| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
‘সাদিকীনে’র সোহবত
মুহাম্মাদিয়া মাখযানুল উলূম মাদরাসা (হুযুরের বাসা)
সেক্টর ৩, উত্তরা, ঢাকা
১৮ জুলাই, ২০১১ ঈসায়ী
মাগরিব বাদ বয়ান
اللهم صل على محمد وعلى أل محمد كما صليت على إبراهيم و على أل إبراهيم إنك حميد مجيد. اللهم بارك على محمد وعلى أل محمد كما باركت على إبراهيم و على أل إبراهيم إنك حميد مجيد.
اللهم صل على محمد وعلى أل محمد كما صليت على إبراهيم و على أل إبراهيم إنك حميد مجيد. اللهم بارك على محمد وعلى أل محمد كما باركت على إبراهيم و على أل إبراهيم إنك حميد مجيد.
اللهم صل على محمد وعلى أل محمد كما صليت على إبراهيم و على أل إبراهيم إنك حميد مجيد. اللهم بارك على محمد وعلى أل محمد كما باركت على إبراهيم و على أل إبراهيم إنك حميد مجيد.
سبحان الله الحمد لله لا اله الا الله الله أكبر. استغفرالله. استغفرالله. استغفرالله. استغفرالله ربى من كل ذنب و اتوب اليه.
الله أكبر كبيرا والحمد لله حمدا كثيرا و سبحان الله بكرة و أصيلا.
بسم الله الرحمن الرحيم. نحمده و نستعينه و نستغفره وﻧﺆمن به ونتوكل عليه ونعوذ بالله من شرورانفسنا ومن سيئات اعمالنا من يهده الله فلا مضل له ومن يضلله فلا هادى له ونشهد ان لااله الاالله وحده لاشريك له ونشهدان محمدا عبده ورسوله صلى الله تعالى عليه وسلم .اما بعد ، فاعوذ بالله من الشيطان الرجيم۞ بسم الله الرحمن الرحيم ۞يآيها الذين آمنوا اتقوا الله ولتنظر نفس ما قدمت لغد واتقوا الله إن الله خبير بما تعملون۞ وقال تعالى: يآيها الذين آمنوا اتقوا الله وكونوأ مع الصادقين ۞ صدق الله العظيم۞
১.
لله!!! الحمد!لله الحمد! لله الحمد
আল্লাহ তাআলার শোকর আদায় করছি, যে আল্লাহ পাক আপনাদের সঙ্গে আবার একটি সোমবারের সন্ধ্যায় আল্লাহর দ্বীনের আলোচনার জন্য একত্রিত হওয়ার সৌভাগ্য দিলেন। لله الحمد
কুরআন মাজীদের দু’টি বিখ্যাত আয়াত আমি তিলাওয়াত করেছি। প্রথম আয়াত হলো-
يآيها الذين آمنوا اتقوا الله ولتنظر نفس ما قدمت لغد واتقوا الله إن الله خبير بما تعملون ۞ (سورة الحشر -١٨)
হে ঈমানদারেরা! اتقوا الله আল্লাহকে ভয় করো। ولتنظر نفس ما قدمت لغد প্রত্যেকটি প্রাণস্বত্ত্বা, প্রতিটি পুরুষ, প্রতিটি নারীর চিন্তা করা উচিত, ولتنظر نفس ما قدمت لغد ۡ কী পাঠালো সে, কী অগ্রীম পাঠালো সে আগামীকালের জন্য? প্রত্যেকেরই চিন্তা করা দরকার, আগামীকালের জন্য অগ্রীম কী পাঠালো। ما قدمت لغد আগামীকাল মানে মৃত্যুর পরবর্তী জীবন। শুরুতে বলেছেন, اتقوا الله আল্লাহকে ভয় করো। মাঝখানে বলেছেন, ۡ ولتنظر نفس ما قدمت لغد- প্রত্যেকটি প্রাণেরই চিন্তা করা উচিত সে আগামীকালের জন্য কী পাঠালো। পিছনে আবার বলছেন, اتقوا الله আল্লাহকে ভয় করো। إن الله خبير بما تعملون নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা খুব অবগত আছেন তোমরা কী করছো। এইটি হলো, দুটি আয়াতের প্রথম আয়াত। দ্বিতীয় আয়াত পড়েছি, يآيها الذين آمنوا اتقوا الله وكونوأ مع الصادقين (سورة التوبة-١١٩) হে ঈমানদারেরা! আল্লাহকে ভয় করো। وكونوأ مع الصادقين সাদিকীনদের সঙ্গে থাকো। সত্যবাদীদের সঙ্গে থাকো।
আমি আপনাদের কাছে আরয করতে চাই, প্রথম আয়াতে আছে, প্রত্যেকেরই চিন্তা করা উচিত, আগামীকালের জন্য কী পাঠালো। اتقوا الله দুই আয়াতেই ’কমন’; আল্লাহকে ভয় করো। প্রথম আয়াতে হলো, ولتنظر نفس ما قدمت لغد প্রতিটি প্রাণস্বত্ত্বার চিন্তা করা উচিত, সে কী পাঠালো। দ্বিতীয় আয়াতে হলো, আবার اتقوا الله - আল্লাহকে ভয় করো। كونوأ مع الصادقين সত্যবাদীদের সঙ্গে থাকো। আমার বর্ণনার উদ্দেশ্য আপনাদের সামনে এ কথাই আরয করা كونوأ مع الصادقين সত্যবাদীদের সঙ্গে থাকো। নেক বান্দাদের সঙ্গে থাকো। আমার প্রিয় বান্দাদের সঙ্গে থাকো। كونوأ مع الصادقين
হযরত হাফেজ্জী হুযুর রহ. বলতেন- আয়াতের প্রথমাংশে আল্লাহ তাআলা একটা উদ্দেশ্যের কথা বলেছেন। উদ্দেশ্য হলো, اتقوا الله আল্লাহকে ভয় করো। দ্বিতীয় অংশে উপায় বলেছেন। ঐ উদ্দেশ্যে পৌঁছানো যাবে কেমন করে? كونوأ مع الصادقين আল্লাহর নেক বান্দাদের সঙ্গে থাকো।
২.
আজকে আমরা রোযা ছিলাম। لله الحمد বলেন। সোমবার। রবিবার দিবাগত রাত। গতরাত আমরা যদ্দূর পেরেছি . . . ।
হাদীসের শব্দ হলো- قومو ليلها و صومو يومها মূল কথাগুলো একদম ছোট্ট। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিখ্যাত হাদীস-قومو ليلها শাবানের মধ্যরাত্রি যখন আসে, অর্থাৎ যখন ১৪ শাবানের রাত আসে, قومو ليلها সেই রাত্রে জাগো। আমরা জাগার চেষ্টা করেছি, গত রাত। و صومو يومها। আমরা রোযা রেখেছি, দিনে। .لله الحمد
ربنا تقبل منا إنك أنت السميع العليم
আমাদের পাশাপাশি ঢাকা শহরে অনেক লোক আছে যারা এর বিরুদ্ধে প্রচারণার শিকার হয়েছে। রেডিও, টিভিতেও ঐ কথাই বলা হচ্ছে, শবে বরাত বলে কিছু নাই। যাবো কোথায়? যাবেন كونوأ مع الصادقين -এ। খাঁটি বান্দাদের সঙ্গে থাকো। খাঁটি বান্দারা কই? খাঁটি আলেম-উলামাদের জিজ্ঞাস করেন। টিভিতে মাওলানারা যারা আসেন, তাদের কথা মানবেন না। টিভি একটা বিনোদনের অস্ত্র বা যন্ত্র। মাওলানা আবরারুল হক সাহেব রহ. বলতেন, টিভি হলো সাপের বাক্স।
টিভিকে উনি বলতেন সাপের বাক্স। বাস্তব সাপে কামড় দিলে কেউ মরে গেলে কোন লোক সারা দুনিয়ায় বলবে না যে, সাপে কামড় দিছে কাজেই জাহান্নামে যাবে। বলবে? কিন্তু টিভির কামড় এমন, যেটা নির্ঘাত জাহান্নামের দিকে রাস্তা খোলে। নাচ, গান, মজা, উপভোগ। সেই বিনোদনের আসর থেকে যারা ওয়ায করেন, তাদের ওয়াযে বলে, শাবান বলে কিছু নাই, ১৪ই শাবান বলে কিছু নাই। সমস্যা আমাদের জন্য। সাধারণ মানুষ কোন্ দিকে যাবে?
আমি তার সহজ জবাব দিলাম। মৌলবীগোর সঙ্গে থাকেন। টিভির হুযুররা তো টিভির উপস্থাপক, তারা তো মৌলবী না। মৌলবীরা মাদ্রাসায় পড়ায়। গরীব, দুঃখী। তাঁদের সঙ্গে থাকেন। তাঁদের চেনার রাস্তাই এইটা। খাঁটি হক্কানী আলেম পাইতে চাইলে মাদ্রাসায় যান। ঢাকা শহরের কোথায় কোথায় বড় মাদ্রাসা আছে? বাঁচবার রাস্তা এইটা। হাফেজ্জী হুযুর তো বলতেন, এই যামানায় নূহের কিশতী। নূহ আ.-এর কিশতীতে যারা চড়ছিলো, তারা বাঁচছিলো। এই যামানাতেও যারা মাদ্রাসার সঙ্গে থাকবে, তারা বাঁচবে। মাদরাসার হুযুররাই ‘সাদিকীন’। ءالله شا ما الا - ঢালাওভাবে আমি তাদের তারিফ করবো না। তাদের মধ্যে অনেক লোক আছে, যাদের আচার আচরণে আপনি অসন্তুষ্ট। যাদের লেনদেনে, আমানতদারীতে আপনি সুখী না। তাদের সংখ্যা কম।
মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ. বার বার বলতেন এই কথাঃ খাঁটি আলেম পাওয়ার জন্য আলেমদের সঙ্গে মেলামেশা করো। হয়তো তুমি ধোঁকা খাবা, হয়তো তুমি প্রতারিত হবা। কিন্তু ’ফাইনালি’ তুমি পাইবা।
উনি একটা গল্প বার বার বলতেনঃ একটা কাল্পনিক পাখি- হুমা পাখি। খুব দামী পাখি। একটা পাখির দামই হয়তো দশ লাখ টাকা। গল্প। হুমা পাখি শিকার করার জন্য জাল পাতে, পাখি শিকারকারী। দানা ছিটায়া দেয়। দানা ছিটায়া দেয়, কাকে খায়, শালিকে খায়, এই পক্ষী খায়, ঐ পক্ষী খায়। একদিন যায়, দুইদিন যায়, তিনদিন যায়, একশদিন যায়, দুইশদিন যায়। ২৭৫ তম দিনে হুমা পাখি আসলো। হুমা পাখি ধরা পড়লো। হুমাকে ধরার জন্য কতদিন খাওয়াইছে? কতদিন খাওয়াইছে? ২৭৪ দিন। উনার কথা হলো, আলেমদের সঙ্গে থাকো। তাদের মাধ্যমে যদি ধোঁকাও খাও, এই ধোঁকা খাওয়ার মধ্য দিয়েই তুমি আসল আলেম পাইবা। অদ্ভুত কথা। এর চেয়ে শক্ত কথা আর কী চান?
৩.
আমার জীবনে একদম ’ফার্স্ট টাইম’ ঘটনা। এখনতো উনি কবরে চলে গেছেন। আল্লাহ তাআলা কবরকে নূরে ভরে দেন। আমীন। আমাদের খতীব সাহেব, মাওলানা উবায়দুল হক সাহেব জালালাবাদী রহ. আমাকে আল্লাহ তাআলা খুব সৌভাগ্য দিয়েছেন তাঁর সঙ্গে মেলামেশা করার।
একবার এক হাজী সাহেব তার ছেলেকে নিয়ে কী করবেন, মহা চিন্তিত। উনি আমার মতই ইংরেজী শিক্ষিত মানুষ। হাফেজ্জী হুজুরের সঙ্গে ছিলেন। আমাকে আল্লাহ তাআলা যে পর্যায়ের সৌভাগ্য দিয়েছেন, সে পর্যায়ের উনার কিসমতে হয় নাই। হযরতের সঙ্গে, উনার চারপাশের আলেম-উলামাদের সঙ্গে মেলামেশার সৌভাগ্য যেটুকু আমার সৌভাগ্য হয়েছে, এটা উনার কিসমতে জুটে নাই।
উনার কথায় কথায় উনি আলেমদের সমালোচনা করতেন। আরে! মৌলবীরা খাইল! এটা করলো! ওটা করলো! ঐ মৌলবী, অমুকে হুযুরের খলীফা! অমুকে এরকম, অমুকে তেরকম!
ঐদিকে নিজের ছেলের নাম বহুত বড় আল্লাহর ওলীর নাম। ছেলেকে হিফযখানায় দিবেন। কোনো হিফযখানা পছন্দ হয় না। মৌলবীগো ভাল্লাগেনা! অথচ পোলারে বানাতে চায় হাফেয! কত মাদ্রাসা ঘুরলো, কোনোখানেই পছন্দ হয় না।
পরে আমি বললাম আমার ভাইকে; ইংরেজী শিক্ষিত মানুষকে, হাজী সাহেব! আমার দিলে একটা কথা আসছে। এই যামানার ঢাকা শহরের মধ্যে বড় বড় আলেমদের মধ্যে একজন মানুষ, আমি বলি ‘বাঘের বাচ্চা’, এরকম মজবুত, স্পষ্ট কথা বলুইনা মানুষ কম পাইছি; বায়তুল মুকাররমের খতীব, উবায়দুল হক সাহেব জালালাবাদী। চলেন, আপনি উনার কাছে চলেন। উবায়দুল হক সাবের বাসায় নিয়ে গেলাম এরকম মাগরিবের নামাযের পরে। এক ঘন্টা! কত কথা হলো, কত আলোচনা হলো। উবায়দুল হক সাহেবের সঙ্গে কথা বলতেছেন উনি, আর আলেমদের দোষ-ত্র“টি বয়ান করতেছেন। এক ঘন্টা!
ইশার নামাযের কাছাকাছি মাওলানা উবায়দুল হক সাহেব বললেন, হাজী সাব! শোনেন, একটা কথা বলি। আপনার ছেলেকে আপনি খাঁটি পানি খাওয়াইতে চান, আর আমরা মৌলবীরা সব ড্রেনের পানি। মনে রাইখেন, আপনার খাঁটি পানি আপনি পাইবেন না। ড্রেনের পানির ভিতর দিয়েই খাঁটি পানির তালাশে যাইতে হইবে। যান, عليكم السّلام! ধমক দিয়ে বিদায় করে দিলেন। আপনি খাঁটি পানি পাইতে চান, আর আমাদের মৌলবীদের পছন্দ হয় না! আমরা নাপাক পানি! ড্রেনের পানি! কিন্তু মনে রাইখেন, আসল খাঁটি পানি পাইতে হলে ড্রেনের পানির ভিতর দিয়েই আপনাকে যাইতে হবে। যান عليكم السّلام! একটা ধমক দিয়ে বিদায় করে দিলেন।
আমাদের আলেমদের সম্বন্ধে সবারই ধারণা এটা। আমরা জানি রাসূলুল্লাহ -এর নায়েব হলো আলেমরা। তাই আমরা চাই এমন আলেম, কোনো দোষ-ত্র“টি থাকবে না।
ঐ সাপ জ্যান্ত,
গোটা দুই আনতো।
তেড়ে মেরে ডান্ডা,
করে দেই ঠান্ডা।
যে সাপের শিং নেই,
যে সাপের . . .।
কোনো কিছু করে না, ঐরকম সাপ। আমরা এরকম একটা কল্পনা করি, এরকম আলেম হইতে হবে। একদম মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। মুহা’ম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্র নায়েব উনার মত হইতে হবে। কোনো দোষ-ত্র“টি আমরা বরদাশত করি না।
৪.
এই-ই বছর দু’-এক আগের ঘটনা। এক ভদ্রলোক টেলিফোন করছেন।
- আপনি প্রফেসর হামীদুর রহমান সাহেব?
- হ্যাঁ, হামীদুর রহমান।
- আপনি আপনার বাচ্চাদের নিয়ে ৭৫, ৭৬, ৭৭, ৭৮ সালে আজিমপুর যাইতেন না?
- হ্যাঁ
- আপনার ছেলেরা কী করে?
- لله الحمد, পাঁচও ছেলে হাফেয হয়ে গেছে, পাঁচও ছেলেই মাওলানা হয়ে গেছে। لله الحمد
-’আই ইউজ্ড টু অবজারভ্ ইয়্যু’ (উনি আমাকে বললেন, আপনাকে আমি লক্ষ্য করতাম।) ৭৪, ৭৫ সালে যখন আপনি বুয়েট থেকে যাইতেন, আমি আপনারে লক্ষ্য করতাম। তখন আমি ’এ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি’ ছিলাম, এখন আমি ’ফুল সেক্রেটারি’ (বাংলাদেশ সরকারের পূর্ণ সচিব)। আপনার সঙ্গে কথা বলবো।
- ঠিক আছে।
উনি বলতাছেন, উনি আমার বাসায় আসবেন। আমি বলতাছি, আমি উনার বাসায় যাবো, অফিসে যাবো। আমি ছাড়ি না। আপনি একজন সচিব মানুষ; অনেক উঁচু পর্যায়ের মানুষ। আমি আপনার অফিসে আসি।
গেলাম পরেরদিন। দেড় ঘন্টা! চা খাওয়ালেন আর গল্প করলেন। গল্প মানে কী! এমন গল্প, যেটা কল্পনা করা যায় না যে, এই জন্য হামীদুর রহমানকে ডাকিয়ে আনার দরকার ছিল! গল্পের মধ্যে কেবলই মৌলবীদের দোষ-ত্র“টি এবং নাম ধরে ধরে। উবায়দুল হক সাহেব জালালাবাদী, শাইখুল হাদীস মাওলানা আ’যীযুল হক সাহেব, মাওলানা মুহিউদ্দীন খান সাহেব, আমার পরিচিত ঢাকা শহরের সেরা সেরা আলেম। উনার এই দোষ! উনার এই দোষ! উনার এই দোষ! তো আমি বললাম, আমি কী করবো? আল্লাহ তাআলা আপনাকে খালি দোষ দেখায়, আমি তো উনাদের প্রত্যেকের মধ্যে অনেক গুণ জানি। উনি থ’ হয়ে গেলেন। আপনিও ইংরেজী শিক্ষিত, আমিও ইংরেজী শিক্ষিত। আমি তো এনাদের মধ্যে অনেক সৎগুণ দেখি, অনেক গুণাবলী দেখি। আপনার চোখে পড়ে না তো আমি কী করবো? ব্যস! আমাদের ’মিটিং ’-এর ইতি।
আপনি চিন্তা করেন, আমাকে নিয়া শুধু এই কথাগুলো বলার জন্য উনি আমারে ডাকাইয়া নিয়েছেন! কী ফায়দা হলো? যদি উনাকে আমি বলতাম একটা কথা, তাহলে উনি চটে যেতেন। আমি যদি বলতাম, যাঁদের সম্বন্ধে আপনি বদনাম করলেন, তাঁদের কমপক্ষে একটা গুণ আছে। কুরআন শরীফ সহীহ্ করে পড়ে। আগামীকাল আপনার মহল্লার ফজরের নামায আপনি জামাতে পড়াইতে পারবেন?
কথাটা ভয়ঙ্কর কটু কথা হয়ে যেত না? আপনি আমারে বলতেন, আপনি এত কটু কথা বললেন! এই কটু কথার মজার গল্পও আমার কাছে আছে।
৫.
৭৪/৭৫ সালে তাবলীগের জামাতে গেছি। যশোর। যশোরে এক কলেজের প্রিন্সিপালের সঙ্গে দেখা করতে গেছি আমরা। খুসূসি জামাআত। উনি আমাদের দাওয়াতের জবাবে একটাই কথা বার বার বলতে থাকলেনঃ তাবলীগ-ওয়ালারা খালি তাবলীগ করে! পয়সা-কড়ি খরচ করে! গরীব-দুঃখীদের অর্থ মোচন করে না!
আমি বললাম, আমি তো তাবলীগের সঙ্গে মেলামেশা করি ’মোর এ্যাজ এ্যান অবজারভার দ্যান এ্যাজ এ ডীপ ওয়ার্কার’ আমি তো জানি অনেকেই আল্লাহর দ্বীনের জন্য খরচ করে, গরীব-দুঃখীদের জন্যও খরচ করে।
না; উনার কথা হলো তাবলীগ-ওয়ালারা গরীব-দুঃখীর পিছনে খরচ করে না! খালি তাবলীগ করে! আমি উনার কথার জবাব দিতেছি যে, না ওরা করে। উনি মানবেন না। অবশেষে আমি এমন একটা কথা কয়া ফালাইলাম; সাপের ফণার মত।
আমি বললাম, তাহলে কি তাবলীগওয়ালারা সবাই আপনাকে জানায়া জানায়া খরচ করবে, যে কোথায় কী খরচ করছে, না করেছে? ব্যস! বোমা ফাটার মত অবস্থা হয়ে গেল।
-আপনি বড় খটু খতা বললেন! (বুঝা গেল, উনি সিলেটী মানুষ।) আপনি বড় খটু খতা বললেন!
আমাকে একেবারে ধমক। আর কী? গাশ্ত্ আর কোত্থেকে হবে! আমরা জান বাঁচায়া এসে পড়লাম।
উনি বলছেন যে, তাবলীগওয়ালারা আল্লাহর দ্বীনের জন্য কোনো খরচ করে না, গরীব-দুঃখীদের জন্য খরচ করে না। আমি তো কেবল এ কথাই বলছি, আপনি কয়জন তাবলীগ-ওয়ালাকে জানেন? তারা কি আপনাকে জানায়া জানায়া খরচ করবো? ব্যস, এই কথায় উনি ক্ষেপে গেলেন এবং উনার জবাব হলো, আপনি বড় খটু খতা বললেন! বড় খটু খতা বললেন! উনি যে এতক্ষণ তাবলীগ-ওয়ালাদের ‘মারধোর’ করতেছে, এটা কটু কথা না। আমি কেন বললাম যে, তাবলীগওয়ালারা কি তাহলে আপনাকে জানিয়ে খরচ করবে?
- খটু খতা বললেন!
তো, আমাদের ইংরেজী শিক্ষিত হাজার হাজার মানুষকে এক কথায় কাবু করতে পারবেন আপনি। আলেমদের এত বদনামী কও, উনি ভোর রাত্রে তাহাজ্জুদ পড়েন। তোমার তাহাজ্জুদে সূরা ফাতিহা ঠিক আছে? কুরআন শরীফ দেখে কয় লাইন পড়তে পারো?
এজন্য বুযুর্গানে দ্বীন বার বার বলেন, মানুষের দোষ-ত্র“টির দিকে এত দেখো না। হাফেজ্জী হুযুর রহ.-এর একটা বিখ্যাত কথা, মানুষের মধ্যে ‘খুবী’ দেখন চাই। ’লুক এ্যাট দ্যা গুড কোয়্যালিটিস অফ এ্যা ম্যান’ - একটা মানুষের ভালো দিকটা দেখো।
৬.
আপনাদেরকে এই পুরান গল্প আমি আবার নতুন করে শুনাই। মদীনা শরীফে ১৯৮০ সনে হজের মৌসুম। হাফেজ্জী হুযুর রহ.-এর খাদেম আমি। মদীনা শরীফে একটা বড় ঘরে আমরা থাকতাম। মাঝখানে চাদর টাঙ্গানো। ঐদিকে শাইখুল হাদীস মাওলানা আযীযুল হক সাহেব, আর উনার বিবি। দু’জনই এখনো হায়াতে আছেন। আল্লাহ তাআলা হায়াত দরায করেন, নেক হায়াত দান করেন। আমীন। আর এদিকে হাফেজ্জী হুযুর রহ., আমি, আর হুযুরের একজন বড়লোক মুরীদ। ধনী ব্যবসায়ী। শাইখুল হাদীস সাহেব আর উনার বিবি প্রায়ই আমাদের রান্না-বান্না করে খাইয়ে চইলা যাইতেন। ঐদিনও সকালবেলা উনারা বাইরে। পূর্ব ঘরে আমরা তিনজন। সকাল নয়টা-সাড়ে নয়টা হবে। ফজর নামায পড়ে, ইশরাক পড়ে, বিশ্রাম করে এসেছেন। নাস্তা করেছেন। হুযুরের হাতে তসবীহ। খুব ’কম্পোজ্ড মুড’ এই সময়ে হযরতের সঙ্গে কথা বলার ভালো মওকা। আমাদের হাজী সাহেব কথা শুরু করলেন।
- হুজুর! আপনি ঐ মাওলানা সাবরে খেলাফত দিছেন? মক্কা শরীফের অমুক হোটেলে থাকে। জানেন, উনি মক্কা শরীফে কী করছে?
হুযুরকে শোনাইত্যাছে, ঐ হাজী সাহেব। আমি তো হুযুরের খাদেম, চুপচাপ পাশে বসা। দুই-তিন মিনিট। হুযুরের হাতে তসবীহ। তসবীহ্টা হাতে রাইখা বলেন, মানুষের মধ্যে খুবী দেখন চাই। হাফেজ্জী হুযুরের শব্দ। খুবী মানে ভালো জিনিস। উনি বাংলা অনেক শব্দ পারতেন না। ছোটবেলায় হিফ্য্ করছেন ইউ,পি,-তে, পড়েছেন ইউ,পি,-তে। মানুষের মধ্যে খুবী দেখন চাই। ‘লুক এ্যাট দ্যা গুড সাইড্স অফ এ্যা ম্যান’
তো, হাজী সাহেব দুই-তিন মিনিট কথা কইছে, সমর্থন পাইলো না। একটু ঘাবড়ায়া গেলো। চুপচাপ।
- হুযুর! এগুলো কি আমরা আমাদের জন্য বলি? আপনার সম্বন্ধে যখন লোকে এসব কথা বলে রক্ত গরম হয়ে যায়। হাফেজ্জী হুযুরে খেলাফত দিছে!
এবারে অন্য সুরে। আগেরবারে কোছিল ’থার্ড পার্সন’-এ, এবার ’ডাইরেক্ট’ এক মিনিট মতো আগাইলো, হযরত উনারে দেখায়া তসবীহটা হাতে থেকে ফালাইয়া দিলেন। ফালাইয়া দিয়ে বললেন, আসেন আমরা আল্লাহর কাছে দু‘আ করি। আল্লাহ তাআলা আমাদের মানুষের মধ্যে খুবী দেখনের সৌভাগ্য দিক। হাত উঠিয়ে দু‘আ করলেন হাফেজ্জী হুযুর। আল্লাহ আমাদেরকে সৌভাগ্য দিক, আমরা যেন মানুষের মধ্যে ভালো দিকটা দেখি। এক বিন্দুও অংশ নিলেন না। উনি কইতে পারতেন, আচ্ছা তুমি যখন কইছো, দেশে গিয়া লই। উনারে ডাইকা ধমকায়া-টমকায়া দিমু।
একথার ধারে কাছে নাই। এটা আমরা একদম খেয়াল করি না। বিশেষ করে মাওলানাদের সম্বন্ধে আসলে তো মারাত্মক রকম। উনার ’টাইটেল’ হলো নায়েবে নবী, নবীর নায়েব। নবুওয়াতের এলেমের নায়েব উনি, নবুওয়াতের এলেম উনি পাইছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিখ্যাত হাদীস- আলেমরা নবীদের ওয়ারিস। ’র্এ্যাস (অফযবৎবং) অফ দি প্রোফেট্স’. নবীদের উত্তরাধিকারী। এর পরের কথাটা হইলো, নবীরা টাকা-পয়সা তাঁদের উত্তরাধিকারের সম্পদ রেখে যান না, তাঁদের উত্তরাধিকারের সম্পদ হলো ওহীর এলেম। আল্লাহর কাছ থেকে পাওয়া এলেম, এটাই হলো নবীদের মাল। এর উত্তরাধিকারী। কীসের উত্তরাধিকারী উনি নিজেই বলে দিয়েছেন। তুমি অন্যগুলো তাঁদের মধ্যে তালাশ করো ক্যান? এই এক সমস্যা সমাজে।
বিরাট পাগড়ী, নূরানী চেহারা, মনে হয় ফেরেশতা, আসমান থেকে নাইমা আসছে। আপনাকে বলল, কিসের অমুক জায়গায় ঘোরাঘুরি করেন! আল্লাহ্রে দেখ্ছেন কোনোদিন? আমার কাছে আসেন, আল্লাহ্রে দেখায় দিমু। ব্যস, আপনি তার মুরীদ হয়ে গেলেন। আপনার কোন খবরই নাই যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একথা বলছেন কিনা, আমি তোমাদের আল্লাহকে দেখাইয়া দিবো।
হাজার হাজার মানুষ ধোঁকা খায় এবং বড় বড় ’সেক্রেটারি’-রা ধোঁকা খায় বেশি, বড় বড় ’জেনারেল’-রা ধোঁকা খায় বেশি, বড় বড় ’প্রফেসর’-রা ধোঁকা খায় বেশি। বিদআতীদের হাতে মাইর খায়। কারণ অন্যখানে কত পড়াশোনা করছে, কত কিছু শিখছে, ’পি.এইচ.ডি. ডিগ্রী’ ধরছে। একটা ’সেক্রেটারি ’ হতে কতদিন চাকরি করতে লাগে? উনি ৭৪/৭৫ সালে ’এ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি’ ছিলেন, আর আমার সঙ্গে কথা বলছেন ২০০৯ সালে। ’৭৪ থেকে ২০০৯, কত বছর হয়? প্রায় ৩০-৩২ বছর। ৩৫ বছর।
সবাই দুনিয়ার কাজে মেহনত করতে খুব ওস্তাদ। কী পড়াশোনা, কী ব্যবসায়িক চেষ্টা। আখিরাতের ব্যাপারে খালি ’শর্টকাট’ তালাশ করে, কোন্ পীর সাব আমাকে আজকেই বেহেশতে ঢুকিয়ে দিবে। যে পীর সাহেব বলে, আজকেই তোমাকে বেহেশতে ঢুকাইয়া দিমু; হ্যার কাছে যায়। আর অন্য পীরদের, মাওলানাদের কাছে গিয়ে কী লাভ? ধুর! এই মাওলানার পিছে দশ বছর ঘুরলাম, কিচ্ছু পাইলাম না! ধোঁকা খাওয়ার চরম এক অবস্থা। কাজেই আমরা আজকে রোযা রাখছি, কালকে রাতে জাগছি, আলহামদু লিল্লাহ বলেন।
৭.
আমাদের বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন অনেকে ধোঁকা খাইতাছে। তারা সৌদী আরবের দৃষ্টান্ত দেখায়। সৌদী আরবের হাজার হাজার মানুষ টাখনার নিচে কাপড় পরে। মক্কা শরীফের রাস্তায় যদি আপনি ’স্ট্যাটিস্টিকস্’ নেন। সংখ্যাতত্ত্ব নেন, লুধুয়ার হুযুর, কতজন হবে শতকরা টাখনুর নিচে কাপড় পরে? একশ’ জনে কতজন হবে? নব্বই?
তাহলে আপনি যদি কন, সৌদী আরবের রাস্তায় দেখে আসলাম কেউ টাখনুর উপরে কাপড় পরে না; আমাগোর দেশের মাওলানারাই খালি টাখনার উপর পরো, টাখনুর উপর পরো- আজাইরা চিল্লা-চিল্লি করে।
হাফেজ্জী হুযুর রহ.-এর কাছে অনেক লোক আমার সামনে এসেছে সৌদী আরবে, মক্কা শরীফে, মদীনা শরীফে।
- হুযুর! আরবরা এরকম করে, দাড়ি রাখে না!
- হুযুর! আরবরা এরকম করে, টাখনার নিচে কাপড় পরে!
- সালাম দেয় عليك سلام (সালাম আলাইক)!
ঐ দেশের সালাম হলো, عليك سلام (সালাম আলাইক)। এক হাত মিলায়। আমার সামনে মাওলানা আব্দুর রহমান সাহেব ধরছেন, عليك سلام (সালাম আলাইক) না, عليكم السلام (আস্সালামু আ’লাইকুম)? হেরা কয়- عليك سلام (সালাম আলাইক)। শব্দটা কি عليك سلام (সালাম আলাইক), নাকি عليكم السلام (আস্সালামু আলাইকুম)? {মজমা থেকে জবাব এলো- عليكم السلام (আস্সালামু আ’লাইকুম)} আপনাকে যদি ধমক দেয়? কোত্থেক্যা আইছো? বাংলাদেশ? এটা ঠিক না। سلام
عليك (সালাম আলাইক)- এইটা ঠিক। কোই যাইবেন? আরব! আরবীতে কথা কয়! কোই যাইবেন? শব্দটা কি عليك سلام (সালাম আলাইক), নাকি عليكم السلام (আস্সালামু আ’লাইকুম)? {মজমা থেকে আবার সমস্বরে জবাব এলো- عليكم السلام (আস্সালামু আ’লাইকুম)} আপনি তো কইলেন। কিন্তু ওখানে গিয়ে তো মা’র খাইবেন।
এক হাতে মুসাফাহা করে। মুসাফাহা কি এক হাতে, না দুই হাতে? (জবাব এলো- দুই হাতে) হাজার হাজার জিনিস সুন্নাত থেকে দূরে সরে গেছে। তাদের মধ্যে তওহীদের প্রেরণা খুব আছে, এটা সবাই বলে। الحمد لله- খুব আছে তওহীদের প্রেরণা। র্শিক্ তারা করে না। কিন্তু বাকি দ্বীন সম্পর্কে এলেম নাই। র্শিক সম্পর্কে এমন কড়া! কড়ার-কড়া!
৮.
আমার ঐ সফরের ঘটনা। ১৯৮০ সনে হাফেজ্জী হুযুর রহ.-এর সঙ্গের ঘটনা।
বুড়া মানুষ। রাকাতের পর নামায পড়তেই আছে! পড়তেই আছে!! পড়তেই আছে!!! ইশরাকের পর আরো দুই ঘণ্টা, দেড় ঘণ্টা। ইশরাকের নামায পড়ার পরেও দেড় ঘন্টা, দুই ঘন্টা পড়তেই আছেন। একেক রাকাত ১৫ মিনিট লম্বা লাগে! এর নাম হাফেজ্জী হুযুর। ক্লান্ত-শ্রান্ত হইলে ঘাড়টা ফিরায়। আমি কাছে যাই।
- খালি পিয়াস লাগে।
একথা বলেন না, আমাকে ঠান্ডা কিছু দাও। বলার ভঙ্গীটা ভারী মিষ্টি। কী বলতেন হাফেজ্জী হুযুর?
- খালি পিয়াস লাগে।
পিপাসা লাগে। পিপাসা শব্দ উনার জানা নাই। পিয়াস- পানি। একটু পেপসি দিলাম, ফলমুল দিলাম।
একদিন নিতে ভুল হয়ে গেছে। হুযুরের নামায আমি তো জানি যে, রুকুতে যেতে যে সময় লাগে, ততক্ষণে আমি বাইরে গিয়ে কিনে নিয়ে আসতে পারমু। কিছু ফলমুল, পানি কিনা আনছি। গেট দিয়ে ঢুকবো। দারোয়ান কয়, رح -যাও! মানে ফলমুল নিয়ে যেতে দেয়া হবে না। তো আরবী কিছু জানা ছিল। আমি কইলাম, لشيخ كبير جدا- খুব বুড়া এক শাইখের জন্য।
শাইখ মানেই বয়স্ক মানুষ। كبير- মানে বড়। جدا- মানে অনেক। অনেক বৃদ্ধ একজন বুড়া মানুষের জন্য নেব। আমি কইছি, لشيخ كبير جدا। كبير- মানে বড়। দারোয়ান আমাকে বলে, رح، الله كبير। তুমি একটা মাইনষেরে كبير বলো! শিরক করত্যাছো! الله كبير (আল্লাহু কাবীর)। কেমন শিরকবিরোধী কামেল উনি! কেমন তাওহীদওয়ালা!
অথচ কুরআন শরীফে, আরবী ভাষায় كبير শব্দ বড়র জন্য ব্যবহার হয়। কিন্তু সে আমাকে ওয়ায করলো, الله كبير رح، ভাগো! আল্লাহ কবীর! তুমি মাইনষেরে ‘কবীর’ কও ক্যান? তো আমি আর কি করমু, ভাইগা চলে গেলাম।
মক্কা শরীফে তো চতুর্দিকে গেট। এই গেটে বাধা দিছে। ঐদিকে যাই আর পিছনে তাকাই, ঐদিকে যাই আর পিছনে তাকাই। যেই গেটে গিয়ে দেখলাম ওকে আর দেখা যায় না, পরে ঐ গেট দিয়ে ঢোকার চেষ্টা করলাম। এতক্ষণে চিন্তা করে করে বের করেছি, لشيخ ضعيف جدا খুব দুর্বল এক শাইখের জন্য। ওদিকের দারোয়ানকে বলি। تعال হ্যাঁ, আসো। ঐ দারোয়ান আমাকে যেতে দিল।
তাওহীদের কিচ্ছা বললাম। দারোয়ান আমাকে তাওহীদের কিচ্ছা শেখায় যে, لشيخ كبير جدا। কইলা ক্যান? কাবীর তো আল্লাহ। অল্প বিদ্যা ভয়ঙ্করী বলে না? ‘কাবীর’ মানে যে বড়, মানুষের জন্য যে ব্যবহার করা যায়; এই ’গ্রামার’ তার জানা নাই। সে আমাকে ধমক দিয়ে বিদায় দিল। এই বাড়াবাড়ি তাদের মধ্যে আছে।
তাদের অনেক গুণ আছে। তাদের আন্তরিকতা, তাদের আতিথেয়তা। আল্লাহ তাআলা তাদের দরজা বুলন্দ করেন। কিন্তু আমাদের অনুসরণ, অনুকরণের বেলায় ঐ কথা চলবে না। হাফেজ্জী হুযুর রহ. বার বার বলতেন- আমরা কি আরবদের অনুকরণ করবো, না সাহাবীদের অনুকরণ করবো? (উত্তর এলো, সাহাবীদের)। এখন যারা, তারা কি সাহাবী, না সাধারণ আরব? (বাস জবাব হয়ে গেলো, সাধারণ আরব)। ব্যস, জবাব হয়ে গেল। হাফেজ্জী হুযুরের জবাবটা অ™ভুত জবাব। আমরা কি আরবদের অনুকরণ করবো, না সাহাবীদের অনুকরণ করবো? কাকে অনুকরণ করবো? সাহাবীদের দিকে দেখবো, মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহর সাহাবীদের দিকে দেখ। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সৌভাগ্য দেন। আমীন
৯.
দেওবন্দের উলামায়ে কেরামের কাছে আসল কথা এটাই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যিন্দেগী দেখ। সাহাবায়ে কেরাম রা.এর যিন্দেগী দেখ। সেইভাবে নিজেকে গড়ে তোলো। আর বাকি যারা, তাদের বেশিরভাগেরই এলেমের কোন গভীরতা নাই। যারা টিভিতে বলে বেড়ায় . . .। আমি ’চ্যালেঞ্জ’ করে বলি, আমি যদিও মাওলানা না, মাওলানাগো জুতা লইয়া ঘুরি। আমি বার বার বলি, আমি মাওলানা হতে পারিনি, কিন্তু মাওলানাগো জুতা লইয়া ঘুরি, বড় বড় মাওলানাগো।
তাদের ’চ্যালেঞ্জ’ করে আনেন। আসো, চলো আজকে রাহমানিয়ায় যাই, চলো আজকে বসুন্ধরায় যাই, চলো আজকে মালিবাগে যাই, চলো আজকে মিরপুরে যাই। সেখানে আলেমদের সঙ্গে বইসা তুমি তোমার দলিল দেখাও, তারা তোমার দলিল দেখুক। আমরা খালি ’অবর্জাভ’ করব। শবে বরাতের দলিল আছে, কি না, এটা ঐখানে গিয়া চলো, হবে। টিভিতে নাচনে-ওয়ালি, গানে-ওয়ালিগোর লগে বয়া খুব ওয়ায কইরা গেলা, এতে হবে না। তারপরে¬¬ দেখেন আসে, কি আসে না। দেখবেন, আসবে না। মানুষকে ধোঁকা . . .। এই ধোঁকা কেবল শবে বরাত নিয়ে না, দ্বীনের বহু বিষয় নিয়া। আমাদের বাঁচার একটাই রাস্তা- খাঁটি, হক্কানী উলাময়ে কেরামদের সঙ্গে থাকা। كونوأ مع الصادقين। যদি كونوأ مع الصادقين হয়, ولتنظر نفس ما قدمت لغد আগামীকালের জন্য প্রেরণ ইনশা আল্লাহ হবেই হবে। আল্লাহ আমাদের সৌভাগ্য দিন।
واٰخردعوٰنا أن الحمدﷲ ربّ العلمين
০৮ ই আগস্ট, ২০১২ বিকাল ৪:২৬
সেলিম৬২৫১ বলেছেন: এখনো যাবেন আশা করি।
২|
০৮ ই আগস্ট, ২০১২ বিকাল ৩:৩৯
মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেছেন: ভাল লাগল, ওনার মসজিদে মাঝে মাঝে যাওয়া হয়...
০৮ ই আগস্ট, ২০১২ বিকাল ৪:২৮
সেলিম৬২৫১ বলেছেন: সবসময় যাওয়ার তৈাফিক আল্লাহ দান করুন।
©somewhere in net ltd.
১|
০৮ ই আগস্ট, ২০১২ দুপুর ২:২৫
মোমের মানুষ বলেছেন: চমৎকার হয়েছে। আগে হজরতের সে মজলিসে নিয়মিত যেতাম।