| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আহলে বায়াত নাজাতের তরী- পর্ব- ৩
আহলে বাইত (আঃ)-এর ইমামগণও আমল দেখছেন এবং সাক্ষ্য দিবেন আল্লাহ্ হলেন স্রষ্টা আর আমরা আদম সন্তান বা মানবজাতি হলাম সৃষ্টি ।
এই স্রষ্টা ও সৃষ্টির মাঝে আল্লাহ্ আর এক গোষ্ঠী বা সম্প্রদায় এই আহলে বাইত (আঃ)-কে সৃষ্টি করেছেন ।
পরে তাঁর (আল্লাহ্) পক্ষ থেকে ধরার বুকে মানবজাতির ভাল-মন্দ আমলের সাক্ষ্যদাতারূপে তাঁদেরকে মনোনীত করেছেন ।
মানবজাতির যাত্রা যে দিন থেকে, আহলে বাইত (আঃ)-এর সাক্ষ্য ও সেদিন থেকে চলে আসছে এবং শেষ দিন পর্যন্ত চলতে থাকবে ।
আল কোরআনের ঘোষণাঃ-
“আর এভাবে আমি আপনাদিগকে মনোনীত করেছি মানবজাতির সাক্ষ্যদাতারূপে আর রাসূল (সাঃ) হলেন আপনাদের উপর সাক্ষ্যদাতা” । [সূরা-বাকারা, আয়াত-১৪৩];
“আর বলুন, তোমরা আমল কর, আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূল এবং মুমিনগণ তোমাদের আমল দেখবেন” । [সূরা-তওবা, আয়াত-১০৫]
শাওয়াহেদুত তানজিলে, হাকিম আবুল কাসেম। সালিম ইবনে কায়েস থেকে বর্ণিত
ইমাম আলী (আঃ) বলেছেন যে, “ধরার বুকে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর বান্দাদের উপর আমরা হলাম সাক্ষ্যদাতা আর রাসূল (সাঃ) হলেন আমাদের উপর সাক্ষ্য” ।
তাফসীরে আইয়াসীতে, ইমাম মুহাম্মদ বাকের ও ইমাম জাফর আস সাদিক (আঃ) বলেছেন যে, “দুনিয়াতে আল্লাহ্র পক্ষ থেকে আমরা মানবজাতির উপর সাক্ষ্যদাতা ও তাঁর (আল্লাহর) প্রমাণস্বরূপ আছি” । - [তথ্যসুত্র- ১]
নবী করিম (সাঃ)-এর সময় নবী করিম (সাঃ)-ই ছিলেন কোরআনের সঠিক ব্যাখ্যাকারী ও ওয়ারিশ । উনার পর যারা এই কোরআনের সঠিক ব্যাখ্যা করবেন তাদেরকে পবিত্র কোরআনে ‘রাসেখুনা ফিল ইল্ম' নামে ডাকা হয়েছে। নবীর পর উম্মতে মুহাম্মদীর পরিচালক হবেন, নবীজির মহান আহলে বাইতের সদস্যগণ ।
আল্লাহ্ পবিত্র কোরআনে সমগ্র আয়াতগুলোকে দুভাগে ভাগ করেছেন, এক ভাগে রয়েছে ‘মুহকামাত’ ও অন্যভাগে রয়েছে 'মুতাশাবিহাত’।
মুহকামাত হচ্ছে ঐ সকল আয়াত যেগুলোর অর্থ অনেকেই বুঝতে পারে । আর কতিপয় আয়াত হচ্ছে মুতাশাবিহাত যেগুলোর মর্ম আল্লাহ্ এবং রাসেখুনা ফিল ইলমগণ ছাড়া অন্য কেউই অনুধাবন করতে পারবে না । (সূরা-আলে ইমরানের, ৭নং আয়াত দেখুন)
‘রাসেখুনা ফিল ইল্ম' দ্বারা নবী করিম (সাঃ) ও তাঁর আহলে বাইত-এর সদস্যদের বুঝানো হয়েছে । আয়াসী বর্ণনা করেছেন যে, হযরত ইমাম জাফর সাদেক (আঃ) বলেছেন, “আমরাই হলাম রাসেখুনা ফিল ইম” (জ্ঞানের ধারক-বাহক) । [ তথ্যসুত্র- ২ ]
পবিত্র কোরআনে মুহাম্মদ (সাঃ)-কে “যিকির” নামে ডাকা হয়েছে এবং তাঁর আ'ল;- কে “আহলে যিকির” বলা হয়েছে ।
সেই দিকে উদ্দেশ্য করে কোরআনের ঘোষণা :
“সুতরাং হে লোকেরা তোমরা যা না জানো আহলে যিকিরকে জিজ্ঞেস কর ।”
সূরা- নাহাল, আয়াত-৪৩; সূরা-আম্বিয়া, আয়াত-৭।
মুফাস্সেরগণের মতে জ্ঞানীদের দ্বারা হযরত নবী করিম (সাঃ)-এর আহলে বাইতকে বুঝানো হয়েছে ।
আব্দুল্লাহ্ বিন আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, “আহলুস্ যিকির” (জ্ঞানী ব্যক্তিরা হলেন, হযরত মুহাম্মদ (সাঃ), ইমাম আলী, হযরত ফাতেমা, ইমাম হাসান ও ইমাম হোসাইন (আঃ) (কোরআনের ব্যাখ্যা সহ) জ্ঞান বুদ্ধি আর ব্যাখ্যার ভাণ্ডার, তারাই হলেন নবুয়্যতের পরিবার, রিসালতের খনি (উম্মতের পথ প্রদর্শক) এবং ফেরেশতাদের অবতরণের স্থান ।
যাবের ইবনে আব্দুল্লাহ্ বলেছেন যে, যখন এই আয়াত নাযিল হলো তখন
ইমাম আলী (আঃ) বললেন:
আমরাই হলাম “আহলে যিকির” (জ্ঞানের ভাণ্ডার) । ওয়াকী বিন যারাহ এবং সুফিয়ান সওরী এই বর্ণনাটি লিপিবদ্ধ করেছেন ।
[তথ্যসুত্র- ৩ ]
মহানবী (সাঃ)-কে পাঠানো হয়েছে আমাদের আত্মাকে পাক-পবিত্র করার জন্য ।
পবিত্রতা ব্যতিত কোরআনকে কেউই বুঝতে পারবে না । ‘সুতরাং মহানবী (সাঃ)-এর পর যারা তাঁর স্থলাভিসিক্ত হবেন তাদেরকেও অবশ্যই পবিত্র ব্যক্তিত্ব হতে হবে।' সেদিকে লক্ষ্য রেখে কোরআনের ঘোষণা :
“আহলে বাইত-এর সদস্যগণ আল্লাহ্ চান আপনাদের কাছ থেকে সকল প্রকার অপবিত্রতা দূরে রাখতে এবং পূর্ণরূপে পূতপবিত্র রাখতে যতটুকু রাখার তাঁর (আল্লাহ্) ক্ষমতা আছে” । [সুরা-আহযাব, আয়াত-৩৩]
নবীর পত্নী হযরত উম্মে সালমা (রাঃ) বলেন, “পবিত্রতার আয়াত আমার ঘরে নাযিল হয় । মহানবী (সাঃ) হাসান, হোসেইন, আলী ও ফাতেমা (আঃ)-এর উপর একটি চাঁদর টেনে প্রার্থনা করলেন, ইয়া আল্লাহ্ এরাই আমার আহলে বাইত, এরাই আমার একান্ত আপনজন পরমাত্মীয়। এদেরকে সকল প্রকার অপবিত্রতা হতে দূরে রাখুন। তখন নবীর পত্নী হযরত উম্মে সালমা (রাঃ) বললেন, ইয়া আল্লাহর রাসূল! আমিও কি এই চাদরের ভেতর আসতে পারি? মহানবী (সাঃ) বললেন, না, তবে তুমি মঙ্গলের উপর আছো” ।
মহানবী (সাঃ)-এর এই উক্তি থেকে প্রমাণিত হল যে, “নবীর স্ত্রীগণ আহলে বাইত-এর সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না” ।
আহযাবের-৩৩ নং আয়াতের সূত্র উল্লেখ করছি, যেখানে, এই আয়াত আহলে বাইত-এর শানে অবতীর্ণ হয়েছে। (আলী, ফাতেমা, হাসান, হোসাইন (আঃ)-এর শানে) । [তথ্যসুত্র-৪ ]
উম্মুল মোমিনিন হযরত উম্মে সালমা (রাঃ) মহানবী (সাঃ)-কে বলতে শুনেছেন যে, এটা আমার মসজিদ এতে যে কোন হায়েয অবস্থার মহিলা (স্ত্রীগণ) ও যে কোন ব্যক্তি (সাহাবারা) যার উপর গোসল ফরজ তাদের জন্য পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত প্রবেশ নিষেধ । কিন্তু “আমার জন্য ও আমার পবিত্র আহলে বাইত (আলী, ফাতেমা, হাসান, হোসাইন)-দের উপর যে কোন অবস্থায় তাঁরা আমার মসজিদে প্রবেশ করতে পারবেন, সতর্ক হয়ে যাও! আমি তোমাদেরকে তাঁদের নাম বলে দিয়েছি, যাতে করে তোমরা গুমরাহ্ না হয়ে যাও। (কারণ তাঁরা সব সময় পাক-পবিত্র)” ।
[ তথ্যসুত্র - ৫]
কামালিয়াত অর্জনের পথে অগ্রসর হওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের চরিত্র ও আদব কায়দা হচ্ছে বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর জন্য আদর্শ, মডেল। তাঁদের মহানুভব অবস্থান ও আধ্যাত্বিক উচ্চপদমর্যাদার প্রতি কোরআন বিশেষ গুরুত্ব নির্দেশ করেছে যাতে বিশ্বের মুসলিম উম্মাহ তাঁদের উজ্জ্বল উদাহরণসমূহ অনুসরণ করে এবং মহানবী (সাঃ)-এর পর শরীয়েেতর আইন ও সিদ্ধান্ত সম্পর্কিত তথ্যাদি ও পথ নির্দেশের জন্য “কোরআন ও আহলে বাইতকে” মেনে চলে । তাঁরা হচ্ছেন সেই ব্যক্তিত্ব বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর জন্য যারা ইসলামের বাস্তব নমুনা এবং মতামত ও চিন্তার মতদ্বৈধতা নিরসনের বিষয়ে ঐক্যমতের প্রতীক ।
তথ্যসুত্র -১ সূত্রঃ- কেফায়াতুল মোওয়াহহেদীন, খঃ-২, পৃঃ-৬৬১; শাওয়াহেদুত তানযিল, খঃ-১, পৃঃ-৯২; তাফসীরে কুম্মী, খঃ-১, পৃঃ-৬২; বায়ানুস সায়াদা, খঃ-২, পৃঃ-২৭৭; মাজমাউল বায়ান, খঃ-১, পৃঃ-২২৪; রাওয়ানে যাভেদ, খঃ-২, পৃঃ-২৮৩ ।
তথ্যসুত্র- ২সূত্রঃ- ইয়ানাবীউল মুয়াদ্দাত, পৃঃ-৪২১; মাযমাউল বায়ান, খঃ-১, পৃঃ-৪১০; রাওয়ানে জাভেদ, খঃ-১, পৃঃ-৩৭৯; সামারাতুল হায়াত, খঃ-১, পৃঃ-২২৭; বায়ানুস সায়াদাহ, খঃ-১, পৃঃ-২৪৮; তাফসীরে কুন্মি, খঃ-১, পৃঃ-৯৬; মানাকেবে ইবনে শাহার আশুব, খঃ-১, পৃঃ-২৮৫ ।
তথ্যসুত্র- ৩ সূত্রঃ- তাফসীরে কুরতুবি, খঃ- ১১, পৃঃ-২৭২; শাওয়াহেদুত তানযীল, খঃ-১, পৃঃ-৩৩৪; তাফসীরে ইবনে কাসীর, খঃ-২, পৃঃ-৫৭০; রুহুল মায়ানি আলুসী বাগদাদী, খঃ ১৪, পৃঃ-১৩৪; তাফসীরে কুর্মি, খঃ-৩, পৃ-৬৮; এহকাকুল হক, খঃ-৩, পৃঃ- ৪৮২; কেফাইয়াতুল মোওয়াহহেদীন, খঃ-২, পৃঃ-৬৫০; রাওয়ানে জাভেদ, খঃ-৩, পৃঃ-২২৮; মাজমাউল বয়ান, খঃ-৬, পৃঃ-১৫৬; মাজমাউল যাওয়ায়েদ, খঃ-৯, পৃঃ-১১৬; তাফসীরে তাবারী, খঃ-১৪, পৃঃ-১০৮; ইয়ানাবীউল মাওয়াদ্দাহ, পৃঃ-৪৬; আর রিয়াজুন নাজরা, খঃ-২, পৃঃ-২০৯; তাফসীরে ইবনে কাসীর, খঃ-১৩, পৃঃ-১৭৭, (হুসাইন আল মাদানী প্রকাশনী, আহলে হাদীস); ।
তথ্যসুত্র- ৪সূত্রঃ- সহীহ্ মুসলিম, খঃ-৭, হাঃ-৬০৪৩ (ই,ফাঃ); সহীহ্ তিরমিযী, খঃ-৬, হাঃ- ৩৮৭১, ৩৭৮৭ (ই,ফাঃ); তাফসীরে নূরুল কোরআন, খঃ-২২, পৃঃ-১৫ (মাওলানা আমিনুল ইসলাম); তাফসীরে মারেফুল কোরআন, খঃ-৭, পৃঃ-১৩২, (ইফাঃ, মুফতি মোঃ সফি); তাফসীরে মাদানী, খঃ-৮, পৃঃ-১৩-১৫ (আহলে হাদীস লাইব্রেরী); তাফসীরে মাজহারী, খঃ-১০, পৃঃ-৩৩, ৩৪, (ই,ফাঃ); সহীহ্ তিরমিজী, খঃ-৫, হাঃ-৩১৪৩-৩১৪৪; খঃ-৬, হাঃ-৩৭২৫, ৩৮০৮ (ই,সেন্টার); মেশকাত, খঃ-১১, হাঃ- ৫৮৭৬ (এমদাদীয়া); শেখ আব্দুর রহিম গ্রন্থাবলী, খঃ-১, পৃঃ-৩০৮ (বাংলা একাডেমী); মাদারেজুন নাবুয়াত, খঃ-৩, পৃঃ-১১৬ (শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দেসে দেহলভী); তাফসীরে দূরে মানসুর, খঃ-৫, পৃঃ- ১৯০, (মিশর); তাফসীরে ইবনে কাসির, খঃ-৩, পৃঃ- ৪৮৪, (মিশর); তাফসীরে কাসসাফ, খঃ-১, পৃঃ- ১৯৭, (মিশর); তাফসীরে কুরতুবি, খঃ ১৪, পৃঃ-১৮২ (মিশর); তাফসীরে এতকান, খঃ-৪, পৃঃ-২৪০ (মিশর); তাফসীরে কাবীর, খঃ-২, পৃঃ-৭০০ (মিশর); তাফসীরে সালবি, খঃ-৩, পৃঃ ২২৮ (মিশর); তাফসীরে তাবারী, খঃ-২২, পৃঃ-৮ (মিশর); ফাতহুল কাদীর সাওকানী, খঃ-৪, পৃঃ-২৭৯; উসুদুল ঘাবা, ইবনে আসির (মিশর) খঃ-২, পৃঃ-১২, খঃ-৫, পৃঃ-৫২১; সহীহ্ তিরমিজী, খঃ-৫, পৃঃ-৩ (মিশর); ইয়া নাবিউল মুয়াদ্দাত, পৃঃ-১৭৪ (উর্দু), পৃঃ-১০৭, (ইস্তামবুল); মানাকেবে খাওয়ারেজমি, পৃঃ-২৩; সাওয়ায়েকে মুহরেকা, পৃঃ-১১৭; সুনালে বায়হাকী, খঃ-২, পৃঃ-১৪৯; ইমাম নাসাঈ, পৃঃ-১৪৯; মুয়াদ্দাতুল কুরবা, পৃঃ-১০৭; আল ইসাবা, খঃ-২, পৃঃ-৫০২; তাবরানি, খঃ-১, পৃঃ-৬৫; আস সিরাতুল হালবিয়া, খঃ- ১৩, পৃঃ-২১২; তারিখে ইবনে আসাকির, খঃ-১, পৃঃ-১৬৫; আহকামুল কোরআন, খঃ-২, পৃঃ-১৬৬ (ইবনুল আরাবি); কানযুল উম্মাল (মুত্তাকী হিন্দি), খঃ-৫, পৃঃ-৯৬; তারিখে তাবারি, খঃ-৫, পৃঃ-৩১ ।
তথ্যসুত্র- ৫ সূত্র:- বায়হাকী-আস সুনানুল কুবরা, খঃ-৭, পৃঃ-৬৫, হাঃ- ১৩১৭৮; হিন্দি, কানযূল উম্মাল, খঃ-১২, পৃঃ-১০১, হাঃ-৩৪১৮৩; ইবনে আসাকির, তারিখে দিমক আল কাবির, খঃ ১৪, পৃঃ-১৬৬; ইবনে কাসীর, ফুসুলুম মিনাস সিরাহ্, খঃ-১, পৃঃ- ২৭৩; আল্লামা সুয়ুতী-খাসায়িসুল কুব্রা, খঃ-২, পৃঃ-৪২৪; আরজাহুল মাতালেব, পৃঃ-৫৬২ (উর্দু); মারাজাল বাহরাইন ফি মানাকেবে আল হাসনাইন, পৃঃ-৪৮ (ডাঃ তাহেরুল কাদ্বরী) ।

©somewhere in net ltd.