নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ধূমায়মান সালফিউরিক এসিড

রায়হান মাহবুব

চেতনায় একাত্তুর

রায়হান মাহবুব › বিস্তারিত পোস্টঃ

হায় তাজউদ্দীন

২৩ শে জুলাই, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:৪০

৭১ এর উত্তাল মার্চ এ তাজউদ্দীন যখন অজানার উদ্দেশ্যে ঘর ছাড়ছিলেন প্রিয়তমা স্ত্রী কে বলেছিলেন কোথায় যাচ্ছি জানিনা, তোমরা সাত কোটি জনতার মাঝে মিশে যেও। দুঃসময়ে অনেক দিনের চেনা প্রতিবেশী এক সরকারী অফিসার এর বাসায় আশ্রয় এর জন্য গিয়েছিলেন তাজউদ্দীন এর স্ত্রী, মুখের উপর দরজা বন্ধ করে দিয়েছিলেন ঐ অফিসার। অকুল পাথারে ভেসে গেলেন তিনি ছোট ছোট ছেলে মেয়ে নিয়ে।



স্বাধীন দেশে তাজউদ্দীন মন্ত্রী হলেন। ঘটনা চক্রে ঐ অফিসার এর প্রমোশনের ফাইল তাজউদ্দীনের টেবিলে। সেক্রেটারি বললেন স্যার, এই ফাইল সেই কর্মকর্তার। তাজউদ্দীন কিছুক্ষন ভাবলেন। বললেন, আমার ব্যাক্তিগত অসন্তোষ কোন কর্মকর্তার প্রমোশনের বাধা হতে পারেনা। ফাইলা সাইন হয়ে গেলো।



সুপারহিরো খোঁজার জন্য ভিনদেশী নায়কের দরকার নাই আমাদের। বীরপ্রসূ এই বাংলা তাজউদ্দীনের মতো মানুষের জন্ম দিয়েছে। হায় তাজউদ্দীন, স্বাধীন দেশে আপনার কথা কেউ মনে রাখেনি !

মন্তব্য ৬ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৬) মন্তব্য লিখুন

১| ২৩ শে জুলাই, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:১২

একজন ঘূণপোকা বলেছেন: বেচে থাকবেন তাজউদ্দিন বাংলার বুকে হাজার বছর

২| ২৩ শে জুলাই, ২০১৩ রাত ৮:৪০

সর্বনাশা বলেছেন:

২০১১ সনে একটি পোস্টে তাজউদ্দিন আহমদ সম্পর্কে করা আমার একটি মন্তব্য আবারো হুবহু তুলে দিলামঃ

এই বাঙালি জাতি কোনদিন কি বুঝবে তারা কি হারিয়েছে ?

তাজউদ্দিন, অতি সচেতনভাবে বলছি, কয়েক শ' বছরে একজন জন্মায়। যারা তাঁকে জানেন, তারাই শুধু বলতে পারবেন, এই ক্ষণজন্মা পুরুষটি বেঁচে থাকলে আজ এই বঙ্গভূমির এমন করুণ দশা হত না।

যে মেধা নিয়ে কিংবদন্তিতুল্য সৎ ও আত্মত্যাগী মানুষটি জন্মেছিলেন, ষোল কোটি আমার মত মানুষের দেশে তা অতি বিরল। মানুষ ও মানবতার জন্য কাজ করতে কোন নেতার যে যোগ্যতাগুলোর প্রয়োজন পড়ে, আশ্চর্যজনকভাবে তার প্রায় প্রত্যেকটি অতি উচ্চমাত্রায় ধারণ করতেন তিনি।

আমরা আমাদের অতি অদ্ভুত জাতিগত মানসিক বৈকল্যের কারণে নিচের উদাহরণগুলোর গভীরতা ও তাৎপর্য অনুধাবন করতে পারি না, আমাদের কাছে মামুলি মনে হয়।

১. মুক্তিযুদ্ধচলাকালীন সময়ে যখন তিনি প্রবাসী মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী, এবং যখন তাঁর ফেরারী পরিবার কলকাতায় নিরাপদে পৌঁছতে পেরেছে ও বসবাস শুরু করেছে, সে মূহুর্তে তিনি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন মুক্তিযুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি দাম্পত্য জীবন আর যাপন করবেন না (তখন সেই অনিশ্চিত সময়ে কেউ জানত না কবে মুক্তিযুদ্ধ শেষ হবে, নয় মাস না নয় বছর লাগবে, অথবা আদৌ কোনদিন শেষ হবে কিনা)। তাঁর দর্শন ছিল, আমার ছেলেরা ঝড়-বৃষ্টি-কাদায় থেকে যুদ্ধের ময়দানে যুদ্ধ করছে, যাঁদের বহুজন ফেলে এসেছে তাঁদের নবপরিণীতা জীবনসঙ্গীকে, তাঁদের প্রধানমন্ত্রী হয়ে কিভাবে আমি যুদ্ধের সময় সংসারধর্ম পালন করি ? তিনি তাঁর প্রতিজ্ঞা রেখেছিলেন। এমনকি পাশের বাসায় বসবাসরত অন্য আওয়ামী নেতার সঙ্গে দেখা করতে গেলেও অপর দিকের ফ্লাটে থাকা নিজের বাসায় ভুলেও যাননি।

২. নিজে প্রধানমন্ত্রী থাকাবস্থায়, তাঁর চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী, সাধারণ ভাষায় যাদের আমরা 'পিয়ন' বলি, সেই কর্মচারীটির মাথায় নিজ হাতে পানি ঢেলেছেন তার জ্বরের সময়।

৩. মুক্তিযুদ্ধের একেবারে শুরুর দিকে যখন লৌহ মানবী ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়, ইন্দিরা গান্ধীর সহযোগিতার প্রস্তাবে তিনি অবিচল ভাষায় জানিয়ে দেন, এটা আমাদের যুদ্ধ, আমরাই লড়ব। আপনি শুধু আমাদের অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিয়ে সাহায্য করুন। বাংলার এই নেতার দৃঢ়তা দেখে অবাক হয়ে গিয়েছিলেন লৌহ মানবী ইন্দিরা, নিশ্চিত।

৪. ভারতের বিমান বন্দরে ভারতীয় উচ্চপদস্থরা জনাব তাজউদ্দিনকে সম্ভাষণ জানাবার সময় যখন বলছিলেন, তাঁরা আশা করেন যে, বাংলাদেশের সাথে ভারতের গভীর সৌহার্দপূর্ণ ও বন্ধুত্বের সম্পর্ক থাকবে, তখন তাজউদ্দিন নির্দিষ্টভাবে তাঁদের দু'টি শব্দ মনে করিয়ে দেন -- 'সমতার ভিত্তিতে'।

এই মনীষীর জীবন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণা হওয়া উচিৎ।

আর এই জাতির মানসিক দৈন্যতা কাটিয়ে উঠতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তাজউদ্দিনের জীবনাদর্শ শেখান উচিৎ।


Personal for Tajuddin Ahmad,

I salute you, my leader.

৩| ২৪ শে জুলাই, ২০১৩ সকাল ১০:৪৪

রায়হান মাহবুব বলেছেন: আহ ! কি মানুষ ছিলেন তিনি। অনেক ধন্যবাদ সর্বনাশা ভাই তথ্য গুলো শেয়ার করার জন্য।

৪| ২৪ শে জুলাই, ২০১৩ দুপুর ১২:১২

জ্ঞাতিবৈর বলেছেন: আফসোস, আমরা আমাদের এই মহাপরুষদের অকালেই নিধোন করেছি।

২৪ শে জুলাই, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:১৬

রায়হান মাহবুব বলেছেন: এই জন্যই তো এই অবস্থা ভাই।

৫| ২৫ শে জুলাই, ২০১৩ বিকাল ৫:২০

দুঃখ হীন পৃথিবী বলেছেন: মুজিবের একটা ভুলের জন্য মহান এই নেতাকে আমরা হারালাম

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.