| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
শত ব্যস্ততার মাঝেও অনেকে আট গ্লাস পানি পানের অভ্যাস ধরে রাখেন। মানুষের মাঝে এ ধারণা পোক্ত হয়ে গেছে দৈনিক আট গ্লাস পানি পান করলে তা দেহ থেকে টক্সিন (বিষ) তাড়ায়, চামড়ার আর্দ্রতা রক্ষা করে, হজম শক্তি বাড়ায়। এক কথায়, স্বাস্থ্যের প্রভূত উপকার করে।
মানুষের এ ধারণাটি প্রায় দুশ' বছরের পুরনো। মজার ব্যাপার হল, দৈনিক আট গ্লাস পানি পানের তত্ত্বটির কথা অনেক ডাক্তারও প্রেসক্রাইব করেন। তাদের বলয়ে এটা ৮X ৮ থিউরি নামে পরিচিত। এটার ব্যাখ্যা হল, সুস্থ থাকতে হলে একজন মানুষকে দৈনিক(৮X ৮) বা ৬৪ আউন্স পানি পান করতে হবে।
বিজ্ঞান কিন্তু মাঝে মাঝে দাবি করেছে, ৮X ৮ থিউরির বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। সর্বশেষ গত বছরের ৪ এপ্রিল জার্নাল অব দ্য আমেরিকান সোসাইটি নেফ্রোলজি জোর দিয়ে বলেছে, দৈনিক আট গ্লাস পানি পানের উপকারিতা খুঁজে পাওয়া যায়নি। বাড়তি পানি অপচয় ছাড়া আর কিছু নয়। দৈনিক আট গ্লাস পানি পানের স্বাস্থ্যগত উপকারিতা নিয়ে যেসব কথা চালু রয়েছে, ওগুলোর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। ৮X ৮ থিউরি একটি সায়েন্টিফিক মিথ ছাড়া কিছু নয়।
বিজ্ঞানী ড্যান নিগুয়ানো ও স্ট্যানলি গোল্ডফার্ব লিখেছেন, 'জাস্ট অ্যা ওয়াটার' বা বেশি করে পানি খাও স্লোগানটি স্বাস্থ্য সচেতন যে কোন মানুষকে পানি খেতে টানে। কিন্তু বাড়তি পানি কীভাবে কিডনির ফাংশনসহ অন্যান্য প্যাথলজিক্যাল ভ্যারিয়েবলসে ভূমিকা রাখে, তার বুদ্ধিগ্রাহ্য কোন প্রমাণ নেই। দৈনিক আট গ্লাস পানি পান করলেই তা দেহ থেকে ঘামের আকারে টক্সিন বের করে দেয় --এ ধারণার প্রমাণ কেউ দিতে পারবেন কি? ঊষ্ণ ও শুষ্ক পরিবেশে দেহে পানির চাহিদা বাড়ে। যারা প্রচণ্ড কায়িক পরিশ্রম করেন, তাদের দেহেও পানির বাড়তি চাহিদা থাকবে। কয়েকটি রোগের ক্ষেত্রেও এ চাহিদা বাস্তব।
কিন্তু একজন সুস্থ মানুষকে কেন বাড়তি পানি পান করতে হবে। তারা বলেছেন, কিডনি দেহ থেকে নানা পন্থায় টক্সিন তাড়ায়। এগুলির মধ্যে গ্লুমেরুলার ফিলট্রেশন, টিউবুলার সিক্রেশনসহ নানা ধরনের বিপাকীয় প্রক্রিয়া অন্যতম। পানিকে যদি দেহ থেকে বিষ তাড়াতেই হয় তাহলে বাড়তি পানিকে অবশ্যই কিডনির এ জটিল নিঃসরণ প্রক্রিয়া বা মেকানিজমের মাধ্যমেই অগ্রসর হতে হবে। অথচ বাড়তি পানি কিডনির জিএফআর-কে (গ্লুমেরুলার ফিলট্রেশন রেট) প্রভাবিত করে। সোজা কথায়, বাড়তি পানি কিডনির জিএফআরকে কমিয়ে দেয়।
১৭৯৬ সালে ৮X ৮ থিউরি চালু হয়। ড.ক্রিস্টোফ উইলহেম হাফল্যান্ড তার 'ম্যাক্রোবায়োটিক' গ্রন্থে এ তত্ত্ব দেন। বইটির ভূমিকায় বলা হয়েছে, প্রুশিয়ার রাজার একজন জেনারেল দৈনিক ৭ থেকে ৮ গ্লাস পানি খেতেন। এ কারণে তিনি ৮০ বছর বয়সেও একজন যুবকের চেয়েও প্রাণবন্ত ছিলেন। বইটি ১৮৪৩ সালে ইংরেজিতে অনূদিত হয়। উনবিংশ শতকে হাইড্রোথেরাপির প্রচলন বেড়ে যাওয়ায় ইউরোপ জুড়ে দৈনিক ৮ গ্লাস পানি পানের হুজুক সৃষ্টি হয়। হুজুকটা পরে পুরো পৃথিবী অধিকার করে নেয়। মজার ব্যাপার হল, কোনো বিজ্ঞানী এ তত্ত্বটি চালু করেছেন বলে প্রমাণ নেই।
[বি.দ্র. বিষয়টি নিয়ে আমি দৈনিক আমার দেশ-এ লিখেছিলাম দেশের একজন খ্যাতিমান কিডনি স্পেশালিস্ট এর বক্তব্য সহকারে। ইন্টারনেটে এটা নিয়ে বিস্তর রেফারেন্স পাওয়া যায়। মাত্র একটা ওয়েবলিঙ্ক দিলাম
Click This Link
২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ সকাল ১১:৩০
সাইমুম বলেছেন: থ্যাংক ইউ।
২|
২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ সকাল ১১:৩১
ক্যামেরাম্যান বলেছেন: জানলাম ...
২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ সকাল ১১:৩২
সাইমুম বলেছেন: জানার পর আমি এটা মানা শুরু করেছি। আপনি?
৩|
২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ সকাল ১১:৩৩
প্যাঁচনাই বলেছেন: আমাকে ৩ লিটার খাইতে কইছে ডাকতার !!! এইটা কি ঠিক আছে???
২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ সকাল ১১:৪৩
সাইমুম বলেছেন: দেহের পিপাসা এক জিনিস, আর প্রয়োজন ছাড়াও রটিন করে নির্ধারিত পরিমাণ পানি পান আরেক জিনিস।
অতিরিক্ত সব কিছুই খারাপ। আমলকিতে ভিটামিন 'সি' আছে বলে কি আপনি দৈনিক এক কেজি আমলকি খাবেন?
পানি পান করলে তা হজম হয়। কিন্তু অতিরিক্ত পানি খেলে এটাকে ফিল্টার করতে দেহের পরিশ্রমও বাড়ে। না বুঝে দেহের ফিলট্রেশন প্রক্রিয়ায় চাপ বাড়ানোর যুক্তি নেই। পিপাসা লাগলে পানি অবশ্যই খাবেন।
৪|
২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ সকাল ১১:৪০
রেজোওয়ানা বলেছেন: আট গ্লাসের বেশি পানি খাইলে কি কোন সমস্যা আছে নাকি?
২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ সকাল ১১:৪৫
সাইমুম বলেছেন: সমস্যা নেই। তবে দেহের চাহিদা না থাকলেও রুটিন করে দৈনিক আট গ্লাস পানি পান খারাপ বলে বিজ্ঞানীরা এখন দাবি করছেন। এটা তারা গবেষণার ভিত্তিতে দাবি করছেন।
৫|
২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ সকাল ১১:৪৬
মদন বলেছেন: আমি সারাদিন এ ২ লিটার পানিও খাইনা ![]()
২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ সকাল ১১:৫৭
সাইমুম বলেছেন: পানি হচ্ছে প্রকৃতির থার্মোমিটার, যা পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা দেয়। ২ লিটার পানি পানের পর যদি আপনার কোনো দৈহিক সমস্যা না হয়, তাহলে ওটাই আপনার জন্য স্ট্যান্ডার্ড ধরে নিতে পারেন। খাওয়ার পর পানি খাবেন। পিপাসা লাগলে পানি খাবেন। উষ্ণ পরিবেশে দেহে পানির চাহিদা বাড়ে। তখন পানি খাবেন।
আমি বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশর একজন রেনাল স্পেশালিস্টের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি যা জানালেন, তা ভীষণ উদ্বেগজনক। তার ভাষায়, বিজ্ঞানের সর্বেশষ গবেষণা সম্পর্কে জানার সময় বা আগ্রহ বাংলাদেশী ডাক্তারদের নেই। তিনি বললেন, আমরা কিডনী রোগীকে বেশি পানি খেতে নিষেধ করি। কারণ কিডনিতে সমস্যা থাকলে পানি হজম হতে চায় না। তাই বেশি পানি খেলেই তা দেহ থেকে টক্সিন বের করে দেবে বলে প্রচলিত ধারণাটি অবৈজ্ঞানিক বলেই মনে হচ্ছে।
৬|
২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ দুপুর ১২:১৪
সুরঞ্জনা বলেছেন: কিডনীর কোন রুগীকে পানি বেশী খেতে বলা হয়, আবার অনেক কে পরিমিত।
বেশী পানি পান করলে কিডনীতে অতিরিক্ত চাপ পড়বে এটা তো স্বাভাবিক।
বৈজ্ঞানিকরা এক এক সময় এক একটা ধুয়া তুলে সবাইকে, বিশেষ করে ডাক্তারদের বিভ্রান্ত করছেন। এমনিতেই বাংলাদেশের ডাক্তাররা খুব স্বনামধন্য।
২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ দুপুর ১:৪৬
সাইমুম বলেছেন:
১.বেশী পানি পান করলে কিডনীতে অতিরিক্ত চাপ পড়বে এটা তো স্বাভাবিক।
---------------------------এটাই তো অনেকেই বিশ্বাস করেন না। তাদের ধারণা, পানি যত বেশি খাওয়া যায়, সমস্যা নেই।
২. বৈজ্ঞানিকরা এক এক সময় এক একটা ধুয়া তুলে সবাইকে, বিশেষ করে ডাক্তারদের বিভ্রান্ত করছেন।
---------------------------------------------------------------
চলুন বিজ্ঞানীদের চৌদ্দ গুষ্টি উদ্ধার করি
৭|
২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ দুপুর ১:২১
হাম্বা বলেছেন: ভাবনার বিষয়
২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ দুপুর ১:২৮
সাইমুম বলেছেন: ইয়েস, ভাবনার বিষয়।
৮|
২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ৯:৫৬
রাজসোহান বলেছেন: আপনার দেখি বিশাল বন্দনা পোস্ট
তয় পোস্ট ভালো পাইসি
২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ১১:২৬
সাইমুম বলেছেন: শুকরিয়া।
©somewhere in net ltd.
১|
২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ সকাল ১১:২৫
আর.এইচ.সুমন বলেছেন: Usefull post... (*)