| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
রমিত
মুক্তিযুদ্ধের সেই উত্তাল দিনুলোতে, অজস্র তরুণ কি অসম সাহসিকতা নিয়ে দেশমাতৃকাকে রক্ষা করেছিল! ব্যাটা নিয়াজী বলেছিলো, “বাঙালী মার্শাল রেস না”। ২৫শে মার্চের পরপরই যখন লক্ষ লক্ষ তরুণ লুঙ্গি পরে হাটু কাদায় দাঁড়িয়ে অস্র হাতে প্রশিক্ষন নিতে শুরু করল, বাঙালীর এই রাতারাতি মার্শাল রেস হয়ে যাওয়া দেখে পাকিস্তানি শাসক চক্র রিতিমত আহাম্মক বনে যায়। সেই অসম সাহস সেই পর্বত প্রমাণ মনোবল আবার ফিরে আসুক বাংলাদেশের তরুণদের মাঝে। দূর হোক দুর্নীতি, হতাশা, গ্লানি, অমঙ্গল। আর একবার জয় হোক বাংলার অপরাজেয় তারুণ্যের।
চেতনার সংকট
-----ডঃ রমিত আজাদ
আধুনিক রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস বেশি দিনের নয়। ইতিপূর্বে ছিল ‘রাজ্য’। রাজ্যের প্রতিষ্ঠা জনসমর্থনে হতো না। রাজ্যের প্রধান বাহুবলে রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে সিংহাসনে আরোহন করতেন। রাজ্যে জনগণনের ইচ্ছা অনিচ্ছার কোন মূল্য ছিল না। রাজার ইচ্ছাই ছিল আইন। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহনের ক্ষেত্রে তিনি সভাসদদের পরামর্শ নিতেন। সেখানে জনগণের কোন অংশগ্রহণ থাকতো না। ঐতিহ্যগত কারণে জনতা রাজা ও সিংহাসনকে সম্মান করত।
এক সময় এই মূল্যবোধের পরিবর্তন ঘটল। জনগণ বুঝতে শুরু করলো তাদেরই অর্থপুষ্ট প্রতিষ্ঠানে তাদের অধিকার নেই। এই অসন্তোষ যতই বাড়তে থাকে, সিংহাসনের প্রতি সম্মান ততই কমতে থাকে। মানব সভ্যতার বিকাশে এই রকম একটি পর্যায়ে, নির্যাতিত ও নিগৃহিত প্রজাদের মধ্যে দানা বেঁধে ওঠা অপরিসীম গণ অসন্তোষ থেকে সৃষ্ট বিপ্লবের মাধ্যমে পতন হয়েছিল প্রবল প্রতাপশালী রোম সাম্রাজ্যের।
এই পতনের পেছনে কাজ করেছিল একটি চেতনা। যীশু খ্রীষ্টের প্রচারিত খ্রীষ্ট ধর্মীয় ‘চেতনা’। হ্যাঁ চেতনাই মানুষকে পশুকূল থেকে পৃথক করে। চেতনা জীবনকে অর্থবহ করে। বেঁচে থাকার প্রেরণা যোগায়। মানব সভ্যতার বিকাশের এক একটি যুগের সূচনায় কাজ করেছিল এক একটি চেতনা।
খ্রীষ্ট ধর্মীয় চেতনা এক সময় ইউরোপবাসীকে রোমক নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা করেছিল। আবার এই চেতনাকে পূঁজি করেই কিছুকাল পরে একদল মানুষ সৃষ্টি করল নির্যাতনের নতুন অধ্যায়। চার্চ হয়ে উঠল প্রধান সামন্ত। ধর্মীয় অনুশাসন মানুষকে বেঁধে ফেলল আষ্টেপৃষ্ঠে। এ পর্যায়ে প্রয়োজন হল নতুন চেতনার।
এই নতুন চেতনাটির ভিত রচিত হয়েছিল ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের মধ্যকার শতর্বষব্যপি যুদ্ধে (১৩৩৭-১৪৫৩)। এর দার্শনিক রূপ দিয়েছিলেন নিকোলো দি ভের্নাদো মেকিয়েভেলি (১৪৬৯-১৫২৭)। চার্চের অনুশাসন মুক্ত হয়ে জনতা কেন্দ্রিক সেক্যুলার রাষ্ট্র গঠনের দর্শন প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। পরবর্তীতে বডেন (১৫৩০-১৫৯৬) ‘সার্বভৌমত্বে’র ধারণা প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি আরো বলেন, ‘রাষ্ট্র হলো জনতার ক্ষমতা’। এই দর্শনগুলোই এক সময় ‘জাতীয়তাবাদী চেতনা’র উন্মেষ ঘটায় যার প্রবল বিকাশ ঘটে ফরাসী বিপ্লবের (১৭৮৯) মধ্য দিয়ে। তখন থেকেই প্রতিষ্ঠা হতে শুরু করে জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ আধুনিক রাষ্ট্রসমূহ।
জাতীয়তাবাদ সংক্রান্ত আলোচনার গভীরে যাওয়ার আগে জাতির সংজ্ঞাটি দেয়া প্রয়োজন। এই সংজ্ঞা দিতে গিয়ে অনেক সমাজ বিজ্ঞানী থমকে দাঁড়িয়েছেন। কার্ল মার্কস সম্ভবত কোন সংজ্ঞাই দেননি। যা হোক, তার পরেও মোটামুটিভবে গৃহিত একটি সংজ্ঞা আছে। তা হলো, ‘যে বৃহৎ জনগোষ্ঠী একটি নির্দিষ্ট ভাষায় কথা বলে, যাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য আছে, যারা একটি নির্দিষ্ট ভূখন্ডের অধিবাসী এবং যাদের মধ্যে আবেগগত ঐক্য রয়েছে, সেই বৃহৎ জনগোষ্ঠী একটি জাতি।’
জাতি ও জাতিসত্তা বিষয়ক পার্থক্যমূলক আলোচনায় না গিয়ে উপরের সংজ্ঞাটিকে যথাযথ ধরে আমি পরবর্তী আলোচনায় প্রবেশ করছি।
‘জাতীয়তাবাদ’ জাতি ভিত্তিক একটি চেতনা। আদিম সমাজের গোত্র চেতনার নতুন রূপ। আধুনিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার যুগের ঊষালগ্নে সামন্ততান্ত্রিক খন্ড-বিখন্ডতা থেকে উঠে এসে অখন্ড রাষ্ট্র গঠনে এবং চার্চের অনুশাসন মুক্ত সেক্যুলার রাষ্ট্র গঠনে, সর্বপোরি সিংহাসনের প্রভাব খর্ব করে জনতাকেন্দ্রিক পার্লামেন্ট ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে এই চেতনা বিশেষ ভুমিকা রাখে।
পরবর্তীতে এই চেতনাই উগ্র রূপ নিয়ে সাম্রাজ্যবাদে পরিণত হয়। এই উগ্রতার নাম হয় ‘শোভিনিজম।’ শোভিনিজমের উপর ভিত্তি করে ইউরোপের কয়েকটি রাষ্ট্র বিশ্বব্যাপী উপনিবেশ গড়ে তোলা শুরু করে। এমন একটি পর্যায়ে বাংলা ইংরেজদের উপনিবেশে পরিণত হয়। উল্লেখ্য যে, এ সময় বাংলায় কোন জাতীয়তাবাদী চেতনা ছিল না। তাই ইংরেজদের দূরভিসন্ধি বোঝা সবার পক্ষে সম্ভব হয়নি। যদিও বিচক্ষণ নবাব আলীবর্দী খান পৌত্র নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে ইংরেজদের মতি-গতি সম্পর্কে সাবধান করে দিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু মসনদ দখলের লড়াইয়ে অন্ধ হয়ে নবাবের বেশীর ভাগ সদস্যই পলাশীর যুদ্ধে ইংরেজের পক্ষ নিয়েছিল। জাতীয়তাবাদী চেতনা থাকলে সেদিন এই ভুল নাও হতে পারত।
পলাশীর পাপ মোচনের উদ্দেশ্যে মীরজাফর একবার এবং মীর কাসিম একবার ইংরেজের হাত থেকে ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু ইংরেজ তখন এমনভাবে জাল বিস্তার করেছে, যে তা আর কাটা সম্ভব হয়নি। এই পর্যায়ে বাংলার বুদ্ধিজীবীরা বুঝতে শুরু করেন জাতীয়তাবাদী চেতনা প্রতিষ্ঠা করে গণজাগরণ সৃষ্টি না করে উপনিবেশিকতা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়। এভাবেই নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে স্বাধীনতার প্রতীক করে সৃষ্টি করা হয় বাংলার প্রথম জাতীয়তাবাদী চেতনা। এই চেতনার মূল মন্ত্র ছিল 'ইংরেজ, তুমি বাংলা ছাড়'।
ধীরে ধীরে ভারতের অন্যান্য জাতিগুলোও এই চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ইংরেজ হটাও আন্দোলনে নামে। কিন্তু চতুর ইংরেজও কম যায় না। কখনও অস্ত্রের জোরে, কখনও সমান্তরাল চেতনার সৃষ্টি করে বিভেদ সৃষ্টি করে তারা আন্দোলনকে ভোঁতা করতে থাকে। ভারতবাসীর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির মূল অস্ত্র হিসাবে তারা ব্যবহার করে ‘ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক চেতনা।’
ভারত ছাড় আন্দোলনের চরম পর্যায়ে গঠিত হয় রাজনৈতিক দল ‘কংগ্রেস’। রোম সাম্রাজ্যের একটি সভার নাম ছিল কংগ্রেস। আপাতদৃষ্টিতে মনে হয়েছিল ভারতের স্বাধীনতাকামীদের সৃষ্ট এই দল। আসলে কংগ্রেস ছিল ইংরেজদেরই সমর্থনপুষ্ট একটি দল। এর প্রতিষ্ঠার পেছনে হাত ছিল লর্ড ডাফরিনের। পরবর্তীকালে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আগত এম. করমচাঁদ গান্ধির নেতৃত্বে দলীয় রাজনীতি নতুন স্রোত পায়। তদুপরি কংগ্রেস তার বিশেষ উদ্দেশ্য অর্থাৎ উচ্চ বর্ণের হিন্দুদের স্বার্থ রক্ষার ব্রত থেকে বিচ্যুত হয়নি। কংগ্রেসের নেতৃত্বে ভারত ¯স্বাধীন হলে তা উচ্চ বর্ণের হিন্দুদের শাসনাধীণ হয়ে যেতে পারে এবং তফসীলি সম্প্রদায় ও মুসলমানরা ইংরেজ আমলের মতই নির্যাতিত থেকে যাবে। দূরদৃষ্টি সম্পন্ন মুসলমান এলিট সম্প্রদায় এই কূটকৌশল টের পেয়ে নবাব সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে গঠন করেন ‘মুসলীম লীগ’। মুসলীম লীগ ছিল কংগ্রেসের কাউন্টার। ঢাকার শাহবাগে নবাব সলিমুল্লাহর এক ভবনে এই লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়। নবাব সলিমুল্লাহর মৃত্যুর পর, শেরে বাংলা মুসলীম লীগের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন এবং অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে এই দায়িত্ব পালন করতে থাকেন। উল্লেখ্য, মুসলীম লীগের প্রতিষ্ঠার সাথে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর কোন সম্পর্ক ছিল না। মুসলীম লীগে জিন্নাহর প্রবেশ অনেক পরে।
কংগ্রেস ও মুসলীম লীগের নেতৃত্বে ভারতবর্ষে দু’টি ভিন্ন চেতনার বিকাশ হতে থাকে। বাংলায় তখন দুইটি সম্প্রদায় বসবাস। একটির সংখ্যাধিক্য পশ্চিমে ও অপরটি পূর্বে। তাঁদের ভাষা এক কিন্তু ধর্ম ভিন্ন। তাই সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যগত পার্থক্যও আছে। এই পার্থক্যই চেতনাগত পার্থক্য এনে দেয়। ভৌগলিক ভাগাভাগির প্রশ্নও তুলে ধরে। ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদী চেতনাকে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন বাঙালীর রাজনীতির কথা বলেছিলেন কিন্তু তাকে প্রতিষ্ঠা করতে পারেন নি। কারণ যুগটি ছিল ধর্মীয় চেতনার যুগ। পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে ভাষাগত মিল ছিল কিন্তু চেতনাগত পার্থক্য ছিল। প্রবন্ধের শূরুতেই বলেছিলাম জাতি গঠনে আবেগগত ঐক্যের কথা। পূর্ব ও পশ্চিম বঙ্গের মধ্যে ছিল আবেগগত অনৈক্য। তাই অখন্ড জাতি হিসাবে তাদের আত্মপ্রকাশ করা সম্ভব ছিল না।
ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের পর ভৌগলিক ভাগাভাগি নিশ্চিত হয়ে পড়ে। পূর্ব বাংলায় শক্তিশালী রূপ ধারণ করে একটি চেতনা--- ইসলাম ধর্ম। সেই সময়ের রাজনীতির সব উজ্জ্বল তারকা শেরে বাংলা ফজলুল হক, মওলানা ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, খাজা নাজিমুদ্দিন, ছাত্রনেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সবাই ছিলেন এই চেতনায় উদ্বূদ্ধ। তাঁরা যেখানেই গিয়েছিলেন তাঁদের পেছনে জনতার ঢল নেমেছে। হিন্দু জমিদারদের অত্যাচারে ক্লান্ত, নিঃশেষিত বাঙালী মুসলমানরা ইংরেজ মুক্ত, হিন্দু জমিদারদের শাসনমুক্ত একটি নতুন রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেছিল।
অবশেষে ধর্মীয় চেতনার উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হয় দু’টি পৃথক রাষ্ট্র, ভারত ও পাকিস্তান। ৮৭২ টি ভাষাভাষী সম্পন্ন বহুজাতিক রাষ্ট্র ভারতে ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদী কোন চেতনা থাকার কথা নয়, ধর্মীয় চেতনাই তাদের মধ্যে আবেগগত ঐক্যের সৃষ্টি করেছে। অনুরুপভাবে বহুজাতিক রাষ্ট্র পাকিস্তানেও ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদী চেতনার অবকাশ ছিল না। সেখানেও ইসলাম ধর্মই ছিল ঐ রাষ্ট্রের চেতনা। তদানিন্তন রাষ্ট্রপ্রধানরা বক্তৃতা-বিবৃতিতে হামেশাই বলতেন যে, পাকিস্তান একটি চেতনাভিত্তিক রাষ্ট্র।
১৯৪৭ সালে পূর্ব বাংলার ইতিহাসে একটি গুরত্বপূর্ণ অধ্যায়- একটি নতুন চেতনার জয়, একদল জালিমের উৎখাত। কিন্তু বছর ঘুরতে না ঘুরতেই দেখা গেল সংগ্রামের অবসান হয়নি। একদল জালিমকে রিপ্লেস করেছে আরেক দল জালিম। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠায় বাংলার মানুষের ভূমিকা ছিল মুখ্য, মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল ঢাকায়, লাহোর প্রস্তাব শেরে বাংলার, উপরন্তু পাকিস্তানের পক্ষে অত ভোট ব্রিটিশ ভারতের অন্য কোন প্রদেশে পড়েনি। অথচ কেন্দ্রীয় রাজধানী ঢাকায় হয়নি, কেন্দ্রীয় ক্ষমতা থেকে বাঙ্গালীদের দূরে সরিয়ে রাখা হয়। বাংলা ভাষার অবমাননা মূলক জিন্নাহর ঘোষণায়, ১৯৪৭ এর চেতনার পরাজয় ঘটল। সারা পূর্ব বাংলায় প্রতিবাদের ঝড় উঠল, বোঝা গেল '৪৭এর চেতনা নিয়ে বেশী দূর আগানো যাবে না। প্রয়োজন দেখা গেল নতুন চেতনার। উল্লেখ্য যে ভারতে হিন্দীকে রাষ্ট্রভাষা করা জনিত গান্ধীর ঘোষণায় পশ্চিম বঙ্গে কোন প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়নি।
’৪৭-এর চেতনা অকেজো হয়ে পড়ে ’৫২-এর ভাষা আন্দোলনে। যে রাজনৈতিক তারকারা ’৪৭-এ পাকিস্তান গঠন করেছিলেন তারা সবাই-ই (খাজা নাজিমুদ্দিন বাদে) প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ভাষা আন্দোলনের সাথে জড়িত ছিলেন। ২১ শে ফেব্র“য়ারী পশ্চিম পাকিস্তানের সাথে পূর্ব বাংলার স্পষ্ট সীমারেখা টেনে দেয় (প্রথমে মানসিক, পরে ভৌগলিক)। ২১ হয়ে উঠে আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। ইতিহাসের সমষ্টি ঐতিহ্য, কিন্তু ইতিহাসের সবটাই ঐতিহ্য নয়। ইতিহাসের ঐ অংশই ঐতিহ্য হয়ে যায়, যা অন্তর্গত হয়ে পড়ে চেতনার, দৃষ্টিভঙ্গির ও আচার আচরণের যা সতত প্রবাহমান। হ্যাঁ, ঐ চেতনার কারণে ২১ ঐতিহ্য হয়ে যায়। একুশ জন্ম দেয় নতুন চেতনার। চেতনাটি হলো ‘আমরা বাংলায় কথা বলি’।
এই চেতনাভিত্তিক পাকিস্তান বিরোধী আন্দোলন একসময় রুপ নেয় মহান মুক্তিযুদ্ধে। পরিশেষে প্রতিষ্ঠিত হয় পূর্ব বাংলার বাঙালীদের নিজস্ব রাষ্ট্র- ‘বাংলাদেশ’। আমাদের ইতিহাসে আরও একটি গুরত্বপূর্ণ সন- ‘১৯৭১। একাত্তুরে ’৪৭ এর চেতনার পুরোপুরি মৃত্যু ঘটে কিন্তু একুশের চেতনা আরও জীবন্ত হয়ে ওঠে। একাত্তুরে আমরা শুরু করি নতুন যাত্রা। এই যাত্রার তো একটি চেতনা থাকবে। কি সেই চেতনা?
বাংলাদেশ নতুন রাষ্ট্র। নতুন রাষ্ট্রের থাকবে নতুন চেতনা। নতুন চেতনা নিয়ে হয়েছে সংকট- চেতনার সংকট। চেতনার প্রশ্নে দেশের দু’টি প্রধান দল দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়েছে, আওয়ামী লীগ এই চেতনাকে বলেছে ‘বাঙালী জাতীয়তাবাদ’, বি,এন,পি বলেছে ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে চেতনা ছিল, ’৪৭-এ চেতনা ছিল, ’৫২-তে চেতনা ছিল অথচ স্বাধীন বাংলাদেশে রয়েছে চেতনার সংকট। এটা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। নতুন একটি চেতনার জন্ম পুরাতন একটি চেতনার মৃত্যু ঘটায়। কিন্তু একটি চেতনার মৃত্যু হলো, অথচ নতুন কোন চেতনার জন্ম হলো না, এতে চেতনাহীন এই সময়টিতে জাতি সম্মুখীন হয় চরম সংকটের। যতক্ষণ পর্যন্ত না বিশ্ববিক্ষণজনিত এই সমস্যাটির সমাধান না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত অন্য কোন জাতীয় সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।
‘বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ’-এর প্রসঙ্গে আসা যাক। এই জাতীয়তাবাদ বলতে বুঝি, বাংলা ভাষাভাষীদের সংস্কৃত ও ঐতিহ্য ভিত্তিক জাতীয়তাবাদ। প্রথমতঃ বাংলা ভাষীরা শুধু বাংলাদেশেই নয়, পশ্চিমবঙ্গ সহ ভারতের আরো কয়েকটি প্রদেশে বসবাস করে। তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু। এক সময় তারা ধর্মীয় চেতনার প্রশ্নে সোহরাওয়ার্দীর প্রস্তাবিত ‘অখন্ড স্বাধীন বাংলা’ প্রতিষ্ঠা হতে দেয়নি। দ্বিতীয়তঃ তাদের সাথে আমাদের যেমন ধর্মে তেমনি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যগত পার্থক্য আছে। আমাদের হৃদয়ে আছে একুশ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। একুশ ও মুক্তিযুদ্ধের অস্তিত্ব বাংলাদেশের বাইরের কোন বাঙ্গালীর মধ্যে নেই।
ভারতের বাঙ্গালীরা ভাষা আন্দোলন করেনি। লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে যে ভাষা ভিত্তিক রাষ্ট্র বাংলাদেশের বাঙ্গালীরা সৃষ্টি করেছে তার সাথে বাংলাদেশের বাইরের বাঙ্গালীরা একাত্মতা ঘোষণা করেনি। তাদের আর আমাদের চেতনা এক হতে পারে না।
মুসলিম লীগের নামের সাথে ‘আওয়ামী' শব্দটা জুড়ে দিয়ে আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠন করেছিলেন সোহরাওয়ার্দী যার অর্থ জনতার মুসলিম লীগ, বাঙ্গালীর মুসলিম লীগ নয়। পরবর্তীতে ‘মুসলিম’ কথাটি বাদ দিয়ে শুধুই ‘আওয়ামী লীগ’ করা হয়। এই পরিবর্তন যথাযথ। ব্রিটিশ শাসন আমলের মত বিশেষত্ব প্রদর্শন করার উদেশ্যে ‘মুসলিম’ কথাটির ব্যবহার করার আর প্রয়োজন ছিল না। কারণ পাকিস্তানে মুসলমানরাই ছিল সংখ্যা গরিষ্ঠ। কিন্তু নতুন নাম করণেও বাঙ্গালী কথাটি আসেনি, ‘আওয়ামী লীগ’ অর্থ ‘জনতার দল’ । স্বাধীনতার ঘোষণা ছিল, বাংলাদেশের (পূর্ব বাংলার), অখন্ড বাংলার নয় ।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় চেতনার প্রয়োজন অপরির্হায। এই চেতনার দু’টি প্রধান উপাদান- এক. সংখ্যা গরিষ্ঠের ধর্ম- ইসলাম; দুই. সংখ্যাগরিষ্ঠের ভাষা-বাংলা। এছাড়া রয়েছে জাতীয় আবেগ সঞ্চারকারী উল্লেখযোগ্য ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট- দুই শতক দীর্ঘ ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন, ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন এবং একাত্তরের মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম।
অনেক বামপন্থী দল আত্মিক চাহিদা উপেক্ষা করে ভূ-গোলের উপর বেশী জোর দিয়ে ফেলেন। বাংলাদেশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে অনেক দূরে। ইসলাম ধর্মের উৎপত্তি যেহেতু মধ্যপ্রাচ্যে তাই বাংলাদেশে তা অকেজো এমন কথা তারা প্রচার করেন। কিন্তু তারা ভুলে যান নীতি বা আদর্শ ভূ-গোলের বাধা মানে না। বাংলাদেশের খুব কাছাকাছি উদ্ভূত বৌদ্ধ দর্শন গৃহীত হয়েছে সুদূর জাপানেও, আর জার্মানীতে সৃষ্ট কম্যুনিজমকে বাংলাদেশের বামপন্থীরা আঁকড়ে ধরেছেন। তাই অতিমুসলমান হতে গিয়ে অবাঙ্গালী হয়ে যাওয়া যেমন ঠিক নয়, তেমনি অতি বাঙ্গালী হতে গিয়ে অমুসলমান হয়ে যাওয়াও গ্রহণযোগ্য নয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর ১০ই জানুয়ারী ১৯৭২-এর ভাষণে বলেছিলেন, “.. ..আমি বাঙ্গালী, আমি মুসলমান, . . . .” তিনি দু’টো বিষয়ের উপরই সমান গুরুত্ব দিয়েছিলেন।
প্রসঙ্গত অনেকে উল্লেখ করে থাকে পার্বত্য চট্টগ্রাম সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ক্ষুদ্র জাতিসত্তাগুলোর কথা। তাদের চেতনা কি হবে? তাদের ভাষা বাংলা নয়, ধর্মও ইসলাম নয়। কিন্তু কয়েক শতক যাবৎ পূর্ব বাংলার অধিবাসী। এ দীর্ঘ সময়ে তাদের ও আমাদের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে অভিন্নতা এসেছে। তারাও আমাদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন করেছে, একাত্তরের স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নিয়েছে। এই আবেগের উপর ভিত্তি করে কি একটি ঐক্য প্রতিষ্ঠা হতে পারে না?
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রায় চার দশক পার হয়ে গেছে। কিন্তু এই সময়ে আমরা খুব বেশী দূর এগুতে পারিনি। তুলনামূলক বিচারে পিছিয়েই পড়েছি। ধীরে ধীরে আমাদের অতিক্রম করে গিয়েছে থাইল্যান্ড, কোরিয়া, মালয়েশিয়া, আর মধ্যপ্রাচ্যের কথা বাদই দিলাম। এর মূল কারণ- চেতনার সংকট। চেতনার প্রশ্নে আমরা দ্বিধা বিভক্ত হয়ে আছি। এই দ্বিধা কাটিয়ে উঠতে পারলেই দেশ গতিশীলতা পাবে।
২|
০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১১ সকাল ৯:২৭
জিসান শা ইকরাম বলেছেন:
পড়লাম ![]()
৩|
১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১১ রাত ১:২৮
মাসুদুল হক বলেছেন: একটু দ্রুত পড়লাম, ভাল লেগেছে।
১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১১ বিকাল ৫:৫৮
রমিত বলেছেন: আপনাকে ধন্যবাদ।
৪|
১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১১ রাত ১১:৩৯
অস্থির পোলাপাইন বলেছেন: ভালো বলছেন । আসলেই আমাদের চেতনার অভাব আছে ।
ড: রমিত আজাদ উনি কি AIUB এর রমিত আজাদ ??
১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১১ রাত ১২:৫৮
রমিত বলেছেন: জ্বী। AIUB এর রমিত আজাদ ।
৫|
১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১১ রাত ১১:৫৪
দর্পন বলেছেন: সমাধান দিলেন না, চেতনা আসলে কি হওয়া উচিত?
১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১১ রাত ১২:৫৯
রমিত বলেছেন: সমাধানতো আর্টিকেলের মধ্যেই আছে।
৬|
১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১১ রাত ৩:৪১
অস্থির পোলাপাইন বলেছেন: স্যার আপনার পরিচিত কেউ হলে স্যারকে জানাবেন "21
21 gunshots salute" । উনার একটা ক্লাস পেয়েছিলাম এবং বুঝেছিলাম যে দেশের সব কয়টা বিশ্ববিদ্যালয়ের টীচার যদি এমন হত তাহলে দেশটার কিছু একটা হত ।
ভারতের বাঙ্গালীরা ভাষা আন্দোলন করেনি। লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে যে ভাষা ভিত্তিক রাষ্ট্র বাংলাদেশের বাঙ্গালীরা সৃষ্টি করেছে তার সাথে বাংলাদেশের বাইরের বাঙ্গালীরা একাত্মতা ঘোষণা করেনি। তাদের আর আমাদের চেতনা এক হতে পারে না।
++++
বিপ্লব দরকার, আর কিছুতেই আমাদের কিছু হবে না ।
১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১১ দুপুর ১:৫৭
রমিত বলেছেন: আমিই সেই স্যার। আপনার প্রশংসা শুনে ভালো লাগলো। আপনাদের ভালোবাসাই আমার অনুপ্রেরনা। আপনার মত আমিও মনে করি, ভালো শিক্ষকরাই দেশটাকে পাল্টে দিতে পারে।
৭|
১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১১ রাত ১১:৫৮
অস্থির পোলাপাইন বলেছেন: Sir sorry for late reply. Its an honor to me that you replied my comment. Really you are a great teacher (no extra sugar given). They way you taught us math's that was amazing. Take our respect and love and pray for us. Once you said "Verify than Trust" its one of the favorite quote of my life.
Sir we need change but the matter of sorrow that now a days very few young people are think about the country and society
Again hats off to you sir...
(sorry for English, got some problem with the browser)
১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১১ রাত ৮:০৫
রমিত বলেছেন: Thanks.
৮|
০৬ ই মার্চ, ২০১১ সকাল ৮:২৭
সুমিন শাওন বলেছেন: ভালো লাগলো আপনার সাথে পরিচিত হয়ে, লেখাটি সংগ্রহে রাখলাম
০৬ ই মার্চ, ২০১১ সকাল ৯:১৫
রমিত বলেছেন: ধন্যবাদ।
৯|
০৬ ই মার্চ, ২০১১ দুপুর ১২:০১
এমএিব সুজন বলেছেন: তবে তাই হোক!
ধন্যবাদ।
০৬ ই মার্চ, ২০১১ দুপুর ১২:৩৩
রমিত বলেছেন: ধন্যবাদ
১০|
০৬ ই মার্চ, ২০১১ দুপুর ১২:২৩
Eisenheim বলেছেন: অসাধারন ! সোজা প্রিয়তে নিয়ে নিলাম ![]()
০৬ ই মার্চ, ২০১১ দুপুর ১২:৩৩
রমিত বলেছেন: ধন্যবাদ
১১|
০৮ ই মে, ২০১১ বিকাল ৩:৪৮
মিশুক৩১ বলেছেন: নাইচ
১০ ই মে, ২০১১ সকাল ১০:০২
রমিত বলেছেন: ধন্যবাদ
১২|
১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ২:৫৯
সুপান্থ সুরাহী বলেছেন: সুন্দর এবং সুন্দরম...
১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ সকাল ৯:০৯
রমিত বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ
১৩|
১৩ ই অক্টোবর, ২০১১ রাত ৩:০১
ম্যাভেরিক বলেছেন: সহজভাবে গভীর বাস্তব তুলে ধরেছেন, রমিত ভাই। আমার শেষ পোস্টে আপনার এ পোস্টের মূল সুরটি অনুভব করেছি। চেতনার সংকট কাটুক আমাদের, এ-ই প্রত্যাশা।
১৩ ই অক্টোবর, ২০১১ সকাল ৮:৪২
রমিত বলেছেন: আপনার মত প্রতিভাবান ব্যক্তি আমার মতামত সমর্থন করছে বলে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছি।
১৪|
১৪ ই ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ১২:৫২
ক্ষতিগ্রস্থ বলেছেন: ডিগ্রিতে পলিটিক্যাল সায়েন্সের ক্লাশগুলো আমি বরাবর উপভোগ করতাম. আমার এক শিক্ষকও আমাদের চেতনার সংকটের বিষয়ে বলতেন ক্লাশে বিভিন্ন প্রসঙ্গে, তবে আপনি এক আর্টিকেলে যেভাবে গুছিয়ে যুক্তি দিয়ে লিখেছেন তা অসাধারণ. আপনার ভাবনাগুলি আমাদের চেতনার সংকট কাটাতে ও জাতীয় ঐক্য সংহত করায় ভূমিকা রাখবে আশা করি.
২২ শে ডিসেম্বর, ২০১১ সকাল ৮:৩৬
রমিত বলেছেন: আপনার চমৎকার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
১৫|
২১ শে জানুয়ারি, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:২৩
বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: প্রিয়তে রাখলাম।
আমাদের চেতনার সংস্কারের সময় এসেছৈ আজ।
পূর্ণ সার্বভৌমত্ব এবং স্বাধীনতার মৌলিক চেতনাকে দৃঢ় করার।
২১ শে জানুয়ারি, ২০১২ রাত ৮:৪৭
রমিত বলেছেন: ধন্যবাদ।
১৬|
২৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১২ রাত ১২:২০
মিটুলঅনুসন্ধানি বলেছেন: আপনার এই লেখাটি আমাদের বরিশাল থেকে প্রকাশিত "মানচিত্র" নামক ছোটো কাগজে ছাপা হয়েছে। কিন্তু আমি আপনাম কোনো ঠিকানা জানি না। যদি আমাকে নিচের নম্বরে একটু জানাতেন তো আমি আপনাকে কিছু কপি পাঠিয়ে দিতে পারতাম......
০১৭১২৭৯৫০২৪..........কল দিলে ভালো লাগবে।
০১ লা মার্চ, ২০১২ রাত ১২:১৫
রমিত বলেছেন: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ, আমি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছি। আমি আপনাকে কল দিব ।
০৪ ঠা মার্চ, ২০১২ সকাল ১১:৩৯
রমিত বলেছেন: আমার ইমেইল [email protected]
১৭|
১২ ই মার্চ, ২০১২ রাত ১:০৬
শিকদার বলেছেন: ক্লিক করুন
বেশ্যা মার্কা রাজনীতির ব্যান চাই
১৮|
২৪ শে এপ্রিল, ২০১২ সকাল ৯:৪৩
অদ্ভূত উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ বলেছেন: চেতনার সংকট !!
আমিও ভাবতাম একটা সমস্যা আছে, কিন্তু ধরতে পারতাম না সমস্যাটা কী? আপনার কথায় আমিও সেই সমস্যাটা চিহ্নিত করতে পারলাম। আমরা চেতনায় গরীব , বিভক্ত।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় চেতনার প্রয়োজন অপরির্হায। এই চেতনার দু’টি প্রধান উপাদান- এক. সংখ্যা গরিষ্ঠের ধর্ম- ইসলাম; দুই. সংখ্যাগরিষ্ঠের ভাষা-বাংলা।
কিন্তু আপনিও তো সেই ব্রিটিশ যুগে ফিরে গেলেন। চেতনার উপদান হিসাবে ধর্মকে ঘোষণা করলেন।
২৫ শে এপ্রিল, ২০১২ রাত ১২:৫০
রমিত বলেছেন: আপনাকে ধন্যবাদ আমার চিন্তা শেয়ার করার জন্য। এবং সরাসরি ও খোলাখুলি মন্তব্য করার জন্যও আরেকবার ধন্যবাদ। চেতনার উপদান হিসাবে ধর্মকে কেন নিয়ে আসলাম, এটা বুঝাতে গেলে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করতে হবে। মুখোমুখী হলে ভালো হয়। কিছুটা বিশ্লেষণ আর্টিকেলটার মধ্যেও এসেছে। ধর্মীয় চেতনা প্রাচীনপন্থী ভাবধারণা এযুগে এটা অচল - এরকম চিন্তাভাবনা আমিও করতাম, আমার অপরিনত বয়সে (বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রায় শেষ দিক পর্যন্ত) । ধীরে ধীরে ম্যাচুরিটি আসার পর এবং একই সাথে পড়ালেখার পরিধী বৃদ্ধির সাথে সাথে (ধর্ম, দর্শন, ইতিহাস ও আধুনিক রাজনীতি) আমি বুঝতে পারলাম আমার ভুল। কেবলমাত্র সুপারফিসিয়াল নলেজ থাকলেই ধর্ম সম্পর্কে নেগেটিভ ধারণা হয়। ধর্ম স্মরণাতীত কাল থেকেই আছে এবং আমাদের জীবন দর্শন, সংস্কৃতি, আইন, ঐতিহ্য এবং আরো অনেক কিছুর সাথেই সরাসরি ও গভীরভাবে মিশে আছে ধর্ম।
যে কোন সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের পিছনে যদি ধর্মের দোহাই না থাকে তা এলোমেলো অনির্দিস্ট হতে বাধ্য।
ব্রিটিশ যুগ কথাটা ভালোই লিখেছেন, ব্রিটিশদের চেতনায় ধর্ম আছে। খোদ মার্কিন যুক্তরাস্ট্রের রাস্ট্রীয় চেতনায়ও রয়েছে প্রোটেস্টান্ট ধর্ম।
১৯|
২৫ শে এপ্রিল, ২০১২ রাত ১:৩২
অদ্ভূত উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ বলেছেন: হ্যাঁ একটা কথা আমিও জানি , মানে অনেক প্রবীনের কাছে শুনেছি , বয়সের সাথে সাথে চিন্তা ভাবনার পরিবর্তন আসে । পরিপক্কতা আসে তা আমি বলব না , কারন বেশি বয়সের চিন্তা ধারা রক্ষণশীলতার দিকে ধাবিত হয়। আর রক্ষনশীলতা জিনিসটা কোন কাজের না , সামাজিক বিপ্লবের জন্য তা অন্তরায়। বয়স্ক মনের চিন্তা ধারা পরিবর্তনকে ভয় পায় , তাই পরিবর্তন আসে তরুন দের হাত ধরে।
ধর্ম অবশ্যই আমাদের জীবন দর্শন, সংস্কৃতি, আইন, ঐতিহ্য এবং আরো অনেক কিছুর সাথেই সরাসরি ও গভীরভাবে মিশে আছে।
প্রসঙ্গ যখন উঠেই গেল, দয়া করে এই লেখাটা পড়ুন।
আজ আমাদের যে মানসিক দীনতা তার পিছনে আছে বিপরীত মুখী ধর্ম ও সংস্কৃতি। উপরের লিঙ্কের পোস্টটি পড়লেই বুঝবেন আমি কি বলতে চাচ্ছি।
ধর্মীয় চেতনা প্রাচীনপন্থী ভাবধারণা এযুগে এটা অচল।
বাস্তবিক এটা আমার চিন্তা ধারা। প্রাচীন রাষ্ট্র গুলো ধর্ম দ্বারা অনেকটাই প্রভাবিত ( যেমন ইংল্যান্ড বা আমেরিকার কথা ধরুন )। কিন্তু দেখার বিষয় হল বর্তমানে তারা ধর্মের জগত থেকে বেরিয়ে এসেছে ( এর প্রকৃষ্ট উদাহরন আমেরিকা )। তার মানে এই নয় যে কেউ ধর্ম পালন করে না , কিন্তু তারা ধর্মকে ব্যাক্তি বা পরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছে , রাষ্ট্র ব্যাবস্থাকে ধর্ম মুক্ত করার জন্য আপ্রান চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এখন কথা আসতে পারে , তাহলে আমেরিকা মুসলিম দেশ গুলা আক্রমন করে কেন? এর পিছনে ধর্ম না বিশ্ব রাজনীতি এবং অর্থনীতি কাজ করে।
রাষ্ট্রের প্রশ্ন যখন উঠবে , তখন ধর্ম নিয়ে চিন্তা না করাই ভাল। তাহলে দেখা যাবে , একই বাংলাদেশী মানুষের অনেক গুলা গ্রুপ তৈরি হবে , বাংলাদেশী মুসলিম , বাংলাদেশি হিন্দু , বাংলাদেশী বৌদ্ধ , বাংলাদেশী খ্রিস্টান ইত্যাদি। এটা রাষ্ট্রের জন্য ভাল কিছু বয়ে আনবে না। কিন্তু তাই বলে মানুষ কি ধর্ম পালন করবে না? অবশ্যই করবে( যদি তারা চায়) , কিন্তু ব্যাক্তিগত পর্যায়ে।
২০|
২৫ শে এপ্রিল, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:৪৪
রমিত বলেছেন: আপনার লেখাটা আমি আজ/কাল পড়ব। আমি আপনার মতামতকে সম্মান করি, তবে আপনার সাথে ১০০% একমত নই। কোথায় কি বিষয়, সেটা বিস্তারিত আলোচনা করা ভার্চুয়াল ওয়ার্লডে মুশকিল। আমাদের দেখা হলে ভালো হত। ঢাকায় আসলে, আমার সাথে দেখা করুন। রক্ষণশীলতা কি প্রগতিশীলতা কি পরিবর্তন কি এই আলোচনাগুলো খুব ব্যাপক। যেমন কম্যুনিস্টরা মনে করে এবং প্রচারনা চালায় যে তারা প্রগতিশীল। আমি কিন্তু স্পস্ট দেখি যে তারা মৌলবাদী।
বয়সের সাথে সাথে চিন্তা ভাবনার পরিবর্তন আসে, পরিপক্কতা আসে না তা কিন্তু মানতে পারছি না। আবারও ঐ বোঝার ব্যপার, পরিপক্কতা কি।
ধর্মীয় চেতনা প্রাচীনপন্থী ভাবধারণা এযুগে এটা অচল : এটি একটি মহলের প্রচারনা, কেন কি উদ্দেশ্যে তা করা হচ্ছে, আমি আপনাকে সাক্ষাতে বলব।
আমাদের যে মানসিক দীনতা তার পিছনে আছে বিপরীত মুখী ধর্ম ও সংস্কৃতি : আমাদের বলতে কাদের? বাংলাদেশীদের না মানবজাতির? মানবজাটিকে কিন্ত ধর্ম বারংবার প্রগতিই এনে দিয়েছে।
বর্তমানে তারা ধর্মের জগত থেকে বেরিয়ে এসেছে ( এর প্রকৃষ্ট উদাহরন আমেরিকা ): একমত নেই। আপনি পশ্চিমা বিশ্ব দেখেছেন কিনা জানিনা। আমি বহু বছর সেখানে কাটিয়েছি। আমার পড়ালেখা তো ইউরোপেই। ইল্যান্ডে কিন্ত এখনো রাণীই চার্চের প্রধান। বৃটিশ আর্মির একটি বড় দায়িত্ব তাদের ধর্মবিশ্বাসটিকে রক্ষা করা। ভারতের পতাকা দেখেছেন? কেমন জ্বলজ্বল করছে ধর্মচক্র।আমেরিকা মুসলিম দেশ গুলা আক্রমন করে কেন? - আমেরিকা বহু দেশই আক্রমন করে। সেখানে মাল্টি পলিটিক্স কাজ করে। বিশ্ব রাজনীতির কথা বলেছেন, বিশ্ব রাজনীতিতে ধর্ম একটা গুরুত্বপূর্ন এলিমেন্ট।
রাষ্ট্রের প্রশ্ন যখন উঠবে , তখন ধর্ম নিয়ে চিন্তা না করাই ভাল : ঠিক উল্টাটা। অনেক গুলো সবসময়ই হবে। রাজনৈতিক মতাদর্শে পৃথিবীর প্রতিটি রাস্ট্রই নানা ভাগে বিভক্ত নয় কি? ধর্মকে তুলে দিয়ে আপনি তাদের ঐক্যবদ্ধ করতে পারবেন ভাবছেন? আমি আমার দেশের প্রেক্ষাপটে লিখেছে সংখ্যাগরিস্ঠের ধর্ম ইসলাম - তাই এটার গুরুত্ব বেশি। যেমন সংখ্যাগরিস্ঠের ভাষা বাংলা বলে এটা রাস্ট্রভাষা। আরেকটি বিষয় ব্যাক্তির সমস্টিই কিন্তু রাস্ট্র।
আপনার সাথে আমার চিন্টার একটি মিল আছে, আমরা বাংলাদেশকে ভালোবাসি। আরেকটি আপনি নিজেই লিখেছেন - আমার লেখা পড়ে আপনি ক্লিয়ার হয়েছেন আমাদের চেতনার সংকট রয়েছে। সময় সুযোগ করে আমার সাথে দেখা করেন আলোচনা করা যাবে।
২১|
২৬ শে এপ্রিল, ২০১২ রাত ২:০৫
অদ্ভূত উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ বলেছেন: দেখি জুনের দিকে ঢাকা আসব। জব হান্ট এ।
তখন কথা হবে ইনশাল্লাহ। হ্যাঁ আমরা বাংলাদেশকে ভালোবাসি এবং আমাদের চেতনার সংকট রয়েছে।
আমি যদিও সমাজতন্ত্রকে ভাল পাই , তবুও যা সত্যি বলতে দ্বিধা নেই , কম্যুনিস্টরা কনজারভেটিভ।
২৬ শে এপ্রিল, ২০১২ সকাল ৮:৪৬
রমিত বলেছেন: সমাজতন্ত্র একটা গভীর ষড়যন্ত্র। এই ফাঁদে পা দিয়ে বহু জাতি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ঢাকা আসুন বুঝিয়ে বলব।
২২|
২৬ শে এপ্রিল, ২০১২ সকাল ১০:৫৫
আহমাদ-২০০৫ বলেছেন: গণবিস্ফোরণ আর পরিবর্তন আর তৃতীয় শক্তি যাই বলেন তা করতে হলে শুধু ফেসবুক আর ব্লগে লিখে লিখে হবে না । এজন্য বাহিরে বেরিয়ে আসে বাস্তাব লেভেলে কাজ করতে হবে । আর এজন্যই আমরা সংঘটিত হয়েছি " উদিত তরুণ সমাজ, বাংলাদেশ " নামে । আপনিও এতে আমন্ত্রীত । নিচের লিংক গুলা লক্ষ করুন ।
১) Click This Link
২) http://www.facebook.com/groups/utsob/
২৬ শে এপ্রিল, ২০১২ সকাল ১১:১০
রমিত বলেছেন: ধন্যবাদ। আমি যোগাযোগ করব। ফেইসবুকে আমারও একটা গ্রুপ আছে। Forum of Young Professional নামে।
২৩|
২৬ শে এপ্রিল, ২০১২ দুপুর ১:৩১
আহমাদ-২০০৫ বলেছেন: হুম. আপনার গ্রুপটাতে আমি কিছুদিন আগে রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে ছিলাম।
২৬ শে এপ্রিল, ২০১২ দুপুর ১:৪৬
রমিত বলেছেন: ইনক্লুড করে দেব।
২৪|
০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০১২ বিকাল ৩:০৪
আমার মন বলেছেন: নতুন কিছু ধারণা পেলাম। ধন্যবাদ।
০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:০০
রমিত বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ
২৫|
৩০ শে মে, ২০১৩ সকাল ৯:১২
বাংলার হাসান বলেছেন: খুবই গুরুত্বপূর্ন পোষ্ট। প্রিয়তে নিয়ে রাখলাম সম্পূর্ন পড়ে কমেন্ট করবো।
৩০ শে মে, ২০১৩ সকাল ১০:১৩
রমিত বলেছেন: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ
২৬|
২৫ শে জুলাই, ২০১৩ রাত ৯:৪৭
ল্যাটিচুড বলেছেন: ভালো লাগলো আপনার সাথে পরিচিত হয়ে
২৬ শে জুলাই, ২০১৩ রাত ১১:৩১
রমিত বলেছেন: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ
©somewhere in net ltd.
১|
০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১১ সকাল ৯:০৯
সর্বদাসত্য বলেছেন: খুব বড় লেখা <, পরে পড়ে দেখব