| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
লন্ডনে তুষারপাত হচ্ছে। ফেইসবুকে বন্ধুরা দেখলাম বরফের উপর দাড়িয়ে তোলা ছবি ট্যাগ করেছেন। আমার নিজের কোনো ক্যামেরা নেই, তাই ছবি তোলা হয়নি। ঠান্ডা বেশী পড়ায় দু'দিন কার্যত ঘরে বন্ধী ছিলাম। আজ জুমাবার হওয়ায় অনিচ্ছাস্বত্তেও ঘর থেকে বের হয়েছি। বরফের উপর হঁাটতে হাটতে জুমাঘরে গিয়ে ঠান্ডায় জমে গিয়েছিলাম। জুমাঘরে যেতে যেতে দেখলাম তুষার পড়ে বাড়ি-ঘর সবকিছু সাদা হয়ে আছে। ছোট ছোট ফুলগাছের উপর শুভ্র বরফের আস্তরন। তুলার মতো নরম তুষার আমার চোখে মুখে বাড়ি খাচ্ছিলো। আমি হাঁপাচিছলাম আর মুগ্ধ হচ্ছিলাম। এ যেনো রবিন্দ্রনাথের পথ চলার আনন্দ। কবি গুরু যদি এখানে বড় হতেন। তাহলে নিশ্চয় তার এ গানের লাইন অন্যরকম হতো। ইংরেজী সাহিত্যে তুষার-বরফ নিয়ে হয়তো অনেক কথা লিখা আছে, আমার ইংরেজী সাহিত্য এখনো ভালো করে পড়া হয়নি। তাই এগুলো জানা হয়নি। তুষার দেখছিলাম, বরফ দেখছিলাম, আর রবিন্দ্রনাথের শেষ খলিফা আবদুল হকের কবিতার একটি লাইন আবছা আবছা মনে পড়ছিলো। আবছা আবছাভাবে আমি তা আওরাচ্ছিলাম। 'বুকের ভেতর হিমশীতল ছাই।' এরকম কিছু একটা। আবদুল হক আমার এক পছন্দের লেখক। তার কবিতাগুলোকে আমি ভালোবাসি। কিন্ত তার উপর লানত, সে কবিতা লেখা ছেড়ে দিয়েছে। আমার মন চাইছিলো, তাকে ধরে এখানে নিয়ে আসি। খোদার কসম, সে এই তুষারপাতের দৃশ্য দেখে ফের কবি হয়ে যেতো। কাটখোট্রা প্রবন্ধের ভাষা তার ভাষার সেৌন্দর্য কেড়ে নিয়েছে।
নরম তুষারের উপর যখন পা ফেলছিলাম, আমার পা দেবে যাচ্ছিলো। চামড়ার কালো বুট জুতা তুষারে সাদা হয়ে গেছে। দেশে থাকতে বুট জুতা আমার কাছে বিরক্তিকর এক জিনিস ছিলো। আমি আর ফায়যুর রাহমান তা নিয়ে প্রায়শই হাসাহাসি করতাম। জৈন্তপুরের ভাইয়েরা লুঙ্গির সাথে বুট জুতা পরে। হাউ ফানি! এখানে বাধ্য হয়ে বুট জুতা পরতে হচ্ছে। তবে বুট জুতা পরতে এখন খারাপ লাগছে না। সবাই তো পরে।
জুমার নামাজ পরে মামার বাসায় চলে গিয়েছিলাম। সন্ধ্যার পর একটু আগে বাসায় ফিরে বউয়ের হাতের গরম কফি খেয়ে এই পোষ্টটি লিখতে বসেছি। তুষার পরার দৃশ্যের কথা, বাড়ির উপর, গাড়ির উপর, গাছের উপর শুভ্র তুষারের আস্তরন আমার মনে যে শিল্প নিয়ে গেঁথেছে। আমি তা এখানে বলতে পারিনি।
©somewhere in net ltd.