| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
রাজীব নুর
আমি একজন ভাল মানুষ বলেই নিজেকে দাবী করি। কারো দ্বিমত থাকলে সেটা তার সমস্যা।
জীবনের আসল উদ্দেশ্য থাকা উচিৎ জীবনটাকে উপভোগ করা।
অল্প কিছু দিন আমাদের আয়ু। তাই যতটা পারা যায় জীবনটাকে উপভোগ করে নেওয়াই শ্রেয়। আমি একজন ব্যর্থ মানুষ। ঈশ্বর তার করুনার হাত আমার উপর কখনো প্রসারিত করেন নাই। মুর্শিদ যদি আমার উপর সহায় হতেন, অনেক কিছু বদলে দিতে পারতাম। জীবনটা আমার ইচ্ছে মতো চলছে না। আমি যেতে চাই ডানে কিন্তু নিয়তি আমাকে নিয়ে যায় বামে। আসলে আল্লাহ ভাগ্যে যা লিখে রেখেছেন এর বাইরে যাওয়ার ক্ষমতা আমার নেই।
আজীবন আমি মানুষের পাশে থাকতে চেষ্টা করেছি।
মানুষের জন্য কাজ করতে চেয়েছি। তীব্র ভাবে সেটা চেয়েছি, বলেই আজ আমি একা। আত্মীয় স্বজন বন্ধু বান্ধব কেউ আমার পাশে নেই। সবাই আমাকে কেন ত্যাগ করেছে সেটা আমি জানি না। এখন আমি সারাদিন একা থাকি। রাস্তায় রাস্তায় হাটি। ক্ষুধা পেলে রাস্তার পাশের দোকান থেকে কেক বিস্কুট আর চা কিনে খাই। মাঝে ঝিগাতলা একটা বাড়ির সামনে দিয়ে হাটাহাটি করি। সাদা রঙের বাড়ি। বাড়ির সামনে একটা আম গাছ আছে। আম গাছের সামনে অনেকক্ষন দাড়িয়ে থাকি। মুনা নামের একটা মেয়ে এই বাড়িতে থাকতো।
আমার একটা বিশাল লাইব্রেরি করার ইচ্ছে ছিল।
লাখ লাখ বই থাকবে। লোকজন এসে বিনামূল্যে আরাম করে বসে বই পড়বে। পড়ার চেয়ে তো আনন্দের আর কিছু নেই। পড়া এবং জানা দুটাই মানুষের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। লাইব্রেরিতে কি কি বই থাকবে সেসবের তালিকাও আমি করেছি। বাংলা সাহিত্য আর বিশ্বসাহিত্যের বই থাকবে। হুহু করে সময় চলে যাচ্ছে, লাইব্রেরি দিতে পারলাম না। একটা বিশাল বাড়ি করার শখ ছিলো, যারা রাতে রাস্তায় ঘুমায় তারা সেখানে থাকিবে। একটা বাগান বাড়ি করবো। সব রকমের গাছপালা থাকবে। নিজের হাতে প্রতিটি গাছের যত্ন নিবো।
আমার ইচ্ছা ছিলো রবীন্দ্রনাথের মতো বোটে বসে প্রকৃতি উপভোগ করা।
নৌকায় বসে পড়বো, লিখব। আমার ইচ্ছা ছিলো গৌতম বুদ্ধের মতো একদিন রাতে কাউকে কিছু না বলে দূরে কোথাও চলে যাওয়া। আমার ইচ্ছা ছিলো আমাদের নবীজির মতো মানুষকে সঠিক পথ দেখানো। আমার ইচ্ছা ছিলো আইনস্টাইনের মতো বিশাল কিছু আবিষ্কার করা। আমার ইচ্ছা ছিলো আমি হবো বিশ্বনাগরিক। মন চাইলেই চলে যাবো পাসপোর্ট ভিসা ছাড়াই যে কোনো দেশে। আমস্টারডাম শহরটা আমার পছন্দের। এগুলো মূলত আবেগের কথা, ভাবের কথা। আবেগ আর ভাব দিয়ে কবিতা লেখা যায়। জীবন চলে না। জীবন বড় নির্মম। জীবনে চলার পথ মসৃন নয়।
আসলে আমার জীবনের কোনো উদ্দেশ্য নেই।
দুনিয়াতে তো আমি ইচ্ছে করে আসি নাই। আল্লাহপাক তো আমাকে জিজ্ঞেস করে দুনিয়াতে পাঠান নাই। যদি জিজ্ঞেস করতেন, তাহলে আমি বলতাম, না না আমি দুনিয়ায় যাবো না। নো নেভার। আমার অনুমতি না নিয়েই আমাকে দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন আল্লাহপাক। এখন কি কষ্ট! এখন আমার দম বন্ধ হয়ে আসে। মানুষ গুলো কত চতুর আর ইতর। কত বদমাশ আর জটিলতা কুটিলতায় ভরা। এদের সাথে আমি পেরে উঠছি না। সৃষ্টির সেরা জীব, হয়ে গেছে সৃষ্টির সেরা ইতর। চারিদিকে ইতর আর ইতর। সেদিন রাতে মেসে ফিরতে ফিরতে আমার দেরি হয়ে গেলো। বাসায় কোনো খাবার নেই। প্রচন্ড ক্ষুধা পেয়েছে। রিকশা থেকে নামার পর দেখি, দোকানদার দোকান বন্ধ করছে। বললাম, আমাকে একটা পাউরুটি দেন। দোকানদার দিলো না। সারারাত ক্ষুধায় কষ্ট করলাম।
সিরিয়াস ভাবে বলি, আমার জীবনের ইচ্ছে ছিল, দেশের জন্য ভালো কিছু করা।
মসজিদ মাদ্রাসা আমি করতে চাই না। মসজিদ মন্দ লোককে ভালো করতে পারে না। মাদ্রাসা শিক্ষা দিয়ে কেউ জীবনে বড় হতে পারে না। বড়জোর মসজিদে আযান দেওয়ার চাকরি পেতে পারে বা ইমাম হতে পারে। অথবা বাড়ি বাড়ি গিয়ে কুরআন শিক্ষা দেওয়া। হাদিয়া খুবই কম। দিনশেষে মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়। জীবনকে সুন্দর করে সাজাতে এবং জীবনটা উপভোগ করার জন্য মানুষের দরকার জ্ঞান। স্বচ্ছ পবিত্র জ্ঞান। জ্ঞানের চেয়ে সুন্দর দুনিয়াতে আর কিছু নেই। জ্ঞান মানুষকে আলোর পথ দেখায়। কুসংস্কার থেকে দূরে রাখে। দেশের সমস্ত মাদ্রাসা বন্ধ করে দেওয়া দরকার। এখন প্রয়োজন আধুনিক শিক্ষা।
©somewhere in net ltd.