নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

রাজীব নুর

আমি একজন ভাল মানুষ বলেই নিজেকে দাবী করি। কারো দ্বিমত থাকলে সেটা তার সমস্যা।

রাজীব নুর › বিস্তারিত পোস্টঃ

আমাদের শাহেদ জামাল- ৬২

০২ রা নভেম্বর, ২০২৩ সন্ধ্যা ৬:২৩



ভয়াবহ এক স্বপ্ন দেখে শাহেদ জামালের ঘুম ভাঙ্গলো।
স্বপ্নটা এই রকমঃ কে বা কারা শাহেদ জামালকে বস্তা বন্ধী করে ফেলেছে। তারপর বস্তা থেকে বের হয়ে শাহেদ দেখে সে বিশাল মরুভূমির মাঝখানে। চারপাশে কোনো বাড়িঘর নেই। ধু ধু মরুভূমি। ধু ধু প্রান্তর। বেশ গরম। এটা কি সাহারা মরুভূমি? শাহেদ জামালের গলা বুক শুকিয়ে গেছে। এই মুহুর্তে সে এক গামলা পানি খেয়ে ফেলতে পারবে। শাহেদ মনে মনে ভাবে এখন যদি তাকে কেউ এক জগ ঠান্ডা পানি দিতো। পানিতে বরফ থাকবে। বিনিময়ে শাহেদ তাকে একটা নিজের কিডনী দিয়ে দিতেও রাজী। তীব্র গরমে শাহেদ জামাল ঠিক করে নিঃশ্বাস নিতে পারছে না। অক্সিজেনের অভাবে যেন দম বন্ধ হয়ে আসছে। প্রিয় মানুষদের ছেড়ে এই দুর্গম মরুভূমিতে শেষমেষ তার মৃত্যু হবে? শরৎচন্দ্রের দেবদাসের মৃত্যুর চেয়ে এই মৃত্যু ভয়ংকর।

আকাশে সূর্যের অবস্থান দেখে সময় বুঝা যাচ্ছে।
এখন সময় দুপুর একটা। ক্ষুধা এবং পিপাসা শাহেদ জামালকে প্রায় কাবু করে ফেলেছে। শাহেদ বুঝতে পেরেছে এটা বাস্তব হতে পারে না। এটা অবশ্যই স্বপ্ন। এবং এই স্বপ্ন থেকে তাকে বেচে ফিরতে হবে। কথা হচ্ছে এরকম স্বপ্ন সে কেন দেখবে? অবশ্য সে রাতে ঘুমানোর আগে বাংলাদেশের চর অঞ্চল নিয়ে পড়াশোনা করেছে। স্বপ্নের কোনো ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই। স্বপ্নের ব্যাখ্যা খুজে দুর্বল চিত্রের লোকেরা। শাহেদ জামালের এক মামা ছিলো। সবুজ মামা। সে স্বপ্ন নিয়ে খুব সিরিয়াস। সকালের ঘুম থেকে উঠেই সে স্বপ্নের ব্যাখ্যার জন্য অস্থির হয়ে যেতো। শেষমেষ পাড়ার মসজিদের ইমাম সাহেব সবুজ মামার স্বপ্নের ব্যাখ্যা দিতেন। সমাধানও দিতেন। সমাধান হলো- মসজিদ মূরগী দেওয়া। চারজন দরিদ্র মানূষকে খাইয়ে দেওয়া। অথবা শাহজালালালের মাজারে সিন্নি দেওয়া।

শাহেদ জামালের ভাগ্য ভালো।
সূর্যের তেজ কমে এসেছে। আকাশে মেঘ দেখা দিয়েছে। যাক ভাগ্য সুপ্রসন্ন। তাহলে আরো কিছু ভালো ব্যাপার নিশ্চয়ই ঘটবে। দেখা গেলো এক বেদুইন নারীকে। সেই নারী ঘোড়ায় করে যাচ্ছে। শাহেদ জামাল তাকে হাত ইশারায় ডাকলো। মেয়েটা ঘোড়া থেকে নেমে এলো। শাহেদ জামাল বেদুইন নারীকে দেখে মুগ্ধ। এত সুন্দর! মিশরের রানী ক্লিওপেট্রা থেকেও এই মেয়ে হাজার গুন বেশি সুন্দর। বেদুইন হয়েছে তো কি হয়েছে? মানুষ তো। ধর্ম দিয়ে যারা মানুষ বিচার করে তারা মূর্খ। কিসের হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ বা খিস্টান? সবার একটাই পরিচয়- 'মানুষ'। মিথ্যা বলে লাভ নাই, সত্যি কথা হলো- বেদুইন মেয়েটাকে দেখে শাহেদ জামালের পিপাসা আর অক্সিজেনের অভাব মুহুর্তে দূর হয়ে গেলো। একবার শাহেদ জামালের ইচ্ছা হলো- এই স্বপ্নটাই সত্য হোক। বাস্তবে ফিরে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। যেহেতু বাস্তবের চেয়ে স্বপ্ন সুন্দর।

মেয়েটা পরিস্কার বাংলায় বলল-
এই ছেলে তুমি কে? এখানে কেমন করে এলে? শাহেদ জামাল মুগ্ধ হয়ে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে আছে। মেয়েটার কোমরে একটা ছোট্র ছুরি গোজা। পায়ে চামড়ার জুতো। বক্ষ বন্ধনী আর স্কার্ট পরা। মেদহীন ফর্সা পেট দেখা যাচ্ছে। মাথা ভরতি চুল গুলো খোলা। মেয়েটাকে দেখে প্রথম যে গানটা মাথায় আসে সেটা হলো- রবীন্দ্রনাথের একটা গান। গানটা অনেক সুন্দর। অতি মনোরম। ''তোমার খোলা হাওয়া, লাগিয়ে পালে/ টুকরো করে কাছি।/ আমি ডুবতে রাজি আছি, আমি ডুবতে রাজি আছি।'' মেয়েটা বলল- এক্সকিউজ মি। শাহেদ জামাল মেয়েটার কথা শুনতে পেলো না। কারন সে তখন সমুদ্রের পাড়ে। আর এই বেদুইন মেয়ে নীল সাদা শাড়ি পরে নাচছে। বাতাসে তার চুল উড়ছে। শাড়ির আঁচল বাতাসে তরঙ্গ তুলেছে। আর শাহেদ জামালের হৃদয়ে ঝড়। বিশাল বিশাল ঢেউ এসে ধাক্কা দিচ্ছে হৃদয়ে। জীবনের প্রতিটা মুহুর্তের জন্য রবীন্দ্রনাথ গান লিখে গেছেন।

স্বপ্নের শেষ দৃশ্যটা এই রকমঃ
বেদুইন মেয়েটার কোলে মাথা রেখে শাহেদ জামাল শুয়ে আছে। আর মেয়েটা শাহেদ জামালের মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। কিছুক্ষন আগে তারা দুজন একসাথে নাস্তা করেছে। মেন্যু অতি সামান্য। আজওয়া খেজুর, পোড়া মাংস, রুটি আর মধু। শরবত ছিলো না। তবে জম জম পানি ছিলো। জম জম পানির স্বাদ অতি মিষ্ট। অল্প খেলেই মন প্রান ভরে যায়। পরম শান্তিতে আর আনন্দে শাহেদ জামালের ঘুম এসে যাচ্ছে। মেয়েটার নাম বিলকিস। বিলকিস বলল- এখন তোমার যাওয়ার সময় হয়েছে। কিছুক্ষনের মধ্যেই আকাশ ফর্সা হবে। তোমার ঘুম ভেঙ্গে যাবে। স্বপ্ন থেমে যাবে। শাহেদ বলল, স্বপ্নের এই দুনিয়াই আমার ভালো লাগছে। আমি বাস্তবে ফিরে যেতে চাই না। বিলকিস আমি তোমাকে ভালোবাসি। আমৃত্যু আমি তোমার সাথেই থাকতে চাই। বিলকিসের চোখ ভরা জল।

মন্তব্য ১২ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১২) মন্তব্য লিখুন

১| ০২ রা নভেম্বর, ২০২৩ সন্ধ্যা ৭:০৭

সোনাগাজী বলেছেন:


ঢাকার মানুষ ভালো ঘুমায়, স্বপ্ন বেশী দেখে

০২ রা নভেম্বর, ২০২৩ সন্ধ্যা ৭:০৮

রাজীব নুর বলেছেন: আমি বেশি ঘুমাই। বেশি খাই। বেশি স্বপ্ন দেখি। বেশি ব্লগিং করি। বেশি ভালোবাসি।

২| ০২ রা নভেম্বর, ২০২৩ রাত ৯:৪৭

কামাল১৮ বলেছেন: বিএনপি এখন স্বপ্ন দেখছে তারা ক্ষমতায় যাবে।তারেক হবে প্রধান মন্ত্রী।

০৩ রা নভেম্বর, ২০২৩ বিকাল ৩:১৬

রাজীব নুর বলেছেন: ভুল স্বপ্ন দেখছে। ওরা শেষ।

৩| ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৩ সকাল ১০:২৮

কাছের-মানুষ বলেছেন: শাহেদ জামালের নাস্তার মেন্যু অতি সামান্য নয়, বরং লোভনীয়! আজওয়া খেজুর, পড়া মাংস সাথে রুটি আর মধু হলে আর কি চাই!

০৩ রা নভেম্বর, ২০২৩ বিকাল ৩:১৮

রাজীব নুর বলেছেন: দেশে আসুন আপনাকে এই খাবার খাওয়াবো।

৪| ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৩ সকাল ১০:৪০

ঢাবিয়ান বলেছেন: শাহেদ জামালের স্বপ্নে শুধু সুন্দরীদের আনাগোনা :-B

০৩ রা নভেম্বর, ২০২৩ বিকাল ৩:১৯

রাজীব নুর বলেছেন: শুধু নারী নয়, সমাজের অনেক কিছুইম সে স্বপ্নে দেখে।

৫| ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৩ সকাল ৯:৪০

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন:

কালিজিরা আর মধূ হচ্ছে জান্নাত থেকে পাঠানো অষুধ।
একমাত্র মৃত্যু ছাড়া সব রোগের জন্য মহাঅষুধ।

০৫ ই নভেম্বর, ২০২৩ দুপুর ১২:২৭

রাজীব নুর বলেছেন: ভূয়া কথা।

৬| ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৩ সকাল ১০:২৯

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন:

ছবির মহিলাটি কি মিশরের রাণী নাকি?
বড়ই সৌন্দর্য রমনী!

০৫ ই নভেম্বর, ২০২৩ দুপুর ১২:২৮

রাজীব নুর বলেছেন: ঠিক ধরেছেন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.