নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

পঞ্চ পাণ্ডব

পঞপাণ্ডব

পঞপাণ্ডব › বিস্তারিত পোস্টঃ

পঞ্চ পাণ্ডবের ঘর বাড়ি

১১ ই জুন, ২০১৩ ভোর ৬:৩৫





ভাইজান আমার নাম ছোলমান শেখ, নিবাস কুমিল্লা। এই শেখ'টা কই থিক্কা যে আসল আমি বা আমার জ্ঞাতি ভাইরা মনে লয় জানেনা। জানলে আমিও হয়তো জানতাম। কুমিল্লায় তো শেখ নামের চল তেমন একটা দেহি নাই। ভাইজান আমার কেন জানি একটা ভাবনা কাজ করে। ভয়ঙ্কর ভাবনা। কাউরে কিছু বলিনা। আমার মা যৌবনের বিশেষ সময়ে প্রাচীন একটা নৌ- বন্দরে চা স্টল চালাইত। নানান রঙের নানান দেশের মানুষের যাতায়াত ওই সব যায়গায়। বোঝেনই তো গোয়ালন্দ পাটুরিয়া এইসব ভাল মানুষের যায়গা না। দুইদিন পর পর তার পেট বাইন্ধা যাইত। ওগোর মত মহিলারাই সেই পেট পরিস্কার করত। যেইবার সময় মত করা যাইত না সেইবার তার অবস্থা হইত দেখার মত। বাশের কঞ্চি দিয়া খুচাইয়া খুচাইয়া পেটের বাচ্চাটারে মারা হইত। তারপর ধরেন কিছুদিন লাশ হইয়া পইড়া থাকতো। বাচলে আবার পুরান ধান্দায় নামো আর না বাচলে অন্যান্য নটিদের মত নদীর জলে লাশের ভাসান দেওয়া হইত। ইহাদের জীবন মানে- কিছুদিন একটা জারজ নামের প্রান নিয়ে আরও কিছু জারজ পয়দা করে কিছু পেটের ভিতরেই হত্যা করে এক সময় নিজের দেহটারে পদ্মার জলে ভাসান দেওন। এই আর কি । ঝুট ঝামেলা ছাড়া নিতান্ত গরিবি এক বেশ্যার জীবন।

কোন এক সময় কোন লাঙ্গের সাথে আমার মা যে কুমিল্লা চইলা আইল জানতে পারলাম না। সে তারে রক্ষিতা হিসাবে নিশ্চয়ই রাখছিল। কে জানে ওই লোকের কারনেই হয়তো আমারে মা পেটের ভিতরেই খুন কইরা ফালাত্তনাই। মা' রে এলেকার সবাই মাগি ডাকতো। আমাদের বাড়ি রে কেউ বলত ছাড়া বাড়ি আবার কেউ বলত মাগি বাড়ি। আমি পাড়ার পুলাপান গুলার সাথে তেমন একটা মিশতে পারতাম না অথবা অরা আমার সাথে মেলামেশার ব্যাপারে তেমন একটা আগ্রহি ছিল না। আমি এই বিষয় ওই বিষয় সব বিষয় নিয়াই ভাবতাম। খালি ভাবতাম আর ভাবতাম আর কি......... আমি সাত বছর বয়সে প্রথম ইস্কুলে যাই। কিন্তু অইহানে যাওয়ার আগে-ই দেহি সবাই বলাবলি করতাছে, আইজ মাগির পোলা ক্লাশ করতে আইব। কেউ ওই পুলার লগে মেলামেশা যেন না করে তার জন্য মাস্টাররা পর্যন্ত সবাইরে সাবধানী দিতাছে। আমি ঘণ্টা খানিক থাইকা ইস্কুল পালাইলাম। পরের বার বয়স আটে গেলাম মাদ্রাসায়। কথায় আছেনা যাহা বাহান্ন তাহাই তিপ্পান্ন। হুজুরেরা কিছুক্ষন পর পর আমারে ডাইকা নেয়। এইটা সেইটা জিগায় তারপরে আসে মুল কথায়............

ভাইজান, আমার মায় কিভাবে মরল এইটা তো এখনো বলা হইল না। সে ধরেন বিশ বছর নানান রোগে ভোগে পইচা গইলা মরার আগেই মইরা গেছিল গা। সে মরন যন্ত্রনায় ছটফট করত আর সারা রাইত জীবিত গরুরে চামরা ছিললে যেরম মরন যন্ত্রনায় চিল্লায় তেমন সারা রাইত চিল্লাইত সে। আর আমার বাপ মোটা বাঁশ দিয়া পিটাইত। মর মর মাগি......... মরেও না মাগির ছাও। বাপের খুব শখ ছিল আমাগো কাজের মাইয়াডারে কামের মাইয়া বানাইব। আর না পারলে দরকার লাগলে বিয়া করব। আমি অনেক সময় খিয়াল কইরা দেখতাম আব্বা লুঙ্গির ভিতর হাত ঢুকাইয়া নাড়াচাড়া করতাছে আর এক দৃষ্টিতে অর দিকে তাকাইয়া আছে। আমিও তখন এই কাজটাই করতাম । মাগি বুইঝাও না বোঝার ভান করত। পরে অবিশ্য সে সফল হইছিল। বুড়া হইলে হইব কি আব্বার ভিতরের রাজাডা আছিল মারখা মারা।

খুব অল্প বয়সেই আমার চরিত্রের খারাপ দিক গুলাও প্রকাশ হইতে শুরু করল। জন্ম আমার বেশ্যার ঘরে এইডা কিন্তু বুঝতে হইব, হইব না? মাগ্রিবের আজানের সমায় এক বড় ভইনের লগে আকাম করতে গিয়া হাতে নাতে পরলাম ধরা। বিচার হইল। আমারে গ্রাম ছারার হুকম করা হইল। ছারলাম গ্রাম। তারপরে ধরেন বছর দুই আর পরা লিখায় নাম তুলি নাই। একদিন জানুয়ারি মাসের ১ম সপ্তায় আমার এক বড় আপায় আমারে হাতে ধইরা ইস্কুলে লইয়া গেল। আমি ক্লাস ফউরে ভরতি হইয়া গেলাম। এইহানে আমারে আর কেউ আমারে মাগির পুলা বইলা ডাকাডাকি করে নাই। আমার জীবন চলতে শুরু করল। শুধু আমার বাপ আমারে হাতের কাছে পাইলেই চুলে ধইরা পিঠের উপর গুম্মুর গুম্মুর কিল কনি মারত আর বলত হেডির পুতের নাম মিয়া সাব। আমি আমার পড়শি কিংবা বন্ধু বান্ধবের লগে স্কুলে যাইতাম না। রিকসা ভাড়া শেয়ার করা আমার পক্ষে সম্ভব হইত না। কাগজ কলম বই কিনা যেখানে অসম্ভব সেইখানে আবার রিকসা ভাড়া? মানুষ সম্ভবত জন্মগত ভাবেই প্রতিকুলতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে অভ্যস্থ। আমি নিখুত ভাবে টাকা চুরির প্রক্রিয়া শিক্ষা নিলাম। সপ্তাহান্তে একবার কইরা ধরা খাই। খাটের পায়ার লগে বাইন্ধা আমারে পিটায়- আমি চুরির বিষয় কিছুই স্বীকার করিনা। এক সময় ছাড়ে। ছাড়া পাবার পরও আমি কিছুক্ষন চিল্লাইয়া চিল্লাইয়া কান্দি। সুর করে বিলাপ করি, চুরি করল কে আর চুরির শাস্তি পায় কে? ( সাবধানে খেয়াল রাখি অরা সবাই আমার বিলাপ শুনতাছে কিনা। কেউ সামনে না থাকলে অপেক্ষা করি সে আসলে ইনশাল্লাহ আবার নতুন উদ্দমে শুরু করা যাবে।)

একসময় গায়ের বালু ছালু নিয়াই ঘর থিক্কা বাইর হইয়া পরি। কারু না কারুর সামনে দিয়া যাবার সময় বলি, আর ফিরব না। এই সংসার আমার জন্য হারাম আইজ থিক্কা। এই ঘরের দরজায় আমি পেচ্ছাব করি। তারপর আস্তে আস্তে হাটতে হাটতে মুচি পট্টির দিকে যাই। টেকা ৬০-৭০ খরচ কইরা একটা ফেঞ্চি কিনি। তারপরের দুইদিন পুন্দে মুহে সিগ্রেট খাই। পেনিক আর পেনিক লই। তারপর আবার তক্কে তক্কে থাহি কোন সময় চুরির সুযোগ আবার আইব।

মন্তব্য ২ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ১২ ই জুন, ২০১৩ ভোর ৪:০৩

খেয়া ঘাট বলেছেন: বড়ই নির্মম, বড়ই কঠিন সত্য, বড়ই পীড়নের, বড়ই যন্ত্রণার।

২| ১৩ ই জুন, ২০১৩ দুপুর ১:১৯

পঞপাণ্ডব বলেছেন: ami tu soleman seikh
mal khaia kori khek khek.....

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.