নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

হকের পথে কথা বলি বাতিলকে নাহি ডরি.।

রাসুল নামে সুখ পেয়েছি

রাসুল নামে সুখ পেয়েছি › বিস্তারিত পোস্টঃ

মক্কা বিজয়ের আগে এবং পরের মুসলমানদের মধ্যে পার্থক্য।। কারবালা ও মুয়াবিয়া- পর্ব ২

০৮ ই অক্টোবর, ২০২৩ রাত ৯:৫৯

আমরা কোরআন, হাদিস ও ইতিহাসের পরিপ্রেক্ষিতে আলোচনা করব, আবু সুফিয়ান-মুয়াবিয়া গংদের ইসলাম-পরবর্তী কাজগুলো কতটুকু কোরআন, হাদিস ও রাসূল (সা.)-এর আদর্শভিত্তিক ছিল বা তাদের কার্যকলাপ পবিত্র ইসলামকে কতটুকু বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছিল
কোরআনের আয়াত : হে নবী (সা.), আপনি বলে দিন, শোনো মুনাফিকগণ, তোমরা এ কথা বলো না যে, আমরা ইমান এনেছি বরং বলো যে, আমরা আনুগত্য স্বীকার করেছি, আর এখনো পর্যন্ত তোমাদের অন্তরে ইমান প্রবেশ করেনি, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য (লোক দেখানো) করলেই তোমাদের কর্মের এতটুকু লাঘব করা হবে না, আল্লাহ ক্ষমাকারী ও দয়ালু ।

তারাই মোমিন যারা আল্লাহ ও রাসূলের প্রতি ইমান এনে সন্দেহ পোষণ করেনি এবং স্বীয় জান ও মাল দিয়ে আল্লাহর পথে জেহাদ করেছে, তারাই সত্যাশ্রয়ী ।


মানুষ মনে করে যে আমরা ইমান এনেছি এ কথা বললেই তাদের পরীক্ষা না করে অব্যাহতি দেওয়া হবে? আমি তাদের পূর্ববর্তীদেরও পরীক্ষা করেছিলাম ।

তোমাদের মধ্যে যারা মক্কা বিজয়ের আগে ইসলামের জন্য অর্থ ব্যয় করেছ এবং যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছ তারা এবং মক্কা বিজয়ের পর যারা এ কাজ করেছ তারা উভয়ে সমান নও । নিশ্চয়ই প্রথম দল দ্বিতীয় দল অপেক্ষা উত্তম।

অভিশপ্ত বৃক্ষটি অ মা-জ্বা আলনার রূ’ইয়াল্লাতী আরাইনা কা ইল্লা ফিতনাতাল লিন্নাছি অশ্বা জ্বারাতাল মাল উনাতা ফিল কুরআন।
(সূরা বনি ইসরাইল ১৭:৬০)
অর্থ, আমরা তোমাকে স্বপ্নে সেই অভিশপ্ত বৃক্ষটি দেখিয়েছি যা মানুষকে ঝগড়া-বিবাদে নিক্ষেপ করে পথভ্রষ্ট ও ইসলামদ্রোহী করিয়াছে, এই সেই বৃক্ষ কোরআন যার ওপর লানত বর্ষণ করিয়াছে ।

কোরআনের বিখ্যাত তফসিরকারক ইবনে জরির তাবারি (রহ.) উক্ত আয়াতের তফসিরে একটি হাদিসের উল্লেখ করেছেন ।
শাহ আবদুল হক (রহ.) উর্দুতে লেখা বিখ্যাত তফসিরের ভূমিকায় ইবনে জরির (রহ.)-এর তফসির প্রসঙ্গে যে হাদিস বর্ণিত আছে সে সম্পর্কে বলেন তা অত্যন্ত উৎকৃষ্ট এবং অধিকাংশই সত্য ।

ইমাম নূবী (রহ.) তাঁর তাহযিব গ্রন্থে উক্ত তফসিরের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ।
সহল ইবনে সাইদ উক্ত হাদিসপাক সম্পর্কে বলেছেন, একদা রাসূলুল্লাহ (সা.) স্বপ্নে দেখলেন যে, বনু উমাইয়ারা তাঁর মর্যাদাময় মিম্বরে বানরাকৃতিতে নৃত্য করছে। এ স্বপ্ন দেখার পর রাসূল (সা.)-কে আর কোনোদিন হাসতে দেখা যায়নি ।

সহল আরও বলেন : উক্ত আয়াতপাকে ওই স্বপ্নের কথাই বলা হয়েছে। উমাইয়াগণ ইসলামের ওপর আক্রমণ-অত্যাচার, নর্তন-কুর্দন ও কারবালার প্রান্তরে এ মর্মান্তিক লোমহর্ষক ঘটনার কথাই মূলত বলা হচ্ছে [দেখুন : শাওয়াহেদুন নবুয়ত, আল্লামা আবদুর রহমান জামী (র.)]

আমরা পরবর্তীকালে ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বলের বর্ণনায় মুয়াবিয়া কর্তৃক রাসূল (সা.)-এর পবিত্র মিম্বর শরিফ মসজিদে নববী হতে খোদাই করে দামেস্কে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ও পরিণতির কথাও জানতে পারব ।
সুতরাং পবিত্র কোরআনের বাক্য দ্বারা এটা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো যে, মক্কা বিজয়ের পর যারা স্বীয় উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য মুসলমান সেজেছে, তারা আল্লাহর ভাষায় মুনাফেক । ‘

আনুগত্য স্বীকার করা আর ইমান আনা' এককথা নয়, এ কথাও পবিত্র কোরআনের বাক্য দ্বারা সাব্যস্ত হলো ।
আল্লাহর ভাষায় তারাই ইমানদার যারা আল্লাহ ও রাসূল (সা.)-এর প্রতি মহব্বতসহকারে ইমান এনেছেন এবং স্বীয় জান ও মাল দিয়ে ইসলামের খেদমত করেছেন ।

আবু সুফিয়ান ও মুয়াবিয়ার ইসলাম-পরবর্তী জীবনব্যবস্থায় গণিমতের মাল ভক্ষণ ও ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধার করা ব্যতীত, ইসলামের প্রতি ত্যাগ ও মহব্বতের একটি দৃষ্টান্তও কেউ দেখাতে পারবেন না ।

অধিকন্তু, ইমান আনার(!) পরও তারা বাপ-বেটা আমরণ ইসলামকে সমূলে ধ্বংস করার অপচেষ্টায় লিপ্ত ছিল ।
আমাদের এ আলোচনা থেকেই আস্তে আস্তে তা বুঝতে সক্ষম হবেন বলে আশা করি । গৃহযুদ্ধে উসকানিদাতা আবু সুফিয়ান আবু সুফিয়ান ইমান আনার(?) পরও সাহাবায়ে কেরামদের (রা.) মধ্যে গীবত, মিথ্যা রটনা, উসকানি ইত্যাদির মাধ্যমে একের বিরুদ্ধে অপরকে উত্তেজিত এবং লেলিয়ে দিয়ে স্বীয় স্বার্থ উদ্ধারের অপচেষ্টায় লিপ্ত ছিল ।
তার উদ্দেশ্য ছিল সাহাবা কেরামদের ইস্পাতকঠিন ঐক্যের মধ্যে ফাটল ধরিয়ে, গৃহযুদ্ধ বাধিয়ে দেওয়া এবং এ পরিস্থিতির সুযোগ গ্রহণ করা ।

কিন্তু সাহাবা কেরামদের (রা.) একের প্রতি অন্যের বিশ্বাস ও সমর্থন এত দৃঢ় ছিল যে, আবু সুফিয়ান শত চেষ্টা করেও তার দুরভিসন্ধি কার্যকর করতে সক্ষম হয়নি, তবে সে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখল ।

ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রা.) যখন খেলাফতে অধিষ্ঠিত হলেন তখন আবু সুফিয়ান হযরত মাওলা আলী (আ.)-এর সমীপে হাজির হয়ে বলল, “কি ব্যাপার, কুরাইশের এক আদনা ব্যক্তি আপনার ওপর জয়ী হয়ে গেল? হাত বাড়িয়ে দিন, আপনার বায়আত নিই, খোদার কসম, আপনি রাজি হলে মদিনার সর জমিন ঘোড় সওয়ার ও পদাতিক বাহিনী দিয়ে ঘিরে ফেলি ।'
জ্ঞান নগরীর দ্বার, হযরত মাওলা আলী (আ.) তার দুরভিসন্ধি বুঝতে পেরে বলেছিলেন : ওহে আবু সুফিয়ান, তোমার ফেতনা-ফাসাদের অভ্যাসটা বুঝি এখনো গেল না?
জাহেলিয়ার যুগে কতই না রক্তপাত ঘটিয়েছ, ইসলামের শান্তির ছায়াতলে এসেও বুঝি তোমার বোধোদয় হলো না? খবরদার! এখান থেকে চলে যাও, আর কোনোদিন এ রকম প্রস্তাব নিয়ে আমার সামনে আসবে না ।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.