| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
যারা দল উপদলে বিভক্ত নিজেদের সুন্দর সুন্দর নাম উপ-নামে আনন্দ পান কিংবা নিজেদের জান্নাতি কিংবা হক্ব দল দাবি করে তারা মনে মনে তুষ্ট হলেও আল্লাহ তাদের প্রতি বিদ্রোপ করেছেন- আল্লাহ তার রাসুল(সাঃ) কে বলেন
(হে নবী!) নিশ্চয়ই যারা নিজেদের দীনের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে, তাদের সাথে তোমার কোনও সম্পর্ক নেই। তাদের বিষয় তো আল্লাহরই উপর ন্যস্ত। অতঃপর তারা যা-কিছু করছে, তিনি তাদেরকে তা জানাবেন।– [সুরা আল আনআম -১৫৯]
সুতরাং (শিয়া,সুন্নি,ওহাবী, জামাতি, লা-মাজহাবী) ইত্যাদি দলে নিজেকে সম্পৃক্ত করে জান্নাতি কিংবা হক্বদার দাবি করার সুযোগ নেই- যেহেতু আল্লাহ এক, তার রাসুল এক, কোরআন এক, ধর্মের মধ্যে এত দল কোথায় থেকে এলো?? নিশ্চয় মানব সৃষ্ট এ দলগুলো আমাদের ধর্মের জন্য বিরাট ফেৎনা
তরুন সমাজ অনেকেই প্রশ্ন করে ভাই আমরা সাধারণ মানুষ যাবো কোথায়? বিভিন্ন হুজুর বিভিন্ন ভাবে বুঝাচ্ছে আমাদের ইমানের অবস্থা ভয়াবহ – তাদের উদ্যেশে আমি বলি তোমরা একটু খেয়াল করে দেখবেন সে কোন দলের প্রতিনিধি কিনা? কিংবা সে কোন বিনিময়ে তোমাকে ব্রেইন ওয়াস করছে কিনা>?
যারা দলে দলে বিভক্ত তারা যেমন পথভ্রষ্ট ঠিক তেমনি যারা ধর্মের নামে ব্যবসা করেন তারাও পথভ্রষ্ট যারা ধর্মের নামে বিনিময় গ্রহন করে সে যতবড় পীর হোক, যত বড় হুজুর হোক ,মোহাদ্দেস, মুফতি হোক সে পথভ্রষ্ট-
বর্তমান সময়ে বড়-বড় খানকা, মসজিদ, ঘন ঘন মাদ্রাসা তৈরি সব গুলোই নিজস্ব ব্যবসায়িক গতিকে প্রসারিত করার জন্য প্রকৃত ইসলামে বিনিময় নাই-টাকা., সম্পদের লোভ লালসা নাই,...
প্রকৃতপক্ষে যারা আল্লাহর নাযিলকৃত কিতাবকে গোপন করে এবং তার বিনিময়ে তুচ্ছ মূল্য গ্রহণ করে, তারা তাদের পেটে আগুন ছাড়া কিছুই ভরে না। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের সঙ্গে কথা বলবেন না এবং তাদেরকে পবিত্রও করবেন না, আর তাদের জন্য আছে মর্মন্তুদ শাস্তি। [আল-বাকারা-১৭৪]
বর্তমান সমাজে ওয়াজ ও নসিহতের সাথে মিলিয়ে দেখুন টাকা ছাড়া কোন বক্তা আসে কিনা,টাকা নিক না নিলে খাবে কোথায় থেকে তাই বলে কি কন্টাকে আসতে হবে?? সেটা কি উপরের আয়াতের সাথে মিল পাচ্ছি ?আল্লাহ আলিমুল গায়েব সব জানেন তায় কোরআন নামক সিলবাসে সব উপস্থাপন করেছেন-।
অপর আয়াতে আল্লাহ বলেন,
তারা আল্লাহর আয়াতসমূহের বিনিময়ে (দুনিয়ার) তুচ্ছ মূল্য গ্রহণকেই পছন্দ করেছে এবং তার ফলে (মানুষকে) আল্লাহর পথ থেকে নিবৃত্ত করে। বস্তুত তারা যা কিছু করে তা অতি নিকৃষ্ট। [সুরা তাওবাহ-৯]
আল্লাহ জানতেন তার বান্দাগণ তার কথাকে উপেক্ষা করে ইজতেহাদের নাম দিয়ে হারামকে হালাল করার পায়তারা করবেন তাই আগেই তিনি কোরানে তা লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন - তারা কোরানের বিনিময়কে স্বাভাবিক ভাবেই নিয়েছে এটা আল্লাহর কাছে ভালো লাগেনি তাই আগেই তার কোরান তথা মুমিনের সিলেবাসে লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন-।
দুনিয়াতে অধিকাংশ- ই টাকার পাগল তাহলে??
প্রশ্ন হলো তাহলে কার হাত ধরবো কাকে অনুসরণ করবো?
অনুসরণ কর তাদের, যারা তোমাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চায় না এবং যারা সঠিক পথে আছে। [ সুরা ইয়াছিন-২১]
বিষয়টি আরো গুরুত্ব দেওয়ার জন্য আল্লাহ তার নবীকে ও বলেছেন ,
আপনি বলে দিনঃ আমি তোমাদের কাছে এর জন্যে কোন পারিশ্রমিক চাই না। এটি সারা বিশ্বের জন্যে একটি উপদেশমাত্র।– [সুরা আন আনাম-৯০]
অর্থাৎ নবী নিজেও কোন পারিশ্রমিক নিতেন না এবং উপদেশ হিসাবে সে দৃষ্টান্ত মুমিনের জন্য আল্লাহ তার কোরানে আমাদের সিলেবাসে উল্ল্যেখ করেছেন-
কোন নবী রাসুল এবং হক ওলি আল্লাহগন পারিশ্রমিকের বিনিময়ে ধর্ম সম্পাদন করেন না যেমন নবী হুদ আঃ) তার কওমদের যা বলেছিলেন আল্লাহ আমাদের জন্য উদাহারণ স্বরুপ সেটা পবিত্র কোরানে উল্লেখ করেছেন-
আর হে আমার জাতি! আমি তো এজন্য তোমাদের কাছে কোন অর্থ চাই না; আমার পারিশ্রমিক তো আল্লাহর জিম্মায় রয়েছে।–[সুরা হুদ-২৯]
কোন নবী আম্বিয়াগন ইসলাম প্রচারের জন্য বিনিময় গ্রহন করেন নি যেমন নবী ইউছুফ (আঃ) এর কথা স্বরণ করিয়ে আল্লাহ পবিত্র কোরানে তা উল্লেখ করেন; অথচ এর বিনিময়ে (অর্থাৎ প্রচার কার্যের বিনিময়ে) তুমি তাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাও না। এটা তো নিখিল বিশ্বের সকলের জন্য এক উপদেশ-বার্তা।–[সুরা ইউসুফ-১০৪]
আমাদের নবী রাহমাতাল্লিল আলামীন কি বলেন দেখুন সেটা ও কোরানে লিপিবদ্ধ করা আছে-আমি এ কাজের বিনিময়ে তোমাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাই না। আমার প্রতিদান তো বিশ্বজগতের প্রতিপালক নিজ দায়িত্বে রেখেছেন। [সুরা আশ শুরা-১০৯,১৬৪,১২৭,১৪৫,১৮০,]
অর্থাৎ তিনি ইসলামকে সমৃদ্ধ করতে কারো নিকট কোন বিনিময় ও অর্থ গ্রহণ করেন নাই বরং তার প্রতিদান শুধু আল্লাহর সন্তোষ্টির উপর ছেড়ে দিয়েছেন-
আল্লাহ তার নবীকে কতটা লোভ মুক্ত ও নিরাপদ রেখেছেন কোরানে আয়াত গুলো পড়লেই আন্ধাজ করা যায় অন্যত্র আল্লাহ বলেন
(হে রাসূল! মানুষকে) বল, আমি এর (ইসলামের দাওয়াতের) কারণে তোমাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাই না এবং আমি ভনিতাকারীদের অন্তর্ভুক্ত নই।–[ছ্ব---দ -৮৬]
নবী যদি কোন বিনিময় গ্রহণ করতে না পারেন তবে তার ওয়ারিস দাবিদারগণ কিভাবে টাকা ছাড়া ওয়াজ করতে আসেনা কিংবা নবীর আওলাদের প্রেমিক বিভিন্ন দরবারি পীরেরা টাকা ছাড়া মুরিদের মুখেও তাকায়না??তাহলে বুঝতে হবে যাদের মধ্যে এ স্বভাব গুলো রয়েছে তারা নবীর নামে ওয়ারিস কিংবা নামে প্রেমিক তবে নবীর আদর্শ ধরে রাখতে পারেনি- তাদের কেই ত্যাগ করতে হবে-।।
এত কিছুর পরেও আল্লাহ ও তার নবীর কোন চাহিদা নায় কোন লোভ নায় কোন বিনিময় চায়নি শুধু বিসর্জন দিয়ে গেছেন এবং আমাদেরকে শুদ্ধ করতে সদা চেষ্টা করে গেছেন-
তবে আল্লাহ আমাদের নিকট কোন প্রতিদান না চায়লেও নবি আমাদের নিকট থেকে কোন প্রতিদান না নিলেও আল্লাহ তার নবীকে ভুলে নি তাই দুনিয়ার সমস্ত কিছু বিনিময়ে আল্লাহ তার রাসুলের আহলে বায়াতের মোহাব্বাত চেয়েছেন তার বান্দাদের নিকটে সেটাই নবীর শ্রেষ্ঠ পাওয়া-
এরই সুসংবাদ আল্লাহ তার সেই সকল বান্দাকে দান করেন, যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে। (হে রাসূল!) বলে দাও, আমি এর (অর্থাৎ রিসালাতের) বিনিময়ে তোমাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাই না আত্মীয়ের(আহলে বায়াতের) সৌহার্দ্য ছাড়া। যে-কেউ সৎকর্ম করবে আমি তার জন্য সে সৎকর্মে অতিরিক্ত সৌন্দর্য বৃদ্ধি করব। নিশ্চয়ই আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, অত্যন্ত গুণগ্রাহী।–[ সুরা শুরা-২৩]
আল্লাহ তার সমগ্র রিসালাতের বিনিময় চেয়েছেন আওলাদে রাসুলের ভালবাসার মধ্যে-
আর নবী বলেছেন-তোমাদের মধ্যে আমি এমন জিনিস রেখে গেলাম যা তোমরা শক্তরূপে ধারণ (অনুসরণ) করলে আমার পরে কখনো পথভ্রষ্ট হবে না। তার একটি অন্যটির তুলনায় বেশি মর্যাদাপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণঃ আল্লাহ তা’আলার কিতাব যা আকাশ হতে মাটি পর্যন্ত দীর্ঘ এক রশি এবং আমার পরিবার অর্থাৎ আমার আহলে বাইত। এ দুটি কখনও আলাদা হবে না কাওসার নামক ঝর্ণায় আমার সঙ্গে একত্রিত না হওয়া পর্যন্ত। অতএব তোমরা লক্ষ্য কর আমার পরে দু’জনের সঙ্গে তোমরা কিভাবে আচরণ কর।
গ্রন্থঃ সূনান আত তিরমিজী
সুতরাং আপনার বিবেচনার বিষয় আপনি কাকে বেছে নিবেন? নবীর আহলে বায়াত হলো নবীর ওয়ারিস, নবীর আহলে বায়াত হলো নবীর জ্ঞানের ধারক,( আনা মদিনাতুল ইলম ওয়া আলী বাবুহা), নবীর আহলে বায়াত হল বেহেস্তের সরদার(হাসান ওয়াল হোসাইন সাবাবি লি আহলিল জান্নাহ) ওয়া ফাতিমা সাঈদা নিছা ই আহলিল জান্নাহ)
প্রতি জুমার নামাজে এ চরম সত্য গুলো পড়তেছি অথচ আহলে বায়াতের মুহাব্বাত বিষয়টা আমরা কোন গুরত্বেই আনতেছিনা-
যারা নবী ও তার আহলে বায়াত প্রেমিক তারা আল্লাহর কোরানের ভাষা মতে ভাগ্যবান কারণ তারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে।
সুতরাং নবীর পথকে সঠিকভাবে ধারণ করতে হবে- ইসলামে দল উপদলের ঠায় নাই আপনি যেই মাযহাবের হোন যে আক্বিদায় বিশ্বাসী হোন আপনার মধ্যে নবীর ত্যাগ ও আহলে বায়াতের মোহাব্বাত কতটুকু তার উপর ইমানের মাপ-কাঠি বিবেচিত হবেন-।।
সারকথা হলো ঈমানের মাপকাঠি নবী ও আহলে বায়াতের মোহাব্বাত যা ছাড়া আল্লাহ ও রাসুলের সন্তুষ্ট পাওয়া সম্ভব নয় এবং ঈমানদার দাবি করাও সম্ভব নয় 
©somewhere in net ltd.