নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

হকের পথে কথা বলি বাতিলকে নাহি ডরি.।

রাসুল নামে সুখ পেয়েছি

রাসুল নামে সুখ পেয়েছি › বিস্তারিত পোস্টঃ

সুফিবাদ-ই সত্য ও চিরন্তন

০২ রা জানুয়ারি, ২০২৪ রাত ১০:৫২


যাদের দ্বারা ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে তারা সুফিদের চরম ভক্তি করতেন এবং তাদের সোহবতে নিজেদের বিলিন করেই শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন-

সুফিরাই যুগে যুগে বিশ্ব পরিবর্তনে ইনসাফ তৈরীতে ন্যায়-পরায়ণ, রাজা-বাদশা,সুলতানের সাথে প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছেন - তারা আল্লাহ ধ্যানে মগ্ন থেকে তাদের রুহানী শক্তি দ্বারা বিশ্বের আনাচে কানাচে ইসলাম ও সুফিবাদের সুন্দর্য প্রতিষ্ঠিত করেছেন-

নুরুদ্দিন জেনগি ছিলেন তুর্কি বংশোদ্ভূত জেনগি রাজবংশীয় শাসক। ১১৪৬ থেকে ১১৭৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তিনি সেলজুক সাম্রাজ্যের সিরিয়া প্রদেশ শাসন করেছেন। সিরিয়ার শাসক নুরুদ্দিন জঙ্গি রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নাম শুনেনি এমন খুব কম লোক আছে। ইহুদী জোট তথা ক্রোসেডারদের জন্য আতংকের আরেক নাম নুর উদ্দীন-।

তিনিই ছিলেন জেরুজালেম বিজেতা ও ক্রুসেডদের দাম্ভিক মস্তিস্ক চূর্ণকারী সুলতান সালাহ উদ্দিন আইয়ুবীর অভিভাবক,*

*তিনি নিজেই একজন সুফি ও শক্তিশালী শাষক ছিলেন-তিনি প্রতি রাতে রাসুল(সাঃ) এর উপর দরুদ পড়ে ঘুমাতেন এবং তিনি খুব বেশি বেশি মীলাদ শরীফ মাহফিল করতেন এবং রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ঈদে মীলাদ (সাঃ) পালনের জন্য সকল ব্যবস্থা করেছিলেন।*

মানুষ যেন ভালোভাবে ঈদে মীলাদ (সাঃ) মাহফিল করতে পারে সে জন্য তিনি ‘ওয়াফ’ নামক একটি ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। এর মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষকে খাবার, ফল-ফলাদি, কাপড় ও প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র বিলি করতেন যেন সবাই স্বাচ্ছন্দে ঈদে মীলাদে (সাঃ) পালন করতে পারেন।

এর বদৌলতে আল্লাহ ও তার রাসুল তাকে সম্মানিত করেছিলেন মহানবী(সাঃ) এর লাশ মোবারক সংরক্ষন করার মাধ্যমে- একবার দুই ইহুদী পবিত্র মদীনা শরীফ থেকে নবীজি (সাঃ) উনার পবিত্র শরীর মুবারক চুরি করতে ষড়যন্ত্র করেছিলো। সেই সময় নবীজি (সাঃ) নুরুদ্দিন জঙ্গী রহমতুল্লাহির আলাইহি উনার স্বপ্নে আগমন করেন এবং ঐ দুই ষড়যন্ত্রকারীর চেহারা দেখিয়ে বলেন তাদের শাস্তি দিতে।

এরপর নুরুদ্দিন জঙ্গী (রহঃ) ঐ দুই ইহুদীকে গ্রেফতার করে শাস্তি দেন। এবং মহানবীর রওজা মোবারক তার হাতেই শিষা দ্বারা ঢালাই করা হয়েছে যা আজ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা-বাদশা নুরুদ্দিন জঙ্গি পুরোটা জীবন ক্রুসেডের বিরুদ্ধে জিহাদ, সংগ্রাম, আন্দোলন করে কাটিয়ে দিয়েছে তিনি সাধারণ মানুষের সেবায় জীবনকে উৎসর্গ করে দিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন সুফি ও জনপ্রিয় ইনসাফের উপর প্রতিষ্ঠিত বাদশা-

সুফিরা যুগে যুগেই বিদ্যমান যেমন নুর উদ্দীন জংগীর ইন্তেকালের পর তার যোগ্য শিষ্য সুলতান সালাউদ্দীন আইয়ুবি কে তৈরী করে যান-যিনি বাইতুল মোকাদ্দাস বিজয় করেন-
সালাহউদ্দিনের যুগে শেখ আবদুল কাদের জিলানীর চেয়ে বেশি প্রভাব আর কোনো পণ্ডিতের ছিল না এবং সালাহউদ্দিন তার ও তার শিষ্যদের দ্বারা দৃঢ়ভাবে প্রভাবিত ও সহায়তা পেয়েছিলেন।

সালাউদ্দীন যুদ্ধের পাশাপাশি ওলি আওলিয়া সুফিদের প্রতি আশক্ত ছিলেন এবং বড় বড় আওলিয়াগনের সোহবতে নিজেদের করছেন শক্তিশালী যা রুহানী ও জাহেরী শক্তি সঞ্চার করেছে-

বাহ্যিক ও অর্থের শক্তি দিয়ে যদি ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হতো তবে এ যুগে সবচেয়ে বেশি হতো কারণ এ যুগে মুসলমানদের টাকা ও সম্পদের পাহাড় আছে কিন্তু এনেই ঈমানের শক্তি ও ন্যায়পরায়নতা -

সে যুগের সুলতানগন দুনিয়ার চাকচিক্যের দিকে না তাকিয়ে আল্লাহর ওলি আওলিয়াদের সোহবত নিয়ে বড় বড় মিশন সম্পন্ন করেছেন- যেমন সালাউদ্দীন আইয়ুবি জেরুজালেম বিজয় করেন বড় পীর আব্দুল কাদির জিলানী(রঃ) এর সোহবত নিয়ে-

সুলতান মুহাম্মদ আল ফাতেহ- কনস্টেনটিপল জয় করেন-শায়খ আক শামসুদ্দিন এর সোহবত ও ভালবাসা নিয়ে

শায়খ আক শামসুদ্দিন কনস্টান্টিনোপলে সাহাবি আবু আইয়ুব আনসারির কবর খুঁজে বের করায় ভূমিকা রেখেছিলেন।তাকে কনস্টান্টিনোপলের প্রকৃত বা আধ্যাত্মিক বিজয়ী (الفاتح المعنوي-আল ফাতিহ আল মানাভী) বলে অভিহিত করা হয়।

*সুলতানগন পেশি শক্তি দিয়ে আর সুফিগন রুহানী শক্তি দিয়ে এ বিশ্বে হক ও ইনসাফ কায়েম করেছেন-*

*ওসমানী সম্রাজ্যের প্রবর্তক আরতুল গাজী যিনি একটি যাযাবর জাতীকে একত্রিত করে গোটা বিশ্বে হক ও ইনসাফের প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তাদের সুলতানীয়তের বীজ বপন করেছিলেন তিনিও ছিলেন ইবনুল আরাবীর মতো শক্তিশালী আওলিয়ার একনিষ্ট ভক্ত।।*

পেশি শক্তির পাশাপাশি রুহানী ও ইমানী শক্তি ছাড়া খোদার ফজল ও রহমত পাওয়া সম্ভব নয়-

*আরো খেয়াল করুন, আরতুল গাজীর ছেলে ওসমান গাজী যার হাত ধরে একটা সম্রাজ্যের উৎপত্তি তিনিও কিন্তু ওলি ভক্ত এবং তিনি তার মহান মুরশিদ শাইখ এদিবালিকে মনে প্রাণে ভালোবাসতেন ও তার থেকে বুদ্ধি পরামর্শ ও রুহানীয়ত হাসিল করতেন-*

তিনি তার মুরশিদ শাইখ এদিবালিক এর মেয়েকে বিয়ে করেছেন-উসমান গাজি বিখ্যাত শাইখ এদিবালিকে শ্রদ্ধা করতেন এবং তার মতামতকে গুরুত্ব দিতেন। তিনি প্রায়ই এসকিশেহিরে এদিবালির সাথে সাক্ষাত করতেন।
এক রাতে এদিবালির দরগাতে অবস্থান করার সময় দেখা স্বপ্ন পরের দিন তিনি এদিবালিকে জানান। তিনি বলেন, "আমার শাইখ, স্বপ্নে আমি আপনাকে দেখেছি। একটি চাঁদ আপনার বুকে দেখা দিয়েছে। এটি উঠতে থাকে এবং আমার বুকে এসে অবতীর্ণ হয়। আমার নাভি থেকে একটি গাছ উঠে। এটি বৃদ্ধি পায় এবং শাখাপ্রশাখা এত বেশি হয় যে এর ছায়া পুরো পৃথিবীকে আবৃত করে ফেলে। এই স্বপ্নের অর্থ কী??”
কিছুক্ষণ নিশ্চুপ থাকার পর এদিবালি ব্যাখ্যা দেন:
*“অভিনন্দন উসমান! সর্বশক্তিমান আল্লাহ তোমার এবং তোমার বংশধরদেরকে সার্বভৌমত্ব প্রদান করেছেন। আমার কন্যা তোমার স্ত্রী হবে এবং সমগ্র বিশ্ব তোমার সন্তানদের নিরাপত্তাধীন হবে।”*
যে যত বড় হয়েছেন সে তত বেশী ওলিদের সোহবতে ছিলেন- কারণ খোদার রহমত ছাড়া কেউ উন্নতি করতে পারেনা এবং আত্ম উন্নয়নের জন্য আধ্যাতিক শক্তি প্রয়োজন- সেটা একমাত্র আল্লাহর ওলিদের নিকট পাওয়া যায়-

সে জামানার লোকেরা সুফিদের অনুসরণ করে সম্মানিত হয়েছেন কিন্তু
বর্তমান জামানার লোকেরা সেটা বুঝে ও বুঝতে চায়না- কারণ উপায় নেই শক্তি এখন ইহুদীবাদিদের হাতে- তারা আবদুল ওহাব নজদীর টেবলেট খেয়ে বসে আছে-

খেলাফতের আসনকে লাথি মেরে টাকা পয়সা বিত্ত,চিত্ত ও আরাম আয়েশ নারী প্রেমের নিকট বিক্রি হয়েছে-নিজেরা বড় হয়েছে ইসলামী খেলাফতকে করেছে নিথর ও নিস্তব্দ শক্তিহীন ও অভিবাবকহীন সাধারণ মানুষদের করেছে অস্তিত্বহীন ও বিপদগ্রস্থ-ও ইহুদীদের নিকট নিজেরা জিম্মি হয়ে মুসলিম বিশ্বকে করেছে খন্ড বিখন্ড-ও শক্তিহীন-তাদের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে এখনো মুসলিম বিশ্বকে খন্ড বিখন্ড করতে একনিষ্ঠ কাজ করে যাচ্ছে।।

বর্তমান জামানায় দেখুন যারা ওহাবী,খারেজী,সালাফি লা-মাজহাবি, ইত্যাদি দলে নিজেদের সম্পৃক্ত করে তাদের কাজ-ই হলো নবী,আহলে বায়াত ও ওলিদের পিছনে লেগে থাকা তারা ওলিদের সাথে সম্পর্ক রাখে তো না-ই বরং তাদের সাথে দুষমনিতে লিপ্ত থাকেন- এবং ওলি আউলিয়াদের বাদ দিয়ে ইউরোপ-আমেরিকার ইত্তেদা করে- তাদের পা চাটায় ব্যস্ত থাকে-

ওহাবী,লা-মাজহাবী ও সালাফি সংগঠন গুলো আজ নয় দীর্ঘ ১২০ বছর ধরে সৌদি ও আরব লীগের মদদে নবী ও আহলে বায়াতের বিরোধীতা করে আসছে এবং ওসমানি খেলাফতকে ১০০ বছরের জন্য নিষেধাজ্ঞায় ফেলে দিয়ে নিজেদের রাজত্ব গড়ে তুলেছে-নিজেরা আরাম আয়েশ ও নারী ভোগে ব্যস্ত হয়ে আছে- — সুলতান সালাহ আদ-দ্বীন আইয়ুবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন-

“আপনি যদি একটি জাতিকে কোনরকম যুদ্ধ ছাড়াই ধ্বংস করে দিতে চান, তাহলে তাদের তরুণ প্রজন্মের মাঝে অশ্লীলতা আর ব্যাভিচারের প্রচলনের ব্যবস্থা করে দিন।”

উসমানীয়দের বিতারিত করে তাদের যে আদর্শ সুফিবাদকে আকড়ে রেখে শক্তি ও সামর্থ অর্জন করেছে সেটার বিপরীতে কাজ করছে বর্তমান আরব বিশ্ব-

তায় দেখবেন আরবে লোকেরা নবী ও আহলে বায়াত সম্পর্কে জ্ঞান রাখে না- আবার জ্ঞান থাকলে-ও সে সম্পর্কে বলে না কিংবা অগ্রসর হয় না কারণ তাদের ক্ষমতা এখন সুফিবাদের বিরোদ্ধে অবস্থান- করেছে-

কেউ সুফি হতে হলে আল্লাহ,রাসুল, আহলে বায়াতের গোলামী করতে হবে এবং ওলি আওলিয়ার ইক্তেদা করতে হবে সে চর্চা এখন নাই বললেই চলে-

দুনিয়ার মানুষগুলো নবী ও আহলে বায়াত প্রেমিক থেকে যায় তবে, মক্কা ও মদিনা আবার আহলে বায়াত প্রেমিকদের নিকট চলে আসবে ফলাফল দাড়াবে সুফিবাদ প্রেমিকেরা আবার আরব বিশ্ব তথা ওসমানীয় সম্রাজ্য সুচনা করবে যা আরব বিশ্বের জন্য সতর্ক বার্তা সুতরাং তারা নবী ও আহলে বায়াতকে প্রমোট করে না- তাদের ক্ষমতা চলে যাবার ভয়ে-

গত একশত বছরে তারা উসমানীয়দের হটিয়ে এ সুফিবাদ বিস্তারকে রোধ করেছে ঠিক-ই কিন্তু নিজেরা শক্তিশালী হতে পারেনি কারণ তারা পরনির্ভশীল তাদের জন্য আল্লাহ রাসুলের সহযোগীতা যথেষ্ঠ নয় বরং তারা বেছে নিয়েছে ইউরোপ ও আমেরিকার মতো পরাশক্তির সহযোগীতা-।।

তায় এ যুগে নুরউদ্দীন,সালাউদ্দীন,মুহাম্মাদ আল ফাতেহ, উসমান গাজী, উরহান গাজী,আরতুগুল গাজী, দোখান,বামছি, তারগুত গাজিদের মতো বীরের জন্ম হয়না-

যুগ পাল্টেছে- আব্বাসী খেলাফত, ওসমানী খেলাফতে যারা পৃথিবীতে স্মরণীয় তারা প্রত্যেকেই নবী ও আহলে বায়াতের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন- এবং সুফিবাদকে প্রসারিত করেছেন-তারা স্মরণীয় ও হয়েছেন এবং আল্লাহ তাদের সম্মানিত করেছেন- সুফিবাদ বাদ দিয়ে ধর্ম কর্ম ও শক্তি কোনটাই কল্পনা করা সম্ভব নয়-সুফিবাদ-ই শক্তি ও সত্যের ধারক-বাহক-।

সুফিবাদ দিয়ে বিশ্ব জয় করা যায়- শান্তি ও সুবিচার প্রতিষ্ঠা করা যায়-
সুফিবাদকে দুরে ঠেলে যারা এদিক সেদিক দৌড়াচ্ছে তারা দিন শেষে ইহুদীর এজেন্ট ইউরোপ-আমেরিকার তাবেদারি ছাড়া উপায় নেই

তাদের নিকট আল্লাহ প্রদত্ত শক্তি ও রহমত নাজিল হয়নি হবে ও না- কারন তারা আল্লাহ ও তার আওলিয়াদের বাদ দিয়ে আল্লাহর রাসুলের চির শত্রু ইহুদীদের এজন্টের সাথে হাত মিলিয়েছেন- তারা দুনিয়ার স্বাধ নিতে পারলেও আখিরাতে ঘোর অন্ধকার তাদের জন্য অপেক্ষা করছে-

আল্লাহ তার রাসুল ও আহলে বায়াতের মধ্য দিয়েই সুফিবাদের উন্থান ও সুফিবাদের প্রসার যারা সুফিবাদকে বুঝতে অক্ষম তারা আল্লাহ ও তার রাসুলের রহমত থেকে বঞ্চিত।

লিখন:জাহিদুল ইসলাম সুমন-
গোলামে- আল সাঈদ তাহের বিন তালিব আল-বাওমার(ওমান)

মন্তব্য ১ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ০২ রা জানুয়ারি, ২০২৪ রাত ১১:১৪

সোনালি কাবিন বলেছেন: ভাবার বিষয়।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.