নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

Rimjhim Pihu

রিমঝিম পিহু

মানুষ মানুষের জন্য ।

রিমঝিম পিহু › বিস্তারিত পোস্টঃ

"কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচে সেই শিশুটি "

০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ রাত ৯:১৬

কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচে সেই শিশুটি







লিখাঃ- Rimjhim Pihu



----------------------------











হেই চকলেট, চকলেট.........চকলেট নিবেন চকলেট!!



রাস্তা ঘাটে এমন অনেক পথ শিশুকেই দেখা যায় কখনো ফুল বিক্রি করতে কখনওবা চকলেট।



অনেক বাস্তবতার সম্মুখিন হয়ে তারা রাস্তয় নামে পেটের তাগিদে।



তাদের জীবনের কাহিনী প্রায় সকলের ই অজানা থাকে।



ব্যাস্ততার মাঝে তাদের কাহিনী জানা দুরের কথা সামান্য কিছু সাহয্য করার ই বা সময় কার কোথায়!!







এমন ই একটি পথশিশু সে।



পিতা-মাতা ছাড়া দুনিয়ার আলো দেখা তো কারও পক্ষেই সম্ভব না...সেই শিশুটিও জন্মেছিল কোনও মায়ের কোলে...তার ও ছিল জন্মদাতা।



_ _







একটি সিনেমা হলে ছোট পদে চাকরি করে মাসুদ।



সল্প বেতনে স্ত্রী ও ৩ সনতান নিয়ে কোনমতে জীবিকা নির্বাবা হতো তাদের।



মাসুদের বাবা-মা থাকেন গ্রামে। যেখানে মাসুদের প্রায় ই আসা-যাওয়া হতো।







ইদানিং মাসুদ আগের তুলনায় বেশি গ্রামে যাওয়া শুরু করেছে।



গ্রাম থেকে একদিন বাসায় আসার পর সন্দেহপ্রবণভাবে মাসুদের স্ত্রী তাকে জিজ্ঞাসা করে,



ঃ- কি ওইসে তোমার??এতো ঘন ঘন গেরামে যাও কিল্লাইগা??



ঃ- কি আর অইব!! গেরামে বাপ-মায় আচে না!



ছোটখাটো কথা কাটাকাটি থেকে বড় ধরনের ঝগড়ায় রুপ নেয় তাদের তর্ক-বিতর্ক।



রাগ করে মাসুদ আবার গ্রামে চলে যায়।



মাসুদের স্ত্রী ও রাগ করে আটকায় না মাসুদকে।



ভেবেছিল খানিকবাদে আবারো ফিরে আসবে মাসুদ।



কিন্তু তার এই ভাবনা যে ভুল প্রমান হয়ে সন্দেহ বাস্তবে এটি ভয়ানক রুপ নিবে কখনো ভাবেনি সে।







গ্রামে একটি যুবতী কাজের মেয়ে আসমা’র সাথে বেশ কিছুদিন মেলামেশা থাকার পর সেদিন আসমাকে বিয়ে করে ফেলে মাসুদ।



সবার এই কথা জানাজানি হওয়ার পর সমাজের মেনে না নেওয়া ও লোক নিন্দার কারণে আসমাকে নিয়ে গ্রাম ছেড়ে ুরের একজায়গায় পাড়ি জমায় মাসুদ।



কিছুদিন পর তাদের ঘরে জন্ম নেয় একটি ফটফুটে শিশু।



মাসুদ শিশুটির নাম রাখে সিহাব।







অভাবের মঝেও ৩ জনের সংসার চলছিল কোনোভাবে।







কিন্তু দুঃখ যার নিয়তিতেই লেখা থাকে, সৃষ্টিকর্তা ছাড়া সেই দুঃখ খণ্ডানর সাধ্য কেউ না রাখে।







সিহাবের ৩ বছর বয়সে মারা যায় মাসুদ।



সিহাবকে নিয়ে একাকী বড়ই বিপত্তিতে পরে আসমা।



মা হয়েও বড়ই নিষ্ঠুরতার পরিচয় দেয় আসমা।



পিতৃহীন সিহাব এর ভগ্যে মায়ের মমতার ও সমাপ্তি লেখা হয়ে যায়।



এখানে সেখানে ঘোরাঘরি করতে করতে সেই ছোট্ট শিশুটিকে একটি কৃষ্ণচূড়া গাছের নীচে রেখে চলে যায় আসমা।



ক্রন্দণরত একাকী পরে রইলো কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচে সেই ছোট্ট শিশুটি ।







শিশুটির আকুল আবেদনের মায়াবি কান্নায় মন গলল না কারই।



অবসশেষে শিশুটির করুন কান্নায় মন গলল মগলূ নামের একটি সুইপার সরদারের।



সেই সুইপার সর্দার শিশুটিকে আশ্রয় দিলো তাদের হরিজন পল্লীতে।



হরিজন পল্লীর সকলে ছোট্ট শিশুটিকে আপন করে নিয়ে ডাকতে শুরু করলো একটি নতুন নাম “ পিচকু “ নামে।







হরিজন পল্লীতেই আরেকটু বড় হওয়ার পর সুইপারদের ৃতকর্মে একটুও ইচছুক ছিল না পিচকু।



পিচকুর গায়ে ছিল মুসলমানের রক্ত। তার ডি.এন.এ কোনমতেই সায় দেয়নি তাকে সুইপারদের কাজে অংশগ্রহণ করতে।



তাইতো পিচকু হরিজন পল্লি থেকে নেমে এলো রাস্তায়।



রাস্তায় অন্যান্য শিশুদের দেখতে দেখতে একদিন একটি শিশু এক প্যাকেট চকলেট তুলে দিলো পিচকুর হাতে।



তারপর থেকেই রাস্তায় রাস্তায় শুরু হয় শিশুটির জীবনযাত্রা।



পেটের তাগিদে কখনো চকলেট,কখনও ফুল বিক্রি করে,আবার কখনও বা কাগজ আর ভাঙগা চুরা কুড়াতে শুরু করে সেই শিশু।



কখনো শিশুটি থাকে রাস্তার ফুটপাতে,কখনওবা থাকে গাছতলায়।







সমাজের চোখে তার পরিচয় সবার ই জানা।



সর্বজন স্বীকৃত শিশুটির পরিচয়- সে একজন “ পথশিশু “ বা “ টোকাই “ ।







আজ ও শিশুটি সেই কৃষ্ণচূড়া গাছের নীচে বসে, শুয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে চিন্তা করে। আর নিস্পাপশশুটির মনে প্শ্ন জাগে-সবার মা-বাবা আছে তার মা-বাবা কোথায়!!



কেন পারে না সে ইচছামতো কিছু খেতে,কেন পারে না ভাল জামা কাপড় পড়তে!!







তার এই প্রশনগুলোর উত্তর হয়তো কারও পক্ষে দেওয়া অসম্ভব।



পথ শিশুদের প্রশ্ন গুলোর উত্তর দিতে না পারলেও সাধ্যমত সকলে তাদের উপকার করলে শুধু তারাই উপকৃত হয় না, একটু উপকার করে তাদের অনেক খুশী হতে দেখে নিজের মনেও অনেক শান্তি পাওয়া যায়।







বিঃদ্রঃ- এটি একটি পথশিশুর বাস্তব কাহিনী।

মন্তব্য ৭ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (৭) মন্তব্য লিখুন

১| ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ রাত ৯:২১

জোৎস্নাআলো বলেছেন: ধন্যবাদ । সুন্দর করে চিত্র টিকে ফুটিয়ে তোলার জন্যে।
ভাল লাগল ।

১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:৫৬

রিমঝিম পিহু বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ।

২| ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ রাত ৯:১৪

মামুন রশিদ বলেছেন: করুণ বাস্তব উঠে এসেছে লেখায় ।

লাইন গুলোর মাঝে গ্যাপ কমিয়ে আনলে পড়তে আরো আরাম হতো ।

১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:৫৬

রিমঝিম পিহু বলেছেন: ধন্যবাদ।

৩| ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ রাত ৮:২২

অপূর্ণ রায়হান বলেছেন: কষ্ট লাগলো লেখাটা পড়ে ।

+

ভালো থাকবেন ।

১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:৫৯

রিমঝিম পিহু বলেছেন: আপনিও ভালো থাকবেন।ধন্যবাদ।

৪| ২২ শে অক্টোবর, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:০৫

নুর ইসলাম রফিক বলেছেন: আপনি কি তাকে কোন প্রকার হেল্প করেছেন?
আর যদি করেই থাকেন
তবে তাহা এখানে তুলে দিলেই মনে হয় ভাল হতো।
আমরা আপনার ভাল কাজ থেকে
ভাল কাজের শিক্ষা ও প্রেরনা দু-টুই পেতাম।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.