| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
রাজীব নুর
আমি একজন ভাল মানুষ বলেই নিজেকে দাবী করি। কারো দ্বিমত থাকলে সেটা তার সমস্যা।
কবিতার নাম- 'হোয়াইট ম্যানস বার্ডেন' (The White Man's Burden)।
কবিতাটি লিখেছেন- রুডইয়ার্ড কিপলিং। বেশ জনপ্রিয় কবির জনপ্রিয় কবিতা। কবিতাটি ১৮৯৯ সালে প্রকাশিত হয়। এই কবি ভারতে জন্ম গ্রহন করেন। তার কিশোরকাল ভারতেই কাটে। কবি কিপলিং বাচ্চাদের জন্য লিখতেন। কবি ১৯০৭ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। ১৮৯৪ সালে প্রকাশিত তার বিখ্যাত ফিকশনধর্মী বই 'দ্য জাঙ্গল বুক' নিয়ে অসংখ্য চলচ্চিত্র ও কার্টুন সিরিয়াল তৈরি হয়েছে। কিপলিং প্রথম ব্রিটিশ ব্যক্তি হিসেবে সাহিত্যে পুলিৎজার পুরস্কার পান। ১৮৮৬ সালে তাঁর লেখা প্রথম কবিতার বই 'ডিপার্টমেন্টাল ডিটিস' (Departmental Ditties) প্রকাশিত হয়।
রুডইয়ার্ড একটা হ্রদের নাম।
রুডইয়ার্ড কিপলিং এর বাবা মায়ের এই হ্রদ অনেক ভালো লেগে যায়। তাদের বাসার কাছেই এই হ্রদ। এজন্য তারা তাদের ছেলের নামের শুরুতে এই হ্রদের নাম (রুডইয়ার্ড) বসিয়ে দেন। রুডইয়ার্ডের বাবা জন লকউড কিপলিং জে জে আর্ট কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন। রুডইয়ার্ডের প্রথম উপন্যাস 'দ্যা লাইট দ্যাট ফেইল্ড' তেমন সফলতা পায়নি। ১৯৩৬ সালের ১৮ জানুয়ারি ৭০ বছর বয়সে রুডইয়ার্ড কিপলিংয়ের মৃত্যু হয়। যে পাখি আকাশে উড়বে, তার ডানা ঝাপটানো দেখলেই বুঝা যায়।
১৯০১ সালে রুডইয়ার্ড প্রকাশ করেন উপন্যাস 'কিম'।
'কিম' অনেক সমালোচকের মতে তার শ্রেষ্ঠ উপন্যাস। উপন্যাসে তিনি বলছেন, এক অনাথ আইরিশ ছেলের কথা, যে লাহোরের রাস্তায় বড় হয়েছিল। তার বাবার আর্মি রেজিমেন্টের খরচে সে পড়াশোনা শেখে। কীভাবে সে 'দ্য গ্রেট গেম', ভারতের সীমানায় গ্রেট ব্রিটেন আর রাশিয়ার মধ্যে হওয়া গুপ্তচরবৃত্তির স্নায়ুযুদ্ধে নিজেকে জড়িয়ে ফেলে তা দেখিয়েছেন। কিপলিং চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবের পোয়েট কর্নারে; টমাস হার্ডি এবং চার্লস ডিকেন্সের পাশে।
১৮৯৯ সালে তিনি 'দ্য হোয়াইট ম্যান'স বারডেন' কবিতায়-
ধারালো এবং কুৎসিত জাতিবিদ্বেষী মনোভাব ছড়িয়ে দিয়েছিলেন, লিখেছিলেন 'অর্ধেক শয়তান আর অর্ধেক মানবসন্তান' -এর কথা। অগাধ বিশ্বাস দেখিয়েছিলেন সাম্রাজ্যবাদের ওপর। ইংরেজি সাহিত্য রচনা করেননি বরং ইংরেজিতে বিশ্বসাহিত্য লিখেছেন। তাই তার লেখা বিশ্বসাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ। এই কবিতার কয়েকটি লাইন এই রকমঃ 'Take up the White Man's burden/ Send forth the best ye breed/ Go bind your sons to exile/ To serve your captives' need'।
রুডইয়ার্ড এর 'যদি' কবিতাটি আমার পছন্দের। এই কবিতার কয়েকটি লাইন এই রকমঃ
'যদি শত্রু অথবা প্রিয় বন্ধুরও কষ্ট মনে না রাখো
যদি সমাজের সবাইকে তুমি সমতার চোখে দেখো,
যদি জীবন থেকে এক মুহূর্তও অচপয় না হয়
ষাট-সেকেন্ডে পৌঁছাতে পারো এক মিনিটের পথ।
পুরো পৃথিবী তখন-ই তোমার হাতের মুঠোয় ফুটবে
প্রিয় সন্তান-তুমিও প্রকৃত মানুষ হয়ে উঠবে।
তথ্যসুত্রঃ আনন্দবাজার পত্রিকা এবং উইকিপিডিয়া।
২|
০৩ রা জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৯
মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন: আপনি বেগম জিয়াকে নিয়ে লিখতে থাকুন ।
দেশে এখন এটাই লেখার একমাত্র টপিক।
৩|
০৩ রা জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:০০
সূচরিতা সেন বলেছেন: দাদু আপনার পূর্ব পুরুষ সম্ভবত ভারতের ছিল।
৪|
০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৩৯
মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন:
আর অবসর সময়ে দমে দমে জিকির করুন ও সেই সাথে দোয়ায়ে ইউনুছ পাঠ করতে থাকুন।
৫|
০৫ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৭:২৪
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
এই বিশ্ব নন্দিত ইংরেজ কবিকে নিয়ে পোস্ট দেয়ার জন্য ধন্যবাদ । আমাদের সময় নবম/দশম শ্রেণীর ইংলিশ
পাঠ্য বইয়ে এই কবির একটি বিখ্যাত কবিতা ছিল । কবিতাটি পড়াতেন আমাদের হেডমাস্টার বাপু স্যার ( তিনি
সকলকে বাপু বলে ডাকতেন বলে তাকেই আমরা সবাই বাপু স্যার বলেই ডাকতাম) । তিনি এত সুন্দর করে
এই কবির জীবনী সম্পর্কে আমাদের অনেক চমকপ্রদ কথা শুনাতেন । কবির প্রতি আমার ভালবাসা সেই
তখন থেকেই । উচ্চ শিক্ষার জন্য বিলাতে যাওয়ার সুযোগ হওয়ায় এক স্টাডি শফরে এই প্রিয় কবির
বাল্যকালের বসকালীন আবাসভুমি (4 Campbell Road, Southsea, UK) দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল ।
English Heritage blue plaque marking Kipling's time in Southsea, Portsmouth
এখানে এই পোস্টে তুলে দেয়া তার If (যদি) কবিতাটি তার সেরা কবিতাগুলির মধ্য অন্যতম ।
Rudyard Kipling-এর কাজ, জীবন ও স্মৃতিকে কেন্দ্র করে একটি বড় ও আন্তর্জাতিক সাহিত্য সমাজ আছে,
যেটি তাঁর সব কাজের মধ্যে If , Gunga Din-এর মতো সকল কবিতা, সাহিত্যকর্ম , গবেষণা, আলোচনা
সংরক্ষণ করে সেটি হলো: The Kipling Society
দ্য কিপলিং সোসাইটি একটি বিখ্যাত সাহিত্য সমাজ যা Rudyard Kipling-এর সমগ্র লেখাগুলো, তাঁর
জীবনচরিত্র, কবিতা, গল্প, এবং তাঁর সাহিত্য-ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করে। আগ্রহী যে কেও নীচের লিংক
ফলো করে The Kipling Society এর সদস্য হতে পারবেন । ইচ্ছে করলে আপনিউ সদস্য হতে পারেন ।
https://www.kiplingsociety.co.uk/membership-registration-form.htm
আমি এখানে এই সুযোগে প্রিয় কবির রচিত Gunga Din ( পানি বিতরনকারী ভিস্তি ওয়ালা) কবিতাটির
একটি সরল বঙ্গানুবাদ রেখে গেলাম । আশা করি আগ্রহী পাঠকের কাছে তা ভাল লাগবে ।
গুঙ্গা দিন
(রুডইয়ার্ড কিপলিং)
কাব্যিক বাংলা অনুবাদ
তুমি জিন আর বিয়ারের গল্প করো
যখন নিরাপদ কোয়ার্টারে বসে থাকো
পেনি ফাইট আর অল্ডারশটের আড্ডায় পাঠানো হলে;
কিন্তু যখন আসে খুনোখুনি,
তখন কাজ চলে শুধু জলের জোরে
আর যার হাতে জল, তার বুট চেটে নাও লজ্জা ভুলে।
ভারতের রৌদ্রভরা দেশে
যেখানে কেটেছে আমার দিন
রানির মহিমার সেবায়
কালো-মুখো সেই সব জনতার ভিড়ে
সবচেয়ে ভালো মানুষটি ছিল
আমাদের রেজিমেন্টের ভিস্তি- গুঙ্গা দিন।
দিন! দিন! দিন!
ওই খুঁড়িয়ে চলা ইটগুঁড়োর দলা, গুঙ্গা দিন!
এই! তাড়াতাড়ি আয়!
জল দে পানে লাও!
ওই চ্যাপ্টা নাকের মূর্তি, গুঙ্গা দিন!
তার পোশাক বলতে তেমন কিছুই ছিল না,
তারও অর্ধেকের চেয়ে কম পিছনে ঝুলত;
এক টুকরো প্যাঁচানো ন্যাকড়া
আর ছাগলের চামড়ার জলথলি
এই ছিল তার সমগ্র রণসাজ।
ঘর্মাক্ত সৈন্যবাহী ট্রেন
দিনভর সাইডিংয়ে দাঁড়িয়ে থাকত
এমন গরমে ভ্রু পর্যন্ত পুড়ে যেত;
আমরা হ্যারি বাই! চেঁচাতাম
গলা শুকিয়ে ইট হয়ে গেলে
তারপর সবাইকে জল দিতে না পারলে
তাকেই মারতাম।
দিন! দিন! দিন!
ওরে কাফের, কোথায় ছিলি এতক্ষণ?
জলটা তাড়াতাড়ি আন,
না হলে এই মুহূর্তে পেট ফাটাবো
হেলমেট ভরে দে, গুঙ্গা দিন!
দিনভর ছুটে ছুটে
শেষ আলো নিভে যাওয়া পর্যন্ত
ভয়ের মানে যেন সে জানতই না।
আমরা আক্রমণ করি বা ছত্রভঙ্গ হই
বিশ্বাস রাখো
পঞ্চাশ কদম পেছনে, ডান দিকেই
সে দাঁড়িয়ে থাকত।
পিঠে ঝোলানো তার জলথলি,
আমাদের সাথে লাফিয়ে চলত সে
বিউগল ফিরে যাও না বাজা পর্যন্ত
ময়লা চামড়া আর ধুলোয় ঢাকা হলেও
ভেতরে সে ছিল একদম সাদা
গুলির মধ্যেই আহতদের সেবা করত!
দিন! দিন! দিন!
সবুজ মাটিতে গুলি ধুলো ছিটালে
কার্তুজ ফুরোলে শোনা যেত সামনের সারি থেকে
এই! গোলাবারুদ-খচ্চর আর গুঙ্গা দিন!
আমি ভুলব না সেই রাত
যখন লড়াইয়ের পেছনে পড়ে গিয়েছিলাম
বেল্ট-প্লেটের জায়গায় গুলি বিঁধে।
তৃষ্ণায় পাগল হয়ে শ্বাস আটকে আসছিল,
আর যে প্রথম আমাকে দেখেছিল
সে ছিল আমাদের হাসিমুখ, গুঙ্গা দিন।
সে আমার মাথা তুলল
রক্তের জায়গা বেঁধে দিল
আর দিল আধ পাইন্ট সবুজ জল।
জলটা ছিল পচা, গন্ধে ভরা
তবু জীবনে যত পানীয় পেয়েছি
এর চেয়ে প্রিয় কিছু নেই গুঙ্গা দিনের জল।
দিন! দিন! দিন!
এখানে এক বেচারা, পেটে গুলি লেগেছে!
মাটিতে গড়াগড়ি খাচ্ছে,
চারদিকে লাথি মারছে
ভগবানের দোহাই, জল আন, গুঙ্গা দিন!
সে আমাকে তুলে নিল
এক ডুলির পাশে নিয়ে গিয়ে,
ঠিক তখনই গুলি এসে তাকে বিঁধল।
আমাকে নিরাপদে শুইয়ে দিয়ে
মরবার আগে শুধু বলল
আশা করি, জলটা ভালো লেগেছে।
পরে আমি তার সঙ্গে আবার দেখা করব
সেই জায়গায়, যেখানে সে গেছে
যেখানে সারাক্ষণই ডাবল ড্রিল
আর কোনো ক্যান্টিন নেই।
সে আগুনের ওপর বসে
অভাগা আত্মাদের জল দেবে,
আর নরকেও আমি এক ঢোক পাব
গুঙ্গা দিনের হাত থেকে!
হ্যাঁ, দিন! দিন! দিন!
ওই লাজারাসের মতো চামড়া-পরা মানুষ
আমি তোমাকে মেরেছি, চাবুক মেরেছি
তবু জীবন্ত ঈশ্বরের নামে বলছি
তুমি আমার চেয়ে ভালো মানুষ, গুঙ্গা দিন।
শুভেচ্ছা রইল
©somewhere in net ltd.
১|
০৩ রা জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৫২
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: কেউ এখন রুডইয়ার্ড কিপলিং (Rudyard Kipling) সাহেব কে নিয়ে লেখা পড়ার মুডে নেই । এসব গারবেজ লেখা থেকে বিরত থাকেন ।