নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

রাজীব নুর

আমি একজন ভাল মানুষ বলেই নিজেকে দাবী করি। কারো দ্বিমত থাকলে সেটা তার সমস্যা।

রাজীব নুর › বিস্তারিত পোস্টঃ

মোজ্জামেলের জীবন কাহিনী

১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:৫১



বর্তমান যুগে টাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
টাকা না থাকলে নিজের বাপ, ভাই, মা, বোন, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয় স্বজন, স্ত্রী এবং শ্বশুর বাড়ি কারো কাছে দু'পয়সার দাম পাবেন না। সব জায়গা থেকে শুধু অপমান অবহেলা পাবেন। এখন আর আগের যুগ নেই। বর্তমান যুগটা একেবারে আলাদা। চুরি, ডাকাতি, দূর্নীতি যা-ই করেন সমস্যা নাই। শুধু আপনার টাকা থাকলেই হলো। তাহলে মানুষ আপনাকে ভালোবাসবে, সালাম দিবে।

অনেক বছর আগের কথা, তখন খালেদা জিয়া ক্ষমতায়।
বিএনপির একলোক সীমাহীন টাকা দূর্নীতি করেছে। তারপর সে গাড়ি বাড়ি করেছে। অনেক গুলো ৭ তলা বাড়ি করেছে। টিভি চ্যানেল খুলেছে, পত্রিকা বের করেছে। নানান ব্যবসা আছে। সেই লোক এখন রাজনীতি করে না। উন্নত জীবন যাপন করছে। তার ভাই বোনসহ সকলে উন্নত জীবন যাপন করছে। লোকজন সবাই জানে সে দূর্নীতিবাজ, তবু তাকে সালাম দিতেই থাকে। অর্থাৎ টাকা থাকলেই হলো।

বর্তমান দুনিয়ায় কাউকে বিশ্বাস করা যায় না।
বিশ্বাস করা উচিৎও না। আমরা বর্তমানে অবিশ্বাসের যুগে বাস করছি। এই যুগে বাপ তার সন্তানকে বিশ্বাস করে না। ভাই বোনকে বিশ্বাস করে না। স্ত্রী স্বামীকে বিশ্বাস করে না। প্রেমিক প্রেমিকাকে বিশ্বাস করে না। অফিসের বস তার কর্মীকে বিশ্বাস করে না। কেউ কাউকে বিশ্বাস করে না। আপনিও কাউকে বিশ্বাস করবেন না। বিশ্বাস করলেই আপনাকে ঠকতে হবে।

এক অফিসে আমি দেখেছি, ম্যানেজার সব সময় বলেন আমি কাউকে বিশ্বাস করি না।
অথচ এই ম্যানেজার নিজেই চোর। সরকারি অফিসে দেখেছি- একলোক বলছে, তাড়াতাড়ি টাকা টা (ঘুষের টাকা) দেন। আমার নামাজের সময় হয়েছে। সময় মতো নামাজ পড়তে না পারলে আমার ভালো লাগে না। দরিদ্র দেশ গুলোর মানুষ বেশি খারাপ হয়। দরিদ্র দেশে চোর, ডাকাত, দূর্নীতিবাজ এবং মন্দ লোক বেশি থাকে।

আমি মেসে থাকি। বসিলাতে।
আমি হত দরিদ্র মানুষ। মেসের টাকা দিতে পারি না। আমার রুমমেট গুলো ভালো। তাড়া আমাকে মেস থেকে তাড়িয়ে দেয়নি। নিজ থেকেই আমি এখন মেসের রান্না করি। অথচ রান্না আমি জানি না। প্রয়োজন আমাকে সব শিখিয়ে দিয়েছে। বিশেষ বিশেষ দিন গুলোতে আমার কষ্ট হয়ে যায়। গত বছর ইদের সময় সব রুমমেটরা গ্রামে গেছে। মেসে আমি একা। মেসে কোনো খাবার নেই। আমার পকেটে কোনো টাকা নেই। প্রচন্ড ক্ষুধায় আমি কাতর।

অবশেষে বড় ভাইয়ের বাসায় গেলাম।
বসিলা থেকে হেটে বনানী গেলাম। আমার ভাই ধনী মানুষ। গাড়ি বাড়ি সবই আছে তার। বছরে চার পাচ বার দেশের বাইরে যায় বেড়াতে যান পুরো (পরিবার সহ। ইদের দিন ভর সন্ধ্যা বেলা ভাইয়ের বাসায় গিয়ে পৌছালাম। ভাবি বললেন, আজ তো বাসা ভরতি মেহমান। তুমি অন্যদিন এসো। অপমানে এবং ক্ষুধায় আমার সারা শরীর কাপছে। নিজের মায়ের পেটের ভাইয়ের বাসা থেকে অপমান!

আমার মনে আছে, দুই বছর আগে বড় বোনের বাসায় গিয়েছিলাম।
সেদিনও ইদের দিন ছিলো। বোন বলল, বাসা ভরতি গেস্ট। আচ্ছা তুই অই ঘরে বসো। বসলাম। বোন ফ্রিজের বাসী খাবার বের করে গরম করে দিলো। ফেরার পথে তার স্বামীর পুরান দুটা শার্ট দিলো। এবং এক মুঠ টাকা দিলো। টাকা গুলো গুনে দেখেছি, সব মিলিয়ে ৬৭ টাকা।

এক আকাশ কষ্ট নিয়ে মেসে ফিরলাম।
এবং তারপর অপ্রত্যাশিত আঘাত পেলাম। বোনের বাসা মিরপুর। মিরপুর থেকে হেটে বসিলা ফিরলাম। বাসায় ফেরার পথে বোন ফোন দিয়ে বলল, তুই কি ভুলে তোর দুলাভাইয়ের হাতঘড়ি আর ম্যানিব্যাগ নিয়েছিস? সেদিন সারারাত কেদেছি! নিজের মায়ের পেটের বোন ভাই কিভাবে বদলে গেলো! আমরা ছয় ভাই বোন সবাই পিঠাপিঠি। মা বলতো মায়ের পেটের ভাই কোথা গেলে পাই। বাবা মা আজ বেচে নেই। যে মরে যায়, সে-ই বেচে যায়। দুনিয়াতে আমার চেয়ে অভাগা অসহায় আর কেউ নেই।

এখন আমার গায়ের চামড়া মোটা হয়ে গেছে।
কোনো অপমান অবহেলা আমার গায়ে লাগে না। স্বর্ন যত পুড়ে তত খাটি হয়। আমি দুখ কষ্ট পেতে পেতে আমার বুকটা ঝাঝড়া হয়ে গেছে। ব্যর্থ একজন মানুষ আমি। ঈশ্বর তার করুনাময় হস্ত আমার উপর প্রসারিত করেননি। আমার কোনো আত্মবিশ্বাস নেই, মনের জোর নেই। হতাশা গ্রস্ত। বড্ড অসহায় হয়ে পড়েছি।

রুবা নামের একটা মেয়েকে ভালোবেসেছিলাম।
মেয়েটা সহজ সরল সুন্দর ছিলো। আমার চোখের সামনে রুবার বিয়ে হয়ে গেলো। রুবার কোনো দোষ নেই। সে আমাকে অনেক সময় দিয়েছে। আমি শালা একটা চাকরি যোগাড় করতে আরিনি। যাইহোক, আল্লাহপাক তার বান্দাদের না খাইয়ে রাখেন না। সেদিন আমি গুলশান গিয়েছিলাম, এক বন্ধুর অফিসে। বন্ধু আমার সাথে দেখা করলো না। পিয়ন দিয়ে বলে পাঠালো, জরুরি মিটিং। বন্ধু ভীষণ ব্যস্ত। অথচ আমি কাচের দরজার ফাক দিয়ে দেখেছি, মিটিং নয়। বন্ধু বসে আছে। কলিগের সাথে গল্প করছে। চা খাচ্ছে। বন্ধুর ব্যবহারে আমি অবাক হইনি। বন্ধুর অফিস থেকে বের হলাম।

প্রচন্ড ক্ষুধা লেগেছে। দুপুর পার হয়ে আছরের নামাজের সময় হয়ে গেছে, ক্ষুধা তো লাগবেই। আমার পকেট শূন্য। রিজকের মালিক আল্লাহ। গুলশান মসজিদে নামাজ শেষ। একলোক সবাইকে তবারক দিচ্ছে। নিশ্চয়ই মিলাদ ছিলো। আমি লাইনে দাড়িয়ে গেলাম। একবাটি খাবার পেলাম। সেই সাথে একটা পানির বোতল। বাটির ঢাকনা খুলে দেখি তেহারি। মাংসের পরিমান ভালো। পেট ভরে তৃপ্তি করে খেলাম।

আমার সুন্দর একটা জীবন হতে পারতো। স্ত্রী পুত্র কন্যা নিয়ে সুন্দর সংসার। ছুটির দিনে পরিবারের সবাই মিলে বেড়াতে যাবো। বাসায় ফেরার আগে বড় কোনো রেস্টুরেন্ট থেকে ডিনার করে নিবো। স্ত্রীকে অবাক করে দিয়ে তাকে একটা চুন্ডি শাড়ি কিনে দিবো। ছেলেকে কিনে দিবো রিমোট গাড়ি। আর মেয়েকে কিনে দিবো বারবি পুতুল। শীতের ছুটিতে বেড়াতে যাবো সমুদ্রে। সমুদ্র আর পাহাড় আমার ভীষণ রকমের পছন্দ। সমুদ্রের পাড়ে বসে নিরিবিলি বই পড়বো। দুই শ বইয়ের তালিকা করে রেখেছি।

হুহু করে সময় চলে যাচ্ছে কিন্তু কিচ্ছু করতে পারছি না। আল্লাহ যখন আমার ভাগ্য লিখতে শুরু করেছিলেন, তখন তার কলমের কালি শেষ হয়ে গিয়েছিল। পোড়া কপাল আমার। আমি মনে করি দেরি হোক, যায়নি সময়। একদিন সব কিছু বদলে যাবে। আমি সকালে ঘুম থেকে উঠে, ফ্রেশ হয়ে অফিসে যাবো। সারাদিন অফিসে ব্যস্ত থাকবো। সন্ধ্যায় বাসায় ফিরবো। তারপর প্রিয় মুভি দেখতে বসবো। রাতে ঘুম না এলে লিখতে বসবো, সহজ সরল কাব্য। আমি অপেক্ষা করি। অপেক্ষা করতে আমার ভালোই লাগে।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.