নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

রাজীব নুর

আমি একজন ভাল মানুষ বলেই নিজেকে দাবী করি। কারো দ্বিমত থাকলে সেটা তার সমস্যা।

রাজীব নুর › বিস্তারিত পোস্টঃ

লর্ড ক্লাইভ, মীরজাফর এবং জুলাই যোদ্ধা

১৪ ই জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৭



১৭২৫ সালে একটি রেস্টুরেন্ট চালু হয়।
স্পেনের মাদ্রিদ শহরে। যা আজও আছে। বেশ জনপ্রিয় রেস্টুরেন্ট। এই রেস্টুরেন্টে শুয়োরের মাংস অনেক জনপ্রিয়। করোনা কালেও রেস্টুরেন্টটি একদিনের জন্য বন্ধ রাখা হয়নি। এই রেস্টুরেন্ট নিয়ে আমার কোনো সমস্যা নেই। সমস্যাটা হলো- ১৭২৫ সালটা! ১৭২৫ সালে ইংল্যান্ডে এক শিশুর জন্ম হয়। নাম রাখা হয়- রবার্ট। আর রবার্টের জন্মের সাত বছর পর জন্ম হয়- আমাদের নবাব সিরাজউদ্দৌলার। বাংলার একজন ব্যর্থ নবাব। যাইহোক, ধনী পরিবারের সন্তান রবার্ট। রবার্ট'রা মোট ১৩জন ভাইবোন। এরা কেউ'ই লম্বা হায়াত নিয়ে দুনিয়াতে আসে নাই। সবার মৃত্যু হয়েছে শিশুকালেই। রবার্টকে বড় করার দায়িত্ব দেওয়া হয় তার খালাকে। রবার্ট বেয়াদব। সে এলাকায় মারামারি করে। স্কুলে মারামারি করে। এক স্কুলে সে তিন মাসের বেশি থাকতে পারেনি। সে একটা সন্ত্রাসী দল গঠন করে। চাঁদাবাজি করে। যে পাখি আকাশে উড়ে, তাদের ডানা ঝাপটানো দেখে বোঝা যায়। রবার্ট যে বিরাট হবে, সেটা ছোটবেলা থেকেই টের পাওয়া গেছে।

সিরাজউদ্দৌলা বাংলা-বিহার-ওড়িশার শেষ স্বাধীন নবাব।
এই তিন প্রদেশ মিলে সে সময়ের বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলা ভারতবর্ষের সবচেয়ে শক্তিশালী শাসক। সেি সোমোয় বাংলার রাজধানী ছিল- মুর্শিদাবাদ। সিরাজউদ্দৌলা তার নানা নবাব আলীবর্দী খানের কাছ থেকে ২৩ বছর বয়সে ১৭৫৬ সালে বাংলার নবাবের ক্ষমতা অর্জন করেন। আলীবর্দী খানের কোন পুত্র সন্তান ছিল না। তার ছিল তিন কন্যা। ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে সিরাজউদ্দৌলা পতন ঘটে। সিরাজউদ্দৌলা ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অবৈধ ব্যবসা, চুরি-চালান ও দূর্গ নির্মাণে বাধা দেন। পলাশীর যুদ্ধ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় কীভাবে বিশ্বাসঘাতকতা এবং ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে একটি স্বাধীন রাজ্যকে পরাধীন করা হয়েছিল এবং এর প্রভাব কেমন করে একটি সমগ্র অঞ্চলের জীবনে পরিবর্তন এনে দেয়। ঠিক এভাবেই জামাত শিবির আওয়ামীলীগকে সরিয়ে দেয়। এখন দেশের অবস্থা ভালো না। দেশ এখন ৭১ এর পরাজিত শক্তির হাতে। অত্যন্ত দুঃখজনক।

১৭৪৪ সালে রবার্টের বয়স হয় ১৮ বছর।
রবার্টের বাবা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিতে রবার্টের জন্য একটা চাকরির ব্যবস্থা করে দেন। তার পোস্টিং হলো- বোম্বেতে, অর্থাৎ বর্তমান মুম্বাইতে। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রধান ঘাঁটি ছিল মাদ্রাজ বর্তমান চেন্নাই'তে। রবার্ট এক দোকানের সহকারী হয়ে কাজ করেন। এবং একটা লাইব্রেরীতে অবসর সময়ে বই পড়েন। প্রচুর বই পড়েন। পরিশ্রম তাকে সাফল্য এনে দেয়। হয় উন্নতি। রবার্ট যুদ্ধ করে এবং জয়ী হয়। সে তার দেশে যায় ১৭৫৩ সালে। তাকে বীরের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। তিনি বিয়ে করলেন। এবং ১৭৫৫ সালে ক্লাইভ আবার ভারতে আসেন। ব্রিটিশ আর্মির লেফটেন্যান্ট কর্নেল হিসেবে পদোন্নীত হয়- রবার্ট ক্লাইভের। অথচ তার কোনো ট্রেনিং ছিলো না। বাঙালী জাতির মানসিকতা সবচেয়ে নিখুঁতভাবে মাপতে পারা ইতিহাসের প্রথম ব্যক্তিটির নাম রবার্ট ক্লাইভ! বাঙ্গালীর সমস্যা আছে। সেই সমস্যা আজও দূর হয়নি। অথচ ১৭৫৬ থেকে আজ ২০২৬ সাল। ২৭০ বছর পার হয়ে গেছে তবু বাঙালি বদলায়নি।

পলাশীর যুদ্ধে পরাজিত হন বাংলার শেষ নবাব- সিরাজউদ্দৌলা।
আহারে! আহারে! যাইহোক, পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের হুগলি নদীর তীরের কাশিমবাজারে ইংরেজদের আক্রমণ করেছেন সিরাজ-উদ-দৌলা। এজন্য রবার্ট ক্লাইভের চরম মেজাজ খারাপ হয়। সে অবশ্যই প্রতিশোধ নিবে। নেয়। নবাবের সেনাপতি মীরজাফর। মীরজাফর বেঈমানী করে। যাইহোক, ১৭৬০ সালে অবসর নিয়ে ক্লাইভ ফিরে যান ব্রিটেনে। তখন সে অনেক ধন সম্পদের মালিক। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি তাকে সম্মানসূচক সিভিল ল'য়ের ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে। তিনি শহরের মেয়র হোন। এদিকে পশ্চিম বঙ্গে ঝামেলা শুরু হয়। মীরজাফরের পতন হয়। ইস্ট ইন্ডিয়াতে কোম্পানিতে দূর্নীতি শুরু হয়। হতে থাকে নানান সমস্যা। যতদিন যায় তত সমস্যা বাড়তে থাকে। তাই রবার্ট ক্লাইভ আবার ভারত আসেন। বাঙ্গালীকে সাইজ করতে হবে।

১৭৬৫ সালে কলকাতায় এসেই ক্লাইভ শুনলেন মীর জাফর মারা গেছেন।
রবার্ট খুশিও হলেন না, বিরক্তও হলেন না। কিন্তু মারা যাবার আগে ক্লাইভের জন্য সত্তর হাজার পাউন্ড রেখে গেছেন। সহজ সরল সত্য কথা হলো- ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার বাহিনীকে পরাজিত করার মাধ্যমে ভারতীয় উপমহাদেশে ইংরেজ ঔপনিবেশিক শাসনের সূচনা হয়। এরপর রবার্ট ক্লাইভ হয়ে উঠেছিলেন ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি। রবার্ট ক্লাইভ ছিলেন সেই ব্যক্তি, যার কৌশল, চক্রান্ত ও সামরিক সাফল্যের মাধ্যমে ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের ভিত্তি গড়ে ওঠে। আহারে! ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস- বাংলা থেকে লুট করা এত ধনসম্পদ ক্লাইভকে শান্তি দিতে পারেনি। ১৭৭৪ সালের নভেম্বর মাসে লন্ডন শহরে আত্মহত্যা করে মারা যান ক্লাইভ।

পলাশীর যুদ্ধের ১০ বছর পর ১৭৬৭ সালে ক্লাইভ ইংল্যান্ড ফিরে যান।
কিন্তু ভারতে রেখে যান ঘুষ, দুর্নীতি, সম্পদ আত্মসাত, প্রাসাদ ষড়যন্ত্র, দুর্বৃত্তায়ন আর অপরাজনীতির এক জঘন্য ইতিহাস। সিরাজ উদ্দৌলার রাজকোষ থেকে পাঁচ কোটি টাকা পেয়েছিলেন ক্লাইভ। সিরাজউদ্দৌলার পতন ছিল ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী ঘটনা, যা প্রায় ২০০ বছরের ব্রিটিশ শাসনের ভিত্তি স্থাপন করে। ইংরেজরা লুটপাট শিখেছে আরবদের কাছ থেকে। আরবদেশে ৫৯৫ সালে লুটপাট করা হতো। ডাকাত দল ওৎ পেতে থাকতো। কোনো কাফেলা গেলেই আচমকা আক্রমন করে সব কিছু লুট করে নিতো। তারপর নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিতো। ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নেয় না। তবে ইতিহাস কাউকে ক্ষমাও করে না। মীরজাফরকে ক্ষমা করেনি। আমাদের দেশের রাজাকার আর শেখ মুজিবের হত্যাকারীরাও ক্ষমা পায়নি। কথিত জুলাই যোদ্ধাদেরও ইতিহাস ক্ষমা করবে না। নো নেভার।

মন্তব্য ২ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ১৪ ই জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:৫২

এইচ এন নার্গিস বলেছেন: "নো নেভার" এই কথাটি দিয়ে শেষ করে খুব সুন্দর লেখাটি পড়লাম । দোয়া করি তাই যেন হয় ।

২| ১৪ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৭

নতুন বলেছেন: নো নেভার।

এটা একটা চলমান জিনিস।

আয়ামীলীগের রক্ষী বাহিনি, নেতাদের দূনিতির কারনে দূভিক্ষ ( বঙ্গবন্ধুই নিজে বলেছেন যে উনি যা ভিক্ষা কইরা আনি চাটার দলেরা সব চাইটা খাইয়া ফেলে )

সেটার পতন হয়েছিলো।

এরশাদ ক্ষমতা ধরে রেখেছিলো, তার করুন পরিনতি সবাই দেখেছে। ( যদিও তিনিই সম্ভবত সবচেয়ে কম দুনিতি করেছে) অন্যরা খেতে পারেনাই বলেই তাকে টেনে নামিয়েছিলো)

শেখ হাসিনা ১৭ বছরে দানবে পরিনত হয়েছিলো। অহংকারীর পতন হয়। সেটা সবাই দেখেছে।

এখন যদি সামনের সরকার এতো উদাহরন থেকে না শেখে এবং দুনিতি অন্যা করতেই থাকে তবে তাদেরও একই পরিনতি বরন করতে হবে।

একটা দলের সবাই ভারতে পালাতে হলো কেন? অন্যয় না করলে তাদের পালাতে হতো না।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.