| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
কোরআন ও সুন্নাহর দৃষ্টিকোণে স্বপ্ন ও তার ব্যাখ্যা- ৫
মৃত ব্যক্তিকে স্বপ্নে দেখা
ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে সীরিন রহ. বলেন : যদি স্বপ্নে কেউ মৃত ব্যক্তিকে দেখে তাহলে তাকে যে অবস্থায় দেখবে সেটাই বাস্তব বলে ধরা হবে। তাকে যা বলতে শুনবে, সেটা সত্যি বলে ধরা হবে। কারণ, সে এমন জগতে অবস্থান করছে যেখানে সত্য ছাড়া আর কিছু নেই।
যদি কেউ মৃত ব্যক্তিকে ভাল পোশাক পরা অবস্থায় বা সুস্বাস্থের অধিকারী দেখে, তাহলে বুঝতে হবে সে ভাল অবস্থায় আছে। আর যদি জীর্ণ, শীর্ণ স্বাস্থ্য বা খারাপ পোশাকে দেখে তাহলে বুঝতে হবে, ভাল নেই। তার জন্য তখন বেশি করে মাগফিরাত কামনা ও দোআ-প্রার্থনা করতে হবে।
কয়েকটি উদাহরণ :
ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, বিদ্রোহীরা যখন উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু- এর বাসভবন ঘেরাও করল, তখন উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি গত রাতে স্বপ্ন দেখলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, উসমান আমাদের সাথে তুমি ইফতার করবে।
আর ঐ দিনই উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু শহীদ হলেন।
(আল কাওয়ায়েদুল হুসনা ফী তাবীলির রুইয়া : শায়খ আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আস সাদহান)
আনাস ইবনে মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, আবু মূসা আশ আশআরী রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আমি স্বপ্নে দেখলাম, আমি একটি পাহাড়ের কাছে গেলাম। দেখলাম, পাহাড়ের উপরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রয়েছেন ও পাশে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু। আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু তার হাত দিয়ে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এর দিকে ইশারা করছেন।
আমি আবু মূসা রাদিয়াল্লাহু আনহুর এ স্বপ্নের কথা শুনে বললাম, ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন। আল্লাহর শপথ! ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তো মারা যাবেন! আচ্ছা আপনি কি বিষয়টি ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে লিখে জানাবেন?
আবু মূসা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আমি ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে তার জীবদ্দশায তার নিজের মৃত্যু সংবাদ জানাব, এটা কি করে হয়?
এর কয়েকদিন পরই স্বপ্নটা সত্যে পরিণত হল। ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু শহীদ হয়ে গেলেন।
কারণ, মৃত্যু পরবর্তী সত্য জগত থেকে যা আসে, তা মিথ্যা হতে পারে না। সেখানে অন্য কোনো ব্যাখ্যা দেয়ার সুযোগ নেই।
(আল কাওয়ায়েদুল হুসনা ফী তাবীলির রুইয়া : শায়খ আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আস সাদহান)
স্বপ্নের ব্যাখ্যা সম্পর্কে ইমাম ইবনুল কায়্যিম রহ. এর কিছু বক্তব্য
বাস্তব জীবনে ঘটবে এমন কিছু আকৃতি-প্রকৃতি আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তার বান্দাদের দেখিয়ে থাকেন। এ দেখানোটা স্বপ্নে কখনো সরাসরি আবার কখনো ইঙ্গিত বা প্রতীকি বার্তায় হয়ে থাকে।
যেমন আমরা বলে থাকি, স্বপ্নে কাপড় বা জামা দেখার মানে হল দীন-ধর্ম। যদি কাপড় ভাল ও বড় দেখা হয়, তবে তা দীন-ধর্ম, তাকওয়া-পরহেজগারীর উন্নতি নির্দেশ করে। আর তা যদি মলিন, সংকীর্ণ, ছিড়া-ফাটা দেখা হয় তবে তা দীন-ধর্মের অবনতি বলে মনে করা হয়ে থাকে।
দীন -ধর্ম যেমন মানুষের আত্মাকে রক্ষা করে, পোশাক তেমনি মানুষের শরীর-স্বাস্থ্যকে হেফাজত করে। এ জন্য পোশাক আর ধর্ম একে অপরের ইঙ্গিত বহন করে।
স্বপ্নে আগুন দেখা মানে ফিতনা বা বিশৃঙ্খলা আর অরাজকতা নির্দেশ করে। কারণ আগুন দৃশ্যমান ধন-সম্পদ জ্বালিয়ে দেয় আর ফিতনা-অরাজকতা মানুষের অন্তর জ্বালায়। মানুষকে অস্থির করে তোলে।
নক্ষত্র বা তারকা স্বপ্নে দেখলে তার অর্থ হয় আলেম- উলামা, জ্ঞানী-গুণি। কারণ আলেম-উলামা ও জ্ঞানীরা মানুষকে পথ প্রদর্শন করে, আলো দেয়।
স্বপ্নে ইহুদী দেখার অর্থ হল দীন-ধর্মের বিষয়ে অবাধ্যতা আর খৃষ্টান দেখার অর্থ হল, দীন-ধর্মে বিদআত প্রবর্তন ও ধর্মীয় বিষয়ে পথভ্রষ্টতা।
স্বপ্নে লৌহ দেখার অর্থ হল, শক্তি।
আর দাড়ি-পাল্লা দেখার অর্থ হল, ন্যায়পরায়ণতা।
স্বপ্নে সাপ দেখার অর্থ হল, শত্রু ।
স্বপ্নে নীচে পড়ে যেতে দেখার অর্থ হল, অবনতি আর উর্দ্ধে উঠতে দেখার অর্থ হল, উন্নতি।
কোনো অসুস্থ ব্যক্তি যদি স্বপ্নে দেখে সে চুপচাপ ঘর থেকে বের হয়ে যাচ্ছে, তাহলে এর অর্থ হবে মৃত্যু। আর যদি সে স্বপ্ন দেখে কথা বলতে বলতে সে ঘর থেকে বের হয়ে যাচ্ছে, তাহলে এর অর্থ হবে জীবন ও সুস্থতা।
যদি কোনো ব্যক্তি স্বপ্ন দেখে যে, সে মৃত্যু বরণ করছে, তাহলে এর অর্থ হবে সে পাপাচার থেকে তওবা করবে। কেননা মৃত্যু মানে হল, আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়া। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন : অত:পর তাদেরকে ফিরিয়ে নেয়া হবে তাদের সত্যিকার প্রভূ আল্লাহর কাছে। (সূরা আল আনআম : ৬২)
এখানে ফিরিয়ে নেয়া মানে মৃত্যু। আর তাওবা অর্থ ফিরে আসা।
ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু হাবেছ ইবনে সাআদ আত তাঈকে বিচারক হিসাবে নিয়োগ দিলেন। একদিন হাবেছ ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বললেন, হে আমীরুল মুমিনীন! আমি স্বপ্নে দেখলাম, চাঁদ আর সূর্য যুদ্ধ করছে। আর নক্ষত্রগুলো দু পক্ষে বিভক্ত হয়ে গেছে।
ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এ কথা শুনে জিজ্ঞেস করলেন, তখন তুমি কার পক্ষে ছিলে? চাঁদের পক্ষে না সূর্যের?
তিনি উত্তরে বললেন, আমি চাঁদের পক্ষে ছিলাম।
ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে বললেন, তাহলে আমি তোমার নিয়োগ প্রত্যাহার করে নিলাম। কারণ, তুমি একটি মুছে যাওয়া শক্তির পক্ষে ছিলে।
আল্লাহ তাআলা বলেন : আর আমি রাত ও দিনকে করেছি দুটো নিদর্শন। অত:পর মুছে দিয়েছি রাতের নিদর্শন (চাঁদকে) আর দিনের নিদর্শন (সূর্য্য) কে করেছি আলোকময়। (সূরা আল ইসরা : আয়াত ১২)আর তুমি একটি বিভ্রান্তিতে নিহত হবে। পরে দেখা গেল সত্যিই সে সিফফীনের যুদ্ধে সিরিয়াবাসীদের দলে থেকে নিহত হল।
(সুত্র : আল ইসাবাহ ফী তামীযিস সাহাবাহ : ইবনে হাজার রহ.)
স্বপ্নে বাগান দেখার অর্থ হল কাজ ও চাকুরী। আর বাগান পুড়ে যাওয়া দেখলে অর্থ হবে বেকারত্ব ও পতন।
ভাল স্বপ্নের বাস্তবায়ন দেরীতে হয়
যে স্বপ্নের ফলাফল ভাল তা বাস্তবায়নে দেরী হয়। আর যার ফলাফল খারাপ তার বাস্তবায়নে কোন দেরী হয় না।
দেখুন, ইউসুফ আলাইহিস সালাম স্বপ্নে দেখেছিলেন, চন্দ্র, সূর্য আর এগারটি নক্ষত্র তাকে সিজদা করেছে।
তার এ স্বপ্নটার বাস্তবায়ন অনেক বছর পর হয়েছে।
ইবেন সীরিন রহ. দরবারে একটি শিশুর মৃত্যুর কাহিনীতে আমরা দেখলাম, খারাপ স্বপ্নের বাস্তবায়ন তাড়াতাড়ি হয়ে গেল।
মক্কী জীবনে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার স্বপ্ন দেখলেন, যে আবু জাহল জান্নাতে ঘোরা-ফিরা করছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভাবলেন, তাহলে আবু জাহল ইসলাম গ্রহণ করবে। কিন্তু করল না। মক্কা বিজয়ের পর যখন আবু জাহলের ছেলে ইকরামা ইসলাম গ্রহণ করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, এটাই ছিল তার সেই স্বপ্নেরই বাস্তবায়ন।
(আল কাওয়ায়েদুল হুসনা ফী তাবীলির রুইয়া : শায়খ আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আস সাদহান)
শেষ কথা
আমার এ বিষয়ে লেখার উদ্দেশ্য কিন্তু পাঠকদের-কে স্বপ্নের ব্যাখ্যা শিক্ষা দেয়া নয়। বরং দীনি সচেতনতা বৃদ্ধি করা। আর এটা যে উলূমে ইসলামিয়ার একটি বিষয় সে ব্যাপারে ধারনা দেয়া। আজ আমরা যারা ইসলামের জন্য নিবেদিত, তারাও যেন দিনে দিনে বস্তুবাদী আর ভোগবাদী হয়ে যাচ্ছি। যে বিষয়ে বাজারে চাহিদা নেই, মানুষ গুরুত্ব দেয় না -সে বিষয়গুলো যত ইসলামি সংস্কৃতির বিষয় হোক- তা আলোচনা করতে চাই না।
ইমাম মালেক রহ. কে প্রশ্ন করা হয়েছিল, সকলে কি স্বপ্নের তাবীর বা ব্যাখ্যা করবে? তিনি বলেছিলেন, নবুওয়তের একটি বিষয় নিয়ে কি তামাশা করা যায়?
যে ব্যক্তি সঠিক ও সুন্দরভাবে স্বপ্নের ব্যাখ্যা দিতে জানবে, শুধু সে-ই ব্যাখ্যা দেবে। যদি স্বপ্নটা ভাল হয়, তাহলে বলে দেবে। আর যদি স্বপ্নটা খারাপ হয়, তাহলে ভাল ব্যাখ্যা দেবে। তা সম্ভব না হলে চুপ থাকবে।
(মুসান্নাফ ইবনু আবি শাইবা)
সৌদী আরবের প্রখ্যাত আলেম, ও আল-কোরআনের তাফসীরবিদ, শায়খ আব্দুর রহমান আস সাদী রহ. বলতেন : স্বপ্নের তাবীর বা ব্যাখ্যা উলূমুশ শরইয়্যার একটি বিষয়। এটি শিক্ষা করা ও শিক্ষা দান করার কারণে আল্লাহ তাআলা সওয়াব ও প্রতিদান দেবেন।
(তাইসীরুল কারীম আর রহমান ফী তাফসীরিল কালামিল মান্নান)
সমাপ্ত
কোরআন ও সুন্নাহর দৃষ্টিকোণে স্বপ্ন ও তার ব্যাখ্যা- ১
কোরআন ও সুন্নাহর দৃষ্টিকোণে স্বপ্ন ও তার ব্যাখ্যা- ২
কোরআন ও সুন্নাহর দৃষ্টিকোণে স্বপ্ন ও তার ব্যাখ্যা-৩
কোরআন ও সুন্নাহর দৃষ্টিকোণে স্বপ্ন ও তার ব্যাখ্যা-৪
০৮ ই অক্টোবর, ২০১১ রাত ১১:২১
rasel246 বলেছেন: ধন্যবাদ
২|
০৮ ই অক্টোবর, ২০১১ রাত ৮:৪৮
মানবিক ৩০ বলেছেন: ভাল লাগলো
০৮ ই অক্টোবর, ২০১১ রাত ১১:৩৮
rasel246 বলেছেন: ধন্যবাদ
৩|
০৮ ই অক্টোবর, ২০১১ রাত ৯:০৫
সুমন এম রহমান বলেছেন:
একমত..
৪|
০৮ ই অক্টোবর, ২০১১ রাত ৯:০৬
সুমন এম রহমান বলেছেন: সরি ভুল জায়গায় কমেন্ট হয়ে গেছে।
০৯ ই অক্টোবর, ২০১১ রাত ১২:০২
rasel246 বলেছেন: ভুল করে হলেও কমেন্ট করা ও আমার ব্লগ-এ আসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ
৫|
০৯ ই অক্টোবর, ২০১১ রাত ১:১৫
rasel246 বলেছেন: যারা পছন্দ করেছেন তাদেরকেও ধন্যবাদ
৬|
০৯ ই অক্টোবর, ২০১১ রাত ১০:৪১
ইন্জিনিয়ার জনি বলেছেন: প্রিয়তে রেখে দিলাম, পরে সময় করে পরব। ![]()
১০ ই অক্টোবর, ২০১১ রাত ২:২২
rasel246 বলেছেন: অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
©somewhere in net ltd.
১|
০৮ ই অক্টোবর, ২০১১ রাত ৮:৪৭
মানবিক ৩০ বলেছেন: ভাল লাগলো