| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সাদা শার্টে নিজেকে নিজের কাছেই সুন্দর মনে হয়। দাদী বলেছেন, গায়ের রঙ ফর্সা হলেই সব ঠিক হয়ে যায় না। আর এই কারনেই মনে হয় দাদী আম্মুকে বিয়ে করে আনিয়েছিলেন আব্বুর সাথে। অফিসে যেতে হবে। মধ্যপথে কোথাও থেকে যেন কোন প্রকার ময়লা না লাগে্ সেই দিকে পূর্ন নজর দিয়ে গাড়ীতে চড়তে হবে। বাসা থেকে বের হতে মিনিট ছয়েক দেরি হয়ে গেছে। ময়লা নেয়ার জন্য যে ছেলেটা আসে আজ সে আসেনি, অন্য একটা অল্প বয়সের ছেলে এসেছে। বয়স একদম কম। বড়জোড় আট হবে। কিন্তু দেখেই মনে হচ্ছে নিজেকে অনেক শক্তিশালী প্রমান করার পর হয়তো ওর চাকরীটা হয়েছে। নিজের শরীরের চেয়ে বড় ব্যাগ বা বস্তা তুলে সে হাটতে পারে বলেই তার নিজের ধারনা। কি নাম হবে তা ভাববার চেষ্ঠা করল আরিফ। মাত্র চার পা নামতে পেরেছে আরিফ। আর একই সিড়িতে নিচ থেকে সেই বিশাল শক্তিবান ছেলেটা উপরে আসতেছে। আর পিঠে নিয়েছে সেই রকম গন্ধযুক্ত বস্তা। নিজের শক্তি কতটুকু আছে বা খরচ হচ্ছে তা হয়তো ওই ছেলে জানেনা। আর জানলেও কিচ্ছু করার নাই। গতকাল অন্য এক ছেলে এসেছিলো। আজ এ। বোজাই যাচ্ছে খুব দ্রুত এদের চাকরী হচ্ছে এবঙ যাচ্ছে। উঠতে পারছে না ছেলেটা্। কিন্তু ওর মধ্যে প্রচন্ড চেষ্ঠা। চার পা পেছালো আরিফ। আরিফের দিকে তাকিয়ে ভয় পাচ্ছে। কিন্তু আরিফের চেহারা এরকম নয় যে কেই তাকে দেখলে ভয় পাবে। ওর ভয় দেখে আরিফের মনে হলো ওকে একটা জোড়ে ধমক দিলেই হাউ মাউ করে কান্না করবে। একবার দিবে কিনা চিন্তা করলো। আবার দিলোও না। ছেলেটা আরিফদের ফ্ল্যা্টের সামনে আসতেই আরিফ সুযোগ নিলো। তর তর করে নিচের দিকে নামতে শুরু করেছিলো আরিফ। মাথায় কোন চিন্তাও নাই। কয়েক সিড়ি নামতেই নিচতলার ফ্ল্যাটের চাচা। দরজার সামনে বসে বসে নিজের জুতা নিজে কালি করছেন। প্রতিদিন এই দৃশ্য দেখা যায়না। যেদিন কালি করার দরকার সেদিন করেন। টিভিতে একটা বিজ্গাপন দেখায়। কালি করতে গিয়ে সারা জামা কালিতে ভরে যায়। আসলে বাচ্চারা কালি করলে এমন হতে পারে। এই চাচা তো আর বাচ্চা না। আবার উনি কালি করেন শুধু লূংগি পরে। উপরে কোন জামা না পরে কালি করতে উনার মনে হয় অনেক মজা পান। আর না হলে ঔ বিঞ্গাপনের প্রভাব উনার উপর অনেক বেশিভাবে পরেছে। নামতে নামতে চোখে চোখ পরলো আরিফের। আসসালামু আলাইকুম বললে আনেক খুশি মনে জবাব নেন তিনি। মনে হয় যেন এই সালামের জবাব দিয়ে উনি ১০ টি নেকি যে কামাই করেছেন তাতেই উনি অনেক খুশি। কিন্তু ৯০ নেকির জন্যই সালাম দিয়েছে আরিফ। এটা সে বরাবরই করে। নিজে ৯০ নেকি নিতে পারলে কেন শুধু শুধু অন্যকে দিবে। আর সালাম দিলে মানুষ ভালো বলে। তবে সেসব নিয়ে চিন্তা করে না সে। চাচা তার জুতা জোড়া বেশ চকচকে করে। আজকেও তাই করেছেন। একটা জুতা বেশ চকচক করে রেখেছেন। আরেকটা ঘসামাঝা চলছে। আরিফ পারেনা। তবে পারলেও করতো কিনা সেইটাই চিন্তা করতে গিয়ে একটা ডাক শুনতে পায় আরিফ – “কিরে এত্তোক্ষন লাগে কেরে” নিচ থেকে কেউ চিতকার করছে। আর কে হবে। এই পিচ্চির বস্। সে আর কি করতে পারবে। হয়তো ইচ্ছা করেই সে নিজের চেয়ে কম বয়সের পিচ্চিদের কে সে তার সাথে কাজে নেয়, যাতে করে সে অলওয়েজ বস সাজতে পারে। চিল্লাইতে পারে।
©somewhere in net ltd.