| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
"মাগি, ভাতে কুরকুরায় নাকি যৌবনে ?" কথাটি বলেছিলেন আমাদের গ্রামের মোড়ল সিকদার সাহেব।
রাজীব পাশের গ্রামের চাষী ফজলু মিঞার ছেলে। ফজলু মিঞা খুব দরিদ্র লোক এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। রাজীব ২০১০ সালে SSC পাশ করেছে; শুধু তাই নয়, সে GPA 5 পেয়েছে। পড়াশোনার প্রবল ইচ্ছা থাকা স্বত্ত্বেও পড়াশোনা আর চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। বছরখানেক এলোমেলো ঘুরাঘুরি করে অবশেষে ২০১১ সালের মাঝামাঝি সময়ে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি ও কিছু টাকা ধারদেনা করে জীবিকার তাগিদে বিদেশে পাড়ি জমায়। ভাগ্য দেবতা যেন প্রসন্ন হলেন; প্রবাসে গিয়ে ভাল বেতনে একটা কাজও পেয়ে গেল রাজীব। বছর দু'য়েক পর রাজীব দেশে ফিরে এসে পরিবারের পছন্দমত বিয়ের কাজটাও সেরে ফেলল চট-জলদি। বিয়ের কয়েকমাস পর রাজীব আবার ফিরে গেল প্রবাসে। এবারও অল্প দিনে খুব ভাল টাকা উপার্জন করল সে। তাই ঠিক করল এবার স্থায়ীভাবে দেশে ফিরে আসবে এবং চলেও এলো। দেশে এসে সেই বেকার জীবন ....! এর মাঝে হঠাৎ wrong number থেকে ফোন এল একদিন। কথা হলো মিনিট খানেক এবং লাইনটি কেটে দিলো রাজীব। ও আসল কথা তো বলাই হয়নি, ফোনটির ওপারে ছিল মিষ্টি কন্ঠের মেয়ে জুলি।
জুলি শহুরে মেয়ে এবং বিবাহিত। একটি ছোট্ট মেয়ে এবং তার স্বামী; এই নিয়ে জুলির সংসার। জুলির স্বামীও রাজীবের মত প্রবাসী। সে দীর্ঘদিন যাবৎ প্রবাসে; ছুটিতে আসে ৫/৬ বছর অন্তর একবার। সে স্বামীর অবর্তমানে ভীষণ একাকীত্বে ভোগে এবং এই একাকীত্ব দূর করতে wrong number এ কথা বলে। এটা তার একটি নেশর মত হয়ে পড়েছে ইদানীং; বিশেষ করে রাজীবের সাথে কথা বলার পর থেকে। একদিন দু'দিন করতে করতে রাজীবের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এদিকে দু'জনেই বিবাহিত। দিন যত যেতে থাকে সম্পর্ক তত গভীর হতে থাকে। প্রেমালাপ, ফোনের গণ্ডী পেরুতে খুব বেশিদিন লাগল না। দু'জনের এই অনৈতিক সম্পর্ক শরীরিক সম্পর্কে রূপ নিল নাটকীয়ভাবে। এখন জুলি চায় রাজীবের সংসারে আসতে কিন্তু রাজীবের ঘরে তো বউ আছে। এই নিয়ে দু'জনের মাঝে কথা কাটাকাটি শুরু হয়ে যায়; রাজীব বিষয়টি সামাল দিতে না পেরে মুকাদ্দেসের সাথে আলোচনা করে। মুকাদ্দেস খুব ভাল একটি ছেলে, সে রাজীবকে এই অনৈতিক সম্পর্ক থেকে ফিরে আসার পরামর্শ দেয়। শুধু তাই নয়, মুকাদ্দেস জুলির সাথেও কথা বলে কিন্তু জুলি মানে না। এদিকে রাজীবের স্বচ্ছল অবস্থাও আর নেই; জুলির সাথে ঘুরাফেরা এবং অন্যান্য নারীর পেছনে টাকা লুটয়ে সে এখন নিঃস্ব প্রায়। অবশেষে কোনো এক কাল বৈশাখী রাতে জুলি তার স্বামী-সন্তানের মুখে চুন-কালি মেখে রাজীবকে আপন করার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমায়।
এই ঘটনার পর রাজীব ঠিক কি করেছিল সেটা কারো জানা নাই....../
©somewhere in net ltd.