| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ব্লগার! ব্লগার! ব্লগার!
প্রথম যখন শব্দটা শুনি তখন বোধহয় ক্লাস এইট বা নাইনে পড়ি। এরপর বাংলাদেশে এই ব্লগার শব্দটা প্রচুর জল ঘোলা করেছে। থেকেছে আলোচনায়-সমালোচনায়। প্রথমে আমি জানতাম, ব্লগে মানুষ লেখালেখি করে। শিল্প, সাহিত্যের বিভিন্ন দিকের চর্চা করে। পরে ২০১২-১৩'র দিকে জেনেছি ব্লগে নাস্তিকতা প্রচার হয়। এরা ধর্ম নিয়ে কটুক্তি করে। ধর্মীয় অনুভুতির ক্ষেত্রে যেহেতু আমি আরো আগে থেকেই অসাড়, তাই ব্লগ-বিদ্বেষ আমার কাছে পাত্তা পায়নি। ব্লগ দেখতে কেমন, খাওয়া যায় কিনা, গন্ধ আছে কি না, গায়ে মাখলে আরাম লাগবে কি না, এইসব কৌতুহল থেকে ব্লগে ঢুকি ঢুকি করি তখন থেকেই। কিন্তু আইলসামি আর হাবিজাবি কাজ এর কারণে ব্লগ জিনিসটা চেখে দেখি দেখি করেও চাখা হয় নাই এতোদিন। এরপর দুমদাম যখন ব্লগার মারা শুরু হইলো, তখন কিছুদিন ফেসবুকে ঢুকতেও ভয় লাগতো। ব্লগ চেখে দেখা তো দূরের কথা। ব্লগ মানেই মৃত্যুকূপ মনে হইতো। ঢুকলেই ডাইরেক্ট জবাই। কি দরকার সাধের জীবন অকালে হারানোর!
জীবনের থেকে কোন মতাদর্শকে আমি বড় করে দেখি না। আমি মরে যাওয়ার পর কে আমার জন্যে কি করলো তা দিয়ে আমার কি! আমি বাঁচতে চাই। জীবনের সব রস নিংড়ে, দুনিয়াডারে ছিবড়া করে, সেই ছিবড়ার মধ্যে ভবিষ্যত প্রজন্ম মহান কোন আর্টপিস খুঁজে পাবে সেই আশায় চোখ বুজতে চাই। আমার ভবিষ্যত প্রজন্ম না থাকলে বা আমার ফেলে যাওয়া বর্জ্য আর্টের মর্যাদা না পাইলেও আমার আফসোস নাই। আশা করার সময় যে লোক সেই আশা সত্যি হবে বইলা মনে করে, সে নিজেরে বাস্তববাদী, চালাক, জ্ঞানী যা ভাবার ভাবতে থাকুক, আমি তারে ভাববো বোকার হদ্দ। আশা হবে আকাশ-কুসুম। তবেই না আশা। আমার এক স্যার আমারে কইছিলেন, স্বপ্নে যখন খাবা, তখন ব্যালচা দিয়া খাবা, চামচের মত ছোটমোট জিনিসে খাবা কি জন্যে?
আমি খালি কথার খেই হারায়া ফালাই। এই যে দেখেন, কইতে বসছি কি? আর কইতেছি কি! মাফ করবেন, আজাইরা দর্শন ছাড়লাম।
প্রায় ৫-৬ বছর ধরে ব্লগের ব্যাপারে কৌতুহল আমার। কত জল্পনা, কত কল্পনা, সব কিছু অবসান ঘটিয়ে আজ আমি ব্লগে ঢুকলাম। আমার ব্লগের বয়স শেষ যখন দেখেছি, তখন ১৩ মিনিট মতো। ব্লগে ঢুকে এখন আমার মনে হচ্ছে, আমার চারিদিকে ঢোল তবলা বাজতেছে। সব মানুষ আমার নাম ধরে চিল্লাইতেছে, আর্তনাদ করতেছে। আমার চেহারা দেখার জন্য, আমারে একবার ছুঁয়ে দেখার জন্যে, আমার মুখের কথা শোনার জন্যে চারিদিকে হৈ চৈ পইড়া গেছে। ব্লগে আইডি খুলে আমার নিজেরে সেলিব্রেটি মনে হচ্ছে।
আপনার কি মনে হচ্ছে আমি মজা নিতেছি? আমি মোটেই মজা নিতেছি না। আর আপনাদের আমার কথা কেন কৌতুক মনে হবে সেটাই বুঝতে পারছি না। ব্লগের রক্তাক্ত, গৌরবময় সাহসিকতার ইতিহাস কি আপনাদেরকে রোমান্টিক নস্টালজিয়ার অনুভূতি দেয় না? আমারে তো দেয়। এবং আমার ধারণা প্রত্যেক বাংলাদেশি মানুষ ই এই অতীত নস্টালজিয়ার উপরে বেঁচে আছে। শুধু বাংলাদেশি মানুষ বলা ভুল, সব মানুষ ই এইডা অনুভব করে। আপনার কি কখনো মুক্তিযুদ্ধের বই পইড়া, জাদুঘরের হাবিজাবি জিনিস দেইখা গর্ব হয় নাই? আচ্ছা জাদুঘর বাদ দেন। পিরামিড দেখলে অবাক লাগে না? এখন ভাবেন, কোন মতে যদি ওই পিরামিডের সাথে আপনার একটা সম্পর্ক তৈরি করে দেওয়া যায়, ধরেন এই মুহুর্তে প্রমাণ হইলো আপনি ফারাও বংশের মানুষ, আপনার প্র প্র প্র নানার কবর হইতেছে পিরামিড, আপনি তাইলে রাতারাতি সেলিব্রেটি হবেন কি না? তখন কি গর্বে আপনার বুক ফুইলা উঠবে না?
এখন দেখেন, পিরামিড এ আপনার বিন্দুমাত্র শ্রম ব্যয় হয় নাই, কিন্তু আপনি সেলিব্রেটি হয়ে গেলেন। ঠিক তেমনি ব্লগ জিনিসটাতে আমার অবদান শুণ্যের কোঠায় থাকলেও, আমি আজকে এখন থেকে ব্লগার। কাজেই রাতারাতি সেলিব্রেটি হওয়ার অনুভূতি আমার হইতেই পারে। নিজেরে রাজা বাদশা আমি ভাবতেই পারি। এ নিয়ে রাজনীতির কিছু নাই।
এখন থাকেন, আমার রাজত্বডা একটু ঘুইরা টুইরা দেখি গিয়া। পথ-ঘাট কিচ্ছু চিনি না। হারায়া গেলে যামু, তা নিয়ে চিন্তার কিছু নাই।
ধন্যবাদ।
১৫ ই নভেম্বর, ২০১৮ রাত ১২:১৭
অর্বাচীন সবুজ বলেছেন: আহা! সেলিব্রেটি সেলিব্রেটি ফিল আরো বাইড়া গেলো ভাই! ধন্যবাদ আপনারে। কিন্তু সেফ হবো মানে কি? এখন কি তাইলে আমি ডেঞ্জারে আছি? মানে জবাই-টবাই জাতীয় কিছু? নাকি এইডা ব্লগের কোন টার্ম?
২|
১৫ ই নভেম্বর, ২০১৮ রাত ১২:২২
কাওসার চৌধুরী বলেছেন:
'সেফ' মানে প্রথম পাতায় লেখার অনুমতি। আপনার লেখা এখন প্রথম পাতায় যাবে না। ব্লগ কর্তৃপক্ষের অনুমতি পেলে সেফ হবেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে এই পোস্ট পড়তে পারেন।
১৫ ই নভেম্বর, ২০১৮ রাত ১২:২৭
অর্বাচীন সবুজ বলেছেন: আপনাকে দুইটা ধন্যবাদ।
©somewhere in net ltd.
১|
১৫ ই নভেম্বর, ২০১৮ রাত ১২:০৫
কাওসার চৌধুরী বলেছেন:
চমৎকার একটি লেখা দিয়ে ব্লগিং শুরু করেছেন। এজন্য ধন্যবাদ আপনাকে। লিখুন মন খুলে, আর কমেন্ট করুন যুক্তি দিয়ে। আশা করি, অল্পদিনেই সেফ হবেন। শুভ কামনা রইলো।
হ্যাপি ব্লগিং...........
।।