নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আসুন ,দেখুন আর চলে যান। ভালো লাগার খুব বেশি কিছু পাবেনা এখানে।

মো:রাসেল

পেশায় ভবখুড়ে। সুখ খোজার চেস্টা করছি। প্রাচুয্যের সুখ না প্রাকৃতীক সুখ।

মো:রাসেল › বিস্তারিত পোস্টঃ

মালয়েশিয়ায় উচ্চ শিক্ষার জন্য আসা আর বাস্তবতা !! (১)

১৩ ই অক্টোবর, ২০১৪ দুপুর ১:৫৮

ডিপ্লোমা ইন্জিনিয়ারিং শেষ করার পরেই ভাবতে থাকি বাকি পড়াশুনা বিদেশে করবো। কিন্ত কমখরচ আর সহজ ভিসা পাওয়া যায় এমন কিছু দেশে তালিকা করে এর খোজ খবর নেয়া শুরু কররাম । তো অনেক নামি দামি কন্সালেন্সিতে খোজ খবর নিলাম,শেষমেষ নিউজিল্যান্ড যাওয়র জন্য স্থির করলাম আর মনে মনে স্বপ্ন গরলাম সবুজ দেশের যাওয়ার। আর পাশাপাশি আই ই এল টি এস পরিক্ষা দিলাম। বেশি তারাহুরা করলে যা হয় মাত্র ৬ টা ক্লাস করেই পরিক্ষায় বসলাম পয়েন্টও আসল সেরকমই, ৫,৫। তো সব কিছুই ঠিক ঠাক করলাম, ব্যংক স্টেটমেন্ট এর একটা ঝামেলা ছিল কন্সালেন্ট বলল তারা এটা ম্যনেজ করবে শুধু এক্সট্রা কিছু চার্জ দেয়া লাগবে। তো আমার সব সার্টিফিকেট জমা দিলাম। নগদ কিছু অর্থও জমা দিলাম। ১,৫ মাসের মত ঘুরলাম, বি এন এফ জেড এর থেকে আমার ডকুমেন্ট বেরিভাই হয়ে আসবে ঠিক সে সময়ে কন্সাল্টেন্ট ফোন দিল বলল তুমি একটু অফিসে আস কথা আছে । দৌরে গেলাম গিয়া শুনলাম। যে তুমার ফাইল ক্যন্সেল করে দিয়েছে । বলল যে নিজের একাউন্ট না হলে তুমি এপ্লাই করতে পারবে না। আমি বললাম আপনি তো সব এরেঞ্জ করে দিয়েছেন তো আবার আমার একাউন্ট কেন ?? পরে অনেকক্ষন তর্কাতর্কি করে জানা গেল যে উনারা আমার যে একাউন্ট বানিয়ে দিয়েছে সেটা ফেক ছিল , যার একাউন্ট দিয়েছিল উনি আমার ভেরিফিকেশন হওয়ার আগেই ব্যংক থেকে টাকা তুলে ফেলেছে , তাই বি এন এফ জেড ফাইল বাতিল করে দিয়েছে।
তারপর এক সাপ্তাহ সময় নিল আমার ডিপজিট মানি ফেরত দেয়ার জন্য । কিন্ত ৩ দিন পরেই আবার ফোন । আবার গেলাম সেই অফিসে বলল মালয়েশিয়ার কথা। খুব দ্রুত ভিসা হবে, থাকা খাওয়ার খরচ কম, খুব সহযেই ক্রেডিট ট্রানফার করে অস্ট্রেলিয়া , নিউজিল্যান্ড যেতে পারবে । আর পার্টটাইম করে খুব ভাল টাকাও উপার্যন করা যাবে। যদিও ইতিমধ্যে নিউজিল্যান্ড এর ব্যপার নিয়ে এতটা কনফিডেন্ট ছিলাম যে, ফ্রেন্ড সার্কেলের সহ, আত্বীয় সজ্বনদের ঢোল পিটিয়ে বলেছি যে আমার ভিসা হয়ে যাচ্ছে আমি চলে যাচ্ছি। তাই এখন লোক চক্ষু থেক বাচতে আর উনাদের প্যাকেজ শুনে আবারো কোরবানির ছাগলের মত তার কাছে আবার ধরা দিলাম। শুরু হলো মালয়েশিয়া যাবার ব্যবস্থা। ঠিক ৩০ দিনের মধ্যেই এপ্রুফ লেটার আসল । তো প্রায় দুই মাসের মধ্যেই যাবতিয় প্রস্তুতি শেষ। ৩ মার্চ ফ্লাইট নির্ধারন করা হল । তো আমার ফ্লাইট ছিল রাত ১১ টায়। তো পরিবার থেকে দুরে যাচ্ছি তাই খুব খারাপ লাগছিল। আম্মু অসুস্থ তাই তার জন্য খুব কস্ট লাগছিল । ছেলে মানুষতো তাই কান্না কাটি করতে পারলাম না। আর হ্যা শুধু মাত্র পরিবারে কিছু লোক ছারা কেউ যানত না আমি চলে যাচ্ছি। যদিও সকালে বন্ধুদের সাথে ক্রিকেট খেলে এসেছি বিকালেও একটা ম্যাচ ছিল। যদিও তারা তখন যানত না বিকালের সময়টা আমি আর থাকবো না।

বাংলাদেশ এরাপোর্ট আর ইমিগ্রেশনঃ
নারায়নগঞ্জ বাসা থাকার কারনে যাত্রাবাড়ি ফ্লাইওভার তৈরির কারনে য্যামের কথা চিন্তা করে দুপুর ৩ টায় রওনা দিলাম। যদিও সেদিন খুব বেশি য্যামে আটকা পরি নাই। সন্ধ্যা ৬টার মধ্যেই এরারপোর্ট পোছালাম। সরাসরি ২ নং টার্মিনালে চলে গেলাম। আমার ছোট ভাই ,আর আব্বু আসছিল আমাকে বিদায় যানাতে । যদিও তখন আমার এক বন্ধু নেয়ামুল ওর অফিস কুড়িল থাকার কারনে আমাকে সি অফ করতে আসল । যাই হোক একজন বন্ধুকে পেয়ে ভালই লাগল । এয়ারপোর্টে এসে গাড়ি থেকে নামার পর দেখলাম অনেক মানুষ অপেক্ষা করছে। সাথে তাদের সবার সাথেই পরিবার পরিজন ছিল। সবার মনেই দেখলাম কিছুটা দুখের ছাপ । প্রিয় মানুষটিকে কেউ যেন যেতে দিতে চাইছে না। কিন্তু অর্থনামের সোনার হরিনেকে ধরার জন্য সবাই যেন প্রিয় মানুষের এর আত্বাত্যগ মুখ বুঝে মেনে নিচ্ছে। তো আব্বু অনেক কিছু বুঝিয়ে দিল। ঠিক মত চলবা, নামাজ পরবা, আরও অনেক কিছু। আমি শুধু মুখ বুঝে শুনেই গেলাম। তার পর ৮ টার দিকে আব্বু আর ছোট ভাই হৃদয়ের কাছ থেকে কোলাকুলি করে বিদায় নিলাম। কারন টার্মিনালে সামনে কাউকে অবস্থান করতে দেয়া হচ্ছে না। আমি আমার টলি নেয়ামুলকে দিলাম বললাম দুই নং র্টামিনাল ধরে সজা হাটা শুরু করবি । ওর ভাব দেখে পুলিশ কিছুই বলল না ভাবল ঐ যাত্রি । আমার কাধে শুধু কলেজ ব্যগ ছিল । তো আমাকে পিছনেই পুলিশ বাধা দিল । তো পাসপোর্ট দেখানোর পর আর কিছু বলল না। ৪ নং গেটের সামনে আসলাম। মালয়েশিয়ার সব যাত্রিদের চেক ইন এই ৪ নং গেট। আর নেয়ামুলকে এখান থেকেই ছেরে দিতে হলো কারন। গেটে পাসপোর্ট চেক করা হচ্ছে। তো নেয়ামুলকে বিদায় দিলাম। আর ভয় শুরু হয় কারন বাকিটা পথ আমাকে একাই চলতে হবে। ৪ নং গেটের দরজার দিয়ে ডুকইতে পুলিশ আমার পাসপোর্ট চেক করল। আরেকজন আমার লাকেজ টান দিয়ে নিয়ে গেল । ভাবলাম এই আমার লাকেজ গেল । কিন্তু না একটু সামনেই স্কানিন মেশিনে আমার লাকেজ স্কান করেই আমাকে আমার লাকেজ ফেরত দেয়া হল। মনে মনে ভাল এই পুলিশটা ভাল । তারপর সামনে আগাতে দেখি মালিন্দো এয়ালাইনস এর যাত্রীদের একটা বিশাল লাইন । এখানে যাত্রীদের টিকেট দেয়া হবে আর লাকেজ বিমানে তোলার জন্য দিতে হবে। তো মালয়েশিয় যাওয়া ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য লাইন ছিল আলাদা। আমাকে যদিও কন্সালেন্ট থেকে বলা হয়ে ছিল ইমেগ্রেশনের লোকজন উল্টপাল্ট প্রশ্ন করে হয়রানি করতে পারে। তো আমার পালা আসলো যদিও আমার আগে অনেকেই ভিবিন্ন কারনে লাইন থেকে বের পরে পাশে দাড়াতে বলল তাই ভয় একটু বেশেই পেয়েছিলাম যে আমাকে না আবার সেখানে দাড়াতে হয় । সামনে গেলাম দেখলাম টিকেট কাউন্টারে দুজন লোক দারানো একজন চেক করে টিকেট দিচ্ছে আরেক জন্য লাকিজে ট্যাগ লাগাচ্ছে। তো আমার পাসপোর্ট জমা নিল চেক করার পর কাউন্টারের লোকটা বলল কোন কলেজ, আমি বললাম কোন খানের এখানকার নাকি যেখানে যাচ্ছি সেখানের। তো আমার মনে হয় উত্তরটা উনার পছন্দ হয় নাই। বলল ঢাকার কোন কলেজ । বললাম ন্যাশনাল পলেটেকনিক ইনিস্টিটিউট। এটা কোথায় বললাম ফার্মগেট। লোকটা বলল এ নামে কোন কলেজ আছে আমি যানি না। আমার মেজাজ কিছুটা বিগরে গেল । বললাম চেক হলিক্রস কলেজ চেনেন বলল চিনি, বললাম সরকারি বিঞ্জান কলেজ চিনেন বলল চিনি। তাহলে আপনি আমাদের কলেজ চিনেন না ক্যান । কারন সরকারি বিঞ্জান কলেজের বিপরিতেই আমাদের কলেজ। তো আমার কথা বলার ভঙ্গি দেখে মনে হলো উনারো কিছুরা মেজাজ খারাপ হচ্ছে । বলল আমি আপনার সমস্থ সার্টিফিকেট চেক করবো ।আপনি পাশের লাইনে দারান। আমি বললাম আমি এখানেই দারাচ্ছি আপনি এখুনি চেক করেন । আমার ফ্লাইটের দেরি হচ্ছে। পাশে যে লোকটা ট্যাগ লাগচ্ছিল সে বলল স্যার ছেরে দেন , ছেলে ঠিক আছে । তো আমার সাথে আর কিছু না বলে টিকেট দিয়ে দিল আর আমার লাগেজ মেশিনে দিয়ে দিল । হাফ ছেরে বাচলাম আর ভাবলাম টিকেট কাউন্টারেই এ অবন্থা আর ইমিগ্রেশন পুলিশ যে কি করবে । তাই ভয়ে ভয়ে সামনে আগাতে থাকলাম । সামলে ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্ট । অনেক যাত্রি দারিয়ে আছে । আমিও মেয়ে পুলিশ দেখে একটা লাইনে দারালাম । কারন শুনেছি মেয়ে পুলিশ না ঝামেলা কম করে । আবার আমার পালা সামনে গেলাম যদিও ডেস্কটা একটু বেশিই উচু ছিল । আর মহিলাটা মধ্য বয়স্ক আমার পাসপোর্ট জমা নিল । বলল নাম কি? যদিও আমার টিকেট কাউন্টার থেকেই মেজাজ বিগরে ছিল, তাই বললাম পার্সপোর্টে দেয়া আছে না । উনি বলল যেটা বলছি সেটা বলেল । নাম বললাম । বলল যে কলেজে যাচ্ছেন কলেজের নাম বলেন। বললাম । বলল গিয়ে তো পড়াশুনা করবেন না কাজ করবেন । আমি বললাম আপনি আমার সন্মন্ধে কিভাবে জানেন যে আমি কাজ করবো ??? উনি একটু ছোখ বড় করে বলি আমরা জানি কে পরতে যায় আর কে কাজ করতে যায় । আমার মেজাজ আরো খারাপ হওয়ার আগে চুপ হয়ে গেলাম। যদিও আমার চুপ হওয়াটা ঠিক হয়নাই । বলল আপনার সার্টিফিকেট দেন চেক করবো । আমি বললাম অবশ্যই করবেন করেন। আমাকে অন্য একটা পুলিশ দেখিয়ে দিল বলল উনার কাছে যান। দেখলান সেখানে একটা ছোট্ট লাইন আছে । আমি তারাতারি গেলাম লোকটার কাছে গিয়ে বললাম আমাকে কাউন্টারের ঐ মহিলা পাঠিয়েছে বলছে চেক করতে ।লোকটা চেয়ার থেকে উঠে আমার সাথে চলে আসলো বলল কে পাঠিয়েছে আমি ঐ কাউন্টারে নিয়ে গেলাম । ঐ মহিলা পুলিশকে জিঞ্জেস করলো কি সমস্যা বলল উনার সার্টিফিকেট চেক করতে পাঠালাম । লোকটা আমার সার্টিফিকেট উল্টেপাল্টে দেখল আর কিছুই বলল না বলল পাস দিয়ে দেন। মহিলা নিশ্চুপ হয়ে গেল । আমিও চুপচাপ দারিয়ে ছিলাম । আমার ছবি তোলা হলো, ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেয়া হল । তারপর আমার বোরিং পাস দিল । এই ছিল বাংলাদেশ ইমিগ্রশনের ঝামেলা।

( পরের অংশে বিমান ভ্রমন আর মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন নিয়ে লিখব )

মন্তব্য ৪ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ১৫ ই আগস্ট, ২০১৬ দুপুর ১:০৭

নিলয় নীল বলেছেন: ভাই আর লিখবেন না?

১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ১:০৬

মো:রাসেল বলেছেন: দুখিত ভাই , সময়ের কারণে লেখা হলো না। পর্ব (২) দিচ্চি। আর আগ্রহের জন্য ধণ্যবাদ।

২| ১৫ ই আগস্ট, ২০১৬ দুপুর ১:২২

সোহাগ সকাল বলেছেন: পোস্টটা অনেক কাজে লাগলো। কিছুদিন পরে এই ঝামেলায় পড়তে যাচ্ছি।

১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ১:০৭

মো:রাসেল বলেছেন: কমেন্টের জন্য ধণ্যবাদ। ইনশাআল্লাহ সব ঝামেলা অতিক্রম করে সফল হবে দোয়া রইলো।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.