নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

অন্যদের সেভাবেই দেখি, নিজেকে যেভাবে দেখতে চাই। যারা জীবনকে উপভোগ করতে চান, আমি তাঁদের একজন। সহজ-সরল চিন্তা-ভাবনা করার চেষ্টা করি। আর, খুব ভালো আইডিয়া দিতে পারি।

সত্যপথিক শাইয়্যান

আমার কাছে অনেক আইডিয়া আছে এবং আমি তা ব্লগে এপ্লাই করি! জানেনই তো, পৃথিবীর সব কিছুর মূলে রয়েছে আইডিয়া!

সত্যপথিক শাইয়্যান › বিস্তারিত পোস্টঃ

আল্লাহ্‌কে কীভাবে দেখা যায়?

০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৩

যে কোন কিছু দেখতে হলে, তিনটি জিনিসের সমন্বয় লাগে। সেই জিনিসগুলো হচ্ছে - মন, চোখ এবং পরিবেশ। এই তিন জিনিসের কোন একটি অকেজো হয়ে গেলে, আমরা দেখতে পারি না। চিন্তা করে দেখুন, আপনি যখন অন্যমনস্ক হোন কিংবা ঘুমে থাকেন, আপনাকে পাশে থেকে কেউ চিমটালেও তা আপনি বুঝতে পারেন না। কারণ, তা শরীরে আঘাত করলেও, মন যেহেতু অন্য জায়গায় বা অচেতন থাকে, তখন আপনার বুঝতে পারার কথা নয়। আবার, অন্ধকার রুম। আপনি একাগ্র চিত্তে কোন কিছু দেখার চেষ্টা করলেও, আপনি ব্যর্থ হোন। কারণ, আপনার চোখ ও মন ঠিক থাকলেও, পরিবেশ ঠিক অবস্থায় নেই।

সেইভাবে, জ্ঞান অর্জনের জন্যে, পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের সাথে সাথে মন ও মস্তিষ্ক-এর দরকার পড়ে। পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের সাথে মন ও মস্তিষ্কের যোগাযোগ না থাকলে, জ্ঞান লাভ করা যায় না। একটা ঘটনা বলি।

একবার গজনীর শাসনকর্তা মাহমুদ গজনভী (রহঃ) একটি মাদ্রাসায় গিয়েছেন। তিনি ছাত্রদের জিজ্ঞাসা করলেন - তোমরা কেন মাদ্রাসায় পড়তে এসেছো? ছাত্রদের কেউ উত্তর দিলো - 'আমি উজির হতে চাই', কেউবা বললো - 'আমি রাজ কর্মকর্তা' হইতে চাই।' এক পর্যায়ে তিনি দেখতে পেলেন, একটা ছোট্ট টিমটিমে প্রদীপের নিচে একজন ছাত্র পড়ছে। তিনি তাকে একই প্রশ্ন করলেন। সে উত্তর দিলো - 'আমার মা বলেছেন, মাদ্রাসায় পড়ে মানুষ হতে। তাই, এখানে পড়তে এসেছি!' পরবর্তী পর্যায়ে যাওয়ার সময়ে মাহমুদ গজনভী (রহঃ) বললেন - "আমি ঐ মাদ্রাসা জ্বালিয়ে দিতাম, যদি না ঐ ছেলেটি থাকতো!"

মানুষের জীবনে জ্ঞানের অন্বেষণ করতে যা লাগে তা-ই করা উচিৎ। আর, জ্ঞান লাভের উৎস যেসব প্রতিষ্ঠান, সেইসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার উদ্দেশ্য থাকা উচিৎ - আল্লাহ্‌কে কাছে পাওয়ার জন্যে নিজেকে তৈরী করা। সেই জ্ঞান লাভ করা।

আমাদের ইবাদত আল্লাহর কোন কাজে লাগে না। তাই, আমরা আল্লাহর জন্যে তাঁর ইবাদত করি না। আমরা ইবাদত করি, আল্লাহ্‌কে পেতে। আর, আল্লাহ্‌কে কাছে পেতে হলে, আল্লাহ্‌কে দেখতে হবে।

আল্লাহ্‌কে দেখতে পেলে কী হবে?
এটা অনেক বড় একটি প্রশ্ন। আমরা যখনই আল্লাহ্‌কে দেখতে পেয়ে তাঁর নিকটবর্তী হবো, তিনি আমাদের দুইটি জিনিস দিবেন। একটি হচ্ছে হিকমা (প্রজ্ঞা), আর আরেকটি হচ্ছে - সাকিনা বা মনের শান্তি।

একটি ঘটনা বলে শেষ করছি।

একবার এক শাসনকর্তার প্রতি অপবাদ উঠলো যে, তিনি তাঁর গোলামের কথায় চলেন। তখন সেই শাসনকর্তা সকলকে বললেন - পরের দিন সবাই যেন রাজপ্রাসাদে এসে যার যা ইচ্ছা তা-ই নিয়ে যান। পরের দিন, সবাই এসে রাজপ্রাসাদ থেকে হীরা-জহরত-সহ মনি-মানিক্য আর মূল্যবান জিনিসপত্র নিজের ঝোলায় ঢুকাতে থাকলো। কিন্তু, সেই গোলাম নির্বিকার! সে কোন কিছুই না নিয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে। তখন সবাই উপহাস করে বললো - এই বোকার কথায় রাজা মশাই চলেন! তখন সেই শাসনকর্তা নিজের গোলামকে বললেন- তুমি কি কিছুই চাও না! তখন গোলাম বললো - আপনি কি সত্যি আমি যা চাই তা-ই দিবেন, জাহাঁপনা? শাসনকর্তা তা শুনে সম্মতি দিতেই গোলাম শাসনকর্তার মাথায় হাত রাখলো। বুদ্ধিমান শাসনকর্তা বুঝে গেলেন গোলাম কি চায়? তিনি সাথে সাথে নিজ মাথা নুয়ে বললেন- 'তুমি আমার মাথা কতল করো। আমি আমার কথা রাখছি।' সেই গোলাম আসলে ছিলেন একজন আল্লাহর ওলী। তিনি রাজামশাইকে বললেন, 'আপনার রাজ্য দিয়ে আমি কি করবো! আপনি যদি ইসলাম দিয়ে রাজ্য শাসন করেন, তাহলে, আপনার রাজ্য আপনারই থাকবে।'


আপনি যদি আমার কাছের মানুষ হোন, আপনাকে কেউ আঘাত করতে এলে আমি ঢাল হয়ে দাঁড়াবো। আগে আমাকে মারতে হবে, তারপরে, আপনার উপরে কেউ হাত তুলবে। পরম করুণাময় খোদাতায়ালার কাছের মানুষ হলে, কী সুবিধা বুঝতে পারছেন?


======
জনাব সৈয়দ মবনু -এর একটি আলোচনা থেকে লিখেছি।
তিনি সিলেটের বিখ্যাত শতবর্ষী কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং ৩৬০ আউলিয়ার একজনের বংশধর।
==============================================================================

মন্তব্য ৮ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৮) মন্তব্য লিখুন

১| ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০০

সুলাইমান হোসেন বলেছেন: চমৎকার শিক্ষনীয় একটি আলোচনা শেয়ার করেছেন,ধন্যবাদ নিরন্তর

০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:২২

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:



ধন্যবাদ।
আমি পুরো বয়ানটা শুনেছি।
তাই, ধন্যবাদ সৈয়দ মবনু ভাইয়ের প্রাপ্য।

শুভেচ্ছা নিরন্তর।

২| ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৫

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: পড়লাম।

০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:২২

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:



ধন্যবাদ নিরন্তর।

৩| ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:১৯

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: জিনিসগুলো হচ্ছে - মন, চোখ এবং পরিবেশ
.........................................................................
এসবের মাষ্টার হলো অনুভূতি,
তার তীক্ষনতা, পারর্দশীতা ও পারঙ্গমতা !
মন থাকে আবেগে ভরপুর
চোখ বিভ্রান্তিতে ডুবন্ত
পরিবেশ ভার্চুয়াল জগতের কাছে অসহায় ... .... .....
এসব কারনে আমরা যা জানি তা একসময় মিথ্যা
বা অর্ধ সত্য হিসাবে প্রকাশিত হয় ।

০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:২৩

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:



আমাকে চিন্তা করে বলতে হবে।

ধন্যবাদ নিরন্তর।

৪| ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৪০

নতুন বলেছেন: সৃস্টিকর্তাকে কি কেউ দেখেছে এখন পযন্ত?

০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:২৩

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:




আমি দেখি নাই এখন পর্যন্ত।

শুভেচ্ছা নিরন্তর।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.