নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

স্বপ্ন যাত্রায়

সবার আগে দেশ,দল-মত সাথে থাকবেই

রাশেল উল আলম

স্বপ্ন্ একটাই, সমৃদ্ব বাংলাদেশ

রাশেল উল আলম › বিস্তারিত পোস্টঃ

“আলো” স্কুল এবং কিছু কথা

১১ ই অক্টোবর, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:৫৬

এখানে যারা থাকে কেউই সুখী নয়, সারাদিন মুখে হাসি নিয়ে থাকলেও ভিতরে সবার অনেক কষ্ট।কারও বাবা নেই, কারও মা নেই, কারও আবার বাবা-মা কেউই নেই। অনেকের কোন বাড়িঘর নেই এমনকি অভিভাবকও নেই। অসহায় এরকম কিছু শিশুদের আবাসস্থল সিলেটের রায়নগরে অবস্থিত সরকারী শিশু পরিবার।



গত বছর ঈদে এতিম এই শিশুগুলোর ঈদের কাপড় দিতে যায় সিলেটের লিডিং ইউনিভার্সিটির সোসিয়াল সার্ভিস ক্লাবের উদ্যোগে ছাত্রছাত্রীরা।তাদের দেখেই অদ্ভুত মায়ায় জড়িয়ে পরে সেই শিক্ষার্থীগুলো। শিক্ষার্থীদের মনে সেই থেকেই শুরু হয় এতিম শিশুগুলোর মুখে হাসি ফুটানোর চেষ্টা।এতিম শিশুগুলোও যেন খোজে পায় তাদের সঙ্গী।



এতিম শিশুগুলোর মুখে হাসি ফুটানোর স্বপ্ন দেখে শিক্ষার্থীরা বসে থাকেনি। তাদের জীবনে প্রতিষ্ঠিত করতে প্রথমেই তারা শুরু করে স্কুল। তাদের জীবনের আলোকে জ্বালিয়ে রাখার চেষ্ঠা করতে স্কুলের নাম দেয়া হয় আলো স্কুল। যাত্রা শুরু হয় আলোকে জ্বালিয়ে রাখার সংগ্রাম। একে দুই করে জড়ো হতে থাকে সেই ভার্সিটির অনেকগুলো নিঃস্বার্থ প্রাণ। সবার একটাই ইচ্ছে এই সুবিধা বঞ্চিত শিশুরা বাকী জীবনে যাতে অন্যদের তুলনা পিছিয়ে না থাকে।



সারাদিন ভার্সিটিতে ক্লাশ করে শিক্ষার্থীরা যখন ক্লান্ত, বাসায় না গিয়ে তারা ছুটে যায় শিশুগুলোর কাছে। শিশুগুলোর সুখ-দুঃখের গল্প শুনতে শুনতে তারা ভুলে যায় ক্লান্তি। শিশুরাও কষ্টগুলো বলতে পেরে ভুলে যায় তাদের বড় ভাই-বোন কিংবা বাবা-মায়ের অনুপস্থিতি।গল্পে গল্পে তাদের পড়ায় পাঠ্যপুস্তক, তৈরি করে তুলে প্রতিযোগীতার জন্য।



সেই নিস্বার্থ প্রাণগুলো সফলও হয়।বিভিন্ন রেজাল্টে দেখা যায় আলো স্কুলের শিশুগুলোর মেধার যথার্থ বহিঃপ্রকাশ। গতকাল একবছরপূর্তি হয় আলো স্কুলের।শিশুগুলোর অংশগ্রহণে শিক্ষার্থীরা আয়োজন করেছিল বর্ণাঠ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের।নাচ-গানে মেতে উঠে সন্ধা। বর্ষপূ্র্তি অনুষ্ঠানে শিশুদের পারফরমেন্স দেখে আমি অভিভূত। সূবিধা-বঞ্চিত এই শিশুরা নিজেদের প্রকাশ করার সুযোগ খুব কম পায়। নিজেদের প্রতিভা প্রকাশ করতে পেরে তাদের চোখে-মুখে যে আনন্দের ছাপ দেখেছি তা সত্যিই দূর্লভ।



শুধু আলো স্কুল করেই বসে নেই শিক্ষার্থীরা। কেউ অসুস্থ হলে ছুটে যায় তারা। বিভিন্ন ঈদে তাদের জন্য উপহার কিনে নিয়ে যায় শিক্ষার্থীরা।অনেকেই তাদের জন্মদিন পালন করে শিশুগুলোর সাথে।বলতে গেলে শিশুগুলোকে জীবনের অংশ করে গেছে শিক্ষার্থীদের।



শিশুগুলোও প্রতিদিন বিকেলে অপেক্ষা করে তাদের শিক্ষক কখন আসবে। শিক্ষার্থীরা শিশুগুলোর শুধু শিক্ষক নয় তারা তার থেকে বেশী কিছু। তাদের বন্ধন টিকে থাকুক আজীবন। হাসি ফুটে থাকুক তাদের মুখে সর্বক্ষণ।



লিখেছেনঃ রাসেল (সিভিল ইন্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট, লিডিং ইউনিভার্সিটি)



মন্তব্য ৩ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৩) মন্তব্য লিখুন

১| ১১ ই অক্টোবর, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:০০

কালোপরী বলেছেন: চমৎকার উদ্যোগ

২| ১১ ই অক্টোবর, ২০১৩ রাত ১১:০৯

আনন্দক্ষন বলেছেন: আপনাদের উদ্যোগকে স্বাগত জানাতে, আমার মতো অলসের আজকের লগইন করা।
শুভকামনা রইলো, আরো অনেক মহৎ কাজের জন্য...।

৩| ১১ ই অক্টোবর, ২০১৩ রাত ১১:২৫

নীলসাধু বলেছেন: চমৎকার উদ্যোগ

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.