| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সাক্ষর কাব্য
সাক্ষর কাব্য.. জীবনের কবিতা.. খুবই সাধারণ মানুষ... একটু একটু লেখালেখি করি.. দু'চার লাইন কবিতা.. একটা দুটো গল্প (যদিও সেগুলো অখাদ্য বলেই বন্ধুসমাজে প্রচলিত) স্বার্থের দুনিয়ার আমি নিঃস্বার্থ, তা নয়, তবে অপ্রয়োজনীয় মিথ্যা এড়িয়ে চলি.. সবার মত সুখ দুঃখের মিশ্রিত জীবন আমারো.. অহংকার করে উল্লেখ করবো এমন কিছুই নেই আমার.. আমি আমার মাকে খুব ভালোবাসি.. মা_ই আমার একমাত্র অহংকার...!
আমি হাজার হাজার শিক্ষকের পক্ষে তাদের সন্তান হয়ে কথা বলছি । আমি ওনাদের কষ্টের খবর জানি, কারন আমার জন্মদাতা পিতা একজন শিক্ষক, প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষক । শিক্ষকদের সঠিক প্রাপ্য মর্যাদা তাঁরা কবে পেয়েছিলেন , জানি না । গার্মেন্টস শ্রমিকরাও শিক্ষকদের চেয়ে বেশি বেতন পায় ।
জন্মের পর থেকে আভিজাত্যের স্বাদ যেমন পাইনি, দারিদ্রতাও দূর থেকে দেখেছি । মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম হওয়ার কারনে , জীবনের টানাপোড়েনটা খুব কাছ থেকে দেখেছি । উপভোগ করেছি , করার চেষ্টা করেছি । কিন্তু অবস্থা এতটা খারাপের দিকে এগোচ্ছে , কলম ধরতেই হল । এভাবে চলতে পারে না ।
শিক্ষকদের আন্দলনের মুখে গত বছরের মাঝামাঝি সময় প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলো বেসরকারি থেকে সরকারিকরনের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল । পিপার স্প্রে, জল-কামানের তোয়াক্কা না করে অনশন , অবস্থান কর্মসূচি পালন করে , জীবন দিয়ে শিক্ষকেরা দাবি আদায়ে পথে নেমেছিলেন । সেই মিছিলে আমার বাবাও ছিলেন । নিরস্ত্র শিক্ষকদের সেই আন্দোলন দেখতে গিয়েছিলাম আমিও । ভুল বলেছি , ওনাদের পকেটে অস্ত্র ছিল । লাল কালির কলম, ছাত্রদের ভুল সংশোধনের লাল কলম । রাজনীতির রক্ত চক্ষুর সাথে লাল কলমের লড়াই চলল । দু’জন শিক্ষকের প্রান গেল । পিপার স্প্রে, জল-কামানের আঘাতে ঘুচে গেল মানবাধিকার । নির্লজ্জতার শেষ মুহূর্তে ঠিক হল , দাবিদাওয়া মেনে নেওয়া হবে । আমরা চোখের জল মুছে ফিরে এলাম ।
কিন্তু এটা যে শুভংকরের ফাঁকি ছিল , তা বুঝতে কষ্ট হচ্ছে না এখন । সরকারীকরণের নামে হাজার হাজার শিক্ষকের অভুক্ত পেটে লাথি মেরেছে সরকার । ২০১৩ সালের শুরু থেকে কোনও মাসের বেতন ঠিকঠাক পায়নি কোনও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক । গত তিনমাস বেতন সম্পূর্ণ বন্ধ । উপরওয়ালারা বিরিয়ানি-মাংশ খেতে একজন আরেকজনকে দাওয়াত করেন । গল্প হয়, আলোচনা হয় , খাওয়া দাওয়া হয় । কিন্তু সেই সব আলোচনার কোথাও শিক্ষকদের কথা লেখা নেই, থাকে না । শিক্ষকের পড়িয়ে দেওয়া শিক্ষার অপব্যাবহার লালা হয়ে ঝরে তাদের মুখ থেকে ।
দিন গড়িয়ে যাচ্ছে । রাত আসছে । রাত গড়িয়ে আবার দিন । ক্ষুধা বাড়ছে । প্রয়োজন বাড়ছে । ডাক্তার, প্রকৌশলী, আইনজীবী , জেলে, তাঁতি, চাষা সবারই ক্ষুধা আছে ... শিক্ষকদেরও আছে । ক্ষুধায় শিক্ষকেরা মরবেন , এই পেশায় কেউ আসবে না । শিক্ষকদের সন্তানেরা উপরওয়ালাদের রাজপ্রাসাদের সামনে গিয়ে বিদ্রোহী হবে ...
ভাত দে হারামজাদা, নইলে... নইলে মানচিত্র ছিঁড়ে খাব ।
২|
১৭ ই নভেম্বর, ২০১৩ রাত ৮:০৮
আহমেদ জী এস বলেছেন: সাক্ষর কাব্য,
আপনার কথামতো শিক্ষকদের নিয়ে গল্প হয়, আলোচনা হয় , খাওয়া দাওয়া হয় । কিন্তু সেই সব আলোচনার কোথাও শিক্ষকদের কথা লেখা নেই, থাকে না । শিক্ষকের পড়িয়ে দেওয়া শিক্ষার অপব্যাবহার লালা হয়ে ঝরে তাদের মুখ থেকে ।
সত্যিই এই সমাজ , এই রাষ্ট্র তাদের কিছুই দেয়নি । না সম্মান, না বেঁচে থাকার মতো যথার্থ সম্মানজনক রসদ ।
একজন শিক্ষককে আমার দেয়ার মতো কিছু নেই । বলার মতো হয়তো কিছু আছে । বলতে চাই , সমাজের সকল সম্মান একজন সত্যিকারের শিক্ষকেরই প্রাপ্য ।
এই লিংকটি হয়তো একজন শিক্ষকের সন্তানকে ভাত দেবেনা তবে তার বুকটিকে উঁচু করে দেবে হিমালয়সম উচ্চতায় -
Click This Link
৩|
১৭ ই নভেম্বর, ২০১৩ রাত ৮:৫৩
সাক্ষর কাব্য বলেছেন: ধন্যবাদ আহমেদ জী এস .
©somewhere in net ltd.
১|
১৭ ই নভেম্বর, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:৫২
বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: এটা যে শুভংকরের ফাঁকি ছিল , তা বুঝতে কষ্ট হচ্ছে না এখন । সরকারীকরণের নামে হাজার হাজার শিক্ষকের অভুক্ত পেটে লাথি মেরেছে সরকার । ২০১৩ সালের শুরু থেকে কোনও মাসের বেতন ঠিকঠাক পায়নি কোনও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক । গত তিনমাস বেতন সম্পূর্ণ বন্ধ ।
শেষ সময়ে আওয়ামীলীগ ঢোল পিটায়া যখন ঘোষনা দেয় তখনই সন্দেহ হইছিল। ভোটের রাজণীতিরই প্রতিশ্রুতি ছিল মনে হয়!!!
নইলে কি এতদিন লাগে??????
লাগলেও সেটার ধারাবাহিক আপডেট দেয়াই যেতে পারে!
আমিও গেছিলাম এক বড় ভাই প্রধঅন শিক্ষকের আহবানে। দেখেছি তাদের কষ্ট। আমার পিতাও একজন শিক্ষক ছিলেন। আমিও বাস্তবতা দেখেই বড় হয়েছি।