নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

রমিত

মুক্তিযুদ্ধের সেই উত্তাল দিনুলোতে, অজস্র তরুণ কি অসম সাহসিকতা নিয়ে দেশমাতৃকাকে রক্ষা করেছিল!

রমিত

মুক্তিযুদ্ধের সেই উত্তাল দিনুলোতে, অজস্র তরুণ কি অসম সাহসিকতা নিয়ে দেশমাতৃকাকে রক্ষা করেছিল! ব্যাটা নিয়াজী বলেছিলো, “বাঙালী মার্শাল রেস না”। ২৫শে মার্চের পরপরই যখন লক্ষ লক্ষ তরুণ লুঙ্গি পরে হাটু কাদায় দাঁড়িয়ে অস্র হাতে প্রশিক্ষন নিতে শুরু করল, বাঙালীর এই রাতারাতি মার্শাল রেস হয়ে যাওয়া দেখে পাকিস্তানি শাসক চক্র রিতিমত আহাম্মক বনে যায়। সেই অসম সাহস সেই পর্বত প্রমাণ মনোবল আবার ফিরে আসুক বাংলাদেশের তরুণদের মাঝে। দূর হোক দুর্নীতি, হতাশা, গ্লানি, অমঙ্গল। আর একবার জয় হোক বাংলার অপরাজেয় তারুণ্যের।

রমিত › বিস্তারিত পোস্টঃ

অখ্যাত গায়কের বাজনা ও সুরের মুর্ছনা

০২ রা এপ্রিল, ২০১৬ রাত ১:৪১



অখ্যাত গায়কের বাজনা ও সুরের মুর্ছনা
------------------------------ ড. রমিত আজাদ

যাচ্ছিলাম সিলেটে। বহুদিন ট্রেনে চলাচল করিনা, তাই ট্রেনের টিকিটের দুস্প্রাপ্যতা সম্পর্কে ধারনা ছিলোনা, অথবা ভুলে গিয়েছিলাম। সেই ভুলে জার্নির ঠিক আগের দিন গেলাম টিকিট কাটতে। বিশাল লম্বা লাইন, সেই লাইনে দাঁড়িয়ে ধৈর্য্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পর যখন কাউন্টারে পৌঁছলাম, তখন বিক্রেতা আমাকে সুসংবাদ দিলেন, এ/সি ও ফার্স্ট ক্লাসের কোন টিকিট নাই। অনন্যোপায় হয়ে বললাম, "তাহলে অন্য কোন ক্লাসের টিকিট দিন", আমার মুখ চেয়ে হয়তো মায়া হলো বয়স্ক রেইলওয়ে কর্মচারীর, অবশেষে একটা টিকিট হাতে দিয়ে বললেন, "নিন, একেবারে সাধারণ বগির টিকিট, যেতে কিছুটা কষ্ট হবে।" কি আর করা, মেনে নিলাম। তবে পরদিন যখন ট্রেনে চাপলাম, তখন বুঝলাম সাধারণ বগিতে যাওয়ারও কিছু আনন্দ আছে। বগির এ্যাটেনডেন্স ও ক্যান্টিনের কর্মচারী আমাকে খুব সম্মান করলো। বারবার এসে খোঁজ করছিলো, কোন কষ্ট হচ্ছে কিনা, কোন কিছু লাগবে কিনা, ইত্যাদি। আমাকে কমপ্লিমেন্টারি চা খাওয়াতেও চাইলেন তারা। বিভিন্ন স্টেশনে ট্রেন থামলে কিছু যাত্রী নেমে যাচ্ছিলো, আবার কিছু নতুন যাত্রী উঠছিলো, ভীড় তেমন কমছিলো না। মাঝে মাঝে ফেরীওয়ালারাও উঠছিলো, এর এক পর্যায়ে বেহালা নিয়ে হাজির হলো এক বাদক প্লাস গায়ক, বললো, "বাজাই?" একজন তরুণ যাত্রী সিলেটি উচ্চারণে বললো, "গাও, আগে কি সোন্দর দিন খাটাইতাম, গাও।" বেহালা নামক বাজনাটির প্রতি আমার একটা দুর্বলতা রয়েছে, ছোটবেলায় খুব সখ ছিলো ঐ যন্ত্রটি বাজাতে শেখার, যা আর হয়ে উঠেনি। আমি গভীর মনযোগ দিয়ে শুনতে লাগলাম অখ্যাত এই প্রত্যন্ত বাদক প্লাস গায়কের গান। বেহালায় ঝড় তুলে সে গাইতে লাগলো, "গ্রামের নওজোয়ান, হিন্দু-মুসলমান, মিলিয়া বাউলা গান আর মুর্শিদী গাইতাম, আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম।" একটি গান শেষ হওয়ার পর সবাই বাহবা দিলো। তারপর সে শুরু করলো তার দ্বিতীয় গান, "ছাইড়া যাইবা যদি, কেন পিড়িতি বাড়াইলা বন্ধু?" আবেগ আপ্লুত হলো মন, তাইতো, 'ছেড়ে যাবো জেনেও প্রেমিক/প্রেমিকা কেন প্রেম বাড়ায়?' গান শেষ করে সে বললো। "দ্যান ভাই, কিছু দ্যান।" মনে মনে ভাবলাম, কত দিবো? এটা নির্ভর করছে তাঁর আমাদেরকে দেয়ার উপর। তারপর আমার মনে হলো, আমিও তো কবিতা লিখি। আমাদের লেখা কবিতাগুলোয় কোন সুরকার সুরের অলংকার পড়ায়, তারপর কোন গায়ক সুরে ও ছন্দে সাজানো কথাগুলো তার মধুর কন্ঠে বাতাসে ভাসিয়ে দেয়। তাদের অবদানকে খাটো করে দেখি কি করে? আমাদের সংস্কৃতির রয়েছে রীচ হেরিটেইজ। আজ দারিদ্র্য ও নানাবিধ কারণে সংস্কৃতি চর্চা মন্থর হলেও, হাজারো সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আমরা খাঁচার ভিতর অচীন পাখীর খোঁজ অব্যাহত রেখেছি। সেখানে খ্যাতিমানদের পাশাপাশি এই অখ্যাতদেরও অবদান আছে। হাত খুলে কিছু দিলাম (আমার সামর্থ্য অনুযায়ী)। অল্পতেই বেশী খুশী হওয়া বোধহয় সব শিল্পীদেরই স্বভাব। আমার উপর সে ভীষণ তুষ্ট হয়ে বললো, "উনার জন্যি, আরেকটা গান গাইতাম।" তারপর সে আরো একটি গান গাইলো। অখ্যাত এই গায়কের বাজনা ও সুরের মুর্ছনা আমার যাত্রাপথের সকল ক্লান্তি মুছে দিলো। বেঁচে থাক শিল্প, বেঁচে থাক শিল্পীরা।

মন্তব্য ১৯ টি রেটিং +৮/-০

মন্তব্য (১৯) মন্তব্য লিখুন

১| ০২ রা এপ্রিল, ২০১৬ রাত ৩:৪২

প্রামানিক বলেছেন: এরা রাস্তা পথে থাকলেও এদের দ্বারাই যাত্রীরা বিনোদিত হয়ে থাকে। ধন্যবাদ বিষয়টি শেয়ার করার জন্য।

০২ রা এপ্রিল, ২০১৬ রাত ৩:৫৩

রমিত বলেছেন: সুন্দর মন্তব্যের জন্য আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।

২| ০২ রা এপ্রিল, ২০১৬ রাত ৩:৫৯

গেম চেঞ্জার বলেছেন: আমারও এমন মধুর অভিজ্ঞতা আছে। তবে আমি দোতারা ও আর কি কি বাদ্য সহকারে একদল শিল্পীকে পেয়েছিলাম। এমন পোস্ট দেয়াতে ধন্যবাদ রইল।

০৩ রা এপ্রিল, ২০১৬ রাত ১:৫৭

রমিত বলেছেন: সুন্দর মন্তব্যের জন্য আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।

৩| ০২ রা এপ্রিল, ২০১৬ ভোর ৪:১৩

ফেরদৌসা রুহী বলেছেন: ট্রেনের জন্য যখন অপেক্ষা করি তখন প্রায়ই দেখি কোনার চায়ের দোকানে বসে একলোক দোতারা নিয়ে গান গায়।

তখন আমিও গিয়ে চায়ের দোকানে বসে গান শুনি। ভালো লাগে এদের কন্ঠ।

০৩ রা এপ্রিল, ২০১৬ রাত ১:৫৮

রমিত বলেছেন: জ্বী। অখ্যাত এই শিল্পীরা আমাদের অনেক আনন্দ দেয়।
সুন্দর মন্তব্যের জন্য আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।

৪| ০২ রা এপ্রিল, ২০১৬ সকাল ১১:৩৫

বিজন রয় বলেছেন: দারুন।
+++

০৩ রা এপ্রিল, ২০১৬ রাত ১:৫৯

রমিত বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ।

৫| ০২ রা এপ্রিল, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:৫৩

বৈশাখের আমরণ নিদাঘ বলেছেন: রেল ভ্রমনের অভিজ্ঞতা দেখি আপনার দারুণ রমিত ভাই। এসসিসির প্রোগ্রামের জন্য গিয়েছিলেন নাকি? ওই অঞ্চলটাই আমার খুব প্রিয়। বিশেষ করে মৌলভীবাজারের দিকে ঢুকতেই সড়কে লেখা থাকে চায়ের দেশে স্বাগতম। আমি সড়ক পথেই বেশি যাই। সিলেট বিভাগটাই দেশের অন্য অঞ্চল থেকে অনেক বেশি স্বচ্ছ, পরিস্কার এবং সবুজ মনে হয় আমার কাছে।

লেখা ভালোলাগলো। :)

০৩ রা এপ্রিল, ২০১৬ রাত ২:০৩

রমিত বলেছেন: হ্যাঁ ভাই, এসসিসির প্রোগ্রামেই গিয়েছিলাম। সেখানে গেস্ট স্পীকার ছিলাম আমি।
আমিও সাধারণত সড়ক পথেই বেশী ভ্রমণ করি। ' চায়ের দেশে স্বাগতম' লেখাটি আমাকেও মুগ্ধ করে।
সুন্দর মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ।

৬| ০৩ রা এপ্রিল, ২০১৬ রাত ২:০৩

রমিত বলেছেন: লেখাটিকে নির্বাচিত পাতায় স্থান দেয়ার জন্য সামু কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ।

৭| ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০১৬ রাত ২:০৩

মাহমুদুর রহমান সুজন বলেছেন: কয়জনেই বা আমার অখ্যাতদের সম্মান করি। আপনার অনুভুতি শিয়ার করার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ ভাই।

০৪ ঠা এপ্রিল, ২০১৬ দুপুর ২:০০

রমিত বলেছেন: সুন্দর বলেছেনা মাহমুদ ভাই।
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

৮| ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:১৭

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: আমাদের সংস্কৃতির রয়েছে রীচ হেরিটেইজ। আজ দারিদ্র্য ও নানাবিধ কারণে সংস্কৃতি চর্চা মন্থর হলেও, হাজারো সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আমরা খাঁচার ভিতর অচীন পাখীর খোঁজ অব্যাহত রেখেছি। সেখানে খ্যাতিমানদের পাশাপাশি এই অখ্যাতদেরও অবদান আছে।

+++

বেঁচে থাক শিল্প, বেঁচে থাক শিল্পীরা

ঢাকার বাসেও মাঝে মাঝে দেখা মেলে এমন শিল্পমনার। আমার তো ভালই লাগে.. অনেকে বিরক্ত হয়! লাইভ শোনার একটা মজাই আলাদা..

০৫ ই এপ্রিল, ২০১৬ বিকাল ৫:০৮

রমিত বলেছেন: সঠিক বলেছেন ভৃগু ভাই, - লাইভ দেখার মজাই আলাদা।
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন।

৯| ১৩ ই এপ্রিল, ২০১৬ রাত ১:০২

আশরাফুল ইসলাম মাসুম বলেছেন: সিলেটের প্রসঙ্গ দেখেই পোস্টটি পড়লাম কারণ সিলেটেই বাঁধা পড়েছে আমার হৃদয়!আর পড়েই ভালো লাগলো..... শিল্পের প্রতি লেখকের স্বতস্ফুর্ত মনোভাব দেখে....

১৩ ই এপ্রিল, ২০১৬ রাত ৯:৩৯

রমিত বলেছেন: সুন্দর মন্তব্য করার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ ভাই। সিলেট-কে আমিও ভালোবাসী।

১০| ০৯ ই মে, ২০১৬ সকাল ৯:৩৬

শুভ চক্রবর্তী বলেছেন: ভাল লাগলো স্যার, অনেক সময় ক্ষণিকের বিনোদন জীবনকে অনেক আনন্দ দেয় আমরা ওইসব প্রতিভাবান শিল্পীদের সম্মান দিতে জানি না। তাঁদের ক্ষুদ্র প্রয়াস অনেক ভাবতে শিখায়। আর সিলেট শহরের বাসিন্দা বলে লোক সঙ্গীতের প্রতি আবেগটা একটু বেশী।
ভাল একটি পোস্ট... আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

০৯ ই মে, ২০১৬ বিকাল ৫:৪০

রমিত বলেছেন: খুব সুন্দর আবেগময় মন্তব্য করেছেন।
মন্তব্যের জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.