![]() |
![]() |
নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
বলবো না... শুনবো না.... করবো না... মানবো না...
ইসলাম নিয়ে মউদুদি যে অসম্ভব জগা খিচুরী করেছেন তার আর তুলনা নেই ।তার যে কোন দশ বারোটা বই,কোরান বুখারি তাবারি ইবনে হিশাম ইশাক এবং হানাফি শারিয়া বই গুল এক সাথে খুলে দেখলেই বোঝা যায় তিনি তার দর্শনে তিনি মোটেও সংহত ছিলেন না ।একবার এটা বলেছেন তো পরেই বলেছেন উল্টোটা বহু বহুবার ,বহুবার তিনি প্রতিটি ইসলামি কিতাব কে লংঘন করেছেন ।এতো তীব্র গতিতে ছুটেছেন যে তিনি খেয়াল করেন নি তার বিভিন্ন সময়ের বক্তব্য গুলো ১)পরস্পর বিরোধী হয়ে যাচ্ছে ,২)কোরান হাদিসের মুখ্য বিযয় গুলো এড়িয়ে গৌণ বিষয় ভিত্তিক হয়ে যাচ্ছে ।এবং সবচেয়ে মারাত্মক হল ৩)কোরানের ঐতিহাসিক চরিত্র ও সাংস্কৃতিক বিবর্তনের সত্য অস্বীকার করেছে ।রাজনৈতিক ইসলামকেই তিনি মূল ইসলাম মনে করেছেন এবং সে হিসেবে নিজেকে নওমুসলিম বলেছেন । এ সত্য তিনি প্রবল ভাবে অস্বীকার করেছেন যে বিভিন্ন মতের মুস্লিমরাও ওই কোরান হাদিস থেকেই নিজের নিজের সমর্থন দেখায় । মানব সমাজের চলমান বিবর্তনের অগ্রগতিকে দেখার দূরদৃষ্টি ও তার ছিল না ।মউদুদির এবং জামাতের বক্তব্যে এটা স্পষ্ট যে দুনিয়ার সমস্ত অমুস্লিমরা চাকরি ব্যবসা বাদ দিয়ে অন্ধকার ঘরে বিশ্ব মুস্লিমের বিরুদ্ধে ফিসফিস করে ষড়যন্ত্র করা ছাড়া আর কিছুই করছে না ।এই অবাস্তব বিশ্বাসের উৎকণ্ঠা মউদুদি ও তার অনুসারীদের নিয়ে গেছে আর এক অবাস্তব জগতে ।দুনিয়ার কোটি কোটি অমুসলিম আছে যারা মুস্লিম দরদী ,এই সত্য তাদের লেখায় পাওয়া কঠিন । অথচ পশ্চিমা বিশ্বের দয়ার দান বা সার্টিফিকেট নিতে মউদুদি জামাতের আগ্রহ প্রচুর । ধর্মহীন তাগুত দেশের মেশিন ঔষধ ছাড়া তাদের চলেনি বা চলে না । নবীজি কাউকে খলিফা বলে যান নি , সমাজ কে দিয়ে গিয়েছিলেন গনপ্রতিনিধির নেতৃত্ব । সেই রত্ন নষ্ট করে যারা রাজা বাদশাহ হয়ে মুসলিমের নেতৃত্ব দিচ্ছে সেই সৌদি রাজার হাত থেকে পুরস্কার নিতেও মউদুদির বাধে নি । এই সব আত্ম প্রতারণা জামাতিরা না দেখুক আমরা ঠিক ই দেখছি ।
আক্রমণ ই প্রতিরোধের শ্রেষ্ঠ উপায় ...এই মনস্তাত্ত্বিক ফাঁদে মউদুদি নিজেও পড়েছেন অন্যদেরও ফেলেছেন । এই আক্রমণের সমর্থনে তিনি মুস্লিম উম্মাহ কে পার্টি হিসেবে উপস্থাপন করতে বাধ্য হয়েছেন । পার্টি শব্দটার জন্য কোরান নাকি উম্মাহ শব্দটা ব্যবহার করেছে । হযরত আবু বক্কর (রাঃ) নাকি মুসলিম পার্টির ভার নিয়েছিলেন । জামাত নাকি আসলে আল্লাহর কাজ করার পার্টি । ইসলামে জিহাদ পৃষ্ঠা ১০ । এভাবেই তিনি ইসলামের নামে ভাবের গরুকে গাছে তুলিয়ে ছেড়েছেন । এ বিশ্বাসের পর মউদুদি নবীজিকে তিনি সামরিক আক্রমণকারী হিসেবে দেখাতে বাধ্য হলেন । ইসলামে জিহাদ পৃষ্ঠা২৩ “পরে চারপাশের দেশ গুলোতে মহানবী ইসলাম গ্রহণের আমন্ত্রণ পাঠান । যখন ওই দেশ গুলোর শাসনকর্তারা তার আমন্ত্রণ অস্বীকার করল তখন নবী তাদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের ব্যবস্থা গ্রহণ করলেন” । কারন ইসলাম দেশ জাতি নির্বিশেষে ইসলামের দর্শন ও কর্ম পদ্ধতির পরিপন্থী সকল রাষ্ট্র ও সরকার কে পৃথিবী হতে ধ্বংস করতে চায় । বিশ্বের অমুসলমানের বিরুদ্ধে এটা অঘোষিত যুদ্ধ ছাড়া আর কিছুই নয় । চিরকাল ই কিছু মানুষ ধর্মপালনের আগ্রহে অত্যন্ত উদগ্র ,অন্যের উপর অত্যাচারের মাত্রাটাই সওয়াবের মাত্রা মনে করে তারা । মউদুদি ও তার অনুসারীরা এর মধ্যে পড়ে । এ অন্ধত্ব এতোই ভয়াবহ যে ,নিজেরই মা বোনের আর্তনাদ হাহাকার মর্মে পৌঁছে না ।
মউদুদি তার “এ শর্ট হিস্ট্রি অফ দি রিভাইভালিস্ট মুভমেন্ট ইন ইসলাম” বইয়ের ৮ পৃষ্ঠায় স্পষ্টতই বলেছেন । “ইসলামি সরকারের কারযপ্রণালী এমন যে তাতে মানুষের ইচ্ছা প্রয়োগের বিশেষ অবকাশ নাই” । অথচ কোন ধর্মীয় রাষ্ট্রে ব্যক্তিস্বাধীনতা সম্ভব ই নয় । তার ইসলামী গণতন্ত্রের কথাটাও ভিত্তিহীন , শব্দটা একটা সুগভীর ষড়যন্ত্র মাত্র ।আসলে কোন ধর্ম রাষ্ট্রে গণতন্ত্র সম্ভব নয় । দি ইসলামিক ল এন্ড কনষ্টিটিউশন বইয়ের ১৩৮ -১৩৯ পৃষ্ঠায় তিনি বলেছেন “ রাজনৈতিক দর্শনের দৃষ্টিতে ইসলাম পশ্চিমা ধর্ম নিরেপেক্ষ গণতন্ত্রের সম্পূর্ণ বিরোধী ।ইসলামে পশ্চিমা গণতন্ত্রের লেশ মাত্র নেই ’’’। বহু পরে তিনি এ বক্তব্য থেকে সামান্য সরে এসেছেন তা ছিল শাক দিয়ে মাছ ঢাকার মতো । ক্রমাগত তিনি তার দার্শনিক অন্ধত্ব প্রকাশ করেছেন এই বলে যে তার ইসলামী ব্যাখ্যার বাইরে দুনিয়ার সবাই ও সবকিছুই তাগুত বা বাতিল । ধর্ম নিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা ইসলামী সরকার ছাড়া যে কোন সরকার হল ধর্ম হীন দুর্নীতিবাজ অসৎ ইত্যাদি ইত্যাদি । তার বই বক্তৃতায় স্ববিরোধীতার অন্ত নেই । যেমন শারিয়ার মুরতাদ হত্যার আইন কোরান বিরোধী তা সবাই জানে । অথচ মউদুদি কোরান লঙ্ঘনকারী এই আইনের পক্ষে যুক্তি এনেছেন নবীজির প্রায় হাজার বছর পর লেখা কাঞ্জুল উম্মানের কাটা ছেড়া সুত্র থেকে । আর ও একটা উদাহরন দিচ্ছি তিনি বলেছেন দেওয়ানী ও ফৌজদারি মামলায় মুসলিম অমুসলিম নাগরিকদের কোন তফাৎ নাই । হিউম্যান রাইটস ইন ইসলাম পৃষ্ঠা ১২ । তিনি এও বলেছেন যে ব্যাপারে কোরান ও রাসুলের প্রত্যক্ষ নির্দেশ আছে তা পৃথিবীর সমস্ত মুসলিম এক হলেও তা বদলাতে পারবে না ।অথচ শারিয়ার একই ব্যাপারে মুসলিম অমুস্লিমের মধ্যে নির্লজ্জ ফারাক রয়েছে । অনেক ইসলামী দার্শনিকের চোখে তার দর্শনের ভিত্তিহীনতা , অন্তর্নিহিত দুরবলতা ,অমানবিকতা এবং ভবিষ্যতের সরবনাশা কুফল ঠিক ই ধরা পড়েছিল ।প্রতিষ্ঠানের অভাবে মউদুদি বিরোধীদের কথা গুলো জনগনের কানে পৌছায় নি । গো আযম বলেছেন জামাত কোন ইসলামী দল বা নেতার সাথে বিতর্কে লিপ্ত হয় না ......... তাই তো জামাতিরা অন্য কোন ইসলামী দলের সাথে আলোচনা বা বিতর্ক করে না কারণ তারা ভাল করেই জানে আলোচনা হলে তাদের মুখোশ খুলে ইসলাম বিরোধী চেহারা প্রকাশ হয়ে আসবে ।
বাস্তব কাজে কর্মে জামাতিদের মধ্যে আমরা আজ যে মারাত্মক হিংস্রতা দেখি তারও মূল রয়ে গেছে মউদুদির অপদর্শনেই ।একাত্তরে গ্রামে গঞ্জে স্বজাতিরই লক্ষ লক্ষ মা বোনের সম্ভ্রম হরন ও সাধারন মানুষ হত্যায় মউদুদির দল যে নৃশংসতা করেছে তাও আবার ইসলামের নামে দুনিয়ায় তার তুলনা বিরল । ১৯৫৩ সালে মউদুদির লিফ্লেটের ভিত্তিতে লাহোরে তিন দিনে নারী শিশু বৃদ্ধ সহ প্রায় ১৫ হাজার আহমদী কচুকাটা হয় । একটা ছোট শহরে জল্লাদের হুংকার আর প্রতিদিন পাঁচ হাজার আশরাফুল মাখলুকাতের হত্যা যজ্ঞ কি ভয়াবহ ব্যাপার তা জামাতিদের পক্ষে উপলব্ধি করা সম্ভব নয় বলেই এতো বড় কেয়ামতের পরেও তিনি কোনদিন একটু দুঃখ প্রকাশ পরযন্ত করেন নি । জামাত তারই পদাংক হুবাহু অনুসরন করেছে গণহত্যা-গণধর্ষণ করার পর একাত্তরে আমরা ভুল করি নি বলে ।লাহোর গনহত্যায় মউদুদির মৃত্যুদন্ড হয় কিন্তু পরে তার জিগরী দোস্ত মধ্য প্রাচ্যের চাপে তিনি ছাড়া পান । তখন পাকিস্থান ও মুসলিমের ঘোর বন্ধু আমেরিকাও তাকে পাকিস্থানের সবচেয়ে বিপদজনক লোক বলেছে ।
যা হোক জনসন্মুখে আলোচনায়, তত্ত্ব, তথ্য, ও বাস্তব উদাহরন দিয়ে জামাত কে ইসলাম বিরোধী প্রমাণ করা খুব ই সম্ভব । কিন্তু কেউ যদি মনে করে তাতেই জামাত উচ্ছেদ হয়ে যাবে তবে বড় ভুল হবে । জামাত তার আর্থিক সাংগঠনিক কাঠামো এমন ভাবে গড়ে তুলেছে যে যদি গুটি কয় জামাতি ছাড়া দেশের প্রতিটি মানুষ ও যদি জামাত কে চরম ভাবে ঘৃণা করে তবু সে শক্তভাবে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে থাকবে । আমাদের অসৎ রাজনীতি ও ভগ্ন প্রতিষ্ঠানের দেশে কিভাবে জামাতিরা উচ্ছেদ হবে তা এখনও বলা সম্ভব নয়।।তবে অনেক কারণে তাদের ললাটে পরাজয় সুনিশ্চিত তার মধ্যে তিনটি হল ষড়যন্ত্র ,কোরান লঙ্ঘন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন ...। পাকিস্থান কে পচিয়ে দিয়ে বাংলাদেশে উদয় হয়েছে প্রেতের বীভৎসতায় , কিন্তু বাংলাদেশ পাকিস্থান নয় আফগানিস্থান তো নয় ই। .....................জয় বাংলা ।।
২| ২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ বিকাল ৫:১৯
সপ্নচোরা বলেছেন: ভাল লাগলো.....শেয়ার দিলাম, প্রিয়তে নিলাম......ভবিষৎ এ মওদুদ ও জামাতের ভন্ডামি নিয়ে আরের বিশদ লেখা আশা করছি
©somewhere in net ltd.
১|
২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ বিকাল ৫:১৫
বোকামন বলেছেন: আস সালামু আলইকুম
সম্মানিত লেখক,
সময় উপযোগী পোস্ট দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ