেন, আমি যেন আমার লক্ষ্যে পৌঁছে যেতে পারি।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +৩/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.