নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সাফওয়ান আহমেদ তরফদার

ইসলামিক ব্লগার। ফেসবুক আইডি- https://www.facebook.com/safwanahmed.enantarafder

সাফওয়ান আহমেদ তরফদার › বিস্তারিত পোস্টঃ

হযরত উমার বিন খাত্তাব (রাযি) কে নিয়ে প্রচলিত দুটি ভ্রান্ত কাহিনি

১৭ ই জুন, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:১৮

হযরত উমার বিন খাত্তাব (রাযি) কে নিয়ে আমাদের সমাজে দুটি প্রায় ভ্রান্ত কাহিনি চালু আছে। কাজি নজরুল ইসলামের লিখা “উমর ফারুক” কবিতায় সম্ভবত এই দুটি কাহিনি আমরা দেখতে পাই।



=উমার(রাযি) এর ইসলাম গ্রহনের দিন থেকে কাবাঘরে আজান শুরু=

সমাজে চালু আছে, উমারের(রাযি) ইসলাম গ্রহনের দিন থেকে কাবা ঘরে আজান দেয়া শুরু হয়। কিন্তু এটি সম্পূর্ণ ভুল তথ্য। উমার(রাযি) হিজরতের ৫ বছর আগে ইসলাম গ্রহন করেন। আর আজানের প্রচলন হয় হিজরতের পর মদিনায়। অর্থাৎ বলা যায়, উমারের(রাযি) ইসলাম গ্রহনের ৬ বছর পর আজানের বিধান চালু হয়। তাই উক্ত দাবি ভিত্তিহিন।

তবে, আগে মুসলিমরা কাবাঘরের পাশে সালাত আদায় করতে পারতেন না। তিনি(রাযি) ইসলাম গ্রহন করার পর থেকে কাফিরদের বাধা প্রতিরোধ করে নিজে কাবার পাশে সালাত আদায় করেন। উনার দেখাদেখি অন্যান্য মুসলিমরাও সেখানে সালাত আদায় করা শুরু করেন। ( ইবনু হিশাম, আস সিরাহ আন নাবিয়াহ ১/৩৬৯)



=তিনি নিজ হাতে পুত্রকে দোররা মারার ফলে তাঁর ছেলে মারা যায়=

বিভিন্ন কিতাবে পাওয়া যায়, উমারের ছেলে আব্দুর রাহমান আবু শাহমা ব্যভিচার/ মদ্যপান করেছিল এবং তাঁর ফলে তিনি নিজ হাতে ছেলেকে ৮০ টি বেত্রাঘাত করেন এবং শাহমা মারা যায়। কিন্তু ইতিহাসে এই ঘটনার দলিল সুস্পষ্ট না। বরং ইতিহাসের ঘটনা নিম্নরূপ-

আবু শাহমা মিশরের সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। তিনি বিশেষ উপায়ে তৈরি খেজুরের রস খেয়ে মাতাল হয়ে পরেন। তিনি মিশরের প্রশাসক আমর ইবনুল আস(রা) এর কাছে আসেন এবং স্বীয় কৃতকর্মের জন্য শাস্তি চান। প্রসাসক তাকে নিজ গৃহে বেত্রাঘাত করেন। এ ঘটনা শুনার পর উমার আমরকে তিরস্কার করেন এই মর্মে যে, সাধারন মানুষকে জনসম্মুখে বেত্রাঘাত করা হলেও আবু শাহমাকে কেন সবার সামনে দোররা মারা হয়নি। এর পর আবু শাহমা মদিনা ফিরে আসেন। উমার পুনরায় আবু শাহমাকে নিজ হাতে শাস্তি প্রদান করেন। এর কিছু দিন পর আবু শাহমা মারা যান। অর্থাৎ ইতিহাস থেকে এটা স্পষ্ট নয় যে, আবু শাহমা ঠিক কি কারনে মারা যান। হতে পারে বেত্রাঘাতের ফলে, হতে পারে অন্য কোন কারনে। ( ইবনুল জাওজি, আল মাউদিয়াত ২/৪৩৮-৪৪৩; ইবনু হাজার, আল ইসাবা ৪/৩৩৯, ৫/৪৪; সুয়তি, আল লাআলি ২/১৯৪-১৯৮; ইবনু ইরাক, তানজিহ ২/২২০)



বি. দ্র. দ্বিতীয় কাহিনি হতে আমরা অনেক কিছু শিখতে পারি। আশা করি কি শিখতে পারি তা বলতে হবে না। আপনারা “বিষাদ সিন্ধু” নামক উপন্যাসটি পরবেন না। এটা কোন ইসলামিক বই না, বরং লেখকের মনগড়া রুপকথার কাহিনি যার ৯৫%ই মিথ্যা।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.