| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আহলে বায়াত নাজাতের তরি -৪
“
আর তোমরা সকলে মিলে আল্লাহর রজ্জুকে আঁকড়িয়ে ধর পরস্পর বিচ্ছিন্ন (ফেরকাবন্দী) হইও না।” (সূরা-আলে ইমরান, আয়াত-১০৩)
হযরত ইমাম বাকের (আঃ) বলেছেন যে, “হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর আহলে বাইত (আঃ)-ই আল্লাহ্ পাকের মজবুত রজ্জু যাঁকে আল্লাহতা'য়ালা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরার আদেশ দিয়েছেন” (অনুসরণ করার জন্য)। [তথ্যসুত্র- ১]
হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) যেরূপ আল্লাহর নিকট প্রিয়তম ও সম্মানিত ছিলেন বা আছেন। ঠিক তদ্রুপ হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)'র আহলে বাইতগণও প্রিয়তম ও সম্মানীত
তাই এরশাদ হচ্ছে : “অবশ্যই আল্লাহ্ তাঁর ফেরেস্তাদের নিয়ে নবীর প্রতি দরূদ পাঠ করছেন ।
হে ঈমানদারগণ তোমরাও তাঁর প্রতি দরূদ ও সালাম পেশ করতে থাক ।” (সূরা-আহযাব, আয়াত-৫৬)
উক্ত আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর সাহাবারা জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আপনার উপর কিভাবে দরূদ পাঠ করতে হবে? উত্তরে নবীজি বলেন :
“আল্লাহুম্মা সাল্লে আলা মুহাম্মাদ, ওয়া আলে মুহাম্মাদ” অতঃপর তিনি বলেন : দেখ, তোমরা যেন আমার উপর লেজ কাটা দরূদ না পড় । সাহাবারা বললেন লেজকাটা কেমন? নবীজি উত্তরে বলেন, আমার আহলে বাইত (আলী, ফাতেমা, হাসান ও হোসাইন (আঃ)-কে বাদ দিয়ে শুধু আমার উপর দরূদ পড়া যেমন “আল্লাহুম্মা সাল্লে আলা মুহাম্মাদ” বলে চুপ থাকা। আমার ‘আ’কে’ অবশ্যই সম্পৃক্ত করতে হবে । তথ্যসুত্র- ২ ]
এ প্রসঙ্গে ইমাম শাফেয়ী (রহঃ) বলেন,
“ইয়া! আহলে বাইতে রাসূল! আপনাদের মুয়াদ্দাত (আনুগত্যপূর্ণ ভালোবাসা) পবিত্র কোরআনে ফরজ করা হয়েছে, যে ব্যক্তি নামাজে আপনাদের উপর দরূদ না পড়বে তার নামাজই কবুল হবে না।”
সূত্রঃ- ইবনে হাজার মাক্কীর-সাওয়ায়েকে মোহরেকা পৃঃ-৮৮ ।
হযরত ওমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে । তিনি বলেন, মহানবী (সাঃ) বলেছেন, দু'আ ও নামাযসমূহ ততক্ষণ পর্যন্ত আসমান ও যমীনের মধ্যবর্তী স্থানে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকে, উপরের দিকে যায় না, যতক্ষণ না নবী করীম (সাঃ) এর প্রতি দরূদ প্রেরণ করা না হয় । তথ্যসুত্র-৩
মহানবী (সাঃ) ও তাঁর আহলে বাইত (আঃ)-দের উপর নামাজে দরূদ না পড়লে, নামাজ কবুল হবে না” ।
তাই নামাজের মধ্যে একটি শর্ত হচ্ছে, তাঁদের (মহানবী (সাঃ) ও তাঁর আহলে বাইতের) উপর দরূদ পড়তে হবে ।
যাঁদের উপর দরূদ না পড়লে নামাজই কবুল হয় না ।
তাঁদেরকে যদি আমরা না চিনি বা না জানি, তাহলে নামাজে দরূদ পড়লেও তা কোন উপকারে আসবে কি? একটু চিন্তা করুন !!!...... ।
আল্লাহ্ ধরার বুকে কিছু সংখ্যক গৃহকে সম্মানিত করে তাঁর বান্দাকে
তাঁর পবিত্রতার গুণ কীর্তন করার নির্দেশ দান করেছেন
এরশাদ হচ্ছে :“সেই সকল গৃহে যাকে সমুন্নত করতে এবং যাতে তাঁর নাম স্মরণ করতে আল্লাহ্ নির্দেশ দিয়েছেন, সকাল ও সন্ধ্যায় তাঁহার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে ।” (সূরা-নূর, আয়াত-৩৬)
হযরত আনাস বিন মালিক এবং হযরত বুরাইদা বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাঃ) এই আয়াত পাক পাঠ করলে,
হযরত আবু বকর দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ (সাঃ)! এই গৃহগুলি কোথায়! হযরত নবী (সাঃ) বললেন, এটা আল্লাহ্ নবীগণের গৃহসমূহ । তারপর তিনি (আবু বকর) জিজ্ঞেস করলেনঃ “হযরত আলী ও হযরত ফাতেমা (আঃ)-এর গৃহগুলি ও কি এতে অন্তর্ভুক্ত? আল্লাহ্র রাসূল বলেন ঃ অবশ্যই এর মধ্যে তাদের গৃহগুলিও অন্তর্ভুক্ত এবং ইহা ঐসব গৃহগুলির চেয়েও অতি উত্তম এবং সমুন্নত” । তথ্যসূত্র- ৪]
আরো এরশাদ হচ্ছে: “হে ঈমানদারগণ আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্যবাদীদের সাথী হয়ে যাও” । (সূরা-তওবা, আয়াত-১১৯)
আল্লাহ্ আমাদেরকে সত্যবাদীদের সাথে থাকতে বলছেন কারণ কি?
ঈমান আনা যথেষ্ট নয়, কারণ সত্যবাদীদের সাথে থাকলে ঈমান সতেজ ও মজবুত থাকবে ।
তাই এখন আমরা সত্যবাদীদের কোথায় পাবো?
আসুন যে পবিত্র কোরআনে সত্যবাদীদের সাথে থাকার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে, সেই কোরআনেই আমরা খুঁজি সত্যবাদী কারা ।
একদা নাজরানের খ্রিস্টানদের একটি দল পাদ্রীসহ রাসূল (সাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হন । তারা হযরত ঈসা (আঃ) সম্পৰ্কীয় নবীজির সাথে তর্ক-বিতর্কে লিপ্ত হন নবীজির কোন যুক্তিই তারা মানছিলেন না । তখন নবীজির প্রতি কোরআনের এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়:
“আপনার নিকট যথাযথ জ্ঞান আসার পরও যে কেউ এই বিষয়ে তর্ক করবে, সন্দেহ করবে তাদের বলুন : আমরা আহ্বান করি আমাদের পুত্রদের এবং তোমরা তোমাদের পুত্রদের, আমরা আমাদের নারীদের এবং তোমরা তোমাদের নারীদের এবং আমরা আমাদের নাফসদের (সত্তাদের) ডাকি তোমরা তোমাদের নাফসদের (সত্তাদের) কে ডাক। অতঃপর আমরা বিনীত আবেদন করি মিথ্যাবাদীদের উপর আল্লাহ্র লা'নত (অভিসম্পাত) বর্ষিত হোক ।” (সূরা-আলে ইমরান, আয়াত-৬১)
মহানবী (সাঃ) ইমাম হাসান, ইমাম হোসেইন, হযরত ফাতেমা ও ইমাম আলী (আঃ)- কে ডাকলেন এবং ইমাম হোসেইনকে কোলে নিলেন, ইমাম হাসানের হাত ধরলেন এবং হযরত ফাতেমা, নবীজির পিছনে এবং ইমাম আলী, হযরত ফাতেমার পিছনে হাঁটছিলেন । মহানবী (সাঃ) তাঁদের উদ্দেশ্যে বললেন, হে আমার মিশনের সদস্যগণ আমি যখন অভিসম্পাতের জন্য প্রার্থনা করব, তখন তোমরা ‘আমিন’ বলবে ।
এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, আল্লাহর পছন্দসই ধর্ম ইসলামের সত্যতা নিরূপণের সাক্ষ্য দেয়ার জন্য মহানবী (সাঃ) আর কাউকেও সঙ্গে নিলেন না, শুধু আহলে বাইত (হযরত আলী, ফাতেমা, হাসান ও হোসাইন (আঃ)-গণকেই নিলেন। যেমন আল্লাহর পছন্দসই ধর্ম সত্য ও পবিত্র, ঠিক তেমনি সাক্ষ্যও সত্য ও পবিত্র হতে হবে, তাই তিনি আহলে বাইত (হযরত আলী, ফাতেমা, হাসান ও হোসাইন (আঃ)-গণকেই সাথে নিলেন । কারণ তাঁহারাই ছিলেন প্রকৃত সত্যবাদী (সিদ্দিকে আকবার) ।
মোবাহালার মাঠে নাজরানের পাদ্রী এই সত্যবাদী “পাক-পাঞ্জাতনকে” দেখে ভীত হয়ে খ্রিস্টানদের বলেন, আমি তাঁদের চেহারাতে এমন জ্যোতি দেখতে পাচ্ছি, যদি তাঁরা এই পাহাড়কে সরে যেতে বলে তাহলে তা সরে যাবে। সুতরাং তাঁদের সাথে মোবাহালা (অভিসম্পাতের) প্রার্থনা করো না। তাঁরা যে জিজিয়া কর ধার্য্য করেন তা মেনে নাও । [তথ্যসুত্র- ৫]
অতি দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে, আজ থেকে চৌদ্দশত বছর পূর্বে খ্রিষ্টানেরা আহলে বাইত (পাক-পাঞ্জেতন)-কে চিনে গেলেন কিন্তু আজ আমরা নিজেকে শ্রেষ্ঠ নবী (সাঃ)-এর উম্মত বলে দাবি করি কিন্তু আহলে বাইতকে ঠিক মত চিনি না, জানি না । আবার অনেককে এমনও পাওয়া যায়, যারা এখন পর্যন্ত আহলে বাইত-এর নামও শুনেন নাই । আর অনুসরণ করার তো প্রশ্নই আসে না । উক্ত আয়াতটি দ্বারা এটা প্রমাণিত হলো যে, মহানবী (সাঃ) পর যারা তাঁর উত্তরসূরি হবেন তাঁরা পাক পবিত্র-মাসুম ও প্রকৃত সত্যবাদী হবেন ।
তথ্যসূত্র: ১- ইয়া নাবিউল মুয়াদ্দাত, পৃঃ-১৩৯; রুহুল মায়ানী আলুসী বাগদাদী, খঃ-৪, পৃঃ-১৬; নুরুল আবসার, পৃঃ-১০২; সাওয়ায়েকে মুহরেকা, পৃঃ-৯০ (মিশর); কেফাইয়াতুল মোওয়াহহেহদীন, খঃ-৩, পৃঃ-১৭৮; মাজমাউল বয়ান, খঃ-২, পৃঃ-৪৮২; রাহওয়ানে যাভেদ, খঃ-১, পৃঃ-৪৬৭; তাফসীরে কুম্মী, খঃ-১, পৃঃ-১০৬; শাওয়াহেদুত তানযিল, খঃ-১, পৃঃ-১৩০; তাফসীরে ফুরাত, পৃঃ-১৪; গায়াতুল মোরাম, পৃঃ-২৪২।
তথ্যসূত্র-২: - সালাওয়াত, (মূল-আলী খামসেই ক্বাযভিনি, অনুবাদ-মুহাম্মাদ ইরফানুল হক); আল মুরাজেয়াত, পৃঃ-৫৭-৫৮; মুসনাদে আহমদ, খঃ-৫, পৃঃ-৩৫৩; যাখাইরুল উকবা, পৃঃ-১৯; ইয়া নাবিউল মাওয়াদ্দাত, পৃঃ-৭; কানযুল উম্মাল, খঃ-১, পৃঃ-১২৪; সাওয়ায়েকে মুহরেকা, পৃঃ-৮৭,৭৭১; জাজবায়ে বেলায়েত, পৃঃ-১৫৪; মাজমাউল বয়ান, খঃ-৮, পৃঃ-৩৬৯; ফাজায়েলুল খামছা, খঃ-১, পৃঃ-২০৯; তাফসীরে নূরুস সাকালাইন, খঃ-৪, পৃঃ-৩০৫; তাফসীরে নমূনা, খঃ-১৭, পৃঃ-৪২১ ।
তথ্যসূত্রঃ৩- মাদারেজুন নবুয়াত, খঃ-২, পৃঃ-১০৬, (ই,ফা
; জামে আত তিরমিযি, খঃ-২, হাঃ-৪৫৮, (ই, সেঃ); সহীহ তিরমিযি, পৃঃ-১৭২, হাঃ-৪৮৯, (সকল খন্ড একত্রে, তাজ কোং) ।
তথ্যসূত্রঃ০৪- তাফসীরে দূররে মানসুর, খঃ-৫, পৃঃ-৫০; মাজমাউল বয়ান, খঃ-৭, পৃঃ-১৪৪; কেফাইয়াতুল মোওয়াহহেদীন, খঃ-২, পৃঃ-২৫৮; জাজবায়ে বেলায়েত, পৃঃ-১৪২; মুরাজেয়াত, পৃঃ-৩০৮; শাওয়াহেদুত তানযিল, খঃ-১, পৃঃ-৪০৯; গায়াতুল মোরাম, পৃঃ-৩০৮ ।
তথ্যসূত্রঃ-৫ তাফসীরে মাযহারী, খঃ-২, পৃঃ-৩১২ (ইফা); তাফসীরে তাবারী, খঃ-৬, পৃঃ-১৯-২২ (ইফাঃ);
"
তাফসীরে ইবনে কাসীর, খঃ-২, পৃঃ-৪৭৭ (ইফাঃ); তাফসীরে মাজেদী, খঃ-২, পৃঃ-৯৪ (ইফাঃ); তাফসীরে কানযুল ঈমান (আহম্মদ রেজাখা বেরেলভী), পৃঃ-১২২; তাফসীরে নুরুল কোরআন (মাওলানা আমিনুল ইসলাম), খঃ-৩, পৃঃ-২৭০; কোরানুল কারিম (মহিউদ্দিন খান), পৃঃ-১৮১; কোরআন শরিফ (আশরাফ আলী থানভী), পৃঃ-৯০, (মীনা বুক হাউস); সহীহ্ মুসলিম, খঃ-৬, হাঃ-৬০০২, (ইফাঃ); সহীহ্ তিরমিজী, খঃ-৫, হাঃ-২৯৩৭ (ই,সেন্টার); বোখারী (হামিদিয়া), খঃ-৫, পৃঃ-২৮২; মেশকাত (এমদাদীয়া), খঃ-১১, হাঃ-৫৮৭৫; কাতেবীনে ওহি, পৃঃ-১৬৫ (ইফাঃ); আশারা মোবাশশারা, পৃঃ-১৬২ (এমদাদীয়া); মাসিক মদীনা, (সেপ্টেম্বর-২০০০), পৃঃ - ৬; মাসিক সুরেশ্বর (এপ্রিল-২০০০), পৃঃ-৭; শেখ আব্দুর রহীম গ্রন্থাবলী, পৃঃ-৩০৮, (বাংলা একাডেমী); ইযাযাতুল খিফা (শাহ ওয়ালিউল্লাহ), খঃ-২, পৃঃ- ৪৯৮; তাফসীরে দুরে মানসুর, খঃ-৬, পৃঃ-৩৯, (মিশর); তাফসীরে তাবারী, খঃ-৩, পৃঃ-২৯৯, (মিশর); তাফসীরে কাশশাফ, খঃ-১, পৃঃ-৩৬৮, (বৈরুত); তাফসীরে কুরতুবি, খঃ-৪, পৃঃ-১০৪, (মিশর); তাফসীরে কাবীর (ফাখরে রাজী), খঃ-২, পৃঃ-৬৯৯, (মিশর) ।

©somewhere in net ltd.