| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মুক্তিযুদ্ধের সময় আম্মার বয়স ছিল ১৩ বছর। আমার মামা দুইজন। আম্মা বলেছিলেন কে শত্রুতাবশত আমার বড় মামার নাম রাজাকার বাহিনিতে দিয়ে দেয়। প্রাণ বাচাঁতে তিনি পালিয়ে গিয়েছিলেন।
আম্মার দুই চাচাকে পাকিস্তানিরা ধরে নিয়ে গিয়েছিল। রাতভর ক্যাম্পে বন্ধি রেখেছিল। ভয়ে সারারাত তাঁরা ভয়ে কেঁদেছিলেন। কি মনে করে সকালে তাদেরকে ছেড়ে দেয়। সিলেটের জকিগঞ্জ থানার কালিগঞ্জ এলাকায় অনেক লোককে খালের উপর নিয়ে গুলি করে হত্যা করে পাকিস্তানিরা ।
ক্যাম্পে আর্মিদের জন্য প্রত্যেক বাড়ি থেকে খাবার নিয়ে যাওয়া বাধ্যতামূলক ছিল।
গরু ছাগল মুরগী তারা জোর করে নিয়ে যেত।
এক লোক পাকিস্তানি আর্মিদের দাওয়াত দিয়ে এনে খাইয়ে ঘুমানোর ব্যবস্থা করে দিয়েছিল। মুক্তি বাহিনীর লোক থেকে আড়াল রাখতে খড়কুটা দিয়ে ঘর বানিয়ে তাদেরকে সেখানে রাখা হয়। রাত্রে লোকটি ঘরে আগুন লাগিয়ে পালিয়ে যায়। সবাই ঘটনাস্থলে মারা যায়।
আম্মার কাছে ছোটকালে এরকম অসংখ্য গল্প শুনেছিলাম। মুক্তিযুদ্ধ শুনলে যাদের চুলকানি শুরু হয়, পাকিস্তানকে অনেক আপন মনে হয়, যুদ্ধকে ভারতের চাল মনে করো অন্তত একবার নিজের বাবা মাকে মুক্তিযুদ্ধের কথা জিজ্ঞেস করো। যে কেউ আপনাকে মিথ্যা বলতে পারে আপন মা বাবা এই কাজ করবেন না।
যাস্ট ইমাজিন মুক্তিযোদ্ধারা পরাজিত হলে তাঁদেরকে কি পরিমাণ সাজা ভোগ করতে হতো? দেশদ্রোহি বানিয়ে সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়া হতো। আমাদেরকে পাকিস্তানের নাগরিক থাকতে হতো!
আমরা বিশ্বের মানচিত্রে পাকিস্তানের মতো ব্যর্থ রাষ্ট্রের নাগরিক নয় অন্তত এই কারণে মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ সম্মান দিতে পারি।
এবার কিছু পাকিস্তানি নাগরিকের কথা বলি। আমার এক বন্ধুর কলিগ নাদিম দাউদ পাকিস্তানি। প্রায় সময় দেশ ভাগ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কথা হতো। সে সব সময়ই বলতো পাকিস্তানিরা বাঙ্গালিদের উপর অনেক জুলুম করেছে। শপের মালিক নাসির আখতার বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে কিছু জেলাস ছিলেন। বিশেষ করে পোষাক শিল্প নিয়ে অনেক পজেটিভ কথা বলেছে সবাই।
এখন কথা হল পাকিস্তানিরাও জানে বাংলাদেশের উপর অনেক অন্যায়/ জুলুম হয়েছে যেটা বাংলাদেশের অনেক তরুণ মানতে নারাজ। এই দেশ কারো দয়ার দানে পাওয়া নয় । মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কথা বললেই ভারতপ্রেমী কিংবা কোন দলের পক্ষে কথা বলা হয়না।
২|
১০ ই আগস্ট, ২০১৬ ভোর ৬:০৯
চাঁদগাজী বলেছেন:
মুক্তিযোদ্ধারা (ইপিআর, বেংগল রেজিমেন্ট, ছাত্র-জনতা) এখনও আছেন, বাংগালীদের বীরত্বের সর্বোচ্চ ইতিহাস।
©somewhere in net ltd.
১|
১০ ই আগস্ট, ২০১৬ ভোর ৬:০০
ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ । সুন্দর করে লিখেছেন , তবে ব্লগে বিচরণ এত কম কেন ।
শুভেচ্ছা রইল ।