নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

\"সবার ভালবাসা নিয়ে বাঁচতে চাই\" -রবিউল

রবিউল হাসান সানি

→মন: এটা নিয়েই যত সমস্যা! যখন যা ইচ্ছা তাই করে,একদম কথা শুনে না!

রবিউল হাসান সানি › বিস্তারিত পোস্টঃ

গল্প-উপন্যাসের মত মানুষের জীবন হয়না

২৯ শে আগস্ট, ২০১৫ রাত ৯:১২

✎ গল্প-উপন্যাসের মত মানুষের জীবন হয়না। উপন্যাসের শেষ পৃষ্ঠাটা হয় সুন্দর সমাপ্তির, কিন্তু আমাদের বাস্তব জীবন বড়ই বিচিত্র। জীবনের গল্পের সহজে পরিসমাপ্তি হয়না।
আমার জীবনের গল্পটি পোস্ট করার পর ইনবক্সে অনেক পাঠক তাদের জীবনের গল্প পাঠিয়েছেন লেখার জন্য। সেখান থেকে একটি গল্প আপনাদের কাছে তুলে ধরলাম। গল্পটি লেখার সময় নিজের অজান্তেই চোখের জল ভিজে উঠেছে।
.
✎ গল্পের মেয়েটির নাম রিমা (ছদ্মনাম)। ওর বাবা বগুড়া মেডিকেলের আই স্পেশালিষ্ট। ওর মা একটা প্রাইভেট কলেজের Economics এর প্রফেসর। ওরা দুই বোন। রিমা ছোট। চঞ্চল,হাসিখুশি আর সবার আদরের মধ্যমণি। রিমা যখন ক্লাস সেভেনে পড়ে তখন ওর মা মারা যান। একমাত্র মা ই ছিল রিমার ভালো বন্ধু, প্রিয়জন। প্রিয়মানুষটিকে হারিয়ে রিমা বদলে যায়। হাসিখুশি চঞ্চল মেয়েটি একদম চুপচাপ হয়ে যায়। ওর বাবা ওদের দুইবোনের অযত্ন হবে ভেবে দ্বিতীয় বিয়ে করেননি। একটা সময় রিমার বাবা ওর ভালো বন্ধু হয়ে যায়।
.
✎ রিমা যখন ক্লাস নাইনে পড়ে তখন ওর বড় বোনের বিয়ে হয়ে যায়, ওর বড় বোন সোনালী ব্যাংকে জব করে। আর দুলাভাই DBBL এর ম্যানেজার। বাসার সবাই সারাদিন অফিস নিয়ে বেস্ত থাকতো। রিমা সারাদিন স্কুল-প্রাইভেট নিয়ে বিজি থাকতো। রিমা মেয়েটি দেখতে-শুনতে যেমন ভালো ছিল তেমনি ছাত্রী হিসিবে অনেক মেধাবী ছিল, এস.এস.সি ও এইচ.এস.সি তে গোল্ডেন পেয়ে পাস করে । ভালোভাবেই কেটে যাচ্ছিল রিমার দিন, ভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার রিমা এই নীলসাদার ভুবনে পা রাখে ।
ফেসবুকে সবুজ (ছদ্মনাম) নামের একটা ছেলের সাথে পরিচয় হয় । সে সৌদিআরবের একটা ভার্সিটির কম্পিউটার সাইন্সের লেকচারার । সবুজ ওকে রিকুয়েস্ট পাঠায়, প্রোফাইল দেখে ভালো লাগায় রিমা একসেপ্ট করে। প্রথমে হাই-হ্যালো তারপর একটা সময় ওদের মাঝে ফোন নাম্বার আদান-প্রদান হয়। তারপর ফোনে কথা বলার ১ সপ্তাহ পরে সবুজ রিমাকে প্রপোজ করে। তখনো সবুজ রিমাকে দেখেনি, জাস্ট কথা বলেই নাকি সে রিমাকে ভালবেসেফেলেছে । সবুজ বলেছিল সে হাজী, আর ৫ ওয়াক্ত নামাজ পরে ।
এসব শুনেই রিমা তার ভালোবাসা একসেপ্ট করে ফেলে । এরপর ভালোবাসার এক নতুন পথচলা শুরু হয় । প্রতিদিন ফোনে কথা, স্কাইপে ভিডিও চ্যাট চলতে লাগলো । একসময় রিমা তার বাবাকে সবুজের কথা বলে, মা হারানো মেয়েটির আবদার বাবা কখনো ফেলতেন না, ভিডিও কনফারেন্সে সবুজের সাথে রিমার বাবার কথা হয় ।
এর মাঝে রোজার ঈদ চলে আসে, সবুজ দেশে আসলে রিমা ওকে একটা পাঞ্জাবী আর ঘড়ি গিফট করে । ঈদের পর ছেলেটা সৌদি চলে যায় । কিন্তু এর ভেতর ওদের কখনো সামনাসামনি দেখা হয়নি ।
.
✎ এদিকে রিমার বাবার বড় রকমের অসুখ ধরা পড়ে । বাবাকে নিয়ে রিমা অনেক টেনশনে থাকে, সেপ্টেম্বরে ওর বাবা পিকেটারদের দেয়া আগুনে পুড়ে মারা যান । হঠাৎ এই ঘটনা রিমাকে নির্বাক করে দেয়, মায়ের পর বাবাই ছিল ওর আরেকটা পৃথিবী। সেই বাবাকে হারিয়ে রিমা ভীষণ একা হয়ে পড়ে ।
কুরবানির ঈদে সবুজ আবার দেশে আসে । ঈদের কিছুদিন পর একটা অচেনা নাম্বার থেকে রিমার নাম্বারে কল আসে,
.
-আপনি কি রিমা বলছেন?
-জি বলছি, আপনি কে?
-আমি সবুজের স্ত্রী। আমাদের দুইটা সন্তান ও আছে।
-আচ্ছা আপনি সবুজের সাথে আমাকে কথা বলিয়ে দিতে পারবেন?
-ও আমার পাশেই আছে, নিন কথা বলুন।
.
✎ ফোনে সবুজের কণ্ঠ শুনে রিমার মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ে। সে মুহূর্তে নির্বাক হয়ে যায়। ওর ভিতর থেকে কান্না চেপে আসছিল, সে কলটা কেটে দেয়।
তারপর ছেলেটা ওর নাম্বার থেকে রিমাকে আবার কল করে,
.
-রিমা, আমি তোমাকেই ভালোবাসি, আমার স্ত্রী ভালো না। আমাদের বিয়েটা পারিবারিক সূত্রে হয়েছে, আমি তোমাকেই বিয়ে করবো।
.
✎ এদিকে পরদিন সবুজের স্ত্রী আবার রিমাকে কল করে অনেক কান্না-কাটি করে। ওদের সাজানো সংসারটা নষ্ট না করার জন্য রিমার কাছে ভিক্ষা চায়। একদিকে সবুজের দেখানো স্বপ্ন, অন্যদিকে তার স্ত্রীর আর্তনাদ, শেষে রিমা তার ফোন সুইচ অফ করে রাখে। তারপর ফেসবুকে-ফোনে সবুজ অনেক মেসেজ পাঠায় । রিমা সবুজকে ফোন করে বলে সে এই ব্যাপারটা ভেবে দেখবে তারপর আবার ফোন অফ করে রাখে।
.
✎ সবুজ যেদিন দেশের বাহিরে চলে যায় সেদিন রিমা তার কাজিনকে দিয়ে সবুজের শালার সাথে কথা বলায়। সে জানায় সেও মেরীড, ওর কাজিনকে নিজের হাজব্যান্ড বলে পরিচয় দেয় । রিমা চায়না তার জন্য সবুজের স্ত্রীর সাজানো সংসার হোক । তাই সে এই মিথ্যার আশ্রয় নেয়।
সৌদিতে যাওয়ার পর সবুজ রিমার সাথে যোগাযোগ করে বলে,
--
-রিমা আমি সম্পর্কটা নষ্ট করতে চাইনা।
-দেখো, আমি নিজেও মেরীড
-আমি বিশ্বাস করিনা।
--
✎ তারপর রিমার অনেক বুঝিয়ে বলার সবুজ বিশ্বাস করে যে রিমা আসলেই মেরীড । আর এদিকে প্রথমে মা, তারপর বাবা, তারপর একমাত্র ভালোবাসার মানুষটির দেয়া কষ্টে রিমা অনেক ভেঙ্গে পড়ে । বাবাকে হারিয়ে নতুন করে একটু একটু সুখের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল রিমা, কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস কাছে সব ভেঙ্গে গেল । রিমা অসুস্থ হয়ে পড়ে । ডাক্তার ওকে পরিবেশ বদলাতে বলে । তখন রিমার বন্ধুরা সবাই মিলে চট্টগ্রামে বেড়াতে যায় । কিন্তু কিছুতেই রিমার অবস্থার উন্নতি হচ্ছিল না । ওর এই খারাপ অবস্থা দেখে পরিবারের সবাই সবুজের সাথে বিয়ে দিতে চাচ্ছিল, কিন্তু বাসার সবাই আসল ঘটনা জানতো না । রিমা একমাত্র ওর কাজিনকে সবুজের ব্যাপারটা জানায় । ওর ফ্যামিলি অনেক পাওয়ারফুল, সবাই জানতে পারলে যদি সবুজের কোন ক্ষতি হয়, এই ভেবে নিজের কষ্টকে নিজের ভিতরেই পুষে রাখে । বাসা থেকে বিয়ের কথা বললে রিমা বলতো, “সবুজের বাবা-মা আমাকে পছন্দ করে না, আর সবুজ তার বাবা-মার অবাধ্য হবে না” এভাবে মিথ্যে বলে রিমা সবাইকে থামিয়ে রাখতো । পাত্রপক্ষ দেখতে এলেও রিমার এক জবাব, সে বিয়ে করবে না।
তারপর রিমা অনেক চেষ্টা করে সবুজকে ভুলে যাওয়ার । সবুজের স্মৃতি থেকে দূরে থাকার জন্য একটা সময় সে নেশা করতে শুরু করে । এভাবে কেটে গেলো আরও ৬টি মাস । রিমা অনেক অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় । বন্ধুরা সবাই ওকে দেখতে যায় । ফাবিহা ওকে জিজ্ঞেস করে,
.
-কিরে, খারাপ একটা ছেলের জন্য নিজেকে এভাবে কেন শেষ করে দিচ্ছিস? এতই যখন ভালবাসিস তাহলে পালিয়ে গেলি না কেন?
-ওর যদি স্ত্রী না থাকতো তাহলেও দুইটা বাচ্চা সহ আমি ওকেই বিয়ে করতাম । শুধুমাত্র ওর স্ত্রীর কথা ভেবে সরে গিয়েছি, আমিও তো একটা মেয়ে, আরেকটার মেয়ের ক্ষতি কি করে করি? বল... যদি আমার স্বামী এমন কাজ করতো, তাহলে আমি কি করতাম তখন? শুধু এইগুলো ভেবেই আজো ওকে সত্যি কথাটি বলিনি, আজো সবুজ জানেনা যে আমি অবিবাহিত ।
.
✎ রিমার রিপোর্ট দেখে ডাক্তার যা বললেন,
না খাওয়ার ফলে রিমার খাদ্যনালী সরু হয়ে গেছে, আর অতিরিক্ত সিগারেট খাওয়ার ফলে লিভার একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে । ডাক্তার বলেছেন, রিমা বেশীদিন বাঁচবে না ।
রিমা বর্তমানে ঢাকা সোহরাওয়ার্দি হাসাপাতালে ভর্তি আছে । যে কোন মুহূর্তে একটা খারাপ খবর আসতে পারে, কখন কি হবে কেউ জানেনা, তবে আজো সবুজ নামের সেই ছেলেটি জানেনা সে কিভাবে একটি মেয়ের জীবন নষ্ট করে দিল ।
.
✔পরিশেষঃ লেখকের কথা....
রিমা নামের মেয়েটি জন্মের পর থেকে শুধু আপনজনদের হারিয়েই গেলো । প্রথমে মা, তারপর বাবা, তারপর একমাত্র ভালোবাসার মানুষ, যাকে সে অনেক অনেক বেশী ভালবেসেছিল তাকে হারালো । রিমার এই পরিণতির জন্য কাকে দোষী বলবো?
১. ভাগ্যেকে । যে তার সব কেড়ে নিলো?
২. সেই ছেলেটিকে । যে তাকে ধোঁকা দিল?
৩. নাকি পরিবেশ কে । যে তাকে সঠিক সময়ে সাপোর্ট করতে পারেনি?
▬▬▬ ▬▬▬ ▬▬▬ ▬▬▬ ▬▬▬ ▬▬▬
প্লিজ প্লিজ প্লিজ বন্ধুরা, কখনো ভালোবাসার মানুষটিকে ধোঁকা দিওনা, তার পবিত্র ভালোবাসার সুযোগ নিয়ে তার ক্ষতি করিও না । সময়ের স্রোতে আজ সবুজ নামের ছেলেটি রিমাকে ভুলে গেছে ঠিকই । কিন্তু রিমা ভুলতে পারেনি, উল্টো এই পৃথিবী তাকে ভুলে যাচ্ছে ধীরে ধীরে । রিমার মত অনেকেই আছেন যারা চান প্রিয় মানুষটির সাথে সুখে থাকতে, কিন্তু ভাগ্য তাদের নিরাশ করে । তবে একটা কথায় বলবো ভাগ্যের কাছে হেরে যাবেন না, জীবনের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন পথ চলা শুরু করবেন । আর কারো পরিণতি যেন রিমার মত না হয় ।
আর সবাই প্লিজ রিমার জন্য দোয়া করবেন সে যেন সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে ।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.