নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমি তো সাধারণ। তবে অবুঝ নই।

হাসান মাহমুদ রাজণ্য

হাসান মাহমুদ রাজণ্য › বিস্তারিত পোস্টঃ

জিবনের শেষ কিছু লিখা

১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ৯:৫১

Tahmida Jannat নামের এই মেয়েটা কিছুদিন
আগে মারা গেছে ক্যানসারে ।
তার FB আপডেট গুলো একজন শেয়ার করেছে । আমি
আমার বন্ধুর কাছে জানি ব্যপারটা।
একটা মেয়ের জীবনের শেষ কিছু লিখা। কথা গুলো
লিখতে কতটা কষ্ট হয়েছিল তার, সেটা আমার বুঝার সাধ্য
নেই। তবে এমনটা যেন কারো নাহ হয়।
৭-৩-২০১৩.........
আজ আমার ক্যান্সার জীবনের সপ্তম দিন।
খবরটা Baba Maa আমাকে দেয়ার সাহস করে
নাই । সারিন আমাকে জানায় আমার
লিউকেমিয়া । কিভাবে নিব ব্যাপারটা
বুঝতে পারছিলাম না । আমিতো ক্যানসারকে
চাই নাই । তাহলে সে কেন
আসলো আমার
কাছে । আমিতো অন্য কাউকে চেয়েছিলাম...
যাহা পাই তাহা চাইনা ।
১৩-৭-২০১৩.........
শেষ পর্যন্ত স্কুলে যাওয়াও বন্ধ হল আমার.. ।
ব্লিডিং বেড়ে যাচ্ছে । কি অদ্ভুত । একসময়
জ্বরের ভান করে পড়ে থাকতাম । আর এখন
স্কুলে যাওয়ার জন্য সুস্থ থাকার অভিনয় করতে
হয় । পোয়েটিক জাস্টিস ।
ক্যান্সার মনে হয় একটা মানুষের অতীতের সব
খোজ খবর নিয়ে আসে । এই যে একসময় বৃষ্টি
ভালো লাগত না । কিন্তু এখন যেন বৃষ্টিকেই
আপন মনে হয় । রোদ অসহ্য লাগে । রোদ
আমাকে আমার অক্ষমতার কথা মনে করিয়ে
দেয় ।
২২-৯-২০১৩.........
আজ আমার বন্ধুরা আমাকে দেখতে এসেছিল ।
ঐশি, মৌমিতা,সানি, রিয়ন । অনেকদিন পর
একটা ভালো সময় কাটালাম । কিন্তু কোথায়
যেন সুরটা কেটে গেছে । আমি জানি ওরা
আমায় প্রচন্ড ভালোবাসে । সানি আমার
চোখের দিকে তাকাচ্ছিল না। লজ্জায় বোধহয়
। সম্পর্কটা শেষ হয়েছে প্রায় তিনমাস ।
আমার ক্যান্সারের কথা শুনে সানিই আস্তে
আস্তে দূরে সরে যায় । আমি জানি ও আর
মৌমিতা প্রেম করা শুরু করেছে । খারাপ
লেগেছে ওরা আমাকে খোলা মনে ব্যাপারটা
জানালেই পারত। সত্যি কথা শোনার অধিকার
কি থাকেনা একজন ক্যন্সার রোগীর । সবাই
এমন অভিনয় করে কেন ?
১৬-১-২০১৪.........
অনেকদিন লিখিনি । অনেক দেরি হয়ে গেছে
। রোগটা আমাকে গ্রাস করে ফেলছে ।
ইদানিং সানিকে খুব মনে পড়ে । ওকে ফোন
দেই ধরেনা । ক্যান্সার তো ছোঁয়াচে না ।
তবে কেন এত অবহেলা । আজকাল রিসানের
সাথে কথা বলে সময় কাটে আমার। ছেলেটার
সাথে আমার ফোনে পরিচয় । কোন শর্ত
ছাড়াই ভালোবাসে আমায় । কিন্তু আমার
কিছু করার নেই । একজন ক্যান্সার রোগীর
কাউকে ভালোবাসার কিংবা কারো
ভালোবাসা পাওয়ার অধিকার নেই ।
২৬-১-২০১৪.........
দ্বিতীয় কেমো দিয়ে বাসায় আসলাম । চুলের
ব্যপারে সবসময় একটু বেশি খুত খুতে ছিলাম
আমি । নতুন নতুন ব্র্যান্ডের শ্যাম্পু
কন্ডিশনার কিনতাম । এখন আর ওসবের
প্রয়োজন হয়না । চুলই নেই, শ্যাম্পু দিয়ে কি
করব । কাজের বুয়াকে বলে ড্রেসিং
টেবিলটাকে ঘর থেকে বের করে দিয়েছি ।
আয়নায় তাকাতে ভালো লাগেনা । এদিকে
Baba Maaর মধ্যে ঝগড়া বেড়েই চলেছে দিন
দিন । এই সম্পর্ক বেশিদিন টিকবে না আমি
জানি । ওইদিন মাঝরাতে ঘুম ভেঙ্গে দেখি
Baba আমার পায়ের কাছে বসে কাদছে ।
ভালোবাসার বিয়ের এ কি পরিণতি ।
ভালোবাসার থেকে বোধহয় ক্যান্সারও
ভালো...
২-২-২০১৪.........
২৬ ঘন্টা পর আমার জ্ঞ্যান ফিরল । রিসানের
সাথে ঝগড়া করলাম অনেকক্ষন । ওর সাথে
ঝগড়া করতে আমার ভালো লাগে । ঝগড়া
করার কেউ থাকা লাগে জীবনে । না হলে
বেঁচে থাকাটাই বৃথা...
১৩-৩-২০১৪.........
গত ৪৮ ঘন্টায় আমায় নিয়ে যমে ডাক্তারে
টানাটানি হয়েছে । আমি আমার সর্বশক্তি
দিয়ে চেষ্টা করেছি ডাক্তাররা যাতে জিতে
। কিন্তু জানি শেষ পর্যন্ত জয়টা ক্যান্সারের
হবে । লিখার শক্তি পাচ্ছিনা...
সানিকে অনেক মিস করছি । যদিও মিস
করাটা উচিত না । ক্যান্সার রোগীদের
কাউকে মিস করার অধিকার নেই...
২৫-৫-২০১৪.........
এই লিখাটাই বোধহয় আমার শেষ লেখা হতে
যাচ্ছে । শেষ শক্তিটুকু জমিয়ে লিখাটা
লিখছি । আমার রেখে যাওয়া জিনিসের
মধ্যে ডায়রিটা রিসানের ভাগে পড়েছে ।
ছেলেটার মধ্যে মানুষের মুখে হাসি
ফোটানোর ঈশ্বর প্রদত্ত ক্ষমতা আছে । ও
অনেক ভালো থাকুক । লিখতে লিখতে চোখের
কোণে জল জমে একফোটা । এই জলটা কার জন্য
। জানিনা । খুব মিস করব । বাবা মাকে,
আমার ছোট্ট বোনটাকে । বন্ধুদের মিস তো
করবই । সানি ভালো থাকুক । স্কুলের সামনে
যে মামাটা আচার বিক্রি করত, তাকেও মিস
করব অনেক । আচ্ছা, স্বর্গে কি আঁচার বিক্রি
হয় । মনে হয়না । আরেকটা দিন বেঁচে থাকার
শখ ছিল । আফসোস ।
যাহা চাই তাহা পাইনা ।
অবশেষে মে মাসের ২৭ তারিখে তার যুদ্ধটা
শেষ হয় ।
আরকিছু লিখার সামর্থ্য তার ছিল না তার।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.