| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
তোমরা কি কেউ বলতে পারবে বাংলাদেশের বর্তমান সংস্কৃতি ও রুচিবোধ এর কি অবস্থা? হয়তো অনেকেই বলবে, যে বাংলাদেশে সংস্কৃতি বিকশিত হচ্ছে, বাংলাদেশে আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে। কিন্তু একটু গভীর ভাবে চিন্তা করলেই দেখা যাবে যে, আসলে বাংলাদেশের সংস্কৃতিক ও মানুষের রুচিবোধ রসাতলে যাচ্ছে। মানুষ আজকাল বিদেশী স্টাইলের প্রতি আগ্রহী হচ্ছে। বিদেশেী কাপড়-চোপড়, বিদেশী স্টাইলে কথাবার্তা ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ের প্রতি তারা আগ্রহী। প্রথমেই পোশাকের ব্যাপারে আসা যাক। মানুষের পোশাকের দিকে লক্ষ্য করলে বোঝা যাবে যে ছেলেদের পোশাকের ধরন মেয়েদের মত, আর মেয়েদের পোশাকের ধরন ছেলেদের মত। যেমন বর্তমানে ছেলেদের পাঞ্জাবী দেখতে অনেকটা মেয়েদের কামিজের মত।তাছাড়া ছেলেরা পাঞ্জাবীর সাথে শাল হিসেবে যা ব্যবহার করছে তা ঠিক মেয়েদের ওড়নার মত। তাহলে এটাই কি বাঙালি সংস্কৃতি? মেয়ারা জিন্স প্যান্ট আর টাইট জামা পড়ে অবাধে চলাফেরা করে। অনেক সময় শুনা যায় যে অনেক মেয়ে ছেলেদের দ্বারা ইভটিজিং এর শিকার। কিন্তু ব্যাপারটা নিয়ে একটু গভীরভাবে ভাবলে দেখা যাবে যে, এক্ষেত্রে মেয়েরাই খানিকটা দায়ী। কারন তাদের উগ্র পোশাক ব্যবস্থা, আচরন ও চলাফেরা যেকোন যুবককে আকৃষ্ট করতে পারে।
বর্তমানে বাংলাদেশী ছেলেরা অনেকেই প্যান্ট নাভির নিচে পরে। মনে হয় যেন এই বুঝি প্যান্ট খুলে পড়ে যাচ্ছে। আসলে অনেকের মতে এটাই হচ্ছে ফ্যাশান। এটা কোন ধরনের ফ্যাশান? এই সর্ম্পকে একবার আমার এক শিক্ষক বলেছেন যে, বিজ্ঞানী নিউটন যদি বর্তমান সময়ে জন্মগ্রহণ করতেন, তাহলে তিনি আপেল গাছের নিচে না বসে ছেলেদের প্যান্টের দিকে তাকিয়েই বলতে পাড়তেন যে মাধ্যাকর্ষণ শক্তি আছে। তাহলে বুঝুন, আমারদের বর্তমান সংস্কৃতির কি হাল। আমি একবার আমার এক বন্ধুকে একই ভাবে প্যান্ট পড়তে দেখে বলেছিলাম ,‘‘ কি রে, তোর বাবার প্যান্ট পড়ে এলি নাকি?’’ সে আমার কথা শুনে রেগে যায়।
এবার বর্তমান যুগের ছেলেদের গহনার কথায় আসা যাক। ছেলেরা হাতে ব্রেসলেট হিসাবে যেটা পড়ে সেটা কি ব্রেসলেট নাকি মেয়েদের হাতের চুড়ি তা স্বয়ং সৃষ্টিকর্তাই ভাল জানেন। তাছাড়া ছেলেরা গলায় চেইন, কানে দুলও পড়ছে। এটাই কি বাঙালী ঐতিহ্য? ছেলেরা অনেকে আবার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ফুটো করে এক ধরনের ধাতব রিং পড়ে, দেখলে মনে হয় যেন এক অদ্ভুত জগতের প্রাণী। এ সব কাজ করে যে এরা কি আনন্দ পায় তা আমি নিজেই জানিনা, জানতেও চাই না।
এবার কিছু কড়া কথা বলি।বর্তমানে বাংলাদেশী ছেলেমেয়েরা কি নিজেকে বাঙালী মনে করে? যদি করেই তা হলে তারা বিদেশী সংস্কৃতি দেশে প্রচার করছে কেন? আমার মনে হয় এসব যারা করছে তারা এক ধরনের দেশদ্রোহী। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধারা কি দেশকে স্বাধীন করেছিল দেশের এই বর্তমান করুন পরিস্তিতির জন্য? যারা এই সবের জন্য দায়ী তার দেশে না থেকে বিদেশেই চলে যাক। আমারা বাঙালীরা নিজেদের দেশীও স্বতন্ত্র সংস্কৃতিতে বিশ্বাসী। কিন্তু আমাদের সংস্কৃতি এখন এক ধরনের ঘোরের মধ্যে আছে। তা তেকে বের হয়ে আসতে হবে। আপন সংস্কৃতি নিয়ে করতে হবে অহংকার। আমাদের দরকার সে রকম নারী যে কিনা তার নিজস্ব সংস্কৃতির অনুসারী হবে।। আমাদের দরকার সেই রকম ছেলে যে তার আচরন ও চাল চলনে দেশীয়্ ঐতিহ্যের পরিচয় দিবে। তাহলেই আমরা গর্ব করে বলতে পারব যে, আমরা আমাদের সংস্কৃতি অনুসরণ করি এবং আমাদের সংস্কৃতি বিকশিত হচ্ছে।
©somewhere in net ltd.