নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

হকের পথে কথা বলি বাতিলকে নাহি ডরি.।

রাসুল নামে সুখ পেয়েছি

রাসুল নামে সুখ পেয়েছি › বিস্তারিত পোস্টঃ

কারবালা ও মুয়াবিয়া পর্ব ০১

০৮ ই অক্টোবর, ২০২৩ রাত ৯:৫৫


ইসলামের নামে যা চলছে তা ইসলাম নয়-এ বুঝ না হওয়া পর্যন্ত কারবালার ঘটনা জানা যাবে না।
স্মরণ রাখতে হবে, ইমাম হোসাইন (আ.)-কে হত্যা করা হয়েছে মহররম মাসে, যে মাসে যুদ্ধ করা মুশরিকদের কাজ ৷
গোত্রীয় বিদ্বেষ
ইতিহাসের কালপ্রবাহে ‘বনি কুরাইশ’ দুটি ধারায় বিভক্ত হয়ে যায় ।
একটি হাশেমি ও অপরটি উমাইয়া ।
ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, নবী করিম (সা.)-এর আদি পুরুষ হযরত হাশিম থেকেই এ দুটি গোত্রের মধ্যে জ্ঞাতি বিদ্বেষের বিষাক্ত ধারা প্রবাহিত হয়ে আসছে ।

হযরত হাশিম নেতৃত্ব, যোগ্যতা ও প্রতিপত্তির কারণে তৎকালীন কুরাইশে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছিলেন ।
হযরত হাশিমের যোগ্যতা ও নেতৃত্ব তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র আবদে শামসের পুত্র উমাইয়া কিছুতেই সহ্য করতে পারত না ।
হযরত হাশিমের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের জন্য এবং নেতৃত্ব ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য উমাইয়া সবসময় কূট-কৌশলের আশ্রয় গ্রহণ করত।
যোগ্যতার প্রতিযোগিতায় বারবার হেরে গিয়েও সে তার প্রতিশোধ গ্রহণে বিরত হতো না ।

অবশেষে উমাইয়া যোগ্যতার প্রতিযোগিতায় হেরে গিয়ে শর্ত মোতাবেক দশ বৎসরের জন্য দেশান্তর হয় ।
উমাইয়া কিছুতেই নেতৃত্বের আসনে অধিষ্ঠিত হতে না পেরে, তার উত্তরসূরিদের এ বলে অছিয়ত করে যায় যে, তারা যেন যে কোনো কিছুর বিনিময়ে হাশেমিদের কাছ থেকে নেতৃত্ব ছিনিয়ে নেয় এবং এ পরাজয়ের প্রতিশোধ নেয় ।
আরবের একটি রেওয়াজ, মৃত ব্যক্তির অছিয়ত তার উত্তরসূরিরা প্রাণের বিনিময়ে হলেও রক্ষা করত ।

অছিয়ত মোতাবেক উমাইয়ার পুত্র হারেব পিতার প্রতিহিংসা আয়ত্ত করল এবং হাশিম পুত্র আবদুল মুত্তালেবের সঙ্গে শ্রেষ্ঠত্ব ও নেতৃত্বের দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়ে পড়ল ।

হযরত আবদুল মুত্তালেব ছিলেন পিতার সদগুণের অধিকারী। যোগ্যতার প্রতিযোগিতায় নেতৃত্ব পূর্ববৎ হাশেমিদের নিকট রয়েই গেল ।
কিছুতেই উমাইয়ারা হাশেমিদের কাছ থেকে নেতৃত্ব ছিনিয়ে নিতে পারল না ।
এভাবেই জ্ঞাতি বিদ্বেষের বিষাক্ত ধারা বংশানুক্রমে উমাইয়াদের মধ্যে সংক্রমিত হতে লাগল ।
আবদে মুনাফের বংশ এভাবেই দুটি চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী গোত্রে বিভক্ত হয়ে পড়ল ।

পরবর্তীকালে এ বিদ্বেষ মুসলমানদের মধ্যে অনেক গৃহযুদ্ধের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
মূলত এ বংশানুক্রমিক ও জ্ঞাতি বিদ্বেষের কারণেই, ইতিহাসের সবচেয়ে মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক কারবালার হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় ।
উমাইয়া এবং হাশেমিদের এ দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করে প্রিয় নবীজি (সা.)-এর আবির্ভাবের পর ।

হাশেমি বংশে সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ পয়গাম্বর সৈয়্যদুল মুরছালিন, রহমতুল্লিল আলামিন হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আবির্ভাব উমাইয়ারা কিছুতেই মেনে নিতে পারল না ।
তারা আবু সুফিয়ানের নেতৃত্বে নবী করিম (সা.)-কে ধ্বংস করার অপচেষ্টায় মেতে উঠল, যার সাক্ষী ইতিহাস।
মুয়াবিয়া ও তার পিতা আবু সুফিয়ান মক্কা বিজয়ের পূর্বক্ষণ পর্যন্ত ছলে, বলে, কৌশলে ইসলাম ও প্রিয় নবীজি (সা.)- এর বিরোধিতা করেছিল।

দীর্ঘদিনের গোত্রীয় বিদ্বেষ, বদরের যুদ্ধের অপমানজনক পরাজয় ও ব্যাপক প্রাণহানি, পিতা পুত্রকে ইসলাম ও প্রিয় নবীজি (সা.)-এর আরো বিদ্বেষী করে তুলেছিল।
আবু সুফিয়ান, হিন্দা, মুয়াবিয়া চক্র বাঘের বিষাক্ত নখ দিয়ে গোপনে আততায়ীর মাধ্যমে নবীজি (সা.)-কে হত্যার অপচেষ্টাও চালায় ।আরবের সব গোত্রকে একত্রিত করে ইহুদিদের যোগসাজশে ইসলাম ও নবীজি (সা.)-কে চিরতরে ধ্বংস করার জন্য আবু সুফিয়ানের নেতৃত্বে ‘জংগে আহযাব' অনুষ্ঠিত হয় ।

আবু জেহেল, আবু লাহাব, আবু সুফিয়ান প্রমুখ ইসলামের ও মহানবী (সা.)-এর শত্রুদের মধ্যে জঘন্যতম শত্রু ছিল আবু সুফিয়ান । অপর ঘোরতর শত্রু ছিল ‘ওতবা’ ।

ওই ওতবার মেয়ের নাম ছিল ‘হিন্দা' । ওই পাপিষ্ঠা রাক্ষসী ওহুদ যুদ্ধে প্রিয় নবী (সা.)-এর চাচা হামজার পেট চিরে কলিজা বের করে চিবিয়ে খায় এবং হাত ও নাক কেটে নেয় গলার অলঙ্কার হিসেবে ব্যবহার করার জন্য ।
প্রিয় নবী (সা.) ওই পিচাশির মুখদর্শন করতে অস্বীকার করেছেন ।
ওই কলিজা ভক্ষণকারীর ছেলে হচ্ছে মুয়াবিয়া।


মক্কা বিজয়ের পর যখন প্রকাশ্য শত্রুতার আর কোনো সুযোগ থাকল না, তখন আবু সুফিয়ান-হিন্দা, মুয়াবিয়া-মারওয়ানরা ছদ্মবেশে ইসলামের ছত্রছায়ায় ঢুকে পড়ল এবং মুনাফেকের বেশে ইসলামকে সমূলে ধ্বংস করার গভীর ষড়যন্ত্রের মধ্যে আত্মনিয়োগ করল ।
আসলে আবু সুফিয়ান গংরা ইসলাম গ্রহণ(!) করেছিল, ইসলামের বুনিয়াদকে সমূলে ধ্বংস করার জন্য ।
পরবর্তীতে তাদের কার্যকলাপে ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত হয় যে, তারা তাদের দুরভিসন্ধিতে কামিয়াব হয়েছিল।

এ সমস্ত লোকদের ইসলামের পরিভাষায় ‘তোলাকা' বলা হয়। অনেকেই তাদের এ সমস্ত অপকর্মগুলোকে ঢাকবার জন্য তাদেরকে ‘সাহাবা'র মর্যাদা দিয়ে থাকেন এবং বলে থাকেন, ইসলাম গ্রহণের পূর্বের সমস্ত গুনাহ ইসলাম গ্রহণের পর মাফ করে দেওয়া হয় । এ কথাটি ক্ষেত্র বিশেষে সঠিক ।

যারা মনেপ্রাণে ইসলাম ও নবীজি (সা.)-এর মহান আদর্শগুলোকে অনুসরণ করেছেন, উপরোক্ত কথাটি তাদের বেলায় প্রযোজ্য, কিন্তু যারা মক্কা বিজয়ের পূর্বক্ষণ পর্যন্ত প্রিয় নবীজি (সা.)-কে সত্যনবী জেনেও শুধুমাত্র ব্যক্তি এবং গোত্রীয় স্বার্থের কারণে, ইসলাম ও প্রিয় নবীজি (সা.)-এর বিরোধিতা করেছে এবং মক্কা বিজয়ের পরে উপায়ন্তর না দেখে জান বাঁচানো ও গণিমতের মাল ভক্ষণের নিয়তে ইসলামে ঢুকে পড়ে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ইসলামের নেতৃত্ব ছিনিয়ে নিয়ে মহানবী (সা.)-এর প্রতিষ্ঠিত মহান আদর্শগুলোকে একে একে হত্যা করেছে এবং তাদের বাপ-দাদার মতবাদ রাজতন্ত্র, স্বৈরাচার, সাম্রাজ্যবাদ ও বায়তুলমালে একচেটিয়া ব্যক্তি মালিকানা প্রতিষ্ঠা করে, পবিত্র ইসলামকে কলুষিত করেছে তাদেরকে কোনো যুক্তিতেই সাহাবার মর্যাদা দেওয়া যায় না, বরং কোরআন ও হাদিসের ভাষায় তারা হচ্ছে ‘মুনাফেক' ।

মক্কাবাসীরা প্রিয় নবী (সা.)-কে বাল্যকাল হতেই একজন সত্যবাদী হিসেবে জানত । ‘আল-আমিন' অর্থাৎ বিশ্বাসী আর ‘আস্ সাদিক' অর্থাৎ সত্যবাদী উপাধিগুলোও তাদের দেওয়া ।

যখন প্রিয় নবীজি (সা.)-এর ওপর আল্লাহর তরফ হতে প্রকাশ্যে সত্য প্রচারের আদেশ হলো, তখন প্রিয় নবীজি (সা.) সমস্ত মক্কাবাসীকে পাহাড়ের পাদদেশে একত্রিত করলেন এবং তিনি পাহাড়ের চূড়ায় উঠে সবার উদ্দেশ্যে বললেন, আমি যদি তোমাদের বলি, পাহাড়ের অপর পার্শ্ব হতে শত্রু তোমাদের আক্রমণ করার জন্য অগ্রসর হচ্ছে, তাহলে তোমরা কি আমার কথা বিশ্বাস করবে? সবাই একত্রে বলল : হে আল-আমিন, আপনি জীবনে কোনোদিন মিথ্যা কথা বলেননি, সুতরাং আমরা তা অবশ্যই বিশ্বাস করব ।
অতঃপর প্রিয় নবীজি (সা.) বলেন : আমি পরম করুণাময় আল্লাহতায়ালা হতে আদিষ্ট হয়েছি এ সত্য প্রচার করার জন্য যে, আল্লাহ এক, অদ্বিতীয় ও মহান আর মুহাম্মদ (সা.) তাঁর প্রেরিত রাসূল । এ কথা শুনে কাফেররা মুখ ফিরিয়ে নিল, অথচ তারা ভালোভাবেই জানত মুহাম্মদ (সা.) কোনোদিনও মিথ্যা কথা বলেন না ।

আর একদিন হুজুর পুরনূর (সা.)-এর নিকট তারা হাজির হয়ে বলল : আপনি যদি সত্যি নবী হয়ে থাকেন তাহলে আমাদেরকে চাঁদকে দ্বিখণ্ডিত করে দেখান । মুতয়িন বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) চাঁদকে বিদীর্ণ করেন এবং তা দু'টুকরা হয়ে যায় ।
তার এক খণ্ড এ পাহাড়ে এবং অপর খণ্ড সে পাহাড়ে দেখা গেল। কাফেররা তা দেখে বলল : মুহাম্মদ আমাদের জাদু করেছেন ।
এ প্রসঙ্গে আল্লাহর কোরআনে এরশাদ হচ্ছে, কিয়ামত আসন্ন, চাঁদ বিদীর্ণ হয়েছে, তারা কোনো নিদর্শন দেখলে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং বলে, “এ তো চিরাচরিত জাদু'।

তারা সত্য প্রত্যাখ্যান করে, নিজ খেয়াল-খুশির অনুসরণ করে...। উল্লেখ আছে যে, পৃথিবীর প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রিয় নবী (সা.)-এর এ মোজেযা লোকেরা প্রত্যক্ষ করে ।
কাফেররা তার সত্যতা যাচাই করার জন্য দেশ-বিদেশ থেকে আগত লোকদের কাছে জিজ্ঞাসা করে তার সত্যতা সম্পর্কে অবহিত হয়, কিন্তু তথাপি তারা ইমান আনেনি ।

সুতরাং যারা মক্কা বিজয়ের পূর্বে ইমান আনেনি তাদের মধ্যে অধিকাংশই সত্যকে জেনেশুনেই প্রত্যাখ্যান করেছে এবং ওই সমস্ত কাফেররাই মক্কা বিজয়ের পর উপায়ান্তর না দেখে জান বাঁচানোর জন্য এবং গণিতমের মাল ভক্ষণের নিয়তে ‘মুনাফেক' সেজেছে ।
পরবর্তীতে তাদের কার্যকলাপ থেকে এ কথা ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত হয় যে, তারাই মহানবী (সা.)-এর প্রতিষ্ঠিত মহান আদর্শগুলোকে একে একে হত্যা করেছে, আর প্রিয় নবী (সা.)-এর পবিত্র বংশধররা সে আদর্শকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য অকাতরে জীবনের কোরবানি দিয়েছেন ।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.