| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |

যতই সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছি ততই অশান্ত হয়ে উঠছে হৃদয়,আর ভাবতেছি এখানে এত এত সবুজ ছিলো,ছিলো সবুজের ক্রন্দন,গাছপালা,বাতাস,কোথায় গেলো এসব? এক মহূর্তের জন্য ও চোখের পলক ফেলতেছিলাম না,কখন জানি আরেকটা সৃষ্টি হারিয়ে যায়,কখন জানি আরেকটা দৃশ্য বিলীন হয়ে যায়।
আমি কেবল অগ্রসর হচ্ছিলাম...
ছোট্ট একটা ভূখণ্ডের দিকে আমার চোখজোড়া,হৃদপিণ্ড,মস্তিষ্কের ঘোর,আঙুলের চিপায় সিগারেট,কেবল চা-টা মিস করছিলাম। আমাকে যেতে হবে সেই ছোট্ট ভূখণ্ডে। আমি ভূখণ্ডের নাম জানিনা,আগে কখনো যাইনি,আমি কেবল হেটে চলছিলাম,উদ্দেশ্যহীন এক গন্তব্যের দিকে...
আমি হেটে বেড়াচ্ছি এক আকাশ মাথার তিন ইঞ্চি উপরে নিয়ে,আমার শরীরে পুড়ছে,মন পুড়ছে,উদ্দেশ্যহীন যাত্রার এক পর্যায়ে আমি মানিয়ে নিয়েছি সব কিছু,এক পর্যায়ে সব কিছু নিজের মত করে মেনে যায়।
আশেপাশে কেউ নেই,কোন কোলাহল কিংবা গ্রাম,নেই কোন প্রাণীও। কেবল উপরে আকাশ,পায়ের নিচে মাটি, আঙুলের চিপায় সিগারেট,এছাড়া যেন আমার আর কোন কিছুর প্রয়োজন হচ্ছেনা,হয় ও নি কখনো।
আমি সেই ছোট্ট ভূখণ্ডে পৌছালাম,আমি জানিনা এইটা কি সেই ছোট্ট ভূখণ্ড-টা কিনা,আমি নিশ্চিত নই। যেখানে জীবন অনিশ্চিত সেখানে একটা ছোট্ট ভূখণ্ড কি এমন ব্যাপার।
একটা ছায়াগাছের সঙ্গে আমার দেখা,ছায়াগাছের চাদরে নিজেকে ফিরে পেলাম। ছায়াগাছ আমাকে শিখাচ্ছিলো কিভাবে গন্তব্য ছুটতে হয়,আমাকে শিখাচ্ছিলো বিশ্রাম কি,ক্লান্ত হলে কিভাবে বুঝতে হবে,কি করতে হবে,ছায়াগাছটি আমাকে কেবল জীবন সম্পর্কে অদ্ভুত অদ্ভুত তথ্য দিচ্ছিলো,যা আমি আগে কখনো জানতাম না।
আমাকে একটা নতুন জীবন সম্পর্কে বলতেছিলো,বলতেছিলো কিভাবে ঋতুর চক্রান্তে গাছের পাতা ঝরে যায়,আবার কিভাবে ঋতুর চক্রান্তে পাতাগুলো পূনরুজ্জীবিত হয়। আমাকে শিখাচ্ছিলো ওয়ারফেজের মত করে কিভাবে বৃষ্টি শেষে রূপালী আলো বেরিয়ে আসে,পাখিরা মেতে উঠে কুঞ্জবনে। ছায়াগাছটি-কে অনেকটা ওয়ারফেজের মত লাগলো।
ছায়াগাছটি-কে বললাম,আচ্ছা আমি কি একটা সিগারেট খেতে পারি? ছায়াগাছ না করলোনা,আমি কখনো এমন ভাবে কারো কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে সিগারেট খাইনি। আমার ভালো লাগছিলো,আমি সিগারেট খাচ্ছি আর জীবন সম্পর্কে ছায়াগাছের সাথে আলাপ করছি,আমার ব্যর্থ জীবনের গল্প শোনাচ্ছি,ঊনিশে হারিয়ে যাওয়া তাঁরাকে নিয়ে গল্প বলছিলাম,রাত দশটা বাজলে ঘরে ফেরার গল্প থেকে রাত বারোটার পরে ঘরে ফিরার গল্প,গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদের সঙ্গে সম্পর্কের গল্প,রাস্তার ধারে বসে,শুয়ে শত রাত কাটিয়ে দেওয়ার গল্প।
ছায়াগছটি কেবল শুনছিলো আর একেক করে আমাকে সমাধান করে দিচ্ছিলো সব কিছু। ছায়াগাছটির কি এক অসম্ভব রকমের দক্ষতা,তার ছায়ায় বসে বিষণ্ণতায় ভুগে সিগারেট খেতেও শান্তি লাগছিলো।
আমার ঘুম ভেঙে যায়,কিন্তু চোখ খুলতে পারছিলাম না,চোখ ভার হয়ে আছে। টানা কয়দিন ধরে ঘুমাইনি,ইদানীং ঘুম আড়াই-তিনঘন্টার বেশি হচ্ছেনা। আমার চুল ভিজে গেছে,কপাল,গলা,পিঠ,হাত পা সব ঘামে ভিজে গেছে। চোখ খুলে দেখি ছায়াগছটি নেই,আমার নিজস্ব কোন ভূখণ্ড নেই,উদ্দেশ্য নেই,গন্তব্য নেই,পথ নেই,আকাশ কিংবা মাটি ব্যতীত।
পুরোনো ফাইল থেকে (২০২১) একটি হাবিজাবি লেখা,হাহাহা!
২|
২০ শে মে, ২০২৬ রাত ১:৩৭
হুমায়রা হারুন বলেছেন: ওমর খৈয়াম -ও বোধহয় এমন-ই এক ছায়া গাছের সন্ধান পেয়েছিলেন। তাই রুবাইয়াৎ লিখেছিলেনঃ
'এইখানে এই তরুর তলে
তোমার আমার কৌতুহলে
যে কটি দিন কাটিয়ে যাব প্রিয়ে,
সঙ্গে রবে সুরার পাত্র
অল্প কিছু আহার মাত্র
আরেকখানি ছন্দমধুর কাব্য হাতে নিয়ে ।'
©somewhere in net ltd.
১|
২০ শে মে, ২০২৬ রাত ১২:৫০
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: চোখ খুলে দেখি ছায়াগাছটি নেই,
......................................................................
এর নাম ভরসা,
আজকালের বাংলাদেশে কোন ভরসা নেই
সুতরাং ঘুমালে অবচেতন মনে নিরাপত্তা খুঁজে
জীবনের ভরসা চায় !