নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

রাজীব নুর

আমি একজন ভাল মানুষ বলেই নিজেকে দাবী করি। কারো দ্বিমত থাকলে সেটা তার সমস্যা।

রাজীব নুর › বিস্তারিত পোস্টঃ

মৃত্যুর আগে কি মানুষ টের পায়, সে মারা যাচ্ছে!

১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭



মৃত্যুর কয়েক মুহুর্ত আগে, টের পাওয়া যায়- মরে যাচ্ছি।
সময় শেষ। তবে সবাই বুঝতে পারে না। কেউ কেউ বুঝতে পারে। আমার বাবা একদিন মাকে বলল, আমার দোষ ত্রুটি ক্ষমা করে দিও। আমি আর বেশি দিন বাচবো না। আমার সময় ফুরিয়ে আসছে। আব্বার কথা আমরা কেউ সিরিয়াস ধরি নি। কিন্তু আব্বা ঠিকই মারা গেলো। অনেকেই আগে থেকে মৃত্যু টের পেয়ে যায়। সাধারণত মানুষ মৃত্যু নিয়ে ভাবে না। ভাবা উচিৎও না। মৃত্যু যখন আসে আসুক। এত ভাবনা চিন্তার কিছু নাই। মৃত্যু নিয়ে বেশি ভাবলে মৃত্যু তাড়াতাড়ি এসে যায়। মানব জীবন একবারই আসে। তাই যতটা পারা যায়- জীবনটা উপভোগ করে নেওয়াই ভালো।

মৃত্যু আগে থেকেই টের পাওয়া যায়।
অবচেতন মনে 'সত্য' এসে ধাক্কা দেয়—"তোর সময় শেষ। দুয়ারে আজরাইল দাড়িয়ে আছে"। ধর্ম মতে, বলা হয়- জন্ম মৃত্যু আল্লাহর হাতে। কথাটা সঠিক নয়। এসব কথা আদি যুগ থেকে প্রচলিত। তখন মানুষ জ্ঞান বিজ্ঞানে উন্নত ছিলো না। রসিকে সাপ মনে করতো। এদের চিন্তা ভাবনা উন্নত না। এরা পেছনে পরা মানুষের দলে। প্রতিদিন সারা বিশ্বে লাখ লাখ মানুষ মারা যায় এবং জন্ম নেয়। এত জন্ম আর এত মৃত্যুর হিসাব আল্লাহ কেন রাখবেন? আল্লাহর কি আর কাজ নেই? আমাদের পাশের বাসার একলোক মৃত্যু শয্যায়। লোকটার নাম মোফাজ্জল। ডাক্তার বলেছেন, আমাদের কিচ্ছু করার নেই। তার সময় শেষ। মোফাজ্জল মানুষ হিসেবে উন্নত নয়। জাস্ট ইতর। তার জীবনে সে কখনও কোনো মানুষের উপকার করেনি।

মোফাজ্জলের মন খারাপ।
মসজিদের পেছনে সোলেমানের জমিটা কিনতে পারলেন না। আর সোবাহান মাস্টারের নামে মামলা দিতে পারলেন না। মোফাজ্জলের ছেলে সৌদি থেকে ফিরে এলো। মৃত্যুর সময় জন্মদাতা পিতার সাথে থাকা জরুরি। ছেলে সৌদিতে পুলিশের চোখ এড়িয়ে হাতঘড়ি, তজবি, জায়নামাজ আর আতর বিক্রি করে হাজিদের কাছে। এই ব্যবসায় প্রচুর লাভ। যারা হজ্ব করতে আসে তারা দশ টাকার জিনিস ত্রিশ টাকা দিয়ে কিনে হাসিমুখে। যাইহোক, মোফাজ্জলেত ছেলে তার বাবার যত্ন নিয়ে সেবাযত্ন করে মৃতপথযাত্রী মোফাজ্জলকে সুস্থ করে তোলে। এরপর মোফাজ্জল আরো দশ বছর বেচে ছিলেন। অথচ ডাক্তার তাকে বলে দিয়েছিলেন, সময় শেষ।

আমাদের গ্রামে মিন্নি নামের একজন মহিলা ছিলেন।
তার বয়স ৮০। উনি একদিন ঘোষণা করলেন, তার সময় শেষ। হাতে একদম সময় নেই। ছেলেমেয়ে আত্মীয় স্বজন সবাই গ্রামে এলো। বড় ছেলে এলো কানাডা থেকে এলো। সবাই মিন্নির ঘরে জড়ো হয়েছে। উনি সবার সাথে কথা বললেন। কারো কারো মাথায় হাত রেখে দোয়া করলেন। এবং সবার কাছ থেকে বিদায় নিলেন। সবাই মিন্নিকে জড়িয়ে ধরে কান্না করছে। মিন্নি বললেন, গেলাম। মৃত্যু কঠিন কিছু না। যারা মৃত্যুকে ভয় পায়, তারা বোকা। মিন্নি বললেন, আমাকে নিতে এসেছে। অই তো আমার মা দাড়িয়ে আছে। মায়ের পেছনে আমার বাবা। যে ছোট বোনটা পুকুরে ডুবে মরলো, সেও এসেছে। তারপর মিন্নির মৃত্যু হলো।

আরেকটা মৃত্যুর ঘটনা বলি। ছেলে মায়ের খুবই ভক্ত।
মায়ের বয়স হয়েছে। প্রায়ই বুকে হাপানির টান উঠে। যায় যায় অবস্থা। ছেলে দৌড় দিয়ে ডাক্তার নিয়ে আসে। ডাক্তার বলে দিয়েছেন, সময় শেষ। আপনারা প্রস্তুত থাকুন। ছেলে অলরেডি কাফনের কাপড় নিয়ে এসেছে সৌদি থেকে। কাফনের কাপড় মক্কা শরীফ ছুয়ে এনেছে। মায়ের বুকে টান উঠেছে। ছেলে বুঝে গেছে মা আজই মরবে। মাদ্রাসা থেকে হুজুরদের ডেকে এনেছে। তারা কোরআন খতম দিচ্ছে। দেখা গেলো মা আর মারা যায় না। এভাবে প্রতি মাসে দুই তিন বার এরকম হচ্ছে। মা মরে না। মা ছেলেকে ডাক দিয়ে বলে, তুই কি আমার মৃত্যু চাস? ছেলে বলে, নো নেভার। মা বলে তাহলে আমার জন্য আগেই কাফের কাপড় নিয়ে আসছিস কেন? আবার আমার জন্য কোরআন খতম দিস! ফাজিল পোলা। যা ভাগ আমার সামনে থেকে।

মন্তব্য ৫ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৫) মন্তব্য লিখুন

১| ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৬

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: অবচেতন মনে 'সত্য' এসে ধাক্কা দেয়—"তোর সময় শেষ।
......................................................................................
আমাদের বুদ্ধি আর চিন্তা চেতনা যথেষ্ট সীমিত ।
তাই না জেনে সব বিষয়ে মন্তব্য করাটা সঠিক নয় ।

২| ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১৯

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: কিছুটা প্রচলিত আছে। ইন্দিরা গান্ধী, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আব্রাহাম লিংকন শোনা যায় এনারা মৃত্যুর আগে নিজেদের ডেড বডি দেখতে পেয়েছিলেন।

৩| ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৪৮

নজসু বলেছেন:




প্রিয় ভাই, আসলে মৃত্যু নিয়ে আমাদের ধারণা, ভয় আর হয়তো বিশেষ কোনো অভিজ্ঞতার মধ্যে দেখবেন অদ্ভুত একটা সম্পর্ক আছে। যেমন আপনার আব্বার ঘটনাটা। আবার দেখেন মিন্নির ঘটনাটাও বেশ ভাববার মতো। মানুষ মরে যাওয়ার আগে আগে সত্যিই কিছু অনুভব করে কি না এটা হয়তো বা নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন। মুসলমানদের অনেকে বলেন, যদি কেউ মারা যান তাহলে ৪০ দিন আগে থেকেই তিনি সেটি বুঝতে পারেন। আবার কেউ কেউ বলেন, মৃত্যুর ৪০ দিন আগে একই স্বপ্ন মানুষ বারবার দেখতে থাকে। অথচ, কোরআন হাদিসে এমন কোনো কথা নেই। বরং, আল্লাহতায়ালা বলেছেন, কে কখন কীভাবে মারা যাবে, সে বিষয়ে আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেন না। তবে ভাই, আপনার আব্বা কিংবা গ্রামের মিন্নির এমন অভিজ্ঞতাগুলোকে একেবারে হেলাও করা যায় না।


আমার প্রিয় পদাতিক ভাই বলছেন: ইন্দিরা গান্ধী, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আব্রাহাম লিংকন শোনা যায় এনারা মৃত্যুর আগে নিজেদের ডেড বডি দেখতে পেয়েছিলেন। হ্যাঁ আমিও পড়েছিলাম। আব্রাহাম লিংকন নাকি মৃত্যুর কয়েক দিন আগে নিজের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া আর একটি মৃতদেহ দেখার মতো একটি স্বপ্ন দেখেছিলেন। আবার বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের মৃতদেহ দেখার ঘটনাটিও বেশ প্রচলিত একটা কাহিনি। ইন্দিরা গান্ধীকে নিয়েও এমন গল্প শোনা যায়। তবে, এগুলোর কোনোটিকে আমি সরাসরি অলৌকিক ঘটনার প্রমাণ বলতে চাই না। আসলেই কি মৃত্যুর আগে মানুষের অবচেতন মন কোনোভাবে বিপদের আভাস পায়, নাকি এগুলো কাকতালীয় কোনো ঘটনা?


তবে ভাই, মৃত্যুর সময় সম্পর্কে চিকিৎসাবিজ্ঞানের অনুমান আর একজন মানুষের নিজের অগ্রীম অনুভূতি এ দুটো আলাদা বিষয়। বাস্তব কথা হলো মৃত্যু এমন একটা রহস্য, যার সম্পুর্ণ জবাব মনে হয় জীবিত অবস্থায় কারও জানা সম্ভব নয়। আপনার এই লেখাটি সেই রহস্য নিয়েই ভাবার একটা সুযোগ করে দিল।


ভালো থাকবেন জনাব। আপনার এবং আপনার পরিবারের সবার জন্য দোয়া রইলো।

৪| ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:০৮

চারাগাছ বলেছেন:
আমার চিন্তা আমি পরে ব্যখা করবো। পোস্ট টা ভালো লাগল।

৫| ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:৪৪

আহমেদ জী এস বলেছেন: রাজীব নুর,




সহ-ব্লগার নজসুর মতোই বলি ---- মানুষ মরে যাওয়ার আগে আগে সত্যিই কিছু অনুভব করে কি না এটা নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন।
কারণ মৃত মানুষের কোনও জবানবন্দি কেউ কখনও শোনেনি!

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.