| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
বিকেল চারটার দিকে ধানমন্ডি ২৭ নম্বর-এ হাঁটছে রাহিন, গন্তব্য রবীন্দ্র সরোবর । এই তপ্ত গরমে পিচঢালা রাস্তায় সিগারেট টানতে টানতে হাঁটছে সে । হঠাৎ তার চোখ গেল সামনের দিক থেকে আসা এক রিক্সার দিকে । রিক্সায় বসে আছে নীল শাড়ি পরা এক মেয়ে । মেয়েটি রাহিনেরিই বয়সি । কিন্তু রাহিনের দৃষ্টি ওই মেয়েটির দিকে নয় । তার দৃষ্টি মেয়েটির শাড়ির আচলের দিকে, কারন শাড়ির আচলটি রিক্সার চাকায় যেকোন সময় লেগে যেতে পারে । তাই রাহিন দ্রুত বলল, “আপু আপনার শাড়ি ঠিক করে পরেন ।”
মেয়েটি তখনিই রিক্সা থামিয়ে রাহিনকে ডাক দিয়ে বলল, “এইযে ভাইয়া শুনেন ।” রাহিন মেয়েটির কাছে গেল ।
এবার মেয়েটি উত্তেজিতভাবে রাহিনকে বলতে লাগল, “আপনি পেয়েছেন টা কি? মেয়েদেরকে দেখলে কি আপনাদের মাথা ঠিক থাকে না । আপনাদের মত ছেলেদের জন্যেই সব ছেলেদের বদনাম হয় । মেয়েদেরকে সম্মান দিতে শিখুন । কথাটা মাথায় রাখবেন ।” রাহিন কিছু বলল না । শুধু একটু হেসে বলল, “জি আপু, এখন থেকে মাথায় থাকবে ।” এই বলে সে হাঁটা শুরু করলো । রিক্সায়ালা তখন মেয়েটিকে বললো,”আফা, আমনের শাড়িডা রিক্সার চাকায় আটকাইতে গেছিলো, উনি মনে হয় হেইডাই ঠিক করার কথা কইছে ।”
রিক্সায়ালার কথা শুনে এবার মেয়েটা চমকে উঠলো । সে তখন রাহিনকে ডাকতে লাগলো, “এইযে ভাইয়া একটু শুনেন না প্লিজ, ভাইয়া একটু শুনেন…….শুনেন…..”
রাহিন মেয়েটির ডাকে সাড়া দিলো না, একটু ফিরেও তাকালো না ।
মেয়েটার কথাগুলো বার বার রাহিনের মাথায় বাজতে লাগলো । সে মনে মনে ভাবতে লাগলো – “আমি কি এমন দোষ করেছিলাম যে মেয়েটা আমাকে ওই কথাগুলো শুনিয়ে দিলো । হ্যাঁ, দোষ তো আমারিই । আমার তো ওই মেয়েকে হেল্প করার কোন দরকার ছিল না । কেন যেচে হেল্প করতে গেলাম……….নাহ, আর কোনদিন কোন মেয়েকে আর হেল্প করবো না । আজকের ঘটনাটার জন্য নিজেকে কিছুটা শাস্তি দেয়া দরকার…” এই বলে রাহিন তার জুতো জোড়া খুলে হাতে নিয়ে এই তপ্ত গরমের পিচঢালা রাস্তা দিয়ে খালি পায়ে হাঁটতে লাগলো………
রবীন্দ্র সরোবরে এসে রাহিন একটা বেঞ্চে বসলো । একটু পরেই আট-নয় বছর বয়সি এক ছোট মেয়ে এসে বললো – “ভাইয়া ফুল নিবেন, গোলাপ ফুল ।” রাহিন বললো, “আমি ফুল নিয়ে কি করবো?” মেয়েটা বললো – “কেন, আফনের প্রেমিকারে দিবেন । ” রাহিন মৃদু হেসে বললো – “কিন্তু আমার যে ওরকম কেউ নেই ।” রাহিনের কথা শুনে মেয়েটার মন একটু খারাপ হয়ে গেল । বেচারীর মনে হয় আজ একটা ফুলও বিক্রি হয়নি । রাহিন ব্যাপারটা বুঝতে পেরে বললো – “তবে আমি একটা ফুল নিব ভাবছি । কত টাকা করে রে ?” – “দশ ট্যাকা কইরা ”
“ঠিক আছে, আমাকে একটা দে”- এই বলে রাহিন একটা গোলাপ নিয়ে মেয়েটিকে একটা ৫০০ টাকার নোট দিল । “এত্তবড় নোট ভাংতি নাইতো ” – “ঠিক আছে, না থাকলে আর কি করার….? তুই নোটটা রেখে দে ।”- এই বলে রাহিন একটু হেসে মেয়েটার মাথায় হাত বুলিয়ে দিল । মেয়েটা নোটটা হাতে নিয়ে তখনও যেন বিশ্বাস করতে পারছিলো না । সে নোটটা পেয়ে খুশি হয়ে চলে গেল । রাহিনেরও কেন যেন মনটা ভালো হয়ে গেল । বাচ্চা মেয়েটির চোখ দেখেই সে বুঝতে পেরেছিল যে মেয়েটা কতটা খুশি হয়েছে ।
“এক্সকিউজ মি, আমি কি এখানে আপনার পাশে একটু বসতে পারি?”- কথাটা শুনে রাহিন তার পাশে ফিরে চমকে উঠলো – আরে, এ তো রিক্সায় দেখা হয়েছিল….সেই মেয়েটা । “আরে আপনি এখানে….?”
মেয়েটি খানিকটা হাপিয়ে উঠে বললো – “আপনাকে তখন অনেকবার ডেকেছিলাম, কিন্তু আপনি দাঁড়ালেনিই না । তাই আপনার পিছু পিছু এখানে আসা । ওহ, বাই দ্য ওয়ে, আই এম এক্সট্রিমলি সরি…… তখন আসলে আমি বুঝতে পারিনি যে আপনি আমাকে কি বুঝাতে চেয়েছিলেন । আই এম রিয়েলি সো সরি ।”
রাহিন তখন লজ্জা পেয়ে তাড়াতাড়ি বলে উঠলো – “না না, ঠিক আছে । আপনি দাঁড়িয়ে আছেন কেন…? বসুন না ।”
মেয়েটি তখন রাহিনের পাশে বসলো । “আমি তানজিদা…. নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে বিবিএ পড়ছি । মিরপুরে থাকি । আর আপনি…?”
“আমি রাহিন… ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে বিবিএ পড়ছি, মার্কেটিং ফ্যাকাল্টিতে । থাকি নাখালপাড়ায় ।”
“আপনি এখানে কি করছিলেন…?”
“এই এমনিতেই ঘুরতে আসছি ।”
“আপনি কি এখানে প্রায়ই আসেন…?”
“না, ঠিক প্রায় না, তবে মাঝে মাঝে আসি ।”
“আমি যদি মাঝে মাঝে এখানে এসে আপনার সাথে গল্প করি তাহলে কি আপনার কোন প্রবলেম হবে…?”
তানজিদার কথা শুনে রাহিন অবাক হয়ে কিছুক্ষন তার দিকে তাকিয়ে রইলো ।
একটু পরে হঠাৎ রাহিন তার হাতের গোলাপটা তানজিদাকে দিয়ে বললো – “আপনাকে এই নীল শাড়িটাতে বেশ মানিয়েছে । এই গোলাপটি আমার হাতের থেকে আপনার হাতেই বেশি মানাবে ।”
তানজিদা একটু মুচকি হেসে গোলাপটি হাতে নিল । রাহিন তার হাসিটুকুর মানে ঠিকভাবে না বুঝলেও এটা ঠিক-ই বুঝতে পেরেছে যে সামনে তার জীবনের পথচলায় পরিবর্তন হতে যাচ্ছে…………………………..
©somewhere in net ltd.