| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
একজন ব্যাটসম্যান উইলোর শিল্পিত ডান্ডা হাতে পপিং ক্রিজে দাঁড়িয়ে বলকে শাসন করেন। অবাধ্য আর উইকেটঘাতী বলগুলোকে এক থেকে ছয় রানের শাসন-দন্ড দেন। হালে সর্বোচ্চ ১২ রানের দন্ড দেয়ার অধিকার পেয়েছেন পাওয়ার ক্রিকেটের কল্যাণে।
ইংরেজি পপ থেকে পপিং এবং পপিং হোল থেকে পপিং ক্রিজ টার্মটি উদ্ভূত হয়েছে বলে ক্রিকেট পন্ডিতরা দাবি করেন। পপ শব্দটি বড়ই ব্যয়ব্যঞ্জন, বহুমুখী তার অর্থ। আবার পপ থেকে পপ মিউজিক, পপ সিংগার, পপ গ্রুপ, পপ কনসার্ট (গণসঙ্গীতের অনুষ্ঠান), পপ ফেস্টিভ্যাল (গণসঙ্গীত উৎসব), পপ-আইড (ফোলা চোখ), পপ কর্ন (ভুট্টার খই) ইত্যাদি উদ্ভূত হয়েছে।
তবে ক্রিকেটীয় পপ মানে ঢোকানো। কেউ কেউ পপ শব্দটির অর্থ আঘাত করা বানিয়ে পপিং ক্রিজকে স্ট্রাইকিং ক্রিজ আখ্যা দেয়ারও হাস্যকর প্রয়াস পেয়েছেন। অবশ্য ব্যাটিং ক্রিজ টার্মটি মাঝে মাঝে ব্যবহৃত হয় পপিং ক্রিজের সমার্থক হিসাবে।
ক্রিকেটের শিশুকালে উইকেটের সামনে একটা লাইন টানা হতো। লাইনের মাঝখানে অনায়াসে ক্রিকেট বল প্রবেশের উপযোগী একটা গর্ত থাকতো। ব্যাটসম্যান গর্তের ওপরে ব্যাট রাখতেন। আর ব্যাটসম্যান এক রানের জন্য ভৌ দৌড় মেরে নন-স্ট্রাইকিং পজিশনের গর্তের ওপর ব্যাট রাখতেন। ফিল্ডার যদি ব্যাটসম্যানের আগেই গর্তে বল ঢোকাতে পারতেন তাহলে ব্যাটসম্যান আউট ঘোষিত হতেন। কিন্তু এ ব্যবস্থাপনা উইকেটকিপারসহ ফিল্ডারদের জন্য সুখকর ছিল না। গর্তে বল ঢোকাতে গিয়ে তারা প্রায়ই ব্যাটের আঘাত পেতেন, তাই পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভূত হয়।
প্রাপ্ত তথ্য মতে, সতেরশ শতকের শেষ দিকে অথবা আঠারশ শতকের প্রথম ভাগে পপিং ক্রিজ টার্মটি ক্রিকেটে সংযোজিত হয়। ১৭৪৪ সালে প্রণীত ক্রিকেট আইনে পপিং ক্রিজের প্রস্থ তিন ফুট ১০ ইঞ্চি দেখানো হয়েছে। ১৮১৯ সালে উইকেটের উচ্চতা ২ ইঞ্চি বেড়ে ২৬ ইঞ্চিতে উন্নীত হয়। সঙ্গে সঙ্গে পপিং ক্রিজের প্রস্থও দুই ইঞ্চি বেড়ে চার ফুটে উন্নীত হয়।
উইকেটের সামনে এখন আর গর্ত নেই। ব্যাটসম্যানও ব্যাট দিয়ে গর্ত স্পর্শ করেন না, ফিল্ডাররাও গর্তে বল ঢোকান না। কিন্তু ক্রিকেট তার ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য আজো পপিং ক্রিজ টার্মটিকে আঁকড়ে ধরে আছে মূল্যবান ঐশ্বর্য্যরে মতো।
শেষ কথা : পপিং ক্রিজ ক্রিকেটের বর্ণিল ঐতিহ্য। রান-আউট অথবা স্ট্যাম্পিং দন্ড প্রয়োগের সঙ্গে পপিং ক্রিজের সম্পর্কের জাগতিকতা টুকু ক্রিকেটবোদ্ধাদের অজানা নয়। পাওয়ার ক্রিকেটও পপিং ক্রিজের গুরুত্বকে খাটো করার সাহস দেখাতে পারেনি। সম্ভবত দেখানোটা জরুরিও নয়।
২|
১৫ ই জুলাই, ২০০৭ বিকাল ৩:১৬
সাইমুম বলেছেন: আপন : সোর্স এতো বেশি যে কোনটা বাদ দিয়ে কোনটা দেব, তা ঠিক করতে পারিনি। তাই আপাতত বাদ রেখেছি। এটা তো বুঝতে পেরেছেন, এক সোর্সে ম্যাটার এভাবে পাওয়া যায় না।
যাই হোক, আপনাদের পক্ষ থেকে পরামর্শ পেলে পরে তথ্যঋণ স্বীকার করে নিয়ে লিখবো : ১০০. সামহয়্যারইনব্লগ
©somewhere in net ltd.
১|
১৫ ই জুলাই, ২০০৭ দুপুর ২:৫৮
আপন তারিক বলেছেন: সোর্স দিলে মনে হয় লেখাটা আরো মজবুত হতো!