নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মনটা বড়ই উদাস, কই যে যাই কি যে করি..

সামদ

আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে... বৈশাখ মাসে তার হাটু জল থাকে

সামদ › বিস্তারিত পোস্টঃ

সাকা চৌধুরীর চট্টগ্রামস্থ বাড়ী গুডস্ হিল

১২ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ৮:৫৩









বাংলানিউজ



==============













বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর চট্টগ্রামস্থ বাড়ী গুডস্ হিলে মঙ্গলবার বিকেলে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনালের তদন্তকারী দলের কাছে টর্চার সেল চিহ্নিত করে দিচ্ছেন যুদ্ধকালে এই ঘরে নির্যাতিত ম সলিমউল্লাহ। ছবি : উজ্জ্বল ধর / বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম























বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর চট্টগ্রামস্থ বাড়ী গুডস্ হিলে মঙ্গলবার বিকেলে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনালের তদন্তকারী দলের সদস্যরা তদন্ত করেন।









মন্তব্য ২৬ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (২৬) মন্তব্য লিখুন

১| ১২ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ৮:৫৬

সামদ বলেছেন:


প্রমাণ পেয়েছে আইসিটি তদন্ত দল: মুক্তিযুদ্ধে গুডস হিল ছিল ‘টর্চার সেল’



চট্টগ্রাম: গ্রেপ্তার হওয়া বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বাসভবন চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত ‘গুডস হিল’ একাত্তরে পাকিস্তানি সেনা এবং তাদের এদেশিয় রাজাকার-আলবদর- আলশামস বাহিনীর ‘টর্চার সেল’ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল।

প্রত্যক্ষদর্শী এবং একাত্তরের তৎকালীণ মুসলিম লীগের নেতা-কর্মীদের হাতে নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের সাক্ষ্যে এর নিশ্চিত প্রমাণ পেয়েছেন একাত্তরের মানবতাবিরোধী আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্র্যাইব্যুনালের তদন্ত দলের সদস্যরা।

একাত্তরে গুডস হিলে নির্যাতনের শিকার চট্টগ্রামের প্রবীণ ব্যবসায়ী নেতা ম.সলিমুল্লাহ’র সাক্ষ্যে নির্যাতন কেন্দ্র হিসেবে এ বাড়িটির নাম আসার পর মঙ্গলবার বিকেলে নগরীর রহমতগঞ্জ এলাকায় ওই বাসায় যান ট্রাইব্যুনালের সদস্যরা।

সঙ্গে ছিলেন ম.সলিমুল্লাহ নিজেও।

গুডস হিলের মোটর গ্যারেজ এবং পাহাড়ের ওপর পারিবারিক তিনটি বাসার মধ্যে সালাহউদ্দিন কাদের বর্তমানে যে বাসায় অবস্থান করেন সেগুলো একাত্তরে টর্চার সেল ছিল বলে সলিমুল্লাাহ ট্রাইব্যুনালের সদস্যদের সামনে শনাক্ত করেন।

এসময় তিনি মোটর গ্যারেজের একটি কক্ষ দেখিয়ে দিয়ে জানান, নীচের তলার এ কক্ষে তাকে আটক করে রেখে নির্যাতন করা হয়েছিল। পাশের আরেকটি কক্ষ থেকে তিনি নির্যাতনের ফলে গোঙানির শব্দ শুনতে পেয়েছিলেন।

তিনি জানান, গ্যারেজের উপরের তলায় পাকিস্তানি সেনারা থাকতেন।

সলিমুল্লাহ শনাক্ত করার পর ট্রাইব্যুনালের তদন্ত দলের সদস্যরা মোটর গ্যারেজ এবং গুডস হিল ঘুরে ঘুরে দেখেন।

পরে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত দলে নেতৃত্ব দেওয়া সদস্য এএসপি পদমর্যাদার নূরুল ইসলাম উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘গুডস হিলের মোটর গ্যারেজের নিচতলা যে একাত্তরে টর্চার সেল হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল এ বিষয়ে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। এ সেলের মধ্যে অসহায় বাঙালীদের ধরে এনে আটক করে রাখা হতো। এরপর পাকিস্তানি সেনাদের এদেশিয় দালালদের সুপারিশে তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হতো।’

টর্চার সেলের সঙ্গে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে কিনা এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বাড়িটি ফজলুল কাদের চৌধুরীর। আর তার বড় ছেলে হচ্ছেন সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী। তিনি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার আছেন। আমরা ওই তদন্তের অংশ হিসেবেই এ বাড়িতে এসেছি।’

এর আগে বিকেল পৌনে পাঁচটায় গুডস হিলে পৌঁছানোর পর ঢোকার পথে প্রথমে পুলিশ ও তদন্ত দলের সদস্যদের মালিকের নির্দেশের কথা বলে বাধা দেন ওই বাসার প্রবেশপথে থাকা নিরাপত্তারক্ষীরা।

পরে আজিজুল হক নামে ওই বাড়ির একজন তত্ত্বাবধানকারী মুঠোফোনে কথা বলে প্রবেশপথ থেকে বাধা সরিয়ে নেন।

আজিজুল হক বাংলানিউজকে বলেন, ‘সাইফুদ্দিন কাদের সাহেবের (সাকা চৌধুরীর ছোট ভাই) স্ত্রীর অনুমতি নিয়ে তারপর বাড়িতে ঢুকতে দিয়েছি।’

তবে এসময় সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও তার ভাইদের পরিবারের কেউই বাসায় উপস্থিত ছিলেন না।

ট্রাইব্যুনালের পরিদর্শনের আগে গুডস হিলের আশপাশের এলাকায় ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটে তদন্ত শেষ করে গুডস হিল ত্যাগ করেন ট্রাইব্যুনাল সদস্যরা।

গত বৃহস্পতিবার সাকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে গণহত্যা সহ বিভিন্ন অভিযোগ তদন্তে চট্টগ্রাম যান একাত্তরের মানবতাবিরোধী আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চার সদস্য এবং প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত।

শনিবার ট্রাইব্যুনালের তদন্ত দলের চার সদস্য চট্টগ্রামের রাউজানের কুন্ডেশ্বরী, জগৎমল্লপাড়া, উনসত্তর পাড়া এবং রাঙ্গুনীয়ার বেতাগীতে গিয়ে একাত্তরে সাকা চৌধুরীসহ রাজাকারদের হত্যা, লুণ্ঠণ, অগ্নিসংযোগ, নারী নির্যাতন এবং গণহত্যার বিষয়ে কয়েকজন প্রত্যক্ষদশীর বক্তব্য নেন।

সাকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ সংক্রান্ত বেশকিছু সাক্ষ্যপ্রমাণ ও আলামত নিয়ে শনিবার রাতেই আইজি মর্যাদার দু’সদস্য আব্দুল হান্নান খান ও সানাউল হক চট্টগ্রাম ত্যাগ করেন।

ট্রাইব্যুনালের বাকী দু’সদস্য এএসপি নুরূল ইসলাম এবং পুলিশ পরিদর্শক ওবায়েদ উল্লাহ বর্তমানে চট্টগ্রামে অবস্থান করে তদন্ত করছেন।

এ নিয়ে সাকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে গিয়ে চার দফা তদন্ত করছে একাত্তরের মানবতাবিরোধী আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

উল্লেখ্য, সাকা চৌধুরী বর্তমানে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় কারাগারে রয়েছেন। গত ১৬ ডিসেম্বর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য।

বাংলাদেশ সময়: ১৭০০ ঘণ্টা, এপ্রিল ১২, ২০১১

২| ১২ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ৮:৫৭

সামদ বলেছেন:
সাকার বাড়িতে ট্রাইবুনালের তদন্ত দল



চট্টগ্রাম, এপ্রিল ১২ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর বিরুদ্ধে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ তদন্তে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত দল তার চট্টগ্রামের বাড়িতে গেছে।

মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত দলের সদস্য নুরুল ইসলাম ও মো. ওবায়দুল্লাহ নগরীর গুডস হিলে সালাউদ্দিন কাদেরের বাড়িতে যান।

তদন্ত দলের সঙ্গে রয়েছেন মো. সলিমুল্লাহ নামে একজন প্রত্যক্ষদর্শী।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাকা চৌধুরী বর্তমানে এ মামলায় কারাগারে রয়েছেন। গত ১৬ ডিসেম্বর ভোরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তদন্ত দলের প্রধান আবদুল হান্নান খানের নেতৃত্বে চার তদন্ত কর্মকর্তা ও ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত শুক্রবার চট্টগ্রাম আসেন। ট্রাইব্যুনালের তদন্ত দলের সদস্যরা শুক্রবার রাউজান এলাকা ঘুরে একাত্তরের কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য শোনেন।

সাকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত দল এর আগেও দুই দফা চট্টগ্রামে আসে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এমসি/আরএ/পিডি/১৭০১ ঘ.

৩| ১২ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ৯:০৩

সামদ বলেছেন:
সাকা চৌধুরীর অপকর্ম নিয়ে কয়েকটি লিংক

৪| ১২ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ৯:৩০

সামদ বলেছেন: Who is Salahuddin Quader Chowdhury?



Salahuddin Quader Chowdhury, son of Late Fazlul Quader Chowdhury, hails from village Gohira under Rouzan police station of Chittagong district. A member of the parliament, Salahuddin Quader Chowdhury is the advisor for parliamentary affairs to the Prime Minister Mrs. Khaleda Zia. He is a very controversial character and is notorious for involvement in criminal activities and shifting allegiance to political ideologies. One may wonder as to how SQ Chowdhury gets elected as a member of parliament. He wins simply by the power of the muscle intimidating voters and stuffing ballot boxes. His notoriety as a godfather and a mafia don and his ruthless suppression of any opposition win him parliamentary elections.


During the War of Liberation of Bangladesh Salahuddin Quader Chowdhury led an extensive campaign against the freedom of the country and lent all out support to the Pakistan occupation army. All his heinous activities were concentrated in the district of Chittagong. Under the guidance of his father Fazlul Quader Chowdhury and with the support of his brother Giasuddin Quader Chowdhury and many such like-minded anti-liberation people he conducted anti-liberation war activities from his Good’s Hill residence in Chittagong.



Prior to the surrender of Pakistani occupation force in Bangladesh Salahuddin fled the country. After the unfortunate and brutal murder of Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman on 15th August 1975 the absconding Salahuddin returned home.



He is a War Criminal: In 1971 he killed civilians, killed people on political, religious and racial grounds. He was deeply involved in looting public and private properties.
He is a Mafia Don: He is well known for his involvement in smuggling business. Everyone in Chittagong is aware if his terrorist activities. He manages his activities through a powerful mafia network within the country. For smuggling, he also has a strong network outside the country. Nothing happens to him even after publicly calling Khaleda Zia a bitch. This proves how strong is his influence in the higher level of the present government and how heavy is his financial strength. This also gives an idea about his network outside the country.
He is a Godfather: As a practicing political leader he provides shelter to smuggling rings and terrorist cadres who serve his wishes.
He is a Political Opportunist: He has switched from party to party with the change of political regimes. He is completely unscrupulous in gaining his objectives and uses regionalism or religion whatever suits for political gains and for hiding his misdeeds:
He is unreliable: He began his political life as a member of the Muslim League in Pakistan. Returning to Bangladesh he joined the new Muslim League as resurrected under the patronage of the then military ruler General Ziaur Rahman. He switched over to Jatiya Party when the next military ruler General H M Ershad launched the party and became a Minister under him. When Ershad Government faced problems he left JP and formed a new Party of his own. Later he switched to BNP and was elected an MP. In an interesting drama he was expelled from BNP in May 2001 but was taken back in September to contest the elections in October 2001.

৫| ১২ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ৯:৩১

সামদ বলেছেন: Some facts about Salahuddin Quader Chowdhury.



1. Report from The National People’s Investigation Commission on the collaborators and war criminals of 1971.



The National People’s Investigation Commission was formed with eleven prominent personalities of the country to investigate the activities of the war criminals during the liberation war of Bangladesh. A report released by the commission on 26 March 1995 revealed Salahuddin Quader Chowdhury’s heinous misdeeds in 1971. Following are some excerpts from the report.



a) In an article on 8th January, 1972 in The Dainik Bangla the following was reported on the anti-liberation activities of Salahuddin Qader Chowdhury. “Salahuddin Quader Chowdhury and his father Fazlul Quader Chowdhury used to pick up and bring hundreds of young men to their Good’s Hill bungalow in Chittagong and torture them brutally. Among these unfortunate people was Late Dr.Sanaullah’s son. On 17th July 1971 Salahuddin picked up student leader Farooque and killed him with the help of the Pakistani soldiers. From 26th March till the liberation of the country a platoon of Pakistani soldiers was stationed to guard his bungalow. After liberation, on 18th December 1971 the freedom fighters caught Fazlul Quader Chowdhury along with his family members when they were fleeing Chittagong carrying more than 120 pounds of looted gold ornaments”. Incidentally S Q Chowdhury had alreat fled the country.

b) On page 69 of his book ‘The History of Bangalee’s War of Liberation’, Mahbub-ul-Anwar wrote, “Nizamuddin was released from the Chittagong Jail on 18th November. And Nizam relates... ‘I was picked up on 5th July. Then I was taken to Fazlul Quader Chowdhury. There, Fazlul Quader’s son Salahuddin along with his accomplices Khoka, Khalil and Yusuf tied my hands behind and started beating me up with thick batons and canes. They continued this for about five hours when I finally lost consciousness. On the night of 6th July at 11 O’clock they dispatched me to the stadium. Till then I was not given anything to eat, not even a drop of water.... On 13th July I was sent to jail. During this period they used to regularly beat me hanging me by my legs. The only food for the day was two pieces of hand rolled bread and water. They used to kick me on any pretext. In such a situation, being a Muslim, in my Namaz I prayed to Allah for solace. Even in my Namaz they used to kick me from behind, shouting, “You have turned a Hindu, Namaz is not for you”.

c) On 13th April Principal Natun Chandra Sinha was killed. Setting up a machine gun on the roof Gohira High School the military started firing all around from the morning. Many of the bullets hit the Kundeswari Building. Earlier, the venerable principal, pre-empting such a situation, had moved away the occupants of the building. But he himself stayed back holding on to the Kundeswari Building. Expecting the military to pay a visit he had laid out chairs and tables in the courtyard to greet them. The military did come in two jeeps. In one of the jeeps was riding Salahuddin Quader Chowdhury, son of Fazlul Quader Chowdhury. Behind them were stationed four tanks on the Kundeswari Road, set ready for attack. The principal greeted and entertained the military personnel. He explained to them the welfare work undertaken by his organization and informed them of his intention to continue with it. Being satisfied the military left. However, Salahuddin brought them back again, because his father had instructed him not to leave this infidel alive. On that day the bravery was not of the people with arms in hand. It was the courage of the unarmed seventy-year-old man that made it memorable. He stood still, ready to embrace martyrdom. They fired thrice at him. One bullet hit him just below one of his eyes. One hit his hand and the third went into his chest. Crying out for his mother he fell to the ground. For him it were not the Hindus only who lamented but many Muslims also cried.

d) The hearing of the case of Nutan Chandra Sinha’s murder was held in 1972. There were 12 witnesses including Nutan Chandra Sinha’s son Sattya Ranjan Sinha. The FIR number of the case is U/S302/120(13)/298 under Bangladesh Penal Code. The hearing began on 29thJanuary, 1972. Salahuddin Quader Chowdhury and five other defendants were absconding. On the other hand, rest of the defendants including his father Fazlul Quader Chowdhury was in jail custody. In the charge sheet of the case it was mentioned that the complaints against Salahuddin Quader Chowdhury and other defendants were proven true.

e) Thirteenth April will be remembered for yet another sad death. A band of rogues led by Salahuddin entered the house of Chittaranjan Biswas a respected resident of Gohira at half past ten in the morning. They picked up Biswas’s son Doyal Hori Biswas, a student leader, and brutally killed him.

f) Sheikh Mohammad Jahangir, son of another martyr of Chittagong, informed the People’s Investigation Commission that on 17thApril 1971 with the help of the Pakistan Army Salahuddin Quader Chowdhury and his accomplices picked up his father Shaheed Sheikh Muzaffar Ahmed and his brother Shaheed Sheikh Alamgeer from a road in Hathazari and took them to the nearby Pakistan Army camp. And later on they were killed in that camp. After liberation, complainant Sheikh Mohammad Jahangir also filed a case against Salahuddin Quader Chowdhury and his accomplices.

g) Harun-ur-Rashid Khan, is a leader of Jatya Party in Chittagong. During the liberation war in 1971 he was a liaison officer of the liberation army (he was appointed to that post by the commander of Sector 1, Major Rafiqul Islam). While discharging his duty Harun-ur-Rashid formed an intelligence cell and with the help of informers he collected information on Salahuddin and the killings, lootings and other activities carried out by him. Compiling the information he used to send reports to the commander of Sector 1, Major Rafiqul Islam and the political leaders engaged in the war. While doing this job he came to know how Salahuddin Quader Chowdhury and his father Fazlul Quader Chowdhury and their accomplices used to pick up and bring innumerable number of freedom fighters and the like minded people to their Good’s Hill residence and kill them by brutal torture. They even picked up women and handed them to the military for their carnal pleasure. Just before liberation Salahuddin fled the country. The freedom fighters missed him narrowly while chasing him. However, it is believed that of the bullets fired at him one had hit him in the thigh.


2. The Terrorist Connection

a) AK 47 Case: Top terrorist Rafiq alias Bachaiya was arrested by the army on 27 November 2002 during Operation Clean Heart, launched by the present regime against terrorism. The army recovered one AK 47 rifle, one 9 mm pistol, one indigenous pistol, a bulletproof jacket along with 4 rifle magazines and one pistol magazine, 195 rounds of AK 47 bullets, 7 rounds of pistol bullets and 16 pieces of knives from Bachaiya. Bachaiya was a tea-boy in a teashop in 1989-90. In 1992 he came into contact with the Saqa Group (Salahuddin’s group of terrorists). Having joined Saqa Group he eventually turned into a top terrorist with blessings of Salahuddin. After his arrest Bachaiya told the newspaper reporters that whatever murder, kidnapping, extortion and arson he committed were done under the orders of Salahuddin and his brother Giasuddin.*



b) Nitol Murder: An activist of the BNP student wing Chhatradal, Shahidul Alam Nitol was gunned down on 29 May 2001 in front of Salahuddin Quader Chowdhury’s residence at Good’s Hill in Chittagong. After the incident, the police nabbed Salahuddin while he was fleeing from his house along with his 11 accomplices. As evidence, several bullet shells were recovered from the front of the sentry box of Salahuddin’s residence. Nitol’s fault was that he had refused the invitation from Salahuddin to join his terrorist group. A case (no. 87/29.5.2001) was filed against Salahuddin and his brother Giasuddin along with their accomplices in this regard. At that time a statement was issued by BNP leaders, including Mr. Murshed Khan, Vice Chairman, and Mr. Abdullah Al Noman, Joint Secretary General of BNP, condemning the murder and demanding arrest of the terrorist gang involved in the killing. The statement according to newspaper report in the daily Inqilab dated 30 May 2001 alleged that Nitol was murdered under orders of S Q Chowdhury. It may be noted that Mr. Khan is now the Minister for Foreign Affairs and Mr. Noman the Minister for Food in the cabinet of Begum Khaleda Zia. It is interesting that even though BNP leaders at central and district levels had made allegations against S. Q. Chowdhury for this murder, once they came to power the names of Salahuddin and his brother were secretly withdrawn from the case on 4 November 2002.



c) Recovery of Illegal Arms: After Nitol murder on 29 May 2001 police raided Salahuddin’s residence the same evening and recovered 2 telescopic rifles, 1 revolver, 1 pistol, 2 air-guns, 3 Motorola Wireless sets, 173 rounds of rifle bullets, 250 rounds of pistol bullets, 52 cartridges, 1 sword, 2 knives, 3 daggers and 3 bullet-proof jackets. None of the fire-arms were licensed. The police also collected a pistol and 57 rounds of bullets from his person. A case was filed against him under the Arms Act.

d) Cadre Arrested: On 6 June 2003 police arrested 3 armed cadres of Salahuddin Quader Chowdhury from his village home in Rouzan, Chittagong. The police recovered 2 single-barrel and 1 double-barrel guns. These miscreants were involved in extortion, ransom and toll-collection in the area under the protection of Salahuddin.

3. International Terrorist Connection & Smuggling



a) While working as a broker at the Dhaka International Airport in 1976-77 S Q Chowdhury came into contact with the international terrorist/smuggling network. In 1977-78 he developed acquaintance with the infamous international smuggler Haji Mastan in Dubai. With the help of Haji Mastan he started his shipping business of Q.C. Teal. While conducting international smuggling he befriended Daud Ibrahim in Dubai and Imtiaz Khodadad in Karachi. He also used to supply arms to the rebels in Afghanistan and Sri Lanka.

b) Assistant Police Superintendent of Ukhia Circle in Cox’s Bazar sent a report (Memo no.1811 dated 26.6.2000) to the Police Superintendent of Cox’s Bazar. The report quoted that on secret information the police had learnt that during the previous BNP regime (1991-96) Salahuddin Quader Chowdhury smuggled in modern arms and ammunition from different countries to supply to the Rohingya separatists. The Assistant Police Super also furnished a list of 12 illegal arms traders with Salahuddin’s name topping the list.

c) The Asia Times in its 6 February 2002 issue wrote in an article “Salahuddin Quader Chowdhury and his brother Giasuddin Quader Chowdhury both BNP leaders and alleged smugglers are actively involved in abetting fundamentalists, militant groups such as Harkat-ul-Jihad and rightist political parties such as JEI and IOJ”.

d) On 14 October 1996 a group of 12 motor bikers were coming out of Jetty # 3 of Chittagong Port where a ship of Q.C. Teal was moored. Noticing their suspicious movement the police on duty challenged them and recovered 168 pieces of gold bars worth Taka 11.7 million. Also recovered from them was a delivery note of Q.C. Teal bearing number 954/96. All these 12 bikers were the employees of Q.C. Teal. In this connection a case was filed the same day 14 October 1996 with the Port Police station under Customs Act 165(8) and under Section 25B of Special Powers Act. Needless to mention that Salahuddin Quader Chowdhury owns Q.C.Teal.

3. Rouzan: The locality of horror and terror



Once Rouzan, which is the heart of the constituency S Q Chowdhury represents, was a very peaceful place where its inhabitants could move around freely, could laugh without restrictions, could cry in the open without fear and had faith in each other. Today, the scenario has changed. With murders, torture of the minorities, kidnapping, extortion and theft on the everyday menu Rouzan is now benumbed, dead. During the last 16 years more than 200 murders were committed in Rouzan (The Daily Janakantha 20.5.2003), the electoral constituency of Salahuddin Quader Chowdhury. Here, each and every voter has to be the supporter of Salahuddin. Or else the person would be permanently eliminated. No one can speak against the reign of terror unleashed by Salahuddin and his followers.



On 25 April 1991 the local Awami League leader Abdullah Al-Harun filed an election case with the Election Commission against Salahuddin Quader Chowdhury and his accomplices. Salahuddin Quader Chowdhury was number one in the list of the seven defendants in the case. Relating the misdeeds of Salahuddin, Abdullah Al-Harun mentioned, ‘the number one defendant believes in using force, brutality and terrorism. He never cares about law. He never had any respect toward the election rules and norms. Neither does he believe in people’s mandate’.





4. Latest News


Right now, Salahuddin is in the centre of a controversy for his obscene and most derogatory comments about women of Bangladesh and the state language movement that he made while addressing the closing ceremony of a book fair on 31 May 2003 in the town of Feni.

৬| ১২ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ৯:৩১

সামদ বলেছেন:

How Leading Dailies Look at Salahuddin:



All the national dailies and weeklies never hesitated to unmask the characters and present and past misdeeds.



Country’s number one weekly “Shaptahik 2000” had a cover story on Salahuddin Quader Chowdhury in its 13 June, 2003 issue. The magazine also came up with an editorial on him saying: War criminal and controversial politician Salahuddin Quader Chowdhury will contest for the post of Secretary General of Organisation of Islamic Conference (OIC). A whirlwind protest came from the political quarters since the four-party alliance government announced his nomination for the post. Question was also raised from its own organization of Bangladesh Nationalist Party (BNP). In fact, the coalition government put the image of the country under threat by nominating a despised politician like Salahuddin Quader Chowdhury.



Here are some headlines about him and his misdeeds carried out by leading national dailies:



§ Nomination of SQ Chowdhury for OIC Secy Gen is a Deception to the 1971 Liberation War

Daily Janakantha, 4 June, 2003



§ Wildness of SQ Chowdhury Followers
Daily Prothom Alo, 31 May, 2001



§ 11-Party Alliance Demands Cancellation of SQ Chowdhury’s Nomination
Daily Jugantar, 3 June, 2003



§ SQ Chowdhury Now Questioned for His Abusive Language
Daily Sangbad, 6 June, 2003



§ Awami League to Urge Govt to Drop SQ Chy from OIC Job Race
Daily Star, 2 June, 2003



§ Women’s Groups Take a Swipe at SQ Chy for Obscene Remarks
Daily Star, 2 June, 2003



§ SQ Chy Detained, Arms Seized from Residence, All Followed Murder of a Leader of His Party’s Student Front
Daily Star, May 30, 2001



§ BNP’s Student Front Leader Shot Dead: SQ Chowdhury Detained, Raid at His Goods-hills Residence, Arms and Ammunitions Recovered
Daily Purbokone, May 30, 2001



§ 14 Cases, Including Five for Murders, Against SQ Chowdhury So Far: Missing Documents of Four Cases for War Crimes
Daily Ajker Kagaj, 1 June, 2001



§ SQ’s Goods-hills Was a Hill of Horror, Slaughtering Field
Daily Ajker Kagaj, 1 June, 2001



§ SQ Gets Bail in Student Leader Killing Case, Rest 11 Sent to Jail
Daily Ajker Kagaj, 30 May, 2001



§ Nitol was Killed After He Refused to Join SQ Chy’s Group in Exchange of Half Million Taka
Daily Ajker Kagaj, 30 May, 2001



§ BNP’s Student Front Leader Killed: SQ Chy Arrested along with Six Accomplices
Daily Sangbad, 30 May, 2001



§ BNP’s Student Leader Killed by Bullet Shot from SQ Chy’s Residence: SQ Arrested, Huge Arms Recovered
Daily Janakantha, 30 May, 2001



§ SQ Arrested along with 10 Accomplices after BNP’s Student Front Leader Killed in front of His House, Huge Arms Recovered from SQ’s Residence
Daily Prothom Ali, 30 May, 2001



§ SQ Chy and 13 Others Arrested on Charge of Murder
Daily Azadee, 30 May, 2001



§ SQ and His Six Accomplices Arrested When Trying to Flee After Killing in front of His Residence
Daily Bhorer Kagaj, 30 May, 2001



§ Three Members of SQ Cadres Group Nabbed along with Firearms
Daily Bhorer Kagaj, 8 June, 2003



§ Top Terrorist Bachaiya Disclosed Arms Connection: Named SQ Chy as Godfather
Daily Azadee, 28 November, 2002



§ Now AK-47 Recovered from Raozan, Top Terrorist Bachaiya Says He Carried Out Orders of SQ Chy in Committing Crimes
Daily Bhorer Kagaj, 28 November, 2002



§ Strong Protest Against Obscene Comments Hurled by SQ Chowdhury
Daily Sangbad, 2 June, 2003



§ Protest Continued Against SQ Chy’s Comments on National Culture
Daily Prothom Alo, 3 June, 2003



§ Political Conflict in Raozan: 200 Killed in 16 Years for Establishing Dominance of SQ Family
Daily Janakantha, 20 May, 2003

৭| ১২ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ৯:৩২

সামদ বলেছেন: PROFILE OF A WAR CRIMINAL:SALAHUDDIN QUADER CHOWDHURY

a.. Salahuddin Quader Chowdhury who is well-known as an identified war criminal, an anti-liberation person of Seventy One and a collaborator and direct participant in mass killing on behalf of Pakistani junta during our glorious Liberation War. 1971 Liberation War costs 30 Lac martyrs, 4.5 Lac of violated mothers and sisters and intolerable sufferings and tortures of countless freedom-loving Bengalees. In that bloody struggle those who opposed the glorious Liberation War and committed war crime including mass killings, tortures and plunders are the lifelong enemies of Bangladesh.Salauddin Kader Chowdhury is one of them.

b.. A report about the misdeeds committed by the gang of Salahuddin Quader Chowdhury during the Liberation War was published in the daily ‘Dainik Bangla’ of January 8, 1972 where it is said, ‘Salahuddin Quader Chowdhury accompanied by the son of Late Dr. Sanaullah caught several hundreds of youths and began to torture them mercilessly in the residence of his father Fazlul Quader Chowdhury situated on the top of ‘Mr. Good's Hill’. With the collaboration of Pakistan Army Salahuddin Quader Chowdhury held the student-leader Faruque and killed him on July 17, 1971. A platoon of Pakistani soldiers used to stay at the residence of Salahuddin Quader Chowdhury since March 26 prior to surrender. Salahuddin Quader Chowdhury and his family including Fazlul Quader Chowdhury were captured by Liberation Force while fleeing taking one and a half maund of gold with them.

c.. ‘On April 13,1971, Principal Nutan Chandra Singha was killed at Kundeshwari Bhaban.According to an eye witness Saka killed the proprietor of the Kundeswari Medicine (Ayurvedic) Company, Mr. Singh by shooting with his own revolver (whom even the Pakistani Army had spared) . An accomplished Hindu entrepreneur, Mr. Singh owned a global business chain and mentored many cultural and educational institutions in Chittagong. By installing canons on the roof of Gahira High School,military forces began to fire from all sides. Some of those hit directly the Kundeshwari Bhaban. The Principal removed everybody. But, he stayed back holding the temple of Kundeshwari stubbornly. He arranged the chairs and tables in the lawn for reception, anticipating the military's visit. Military came with 2 jeeps, in one was Salahuddin Quader Chowdhury, the eldest son of Fazlul Quader Chowdhury. In the back there are four tanks waiting on the road of Kundeshwari. The Principal cordially received the military. He told them : I have done this work and want to do more. Military left being satisfied. But Salahuddin returned. His father had told him, the non-believer couldn’t be kept alive. The seventy-year-old man who was without arms stood before the deity of his temple. They fired three bullets. One bullet hit below one eye, one his hand, and the third one pierced his chest. He fell on the ground uttering his mother's name. Hindus wept for him, Muslims wept. When Muslims wept Salahuddin consoled them: the ‘non-believer' is finished, why are you mourning?

d.. The day was April 13 of 1971. It is not remembered for the killing of Principal Nutan Chandra Singha alone, it is also remembered for two other killings. Under the leadership of Salahuddin, the son of Fazlul Quader Chowdhury, a gang of ruffians caught hold of Dayal Hari Biswas, a college student and worker, son of Chittaranjan Biswas of the noble Biswas family, Gahira, at 10-30 in the morning and was killed after torturing him mercilessly. (Page 254-255)

e.. SAKA with back up from his father Fazlul Kader(FaKa) Chowdhury gangs rampaged into Hindu localities, looted and burnt down homes and forced to send many families to India during March/April/May 1971 being only 7 years old, the scenario is still in my heart and mind. A very well known fact in the area of Hathazari/ Raozan/Rangunia/Fatikchari including heart of the City of Chittagong.

f.. This SAKA family grabbed many Hindu properties by hook or crook within that area at various time and still on-going.He became immensely rich by looting Hindu properties. Presently Saka Chowdhury is one of the tycoons of Chittagong city

g.. He is known to have doctored his election result through threat and force, especially in Hindu localities.

h.. His QC shipping activity on Gold smuggling during 80's & 90's is very well known fact to Chittagong Sea Custom including contraband goods like drugs smuggling.

i.. His arm SMUGGLING ACTIVITY during 80's and 90's which terrorized in RAUZAN/HATHAZARI/RANGUNIA/FATIKCHARI including the heart of Chittagong City.He commands a large armed cadres behind screen which killed many peple with such regions.

j.. At least twenty one cases are filed against Chowdhury between 1st Sept, 2001 to 20th Nov,2001 which are as follows with the dated and case NO.Since presently at Key Role in BNP Party,he manipulates the criminal cases against him, reckoned

Police Station:Raozan General Diary 339/ Dated 9/9/01

Police Station:Raozan Case No 12/ Dated 22/9/01

Police Station:Raozan Case No 14/ Dated 22/9/01

Police Station:Raozan Case No 16/ Dated 24/9/01

Police Station:Raozan General Diary 934 Dated 25/9/01

Police Station:Raozan Case No 17/ Dated 26/9/01

Police Station:Raozan Case No 18/ Dated 26/9/01

Police Station:Raozan General Diary 1078/ Dated 29/9/01

Police Station:Raozan Case No 03/ Dated 02/10/01

Police Station:Raozan Case No 06/ Dated 07/10/01

Police Station:Raozan Case No 08/ Dated 07/10/01

Police Station:Raozan General Diary 250/ Dated 07/10/01

Police Station:Raozan Case No 12/ Dated 11/10/01

Police Station:Raozan General Diary 580/ Dated 16/10/01

Police Station:Raozan General Diary 750/ Dated 20/10/01

Police Station:Raozan Case No 20/ Dated 20/10/01

Police Station:Raozan Case No 23/ Dated 25/10/01

Police Station:Raozan Case No 27/ Dated 30/10/01

Police Station:Raozan General Diary 127/ Dated 04/11/01

Police Station:Raozan General Diary 184/ Dated 05/11/01

Police Station:Raozan General Diary 216/ Dated 06/11/01

Police Station:Raozan General Diary 341/ Dated 10/11/01

Police Station:Raozan Case No 11/ Dated 15/11/01

Reference:

1.. Killers and Collaborators of 1971: An Account of Their Whereabouts, compiled and published by the Center for the Development of the Spirit of the Liberation War

2.. The authentic facts and deeds of war crimes committed by Salahuddin Quader Chowdhury can be found in the 15 volumes of evidential documents of Liberation War published by the government

3.. the daily ‘Dainik Bangla’ of January 8, 1972

4.. A book ‘Chronicle of Bengalee's Freedom Fight' by Mahbub-ul-Alam published from Chittagong, record an incident that happened on April 13, 1971

5.. 13.4.1972 a case under the Collaborator's Act, bearing number 17 was filed against him with the Hathazari Police Station in Chittagong.

6.. Cases bearing numbers 41 (1) 72 and 43 (1) 72 were filed with the Rauzan Police Station against the defendant for the murder of Philanthropist Nutan Chandra Sinha.

7.. ' Ekattorer Ghatok Daalal O Juddhaporadhider Shomporkay Jatyo Ganotadonto Commission-er Dwitio Report' on 26 March 1995.

8.. '''' Committee for Resisting Killers & Collaborators of Bangladesh Liberation War of 1971’'''' press statement 30th May 2003

9.. http://members.tripod.com/scohel/page10.html

10.. My experience during 1971 war as a WAR VICTIM
11.. Report from Police Station, Raozan with description of all incidents between 1st Sept, 2001 to 20th Nov,2001

BY RANJAN CHOWDHURY

৮| ১২ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ৯:৩৩

সামদ বলেছেন: COMMITTEE FOR RESISTING KILLERS & COLLABORATORS OF BANGLADESH LIBERATION WAR OF 1971

Ga-16, Mohakhali, Dhaka-1212, Bangladesh. Phone : 8822985, Fax : 0088-02-8828688, E-mail : danaprnt@...



‘Committee for Resisting Killers & Collaborators of Bangladesh Liberation War of 1971’ hereby gives the following statement strongly protesting the nomination by the Government of Bangladesh as candidate from Bangladesh for the post of the Secretary General of OIC to Salahuddin Quader Chowdhury who is well-known as an identified war criminal, an anti-liberation person of Seventy One and a collaborator and direct participant in mass killing on behalf of Pakistani junta during our glorious Liberation War. National Professor Kabir Chowdhury, the President, Advisory Council and Professor Muntasir Mamoon, the Acting President, the Executive Committee of ‘Committee for Resisting Killers & Collaborators of Bangladesh Liberation War of 1971’ said in the statement: "We achieved Independent Bangladesh at the cost of 30 Lac martyrs, 4.5 Lac of violated mothers and sisters and intolerable sufferings and tortures of countless freedom-loving Bengalees. In that bloody struggle those who opposed the glorious Liberation War and committed war crime including mass killings, tortures and plunders are the lifelong enemies of Bangladesh. We the patriotic citizens and supporters of Independence always want Bangladesh to hold its head high with honour in the world. But those who opposed the Independence can never want the wellbeing of Bangladesh. And if someone among the identified war criminals holds an important post in the international field he will always play the heinous role against the glorious Liberation War, the Independence of Bangladesh and also the interest of Bangladesh as we have been observing for the last 32 years after Independence. Yet we observe with surprise that the present BNP-Jamat coalition government has nominated a man like Salahuddin Quader Chowdhury, Adviser, Parliamentary Affairs to Prime Minister, an identified war criminal of Seventy One as the candidate for the post of Secretary General in such an important international organisation like OIC. This decision of the government has not only stupefied but also aggrieved us. We cannot think why a known war criminal is to be given the nomination to the post of Secretary General of OIC in spite of having some pioneering personalities in different professions in the ruling BNP itself. Every of the country knows the wicked act of seventy-one and the incidents of war crimes committed by Salahuddin Quader Chowdhury. The authentic facts and deeds of war crimes committed by Salahuddin Quader Chowdhury can be found in the 15 volumes of evidential documents of Liberation War published by the government. To find out the crimes of the war criminals of Seventy One Martyred Mother Jahanara Imam, the leader of the ‘Committee for Resisting Killers & Collaborators of Bangladesh Liberation War of 1971’, formed the People's Inquiry Commission under the leadership of revered Late Poet Begum Sufia Kamal and through that too the crimes of seventy-one committed by Salahuddin Quader Chowdhury were revealed. We want to remind all again about the barbarous war crimes committed by Salahuddin Quader Chowdhury. A report about the misdeeds committed by the gang of Salahuddin Quader Chowdhury during the Liberation War was published in the daily ‘Dainik Bangla’ of January 8, 1972 where it is said, ‘Salahuddin Quader Chowdhury accompanied by the son of Late Dr. Sanaullah caught several hundreds of youths and began to torture them mercilessly in the residence of his father Fazlul Quader Chowdhury situated on the top of ‘Mr. Good's Hill’. With the collaboration of Pakistan Army Salahuddin Quader Chowdhury held the student-leader Faruque and killed him on July 17, 1971. A platoon of Pakistani soldiers used to stay at the residence of Salahuddin Quader Chowdhury since March 26 prior to surrender. Salahuddin Quader Chowdhury and his family including Fazlul Quader Chowdhury were captured by Liberation Force while fleeing taking one and a half maund of gold with them.



A book ‘Chronicle of Bengalee's Freedom Fight' by Mahbub-ul-Alam published from Chittagong, record an incident that happened on April 13, 1971: ‘On April 13, Principal Nutan Chandra Singha was killed at Kundeshwari Bhaban. By installing canons on the roof of Gahira High School military forces began to fire from all sides. Some of those hit directly the Kundeshwari Bhaban. The Principal removed everybody. But, he stayed back holding the temple of Kundeshwari stubbornly. He arranged the chairs and tables in the lawn for reception, anticipating the military's visit. Military came with 2 jeeps, in one was Salahuddin Quader Chowdhury, the eldest son of Fazlul Quader Chowdhury. In the back there are four tanks waiting on the road of Kundeshwari. The Principal cordially received the military. He told them : I have done this work and want to do more. Military left being satisfied. But Salahuddin returned. His father had told him, the non-believer couldn’t be kept alive. The seventy-year-old man who was without arms stood before the deity of his temple. They fired three bullets. One bullet hit below one eye, one his hand, and the third one pierced his chest. He fell on the ground uttering his mother's name. Hindus wept for him, Muslims wept. When Muslims wept Salahuddin consoled them: the ‘non-believer' is finished, why are you mourning? ........... The day was April 13 of 1971. It is not remembered for the killing of Principal Nutan Chandra Singha alone, it is also remembered for two other killings. Under the leadership of Salahuddin, the son of Fazlul Quader Chowdhury, a gang of ruffians caught hold of Dayal Hari Biswas, a college student and worker, son of Chittaranjan Biswas of the noble Biswas family, Gahira, at 10-30 in the morning and was killed him after torturing him mercilessly. (Page 254-255)



To nominate a war criminal like Salahuddin Quader Chowdhury as the candidate for the post of Secretary General of OIC, an organisation of international stature will not only harm the image of the present government but also of Bangladesh. The international world is aware, too, of all the major war criminals of seventy-one. So we earnestly appeal and demand that Salahuddin Quader Chowdhury’s name as the candidate for the post of Secretary General of OIC be withdrawn immediately. We do want the representation and leadership from Bangladesh to all international organisations, but a person who is a war criminal and anti-Bangladesh can never be acceptable in any way.

৯| ১২ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১০:৫১

সামদ বলেছেন: 'সাকার বাড়ির গ্যারেজ ছিল নির্যাতন কেন্দ্র'

মিন্টু চৌধুরী

চট্টগ্রাম, এপ্রিল ১২ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- চট্টগ্রামের গণি বেকারি মোড়ে সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর গুডস হিলের বাসভবনের গ্যারেজটি একাত্তরে ব্যবহৃত হতো নির্যাতন কেন্দ্র হিসেবে। আর গ্যারেজের দোতালায় ছিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসরদের ক্যাম্প।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এই তথ্য।

মঙ্গলবার বিকেলে গুডস হিলের বাড়িটি পরিদর্শন শেষে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, "সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ তদন্ত করার জন্যই এখানে এসেছি আমরা।"

তিনি জানান, ওই সময় মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষকে এই বাড়িতে ধরে এনে নির্যাতন করা হতো। এর মধ্যে কাউকে হত্যা করা হতো, আবার কাউকে কাউকে দালালদের সুপারিশে ছেড়ে দেওয়া হতো। তদন্তে এর সাক্ষ্য-প্রমাণ মিলেছে।

"এ কারণেই আমরা গুডস হিলের এই গ্যারেজ পরিদর্শন করেছি। তদন্তে আরও যাদের নাম উঠে এসেছে, তাদের বিষয়েও খতিয়ে দেখছি।"

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বিএনপি নেতা, সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সাকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত দল গত শুক্রবার চট্টগ্রামে এসে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে প্রত্যক্ষদর্শী ও নির্যাতিতদের সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু করেন। বিশেষ করে রাউজান এলাকায় সাকা চৌধুরী ও তার বাবা ফজলুল কাদের চৌধুরী এবং তাদের অনুগতদের নির্যাতনের তথ্য সংগ্রহ করেন তারা।

মুক্তিযুদ্ধের সময় নির্যাতনের শিকার সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী ম. ছলিম উল্লাহ সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের তদন্ত দলের কাছে সাক্ষ্য দেন। মঙ্গলবার গুডস হিলের বাড়ি ও গ্যারেজটি তদন্ত দলকে দেখিয়ে নির্যাতনের বিবরণ দেন তিনি।

তদন্ত দলের সদস্য সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) নুরুল ইসলাম এবং পরিদর্শক মো. ওবায়দুল্লাহ বিকাল ৪টা ৩৫ মিনিটে কড়া পাহারায় গুডস হিলে পৌঁছান। এ সময় গুডস হিল ও এর আশেপাশের এলাকায় পুলিশি নিরাপত্তা বাড়ানো হয়।

পরিদর্শনের সময় সাকা চৌধুরীর ছোট ভাই সাইফুদ্দিন কাদের চৌধুরীর স্ত্রী বাড়িতে থাকলেও তিনি তদন্ত দলের সামনে আসেননি। তদন্ত দলের সদস্যরা এ সময় ছলিম উল্লাহর বক্তব্য শোনেন এবং ঘটনাস্থলের স্কেচ ম্যাপ নেন।

বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে গুডস হিল ত্যাগ করেন তদন্ত দলের সদস্যরা।

ছলিম উল্লাহ বলেন

গুডস হিলে একাত্তরের সেই নির্যাতন কেন্দ্রটি বর্তমানে পড়ে আছে পরিত্যক্ত অবস্থায়। দোতলা ভবনটির সামনে পড়ে আছে অনেক পুরনো দুটি জিপ ও একটি প্রাইভেট কার।

১৯৭১ সালের ২ এপ্রিল রাত ৮টার দিকে চট্টগ্রাম শহরের রহমতগঞ্জ এলাকা থেকে ২৮ বছর বয়সী ছলিম উল্লাহকে ধরে এই বাড়িতে নিয়ে আসে স্থানীয় আল শামস্ বাহিনীর কমান্ডার খোকা, মাহবুবসহ কয়েকজন। তার ওপর চালানো হয় অমানুষিক নির্যাতন।

সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী ম. ছলিম উল্লাহ তদন্ত দলকে জানান, মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোতে আলবদর-আল শামস্ বাহিনীর সদস্যরা নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষকে ধরে এনে এই গ্যারেজে রেখে নির্যাতন করতো। সে সময় বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে তাদের হাতে।

বর্তমানে ছলিম উল্লাহর বয়স ৬৮ বছর। গুডস হিলের সেই 'নির্যাতন কেন্দ্রের' সামনে দাঁড়িয়ে মঙ্গলবার তিনি সাংবাদিকদের জানান, নগরীর অভয়মিত্র ঘাটে তার পৈত্রিক প্রিন্টিং প্রেসের দুই কর্মচারীকে একাত্তরের সেই রাতে ধরে নিয়ে যেতে চায় আল শামস্ বাহিনীর সদস্যরা। এর প্রতিবাদ করায় তাকেও তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

একটি জিপে করে তাদের নেওয়া হয় গুডস হিলে সাকা চৌধুরীর পৈত্রিক বাসভবনে। সেখানে একটি কক্ষে পায়ে দড়ি বেঁধে ছাদ থেকে উল্টো করে ঝুলিয়ে বেদম পেটানো হয় তাকে।

ওই সময় খোকা, মাহবুব ছাড়াও সাকা চৌধুরীর ছোট ভাই সাইফুদ্দিন কাদের চৌধুরী ও সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমকে (সাবেক হুইপ ও বর্তমানে বিএনপিনেতা) ওই কক্ষে দেখেছিলেন বলে ছলিম উল্লাহ জানান।

পিটুনির এক পর্যায়ে সংজ্ঞা হারান ছলিম।

তিনি জানান, ওই রাতে তার সঙ্গে ওই কক্ষে আরেকজনকে রাখা হয়েছিল। আশেপাশের কক্ষগুলো থেকেও আর্তনাদ শুনতে পাচ্ছিলেন তারা। পরদিন সকালে ছলিমের মামা অ্যাডভোকেট আবুল কাশেমের মধ্যস্থতায় নির্যাতন ক্যাম্প থেকে মুক্তি পান তিনি।

ছলিম সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলে সম্পৃক্ত ছিলেন না। তবে মুক্তিযুদ্ধের প্রতি তার পূর্ণ সমর্থন ছিল।

"আমি আর মৃত্যুকে ভয় পাই না। একাত্তরের সেইসব নির্যাতনের বিচার হওয়া উচিত।"

একাত্তরে সাকা চৌধুরীকে নির্যাতনের সময় দেখেছিলেন কি না- জানতে চাইলে ছলিম বলেন, "এটি তাদের পৈত্রিক বাড়ি। নির্যাতনের সময় তার ছোট ভাই সাইফুদ্দিনকে আমি দেখেছি। তবে সাকা চৌধুরীসহ ফজলুল কাদের চৌধুরীর সব সন্তানই নির্যাতনে জড়িত ছিল বলে আমি বিভিন্ন জনের কাছে শুনেছি।"

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এমসি/জেকে/২২১৫ ঘ.

১০| ১২ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ১১:০৩

সামদ বলেছেন:
গুডস হিলে নির্যাতনের শিকার সলিমুল্লাহ: ‘৪০ বছর ধরে ব্যথা বয়ে বেড়াচ্ছি, এবার বিচার চাই’


চট্টগ্রাম: ‘রাজাকার-আলবদররা গুডস হিলে আনার পর আমাকে বেঁধে উপরে পা, নীচে মাথা দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়। এরপর আমাকে রাইফেলের বাট দিয়ে পেটাতে থাকে পাকিস্তানি সেনারা। নির্যাতন সইতে না পেরে অজ্ঞান হয়ে পড়ি। জ্ঞান ফিরলে পানি, পানি বলে চিৎকার করতে থাকি।’

এটুকু বলে থামেন চট্টগ্রামের প্রবীণ ব্যবসায়ী নেতা ম. সলিমুল্লাহ। কণ্ঠস্বর কিছুটা রুদ্ধ হয়ে আসে তার।

এরপরের বর্ণনায় যাওয়ার আগে শুধু বলেন, ‘আমি ৪০ বছর ধরে এ দিনটার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। ৪০ বছর ধরে আমি নির্যাতনের চিহ্ন, ব্যথা বয়ে বেড়াচ্ছি। আমি এবার বিচার চাই।’

একাত্তর সালে তৎকালীন মুসলিম লীগ নেতা ফজলুল কাদের চৌধুরীর বাসভবন চট্টগ্রাম নগরীর রহমতগঞ্জ এলাকার গুডস হিলে নির্যাতনের এমন মর্মস্পর্শী বর্ণনা দেন সলিমুল্লাহ।

মঙ্গলবার বিকেলে গুডস হিলে দাঁড়িয়ে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত দলের সদস্য ও সাংবাদিকদের সামনে তিনি নির্যাতনের কাহিনী বর্ণনা করেন।

এ সময় নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত হিসেবে চারজনের নাম প্রকাশ করেন সলিমুল্লাহ। তারা হলেন- সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর ছোট ভাই সাইফুদ্দিন কাদের চৌধুরী, বিএনপির সাবেক হুইপ ও বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ওয়াহিদুল আলম, তৎকালীন আলশামস বাহিনীর প্রধান খোকা ও মাহবুবুল আলম।

সলিমুল্লাহ বলেন, ‘অসহায় বাঙালিদের নির্যাতন করাটা ছিল তাদের কাছে এক ধরনের উৎসবের মত। এরা বাঙালিদের ধরে নিয়ে সবাই মিলে নির্যাতনের উৎসব করত।’

গুডস হিলে আটক করে নিয়ে যাওয়ার ঘটনার বর্ণনা দিয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের সলিমুল্লাহ বলেন, ‘একাত্তর সালে নগরীর অভয় মিত্র ঘাটে আমি পারিবারিক একটি প্রিণ্টিং প্রেস চালাতাম। সেখানে কর্মচারীরা সবাই ছিল বোয়ালখালী থেকে আসা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। একাত্তরের ২ এপ্রিল সকালে আমার দু’জন কর্মচারীকে ধরে গুডস হিলে নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের ছাড়ানোর জন্য আমি সন্ধ্যার দিকে গুডস হিলে যাই। সেখানে গিয়ে আমি গেটে খোকা, মাহাবুব, ওয়াহিদ এবং সাইফুদ্দিন কাদেরকে দেখতে পাই।’

সলিমুল্লাহ’র ভাষায়, ‘তখন সাইফুদ্দিন কাদের মোটাসোটা, ফর্সা ধরনের ছিল। ওয়াহিদও যুবক ছিল।’

তিনি বলেন, ‘চারজনের মধ্যে একজন আমাকে দেখিয়ে পাকিনী সেনাদের উর্দুতে বলল এ শালা মালাউনদের আশ্রয় দিয়েছে। তাকেও বেঁধে রাখতে হবে। অবস্থা বুঝতে পেরে আমি গুডস হিলের সামনে থেকে চলে আসি। এরপর আমি মামলা করার জন্য কোতয়ালী থানায় যাওয়ার পথে একটি গাড়িতে কয়েকজন রাজাকার, আলবদর এসে আমাকে গাড়িতে টেনে তুলে ফেলে। এসময় তার পূর্বপরিচিত হিন্দু সম্প্রদায়ের এক ভদ্রলোকও গাড়িতে উঠে যান।

তিনি বলেন, ‘আমাকে গুডস হিলে নিয়ে গিয়ে প্রথমে একটি বাসার ভেতর ঢোকানো হয়। এরপর সেখানে আমাকে উপর-নীচ করে বেঁধে রাইফেলের বাট দিয়ে পেটানো হয়। কতক্ষণ পিটিয়েছিল আমি জানি না। জ্ঞান ফিরলে দেখি আমাকে একটি অন্ধকার স্যাঁতস্যাতে কক্ষের ভেতর ফেলে রাখা হয়েছে। ব্যথায় কাতরাতে কাতরাতে আমি পানি পানি বলে চিৎকার করছিলাম। এরপর আবার অজ্ঞান হয়ে পড়ি। সুবেহ সাদিকের সময় আমি কুকুরের ডাক আর গুলির আওয়াজে জেগে উঠি। এসময় এক সেনা সদস্য বাথরুম থেকে ফেরার পথে আমার মুখের উপর তার পাত্র থেকে অবশিষ্ট কিছু পানি ঢেলে দেন।’

তিনি বলেন, ‘আমাকে মোটর গ্যারেজের যে দোতলা কক্ষে আটক রাখা হয়েছিল সেটির অন্য একটি কক্ষ থেকেও ভেসে আসছিল গোঙানির আওয়াজ।’

তিনি জানান, পরদিন ৩ এপ্রিল সকাল নয়টায় তার কয়েকজন নিকট আত্মীয়ের অনুরোধে তাকে গুডস হিল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

সলিমুল্লাহ বলেন, ‘আমাকে ছেড়ে দেওয়ার পর ভেবেছিলাম যদি ডিনামাইট মেরে বাসাটা উড়িয়ে দিতে পারতাম!’

তিনি বলেন, ‘আমার উপর নির্যাতন খুবই সামান্য ঘটনা। কিন্তু যারা এত নিরীহ বাঙালিকে মেরেছে, নির্যাতন করেছে, বাঙালি মেয়েদের অপমান করেছে আমি তাদের বিচার চাই, তাদের কঠিন শাস্তি চাই।’

সলিমুল্লাহ জানান, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরুর পর ট্রাইব্যুনাল সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য ডাকলে তিনি অবশ্যই যাবেন।

এসময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘একাত্তর সালে যখন আমাকে আটক করা হয়েছিল তখন আমার মেয়ের বয়স ছিল মাত্র আড়াই মাস। আমি সেদিন আল্লাহকে বলেছিলাম-আপনি আমাকে মেয়ে দিয়েছেন, আমার মৃত্যু হলে আমার মেয়েকে আপনি দেখবেন। সুতরাং আমি একাত্তর সাল থেকেই মৃত। আমার আর মৃত্যুভয় নেই।’

সাকা চৌধুরী ও তার পিতার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমাকে নির্যাতনের সময় আমি তাদের দু’জনকে দেখিনি। তবে তাদের বাসায় এসব ঘটনা ঘটছে আর তারা জানবেন না এমন তো হয় না।’

এর আগে সোমবার তিনি চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে গিয়ে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত দলের সামনে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেন।

৬৮ বছর বয়সী প্রবীণ ব্যবসায়ী ম.সলিমুল্লাহ সিএন্ডএফ এজেণ্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি। তিনি চট্টগ্রাম চেম্বারের পরিচালক ও পোর্ট ইউজার্স ফোরামের সহ-সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

ব্যবসায়ী সমাজে সৎ ও স্পষ্টভাষী হিসেবে পরিচিত সলিমুল্লাহ’র বাসা গুডস হিলের পাশের এলাকা জামালখানে। তার বাড়ি হাটহাজারীর উত্তর মাদার্শা এলাকায়।

তদন্ত দলকে গুডস হিলের টর্চার সেল দেখিয়ে দেওয়ার পর মুঠোফোনে কাকে যেন বলছিলেন, ‘আজ আমি অনেক বড় একটি কাজ করেছি।’

এসময় সলিমুল্লাহর চোখেমুখে ছিলো পরিতৃপ্তির ছায়া।

বাংলাদেশ সময়: ২১০২ ঘণ্টা, এপ্রিল ১২, ২০১১

১১| ১৩ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ২:৪১

সামদ বলেছেন: মানবতাবিরোধী অপরাধসাকার গুডস হিলের নির্যাতন কেন্দ্রে তদন্ত দলের সদস্যরা

চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত একাত্তরের অন্যতম নির্যাতন সেল সালাহউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর বাসভবন গুডস হিল অবশেষে পরিদর্শন করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ টাইব্যুনালের তদন্তদলের সদস্যরা। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে আনীত একাত্তরের গণহত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের পর গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে পুলিশ পাহারায় তাঁর বাসভবন গুডস হিলে যান তদন্তদলের সদস্যরা। এ সময় একাত্তরে গুডস হিলে নির্যাতনের শিকার এক ব্যবসায়ী তদন্তদলের সদস্যদের কাছে নির্যাতনের বর্ণনা দেন। এতে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ওয়াহিদুল আলমসহ আল শামস বাহিনীর কয়েকজনের নাম উঠে আসে। গুডস হিলের চারপাশে গতকাল বিকেল থেকে উৎসুক জনতা ভিড় জমায়।

বিকেল পৌনে ৫টার দিকে তদন্তদলের প্রধান এএসপি নূরুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল নগরীর কোতোয়ালি থানাধীন গুডস হিলে যায়। এ সময় তাদের সঙ্গে প্রায় দুই প্লাটুন পুলিশ ছিল। প্রায় এক ঘণ্টা গুডস হিলে অবস্থানকালে নির্যাতিত ব্যবসায়ী ম সলিমুল্লাহ তদন্তদলের কর্মকর্তাদের নির্যাতনের সেলসহ আশপাশের এলাকায় একাত্তরের নির্যাতনের সেই সব চিত্র তুলে ধরেন।

ম সলিমুল্লাহ উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, 'একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকালে নগরীর অভয়মিত্র ঘাট এলাকায় আমার একটি প্রেস ছিল। সেখানে বেশির ভাগ স্টাফ ছিল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। ২ এপ্রিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সদস্যরা আমার প্রেস থেকে দুজন স্টাফকে ধরে নিয়ে যায় গুডস হিলে। তাঁদের ছাড়িয়ে আনতে আমি সেদিন রাত ৮টা-৯টার দিকে গেলে সাকা চৌধুরীর বাড়ি গুডস হিলের গেটে আমাকে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। এ সময় ওয়াহিদুল আলম, আল শামস বাহিনীর নেতা খোকা, মাহাবুবসহ কয়েকজনকে গেটে পাহাড়া দিতে দেখা যায়। এ ছাড়া সাকা চৌধুরীর ছোট ভাই সাইফুদ্দিন কাদের চৌধুরীকেও সেখানে দেখতে পাই। ওই সময় খোকা আমাকে দেখিয়ে দিয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সদস্যদের বলেন, ওই শালা মালাউনদের (হিন্দু) আশ্রয়-প্রশ্রয় দিত। তাদের বাধা ও হুমকির মুখে একপর্যায়ে সেখান থেকে কোতোয়ালি থানায় আসার পথে পেছন থেকে হানাদার বাহিনীর সদস্যরা আমাকে আটক করে গুডস হিলের এই নির্যাতনকেন্দ্রে নিয়ে আসে।'

এক প্রশ্নের জবাবে সলিমুল্লাহ বলেন, 'দ্বিতল পাকা এই বাড়ির বিভিন্ন কক্ষে লোকজনকে ধরে এনে নির্যাতন করা হতো। মাথা নিচু করে রাইফেলের বাঁট দিয়ে আমাকে নির্যাতন করা হয়েছে। একপর্যায়ে অজ্ঞান হয়ে যাই। জ্ঞান ফিরলে আশপাশের কক্ষগুলো থেকে হাউমাউ চিৎকার শুনতে পাই। পরদিন সকাল ৯টার দিকে আমাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।'

গুডস হিলে গ্যারেজের দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে একাত্তরের সেই নির্যাতনকেন্দ্র। সেই ভবনের বিভিন্ন দরজা গতকাল তালাবদ্ধ ছিল। দক্ষিণ পাশের গ্যারেজে কয়েকটি গাড়ি দেখা যায়। তদন্তদলের সদস্যরা ঘণ্টাব্যাপী গুডস হিলে অবস্থানকালে সাকা চৌধুরীর বাড়ির কোনো লোকজনকে দেখা যায়নি। তবে গুডস হিলে প্রবেশপথে দারোয়ান ছিল। আশপাশের এলাকায় পুলিশ মোতায়েন ছিল।

১২| ১৩ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ২:৪৩

সামদ বলেছেন:
সাকা চৌধুরীর বাড়িতে যুদ্ধাপরাধ তদন্ত দল



আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত কর্মকর্তারা মঙ্গলবার চট্টগ্রামে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বাসভবনে নির্যাতিত সলিমুল্লাহর সাক্ষ্য নেন সমকাল
চট্টগ্রাম ব্যুরো

যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর নগরীর গুডস হিলের বাসভবনের টর্চার সেলে ১৯৭১ সালে বিএনপি নেতা সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম, সাকার ভাই সাইফুদ্দীন কাদের চৌধুরীসহ অনেকেই জড়িত ছিলেন।

আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল তদন্ত দলকে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে গুডস হিলের টর্চার সেলে নির্যাতিত ম. সলিমুল্লাহ নামে এক ব্যক্তি সাক্ষ্যদানকালে জবানবন্দিতে এসব কথা বলেন। প্রায় ৫০ মিনিট সাক্ষ্যদানকালে তিনি '৭১ সালে নির্যাতনের করুণ চিত্র তুলে ধরেন। পাশাপাশি তদন্তের অংশ হিসেবে পাঁচ সদস্যের টিম সাকার গুডস হিলের বাসভবনও গতকাল পরিদর্শন করেন। ইতিহাসকে সহায়তা ও একাত্তর সালে নিহতদের আত্মার শান্তির জন্য স্বপ্রণোদিত হয়ে এ সাক্ষ্য দেন বলে দাবি করেন ম. সলিমুল্লাহ। গত ১৬ ডিসেম্বর ঢাকা থেকে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাকা চৌধুরীকে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তদন্ত দলের কর্মকর্তা এএসপি নুরুল ইসলাম জানান, একাত্তর সালে গুডস হিলের দোতলা ওই বাড়িতে পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের সহযোগী লোকজন আসত। ওই দোতলা বাড়ি টর্চার সেল হিসেবে ব্যবহৃত হতো। তদন্ত ও সাক্ষ্যপ্রমাণে এর সত্যতা মিলেছে। স্থানীয় দালালরা টর্চার সেল থেকে নির্যাতিতদের ছেড়ে নিত। তদন্ত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ট্রাইব্যুনাল তদন্ত দল গতকাল বিকেলে গুডস হিল পরিদর্শন করে। তদন্তে সাকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে কি-না এ প্রশ্নের জবাবে এএসপি বলেন, ইতিমধ্যেই সাকা চৌধুরীকে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে গ্রেফতার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি কারাগারে। তথ্য-প্রমাণ ও সাক্ষ্য নিতে রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, হাটহাজারী ও নগরীর বিভিন্ন জায়গায় আমরা পরিদর্শন করেছি। সাকার অভিযোগের তদন্ত মুখ্য বিষয়। তবে তদন্তের স্বার্থে তদন্তে পাওয়া তথ্যগুলো গোপন রাখা হচ্ছে।
তদন্ত দল গুডস হিলে যাওয়ার আগে স্থানীয় থানা পুলিশের সহযোগিতা চায়। কোতোয়ালি থানার ওসির নেতৃত্বে এক প্লাটুন পুলিশ ওই সময় গুডস হিলে অবস্থান নেয়।

গত বৃহস্পতিবার একাত্তরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ তদন্তে গঠিত সাত সদস্যের টিম চট্টগ্রামে আসে। তারা অপরাধ সংঘটনের বিভিন্ন ঘটনাস্থল তথা বধ্যভূমি ও টর্চার সেল পরিদর্শন, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজন হারানো লোকজনের সঙ্গে কথা বলে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেন।

১৩| ১৩ ই এপ্রিল, ২০১১ বিকাল ৩:৪৬

সামদ বলেছেন:

১৪| ১৩ ই এপ্রিল, ২০১১ বিকাল ৩:৪৬

সামদ বলেছেন:

১৫| ১৩ ই এপ্রিল, ২০১১ বিকাল ৪:০৭

সামদ বলেছেন: সাকা চৌধুরীর চট্টগ্রামের বাড়িতে তদন্ত দলনির্যাতনকেন্দ্র হিসেবে শনাক্ত করলেন এক নির্যাতিত

প্রথম আলো | তারিখ: ১৩-০৪-২০১১

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর পৈতৃক বাড়ি চট্টগ্রাম নগরের গুডস হিলে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বাড়িটি নির্যাতনকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের প্রমাণ পেয়েছে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত দল।

তদন্ত দল গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে বাড়িটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে এবং একাত্তরে নির্যাতিত এক ব্যবসায়ী নির্যাতনের কেন্দ্র হিসেবে এটি শনাক্ত করেন। ৬৮ বছর বয়সী ওই ব্যবসায়ীর নাম ম. সলিম উল্লাহ। পরে তিনি এবং তদন্ত দলের সদস্যরা সেখানে নির্যাতনকেন্দ্র থাকার বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান।

তদন্ত দল সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি সলিম উল্লাহকে নিয়ে ওই বাড়িতে প্রায় এক ঘণ্টা তদন্ত করে। কোথায়, কীভাবে সে সময় নির্যাতন করা হতো, তদন্ত দলকে এর বর্ণনা দেন তিনি। দুই সদস্যের তদন্ত দলের নেতৃত্বে ছিলেন সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) নুরুল ইসলাম। অন্য সদস্য হলেন পরিদর্শক মো. ওবায়দুল্লাহ।
তদন্ত শেষে এএসপি নুরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী বর্তমানে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আটক রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে তদন্তই আমার এখানে মুখ্য বিষয়। আর যাঁদের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণ রয়েছে, সেগুলো আপাতত তদন্তের স্বার্থে গোপন থাকবে।’ তিনি বলেন, ‘এখানে যে পুরোনো ভবন রয়েছে, সেটি তখন ছিল গাড়ির গ্যারেজ। গ্যারেজের দোতলায় তখন থাকতেন তাঁদের সহযোগী সিন্ধি পুলিশের লোকজন। নিচতলায় গাড়ি রাখার স্থানে স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে লোকজন ধরে এনে নির্যাতন করা হতো। কাউকে কাউকে হত্যাও করা হতো।’

জানা যায়, ওই বাড়ি থেকে কিছু জব্দ করা হয়নি। একটি সার্চ লিস্ট (খোঁজ তালিকা) করা হয়। তাতে গুডস হিলের তত্ত্বাবধানে থাকা তিন কর্মচারীর স্বাক্ষর নেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার থেকে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত দলের সদস্যরা চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন ও সাক্ষ্য গ্রহণ করছেন। তাঁরা রাউজানে নির্যাতিত ব্যক্তিদের সাক্ষ্যও নেন। আজ বুধবারও তদন্ত চলবে বলে জানা গেছে।

সলিম উল্লাহকে কীভাবে ধরে আনা হয়েছিল এবং কীভাবে মুক্তি পেয়েছিলেন, সাংবাদিকদের এসব জানান তিনি। নির্যাতনের সময় সাকা চৌধুরীকে দেখেছিলেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটি তাঁদের পৈতৃক বাড়ি এবং নির্যাতনের সময় তাঁর ছোট ভাই সাইফুদ্দিনকে দেখেছি। তাঁর বাবা ফজলুল কাদের চৌধুরী এবং তাঁর সব সন্তানই এখানে নির্যাতনের সঙ্গে যুক্ত।’

নির্যাতনের বর্ণনা:

সলিম উল্লাহ সাংবাদিকদের জানান, নগরের অভয় মিত্র ঘাটে তাঁদের পারিবারিক প্রিন্টিং প্রেস ছিল। ওই প্রেসের কর্মীরা থাকতেন রহমতগঞ্জে। একাত্তরের ২ এপ্রিল রাতে তাঁদের দুই কর্মীকে আলশামস বাহিনী রহমতগঞ্জের বাসা থেকে ধরে নেওয়ার সময় তিনি বাধা দেন। স্থানীয় আলশামস বাহিনীর কমান্ডার খোকা ও মাহবুবের নেতৃত্বে পাকিস্তানি বাহিনী একটি জিপে করে এ সময় তাঁকেও গুডস হিলে ধরে নিয়ে যায়। খলিফ নামের অপর একজনকেও তাঁর সঙ্গে একই গাড়িতে নেওয়া হয়।

সাকা চৌধুরীর একতলা পৈতৃক বাড়িটি দেখিয়ে সলিম সাংবাদিকদের বলেন, ধরে আনার পর এখানকার একটি কক্ষে তাঁকে বেঁধে, পা ওপরের দিকে ও মাথা নিচের দিকে ঝুলিয়ে বেদম পেটানো হয়। এ সময় ওই কক্ষে খোকা, মাহবুব ছাড়াও সাকা চৌধুরীর ছোট ভাই সাইফুদ্দিন কাদের চৌধুরী, সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমকে (সাবেক হুইপ ও বর্তমানে বিএনপির নেতা) দেখেন তিনি। এরপর তাঁদের গ্যারেজে রেখে তালা মেরে চলে যায়। আশপাশের কক্ষ থেকে মানুষের আর্তচিৎকার শুনেছেন। পরদিন সকাল নয়টার দিকে তাঁর মামা আইনজীবী আবুল কাশেমের মধ্যস্থতায় তিনি নির্যাতনকেন্দ্র থেকে মুক্তি পান। তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকলেও মুক্তিযুদ্ধের প্রতি তাঁর পূর্ণ সমর্থন ছিল।

সলিম উল্লাহ বলেন, বাড়ির গ্যারেজের ওপরতলায় ছিল পাকিস্তানি বাহিনীর ক্যাম্প এবং নিচে বিভিন্ন কক্ষে ধরে আনা মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষকে নির্যাতন করা হতো।

১৬| ১৭ ই এপ্রিল, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:১০

সামদ বলেছেন:
গুডস হিলের নির্যাতনকেন্দ্র ও একজন নির্যাতিত

প্রথম আলো | তারিখ: ১৭-০৪-২০১১




১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় নগরের গুডস হিলে অনেক মুক্তিযোদ্ধা ও নিরীহ লোকজনকে এনে হত্যা ও নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ ছিল আগে থেকেই। ৪০ বছর পর এ নির্যাতনকেন্দ্র শনাক্ত করেছে মানবতাবিরোধী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত দল।

সেদিন মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ম ছলিম উল্লাহ তদন্ত দলের কাছে সেই দুঃসহ স্মৃতি বর্ণনা করেছেন। পাশাপাশি সাংবাদিকদেরও বলেছেন সেসব কাহিনি।

মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর রানা দাশগুপ্ত বলেন, ‘গুডস হিলে আলশামস বাহিনীর যে নির্যাতনকেন্দ্রটি ছিল সেটা তদন্তে উঠে এসেছে। অনেক নির্যাতিত সাক্ষ্য-প্রমাণও দিয়েছেন।’

নির্যাতনকেন্দ্রের সেকাল একাল:

নগরের গনি বেকারি মোড়সংলগ্ন গুডস হিলে সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর পৈতৃক বাড়িটির অবস্থান।

খাড়া পাহাড়ের ওপর ওঠার একটি পিচঢালা রাস্তা রয়েছে। ঢোকার মুখে একটি লোহার ফটক। ফটক পেরিয়ে ওপরে উঠলেই চোখে পড়বে বিশাল ফাঁকা জায়গা। এর এক পাশে একতলা বিশাল বাড়ি। বিপরীত দিকে দোতলা অবকাঠামোর আরেকটি দালান। এর নিচতলায় গাড়ি রাখা হতো একসময়। এখন অনেকটা পরিত্যক্ত। স্থানে স্থানে পলেস্তারা খসে পড়েছে। ধূসর হয়ে গেছে দেয়ালের রং। কাঠের দরজা দুটি দীর্ঘদিন অব্যবহূত থাকায় ভেঙে যাওয়ার দশা। জীর্ণশীর্ণ ভবনটির গায়ে কান পাতলে হয়তো এখনো শোনা যাবে অনেক নির্যাতিত মানুষের আর্তচিৎকার।

গ্যারেজের সামনে দুটি পুরোনো জিপ সে সময়ের স্মৃতিচিহ্ন বহন করছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় এ গাড়ি দুটি সচল ছিল বলে অনেকের অভিমত। গাড়ির এই গ্যারেজটি ৪০ বছর আগে ব্যবহূত হয়েছিল নির্যাতনকেন্দ্র হিসেবে। এখানে মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষকে ধরে এনে নির্যাতন করা হতো বলে নির্যাতিত একাধিক মানুষ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত দলের কাছে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) নুরুল ইসলাম বলেন, ফজলুল কাদের চৌধুরীর বাড়ির পুরোনো গ্যারেজটি নির্যাতনকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহূত হতো তা আমাদের তদন্তে উঠে এসেছে। গ্যারেজটির দোতলায় পাকিস্তানি বাহিনীর ক্যাম্প এবং নিচে বিভিন্ন কক্ষে মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষ ধরে এনে নির্যাতন করা হতো। এর মধ্যে কাউকে হত্যা করা হতো, আবার কাউকে দালালদের সুপারিশে ছেড়ে দেওয়া হতো।’

গ্যারেজের দোতলায় ছিল পাঞ্জাবিদের ক্যাম্প। কখনো বাড়ির মালিক কিংবা তার সন্তান ও দোসররা আবার কখনো নির্যাতন করত ক্যাম্পের লোকজন। মূল নির্যাতনকেন্দ্র এটি হলেও পুরো গুডস হিলের বিভিন্ন দিক থেকে আসত নির্যাতিত মানুষের চিৎকার এমন ভাষ্য ম ছলিম উল্লাহর। তিনি বলেন, ‘আমাকে এই গ্যারেজে রেখে নির্যাতন করা হয়েছিল। সারা রাত বাইরের বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষের আর্তচিৎকার শুনেছি। শুনেছি গুলির শব্দও।’

৪০ বছর পর গুডস হিলে: একাত্তরের ২ এপ্রিল ম ছলিম উল্লাহকে এই গুডস হিলে ধরে এনে নির্যাতন করা হয়েছিল। তখন তাঁর বয়স ছিল ২৮ বছর। ৪০ বছর পর ১২ এপ্রিল তিনি আবার পা রাখেন তদন্ত দলের সঙ্গে। এ সময় তিনি সোজা চলে যান নির্যাতনকেন্দ্রের সামনে। বর্ণনা দেন সেই নির্যাতনের।

একাত্তরের ২ এপ্রিল রাতে নগরের অভয়মিত্রঘাটে ছলিম উল্লাহর বাবার একটি প্রিন্টিং প্রেসের দুই শ্রমিককে আল শামস্ বাহিনীর সদস্যরা রহমতগঞ্জ এলাকার বাসা থেকে ধরে নেওয়ার সময় তিনি বাধা দিয়ে প্রতিবাদ করেন। এ সময় তাঁকেও খোকা ও মাহবুবের নেতৃত্বে পাক বাহিনীর সদস্যরা একটি জিপে করে গুডস হিলে সাকা চৌধুরীর বাসভবনে ধরে নিয়ে যান।

সাকা চৌধুরীর একতলা পৈতৃক বাড়িটি দেখিয়ে তিনি বলেন, ধরে নেওয়ার পর সেখানের একটি কক্ষে তাঁকে বেঁধে পা ওপরের দিকে ও মাথা নিচের দিকে করে ঝুলিয়ে রেখে বেদম পেটানো হয়।

এ সময় ওই কক্ষে তিনি খোকা, মাহবুব ছাড়াও সাকা চৌধুরীর ছোট ভাই সাইফুদ্দিন কাদের চৌধুরীকে দেখতে পান। পেটানোর পর তাঁকে নির্যাতনকেন্দ্রে ফেলে রেখে আসা হয় এবং তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন বলে জানান।

পরদিন সকাল নয়টার দিকে ছলিম উল্লাহ তাঁর মামা অ্যাডভোকেট আবুল কাশেমের মধ্যস্থতায় ওই নির্যাতনকেন্দ্র থেকে মুক্তি পান।

১৭| ১৮ ই এপ্রিল, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:৪০

সাহাদাত উদরাজী বলেছেন: ভাল সংগ্রহ।

২৫ শে এপ্রিল, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:৩২

সামদ বলেছেন: আরো ভালো হবে যেদিন ঐ নরপশু সাকা আর ওর ভাই গিকারে ফাঁসিতে ঝুলতে দেখব।

১৮| ২৮ শে এপ্রিল, ২০১১ রাত ১০:৫৯

সামদ বলেছেন:








১৯| ১৪ ই নভেম্বর, ২০১১ রাত ১১:১০

সামদ বলেছেন: সাকার যুদ্ধাপরাধ অভিযোগ উত্থাপনে আবেদন

ঢাকা, নভেম্বর ১৪ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপনের আবেদন করেছে প্রসিকিউশন দল।

চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু বিষয়টি নিশ্চিত করে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সোমবার বিকাল সাড়ে ৪টার পর এ আবেদন করা হয়।

সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "বিএনপির এ জ্যেষ্ঠ নেতার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের ২০টি অভিযোগ আমলে নেওয়ার প্রস্তাব করছে প্রসিকিউশন।"

গত ৩ অক্টোবর একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য জামায়াতে ইসলামির নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল।

গত ৪ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় প্রসিকিউশন। তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ উত্থাপনের জন্য তখন এক মাস সময় চায় প্রসিকিউশন দল।

ট্রাইব্যুনালে তাতে সাড়া দিয়ে ১৪ নভেম্বর সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপনের দিন ঠিক করে।

৩ অক্টোবর সালাউদ্দিন কাদেরকে নিয়ে ১১৯ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশন বিভাগকে দেয় তদন্ত সংস্থা। প্রতিবেদনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদেরের বিরুদ্ধে একাত্তরে খুন, অপহরণ, ধর্ষণ, নির্যাতনের তথ্য প্রমাণ উঠে আসে।

'সাকা চৌধুরী' নামে পরিচিতি এই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে ১১৯ পৃষ্ঠার এই মূল প্রতিবেদনের সঙ্গে আট হাজারেরও বেশি পৃষ্ঠার তথ্য উপাত্তের অনুলিপি সংযোজন করা হয়।

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আসামিদের মধ্যে একমাত্র সাকাই এখনো কোনো আইনজীবী নিয়োগ দেননি। ট্রাইব্যুনালে তিনি নিজেই নিজের পক্ষে কথা বলে আসছেন।

২ অক্টোবর এক সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম জানান, তদন্তে ৩২টি সুনির্দিষ্ট ঘটনায় সালাউদ্দিন কাদেরের জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে। একাত্তরে তার 'হাতে' নিহতদের একটি তালিকাও তৈরি করা হয়েছে।

সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে একাত্তরে চট্টগ্রামের রাউজানে কুণ্ডেশ্বরী ঔষধালয়ের মালিক নূতন চন্দ্র সিংহকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া গণহত্যায় মদদ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

২০১০ সালের ২৬ জুলাই সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনালে আবেদন করে তদন্ত সংস্থা। এর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গাড়ি পুড়িয়ে যাত্রী হত্যার মামলায় এ সংসদ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১৯ ডিসেম্বর যুদ্ধাপরাধের অভিযোগেও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

সাঈদী ও সাকা চৌধুরী ছাড়াও জামায়াতের চার শীর্ষ নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মো. মুজাহিদ, মো. কামারুজ্জামান ও আব্দুল কাদের মোল্লা যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আটক রয়েছেন।

এছাড়া জিয়াউর রহমান আমলের মন্ত্রী আব্দুল আলীমকে যুদ্ধাপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার করা হলেও তিনি শর্তসাপেক্ষে জামিনে রয়েছেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/টিএ/এএইচ/পিডি/২০৩৯ ঘ.

২০| ১৪ ই নভেম্বর, ২০১১ রাত ১১:১০

সামদ বলেছেন: সাকার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র, ৩২ ঘটনায় সম্পৃক্ততা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ঢাকা: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন সরকার পক্ষের কৌঁসুলিরা।

রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত সোমবার বিকেল ৫টায় ট্রাইব্যুনালের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মেজবাহ উদ্দিন আহমদের কাছে আট হাজার পৃষ্ঠার তথ্য-উপাত্তসহ ৫১৯ পৃষ্ঠার এ অভিযোগপত্র জমা দেন।

অভিযোগপত্রে ৩২টি মানবতাবিরোধী ঘটনায় সাকা চৌধুরীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলা হয়েছে।

আট হাজার পৃষ্ঠার তথ্য-উপাত্তে রয়েছে এসব অভিযোগেরই কেস ম্যাপ, সাক্ষীদের জবানবন্দি, নির্যাতিত পরিবারের সদস্যদের সাক্ষ্য ইত্যাদি।

সাকার বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগের মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম ও রাউজানসহ মধ্য বহিরা, জগৎমল্লপাড়া ও ঊনসত্তরপাড়ায় তার চালানো নির্যাতনের বিররণ।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, মধ্য বহিরায় ড. মাখনলাল শর্মাসহ চার জনকে হত্যা করেছেন সাকা চৌধুরী। একই এলাকার বিশ্বাসপাড়ায় মণীন্দ্র বড়ুয়া, দয়াল হরি, মহেশ মহাজনকে হত্যা, কুণ্ডেশ্বরী ঔষধালয়ের প্রতিষ্ঠাতা নতুন চন্দ্র সিংহকে হত্যা এবং জগৎমল্লপাড়ায় ৩২ জনকে গুলি করে হত্যার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

আগামীকাল মঙ্গলবার অভিযোগপত্র বিষয়ে শুনানি হতে পারে বলে জানিয়েছেন ডেপুটি রেজিস্ট্রার মমতাজ উদ্দিন।

বাংলাদেশ সময়: ১৭৪৫ ঘণ্টা, নভেম্বর ১৪, ২০১১

২১| ২৩ শে নভেম্বর, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:১৪

সামদ বলেছেন: মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার: একাত্তরের সাকা ভয়ংকর
এম বদি-উজ-জামান

(বুধবার, ২৩ নভেম্বর ২০১১)


চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানার রামজয় মহাজন লেনের বাসিন্দা মতিলাল চৌধুরী ও শান্তি কুসুমের সন্ধান গত ৪০ বছরেও মেলেনি। তাঁদের ১৯৭১ সালের ৫ এপ্রিল বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর (সাকা চৌধুরী) বাড়ি গুডহিলে। একই সঙ্গে ধরে নেওয়া হয় সুনীলসহ আরো ছয়জনকে। এর মধ্যে মতিলাল চৌধুরীর কর্মচারী সুনীলকে ছেড়ে দেওয়া হয় মারাত্মক আহত অবস্থায়। কিন্তু মতিলাল, শান্তি কুসুমসহ অন্য ছয়জনের সন্ধান আজও মেলেনি। তদন্ত সংস্থার ধারণা, মতিলালসহ ছয়জনকে নির্যাতন করে হত্যার পর তাঁদের লাশ গুম করা হয়েছে।

শুধু মতিলাল বা শান্তি কুসুম নয়, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত মাত্র পাঁচ মাসে রাউজানসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে কমপক্ষে ৪৩৭ ব্যক্তিকে হত্যার সঙ্গে সাকা চৌধুরী জড়িত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে রাউজানের শাকপুরা, ঊনসত্তরপাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে গণহত্যা চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। শুধু রাউজানেই ৯টি গণহত্যা চালানো হয়েছে। সাকা চৌধুরীর উপস্থিতি ও নির্দেশে তাঁর সহযোগীরা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে এসব গণহত্যা চালায়। মূলত হিন্দু সম্প্রদায় ও আওয়ামী লীগ সমর্থকদের নিশ্চিহ্ন করার জন্যই এসব হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয় বলে তথ্য পেয়েছে তদন্ত সংস্থা।

সাকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো বিচারের জন্য ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নজরে আনা হয়েছে। বারবার রাজনৈতিক দল বদলকারী বর্তমানে বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী এখন বিচারের মুখোমুখি। তদন্ত সংস্থা দীর্ঘ তদন্ত শেষে সাকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে ৩২টি গুরুতর অপরাধের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ এনে গত ৪ অক্টোবর ১১৯ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে। এর সঙ্গে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টও দাখিল করা হয়। এ তথ্য ট্রাইব্যুনালকে জানানো হয়। গত ২ অক্টোবর তদন্ত কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম এক প্রেস ব্রিফিং করে সাকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে তদন্ত সম্পন্ন করার ঘোষণা দেন। ৪ অক্টোবর বিচারপতি নিজামুল হকের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনালে সাকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে অপরাধগুলো সংক্ষিপ্ত আকারে তুলে ধরেন প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম। এর পর প্রসিকিউশন ইউনিট তদন্ত প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই করে সাকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে ২৫টি গুরুতর অপরাধের ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ এনে গত ১৪ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ফরমাল চার্জ (আনুষ্ঠানিক অভিযোগনামা) দাখিল করে। আগামীকাল ২৪ নভেম্বর ফরমাল চার্জের কপি সাকা চৌধুরীর হাতে তুলে দেওয়ার জন্য দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। তদন্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হয়েছে। সাকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের এসব অভিযোগে ১৪৬ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

গত ৪ অক্টোবর তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে সংক্ষিপ্ত আকারে উপস্থাপন করে প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম বলেন, মুক্তিযুদ্ধকালে চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করে সদর এবং নিজের এলাকা রাউজানে সাকা চৌধুরী মানবতাবিরোধী বিভিন্ন অপরাধ করেন। তাঁর বিরুদ্ধে ৩২টি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব অপরাধের সঙ্গে সাকা সরাসরি যুক্ত ছিলেন। একাত্তর সালে সাকা চৌধুরীর চট্টগ্রাম শহরের বাসভবন 'গুডহিল'কে টর্চার সেন্টার করা হয়। সেখানে ক্রমাগতভাবে শহরের মুক্তিযোদ্ধা, হিন্দুধর্মের লোকজন, শিল্পী-সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও নারীদের ধরে এনে নির্যাতনের পর হত্যা করা হতো। শুধু তাই নয়, সাকার নিজের এলাকা রাউজানের ডা. নূতন চন্দ্র সিংহ ও মধ্য গহিরার ডা. মাখন লাল শর্মাসহ গহিরা বিশ্বাসপাড়া, জগৎমল্লপাড়া, ঊনসত্তরপাড়াসহ হিন্দু অধ্যুষিত পুরো এলাকা আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। তদন্ত প্রতিবেদনের সঙ্গে একাত্তর সাল এবং তার পরে সাকা চৌধুরী সম্পর্কে পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন, এক হাজার ২৭৫ পৃষ্ঠার আনুষঙ্গিক নথিপত্র এবং ১৮টি সিডি জমা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য ও প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি সাক্ষ্য হিসেবে দাখিল করা হয়েছে। সাকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনের ৩(২)(ক), ৩(২)(গ)(১ ও ২) এবং ৩(২)(ছ) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

ফরমাল চার্জে কোন ২৫টি অভিযোগ আনা হয়েছে, সে বিষয়ে প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম ও রানা দাসগুপ্তের কাছে জানতে চাওয়া হলে তাঁরা তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, ন্যায়বিচারের স্বার্থে কোনো কথা বলা যাবে না। আদালত অভিযোগ গঠন করার পর সব জানতে পারবেন। এর আগে কোনো তথ্য জানানো ঠিক হবে না। এতে বিচারকাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকবে।

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাকা চৌধুরীকে গ্রেপ্তারের জন্য ১৫ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনালে আবেদন করে তদন্ত সংস্থা। এর কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই ১৬ ডিসেম্বর ভোর রাতে বনানীর একটি বাসা থেকে তাঁকে গাড়িতে অগি্নসংযোগের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর আদালতের নির্দেশে প্রথমবারের মতো তাঁকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তাঁকে ধানমণ্ডির সেফ হোমে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্ত সংস্থা।

অভিযোগ থেকে জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধের সময় ভীত-সন্ত্রস্ত হিন্দু সম্প্রদায় যখন নিজেদের জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করেছে, ঠিক তখন সাকা চৌধুরীর সহযোগী আবু মাবুদসহ দুই ব্যক্তি রাউজানের গহিরার জগৎমল্লপাড়ায় কিরণ বিকাশ চৌধুরীর বাড়িতে হিন্দু সম্প্রদায়ের ব্যক্তিদের জড়ো করে। শান্তি কমিটির সভা করার জন্য সেখানে তাদের জড়ো করা হয়। শান্তি কমিটির সভায় যোগ দিলে যদি জীবন বাঁচে_এ আশায় তারা যোগ দেয় কিরণ বিকাশের বাড়ির সভায়। লোক জড়ো হওয়ার পর বিষয়টি জানানো হয় সাকা চৌধুরীকে। এর কিছুক্ষণ পর সাকা চৌধুরী পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে নিয়ে সেখানে হাজির হন। এর পর পাকিস্তানি সেনারা ব্রাশফায়ার চালায়। ঘটনাস্থলেই তেজেন্দ্র লাল নন্দী, সমির কান্তি চৌধুরী, কিরণ বিকাশ চৌধুরীসহ ৩২ জন নিহত হন। পরে নিহতদের ওই বাড়ির উঠানেই গণকবর দেওয়া হয়। মারা যায় ৩২ জন। ১৯৭১ সালের ১৩ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে ঘটানো হয় এ গণহত্যা। তদন্ত সংস্থা এ গণকবর পরিদর্শনও করে।

একই দিন বিকেল ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে রাউজানের ঊনসত্তরপাড়ায় চালানো হয় গণহত্যা। সাকা চৌধুরীর উপস্থিতিতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ব্রাশফায়ারে চরণ পাল, বাবুল মালীসহ ৭০ জনকে হত্যা করে। হিন্দু সম্প্রদায়কে নিশ্চিহ্ন করার জন্য এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। জানা যায়, হিন্দু সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ এলাকায় থাকবে কি থাকবে না, এমন অবস্থার মধ্যে একই এলাকার ক্ষিতিশ চন্দ্র মহাজনের বাড়ির পেছনে পুকুরপাড়ে ডাকা হয় শান্তি কমিটির সভা। এলাকার লোকজন সেখানে উপস্থিত হওয়ার পর সাকা চৌধুরীসহ পাকিস্তানি সেনারাও হাজির হয়। সভার শুরুতেই সাকার সহযোগীরা গালাগালি শুরু করে। একপর্যায়ে সেনাবাহিনী ব্রাশফায়ার করে। এতে ৭০ জনের বেশি ব্যক্তি নিহত হয়। তবে তদন্ত সংস্থা ৫০ জনকে শনাক্ত করতে পেরেছে বলে জানা গেছে। হত্যার পর সেখানেই নিহতদের গণকবর দেওয়া হয়। এই গণকবরটিও পরিদর্শন করেছে তদন্ত সংস্থা।

চট্টগ্রামে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে সবচেয়ে বর্বর হত্যাকাণ্ড ঘটে রাউজানের শাকপুরা গ্রামে। এখানকার হিন্দু ও মুসলমানদের এক জায়গায় করে গণহত্যা চালানো হয়। এ গ্রামে হিন্দু-মুসলমান মিলে তিন শতাধিক ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়। তবে নিহতদের মধ্যে ফয়েজ আহমেদ, আলাল আহমেদ, আহাম্মদ ছফা, নিকুঞ্জ শীলসহ ৫২ জনকে শনাক্ত করা গেছে বলে তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জানা যায়, পাকিস্তানি বাহিনীর আসার খবর পেয়ে এলাকার হিন্দু-মুসলমানরা শাকপুরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে জঙ্গলে আশ্রয় নেয়। পরে পাকিস্তানি সেনারা সেখানে ব্রাশফায়ার চালায়। এতে তিন শতাধিক ব্যক্তি নিহত হয় বলে তদন্ত সংস্থা তথ্য পেয়েছে।
শুধু গ্রামের নিরীহ ব্যক্তিদের হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি সাকা চৌধুরী, হানাদার ও তাদের দোসররা। পথচারীদের ধরে এনেও নির্যাতনের পর হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ পেয়েছে তদন্ত সংস্থা।
জানা গেছে, একাত্তরের ১৭ এপ্রিল চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ মোজাফফর আহমেদ ও তাঁর ছেলে শেখ আলমগীরকে খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়কের হাটহাজারী বাসস্ট্যান্ড থেকে ধরে স্থানীয় সেনাক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নির্যাতন চালিয়ে তাঁদের হত্যা করা হয়।

১৩ এপ্রিল রাউজানের মধ্য গহিরার হিন্দুপাড়ায় সাকা চৌধুরীর উপস্থিতিতে আরেকটি গণহত্যা চালানো হয়। এদিন সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ৮টার মধ্যে ডা. মাখন লাল শর্মার বাড়িতে পাকিস্তানি সেনারা হামলা চালিয়ে পাঁচজনকে হত্যা করে।

একই দিন সকাল সাড়ে ৮টার পর গহিরার বিশ্বাসপাড়ায় গণহত্যা চালানো হয়। এখানে দয়াল হরিসহ পাঁচজনকে ব্রাশফায়ারে হত্যা করা হয়। হত্যার পর সেখান থেকে চলে যাওয়ার আগে লুটপাট করা হয়। এরপর বিভিন্ন হিন্দু বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

একই দিন দুপুর ১টার দিকে রাউজানের সুলতানপুরের বণিকপাড়ায় নেপাল চন্দ্র ধরসহ চারজনকে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর সাকা চৌধুরী সেখানে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে সাক্ষ্য পেয়েছে তদন্ত সংস্থা।

সাকা চৌধুরী ও তাঁর সহেযোগীদের বিরুদ্ধে ১০ মে ঘাসি মাঝিরপাড় এলাকায় নুরুল আলম, আয়েশা খাতুন, জানে আলম ও আবুল কালামকে হত্যা করার অভিযোগ পেয়েছে তদন্ত সংস্থা। এ জায়গা থেকে সাকা চৌধুরীর নেতৃত্বে তাঁর সহযোগীরা পাঁচ নারীকে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে তুলে দেয়। সেখানে তাঁদের ধর্ষণ করা হয় বলে প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত সংস্থা।

এ ছাড়া রাউজানের সুলতানপুরে ৫ মে বিজয় কৃষ্ণ চৌধুরীসহ তিনজনকে জবাই করে হত্যা, গহিরার নূতন চন্দ্র সিংহ, রাউজান থানার কদুরখিল হিন্দুপাড়ার শান্তি দেব, রাউজানের কর্তার দিঘিরপাড় এলাকার মো. হানিফকে অপহরণ করে হত্যা, একই থানার সতীশ চন্দ্র পালিতকে হত্যা, চট্টগ্রামের ওয়াজেদ মিয়াকে অপহরণ করে হত্যা, মাহবুব আলমকে হত্যা, বোয়ালখালীর এখলাস মিয়াকে অপহরণের পর হত্যার অভিযোগ পেয়েছে তদন্ত সংস্থা। এর মধ্যে সতীশ চন্দ্রের মরদেহ পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়া হয়।

এসব হত্যাকাণ্ড ছাড়াও সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য মো. সালেহউদ্দিনকে চট্টগ্রামের চান্দগাঁও থানার মোহরার গ্রাম থেকে অপহরণ করে ১৫ জুলাই থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত নির্যাতন করা হয়। স্থানীয় ইউপি সদস্যরা তাঁকে ছাড়িয়ে নিলে তিনি প্রাণে বেঁচে যান। চট্টগ্রাম কোতোয়ালি থানার হাজারী লেনের জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর বাড়িতে নিজামউদ্দিনসহ সাতজনকে নির্যাতন করা হয়। পরে নিজামউদ্দিনকে কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ডাবলমুরিং থানার সদরঘাটের নুরুল আনোয়ার চৌধুরীসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন ব্যক্তিকে ধরে নিয়ে সাকার বাড়ি গুডহিলে নির্যাতন করার অভিযোগ রয়েছে তদন্ত সংস্থার কাছে।

হত্যা, গণহত্যা, নির্যাতনের অভিযোগের পাশাপাশি রাউজানের ডাবুয়া গ্রামের মানিক ধরের বাড়িসহ বিভিন্ন এলাকার হিন্দু বাড়িতে লুটপাটের অভিযোগও রয়েছে সাকা চৌধুরী ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে।

২২| ০১ লা ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ৮:৪৬

সামদ বলেছেন: মন্তব্য: সাকার খবর ভিতরে

‘রাজাকার মীর কাশেম আলীকে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে সরকার’
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম



ছবি: উজ্জ্বল ধর /বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

চট্টগ্রাম: চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী মীর কাশেম আলীকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার এবং সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন চট্টগ্রামের মুক্তিযোদ্ধারা।

বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমী প্রাঙ্গণে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে জেলা ও মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ আয়োজিত সমাবেশে মুক্তিযোদ্ধারা এ কথা বলেন।

তারা অভিযোগ করেছেন, সরকারের ভেতর একটি মহল চট্টগ্রামের চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী মীর কাশেম আলীকে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছেন। অবিলম্বে তাকে গ্রেপ্তার করা না হলে পৃষ্ঠপোষকতা দানকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন তারা।

বিজয়ের মাসে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে মাসব্যাপী জনমত গঠন কর্মসূচীর উদ্বোধন উপলক্ষে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সকালে শিল্পকলা একাডেমী প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচীর উদ্বোধন করা হয়।

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম জেলা ইউনিটের কমান্ডার মো. সাহাবুদ্দিনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মহানগর কমান্ডার মোজাফফর আহমেদ, মুক্তিযোদ্ধা মো.নইমুদ্দিন, আইয়ূব নাছের, ফজল আহমেদ, সরওয়ার কামাল দুলু, ইলিয়াছ মিয়া ও গোলাম রব্বানী।

সমাবেশে জেলা কমান্ডার মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘চিহ্নিত কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা গ্রেপ্তার হলেও চট্টগ্রামের কুখ্যাত রাজাকার মীর কাশেম আলীকে এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি। বরং বিদেশে লবিস্ট নিয়োগ করে তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচালের চেষ্টা করছেন। অথচ সরকার তাকে গ্রেপ্তারে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এ থেকে প্রমাণ হয় সরকারের ভেতর একটি মহল তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে।’

সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর চেষ্টা মুক্তিযোদ্ধারা এবং দেশের জনগণ মানবে না। মীর কাশেম আলীকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করা না হলে তাকে যারা বাঁচানোর চেষ্টা করছেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’

সমাবেশে মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, ‘সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে এক বছর আগে গ্রেপ্তার করা হলেও তার বিচার এখনো সম্পন্ন হয়নি। চট্টগ্রামবাসী অবিলম্বে তার বিচার দেখতে চায়। শুধু বিচার নয়, তার যেন সর্বোচ্চ সাজা হয় সেটাই দেখতে চান মুক্তিযোদ্ধারা।’

একটি মাত্র ট্রাইব্যুনাল দিয়ে যুদ্ধাপরাধের বিচারের ধীরগতিতে হতাশা প্রকাশ করে মুক্তিযোদ্ধারা জেলায় জেলায় ট্রাইব্যুনাল গঠনেরও দাবি জানিয়েছেন।

সমাবেশ থেকে ঘোষিত মাসব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে আছে, জেলা, উপজেলা ও মহানগরী পর্যায়ে মানববন্ধন, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে স্মারকলিপি, ১৬ ডিসেম্বর বিজয় র‌্যালি, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, সভা, সেমিনার এবং পাড়ায়, পাড়ায় বিজয় মিছিল।

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মীর কাশেম আলী তৎকালীন পাকিস্তান জামায়াত ইসলামীর ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি ছিলেন।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীকে সহায়তার জন্য আলবদর বাহিনী গঠিত হলে মীর কাশেম আলী ওই বাহিনীর চট্টগ্রামের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পান।

মীর কাশেম আলীর নেতৃত্বে আলবদর বাহিনীর লোকজন নগরীর পুরাতন টেলিগ্রাফ রোডের মহামায়া ভবন দখল করে গড়ে তোলে টর্চার সেল। এর নামকরণ করা হয় ডালিম ভবন।

ওই ভবনে তৎকালীন ন্যাপ নেতা সাইফুদ্দিন খান, সেলিম চৌধুরীসহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনৈতিক নেতা ও মুক্তিযোদ্ধাদের ধরে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। এছাড়া চট্টগ্রামের বিভিন্ন জায়গায় গণহত্যায়ও মীর কাশেম আলী নেতৃত্ব দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

আলবদর বাহিনীর কমান্ডার হিসেবে সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে মুক্তিযুদ্ধের শেষদিকে ওই বাহিনীর তিন নম্বর সদস্য হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়। অবশ্য দেশ স্বাধীন হবার আগেভাগে তিনি পালিয়ে সৌদিআরব চলে যান।

বর্তমানে মীর কাশেম আলী দেশের অন্যতম শীর্ষ শিল্পপতি। তিনি দিগন্ত মিডিয়া কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান ও নয়াদিগন্তের প্রকাশক।

বাংলাদেশ সময়: ১৪১৫ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ০১, ২০১১


২৩| ২৪ শে মার্চ, ২০১২ রাত ১০:০০

সামদ বলেছেন: ‘কারা কর্মকর্তাকে হুমকি সাকার স্বজনদের’


Sat, Mar 24th, 2012 9:24 pm BdST


গাজীপুর, মার্চ ২৪ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- সাক্ষাতের সময় কারাবিধি লঙ্ঘনে বাধা দেওয়ায় কর্মকর্তাদের অশালীন গালাগাল দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও তার স্বজনদের বিরুদ্ধে।

গাজীপুরের কাশিমপুরে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার ইউনিট-২-এ শনিবার এ ঘটনা ঘটে বলে কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

সালাউদ্দিন কাদেরের (সাকা) সঙ্গে দেখা করতে আসা স্বজনরা হলেন তার স্ত্রী ফরহাদ কাদের চৌধুরী, বড় ছেলে হায়াত কাদের চৌধুরী, ছোট ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী, ভাই সাইফুদ্দিন কাদের চৌধুরী ও জামাল উদ্দিন কাদের চৌধুরী।

কাশিমপুর কারাগারের কারারক্ষক সুভাষ চন্দ্র ঘোষ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, দুপুর পৌনে ৩টার দিকে সাকা চৌধুরীর স্বজনরা আধঘণ্টার অনুমতি নিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসেন।

কর্তৃপক্ষ সাকা চৌধুরীকে অফিস কক্ষে স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাতের প্রস্তাব দিলে তিনি তাতে সম্মত হননি। পরে কারাগারের মূল ফটকের ভিতর সাক্ষাতের ব্যবস্থা করা হয়।

এ সময় তার বড় ছেলে কিছু ‘অননুমোদিত’ কাগজপত্র সাকা চৌধুরীকে দিতে গেলে কারা কর্মকর্তা মুশফিকুর রহমান তা জব্দ করেন বলে জানান কারারক্ষক।

তিনি বলেন, “এ সময় বড় ছেলে হায়াত কাদের চৌধুরীসহ অন্য স্বজনরা ওই কারা কর্মকর্তাকে অশালীন ভাষায় গালাগাল দেন।”

সোয়া ৩টায় সাক্ষাদের নির্ধারিত সময় শেষ হলেও স্বজনরা কারাগারের বাইরে যাননি উল্লেখ করে সুভাষ চন্দ্র বলেন, কর্তৃপক্ষ তাদের বের হয়ে যেতে বললে সাকা চৌধুরীসহ স্বজনরা কারা কর্মকর্তা মুশফিকুর রহমানকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।

পরে তিনি (সুভাষ চন্দ্র ঘোষ) তাদের আরো ১০ মিনিট পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং বের করে দেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাকা চৌধুরী বর্তমানে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আটক রয়েছেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/প্রতিনিধি/ডিডি/পিডি/২১২৪ ঘ.

২৪| ০৫ ই এপ্রিল, ২০১২ রাত ৩:৩৭

সামদ বলেছেন:

মুক্তিবাহিনীর অভিযানে আহত হয়েছিলেন সাকা চৌধুরী


১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় সালাহউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর বর্বর নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে তাঁকে হত্যা করার জন্য তিনবার উদ্যোগ নিয়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধারা। প্রতিবারই তিনি বেঁচে যান। তবে শেষবারের অভিযানে তিনি গুরুতর আহত হয়েছিলেন। নিহত হয়েছিলেন তাঁর ব্যক্তিগত গাড়ির চালক। যদিও মুক্তিবাহিনীর ওই অভিযানে সাকার মৃত্যুর খবর রটে গিয়েছিল। পরে পাকিস্তান টাইমস, বিবিসি এবং ভয়েস অব আমেরিকার খবরে তাঁর আহত হওয়ার কথা জানা যায়। লাহোরের পাকিস্তান টাইমসে সংবাদটি পরিবেশিত হয়েছিল পিপিআইয়ের বরাত দিয়ে। পাকিস্তান টাইমসের বরাত দিয়ে পরে ওই সংবাদ প্রকাশ করে দৈনিক পাকিস্তানও।


'বোমার আঘাতে ফজলুল কাদেরের ছেলে আহত :


গুলিতে ড্রাইভার নিহত' শিরোনামে ২৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭১ তারিখে দৈনিক পাকিস্তানে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, 'কনভেনশন মুসলিম লীগ প্রধান ফজলুল কাদের চৌধুরীর ছেলের ওপর হামলা চালালে তিনি আহত হন। গত ২০ শে সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামে এই ঘটনা ঘটে। গত শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর ১৯৭১) রাতে ঢাকায় জনাব ফজলুল কাদের চৌধুরী এই তথ্য প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, যে গাড়ীতে তাঁর ছেলে ছিল সে গাড়ির ড্রাইভার এই হামলার ফলে নিহত হয়েছে।'

চট্টগ্রামের কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা সম্প্রতি জানান, ১৯৭১ সালে সেপ্টেম্বরে সাকা চৌধুরী বিয়ে করে অনুষ্ঠান থেকে বের হওয়ার সময় মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণের শিকার হয়েছিলেন। এর আগে জুলাই ও আগস্টে মুক্তিযোদ্ধারা নগরীর গুডস হিলের বাসার সামনে সাকা চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা চালিয়েছিলেন। সর্বশেষ হমলায় আহত হয়ে সাকা চৌধুরী উন্নত চিকিৎসার জন্য সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিকে লন্ডন যান। ১৯৭৫ সালে পটপরিবর্তনের পর তিনি দেশে ফিরে আসেন।

মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বশেষ হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এস এম মাহবুব-উল-আলম। ২০১০ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি কালের কণ্ঠকে জানান, হত্যার দায়িত্ব নেওয়ার পর সাকা চৌধুরীর গতিবিধির ব্যাপারে খোঁজ নেওয়া শুরু করেন মুক্তিযোদ্ধারা। এর মধ্যে খবর আসে, সেপ্টেম্বর মাসের কোনো এক বৃহস্পতিবার দেওয়ানবাজার এলাকার বাসিন্দা ডা. ছমিউদ্দিনের মেয়ের সঙ্গে সাকা চৌধুরী বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবেন। তবে ছমিউদ্দিনের মেয়ে এ বিয়েতে রাজি নন। এক প্রকার জোর করেই তাঁকে বিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাই ডা. ছমিউদ্দিনের ছেলে আজিজ এগিয়ে আসেন মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করতে। মাহবুব-উল-আলমের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক ভুঁইয়া ও শচীন্দ্রনাথ সেন ওরফে কামাল তখন হামলার প্রস্তুতি নেন। ঘটনার দিন বিকেল ৫টায় তিনজন মুক্তিযোদ্ধা গ্রেনেড, স্টেনগান ও রিভলবার নিয়ে অবস্থান নেন চন্দনপুরা পেচুমিয়া গলির ড্রেনে। সন্ধ্যা ৬টায় সাকা চৌধুরী গাড়িতে ওই বাসায় যান। আকদ পর্ব শেষ করে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যে সাকা চৌধুরী গাড়ি নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে এলে পরিকল্পনা অনুযায়ী আজিজ সংকেত দেন টর্চ জ্বালিয়ে। মুক্তিযোদ্ধারা গাড়ি লক্ষ্য করে গ্রেনেড হামলার পাশাপাশি গুলিবর্ষণ শুরু করেন। সাকা চৌধুরী মারা গেছেন মনে করে মুক্তিযোদ্ধারা বাড়ি ফিরে যান।

২৫| ০৫ ই এপ্রিল, ২০১২ রাত ৩:৪০

সামদ বলেছেন: মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারসাকার বিচার শুরু

গণহত্যা, ধর্ষণ, লুটসহ ২৩ অপরাধে চার্জ গঠন

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর (সাকা চৌধুরী) বিরুদ্ধে গণহত্যা, ধর্ষণ, হত্যা, লুটপাট, অগি্নসংযোগসহ মানবতাবিরোধী ২৩টি অপরাধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের মধ্যে আছে তিন শতাধিক ব্যক্তিকে হত্যা, পাঁচজনকে ধর্ষণে সহযোগিতা করা, ছয়টির বেশি গণহত্যা ইত্যাদি। ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইনের ৩(২)(এ), ৩(২)(সি), ৩(২)(জি) এবং ৩(২)(এইচ) ধারায় এ অভিযোগ গঠন করা হয় সাকার বিরুদ্ধে।

এ অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে সাকা চৌধুরীর বিচার শুরু হলো। এটি ৪০ বছর আগে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে দ্বিতীয় কোনো ব্যক্তির বিচার শুরু হওয়ার ঘটনা। এর আগে জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়েছে।

বিচারপতি নিজামুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ গতকাল বুধবার অভিযোগ গঠন করে আদেশ দেন। আগামী ২৯ এপ্রিল রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে। একই সঙ্গে সাকা চৌধুরীর পক্ষে যদি কোনো সাক্ষী থাকে তাঁদের তালিকা ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট ওই তারিখের মধ্যে ট্রাইব্যুনালে দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সাকা চৌধুরীর আইনজীবীকে।

সাকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে একটি একটি করে মোট ২৩টি অভিযোগ সংক্ষিপ্ত আকারে পড়ে শোনান ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক। আদেশে তিনি বলেন, 'রাষ্ট্রপক্ষের দাখিল করা ডকুমেন্ট, ফরমাল চার্জসহ সব কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা যায়, আপনার (সাকা চৌধুরী) বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের জন্য যথেষ্ট উপাদান রয়েছে।' এরপর তিনি সাকা চৌধুরীকে জিজ্ঞাসা করেন, 'আপনি দোষী না নির্দোষ?' জবাবে সাকা চৌধুরী বলেন, 'আমি অভিযোগ শুনিনি। আগে অভিযোগগুলো পড়ে দেখি। এরপর জবাব দেব।' পরে ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বলেন, 'ধরে নিচ্ছি আপনি নির্দোষ দাবি করেছেন।' সাকা চৌধুরী তখন বলেন, 'আমি বলিনি। কী চার্জ এনেছেন তা আগে দেখতে হবে।'

অভিযোগ গঠনের আদেশে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, ভারত ও পাকিস্তান গঠন, বাঙালির প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বৈষম্যমূলক আচরণ, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অপরাধের বিষয়ে আন্তর্জাতিক আইন ও বিধির বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হয়। আদেশে বলা হয়, ট্রাইব্যুনাল আইনে অপরাধের বিষয় সুনির্দিষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। তাই এ আইনে অপরাধ সংজ্ঞায়িত করা হয়নি বলে অভিযোগ যথাযথ নয়।

নিজেই শুনানি করতে চান সাকা :

আদেশ পুনর্বিবেচনাসহ সাকা চৌধুরীর পক্ষে আরো সাতটি আবেদন উপস্থাপন করেন তাঁর আইনজীবী ব্যারিস্টার ফকরুল ইসলাম। তিনি এসব আবেদনের ওপর শুনানি করতে গেলে সাকা চৌধুরী বাদ সাধেন। তিনি নিজেই শুনানি করতে চেয়ে বলেন, আইনের ১৭ ধারা অনুযায়ী আসামির নিজের বিষয়ে শুনানি করার অধিকার রয়েছে। ট্রাইব্যুনাল তাঁর এ আবেদন খারিজ করে দিয়ে আইনজীবীকে শুনানি করার নির্দেশ দেন। দুপুর ২টার পর এ বিষয়ে শুনানি হয়।

সাকার স্ত্রীকে সতর্ক :

গতকাল শুনানিকালে সাকা চৌধুরীর স্ত্রীকে সতর্ক করে দেন ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, 'অনেকে ট্রাইব্যুনাল নিয়ে কথা বলেন। তিনিও (সাকা চৌধুরীর স্ত্রী) বলেছেন। আপনি (সাকা চৌধুরী) আইনপ্রণেতা। আপনার স্ত্রী কথা বললে আইন জেনে কথা বলতে বলবেন।' এ নিয়ে সাকা চৌধুরী ও ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যানের মধ্যে কিছুক্ষণ কথাকাটাকাটি হয়।

দুপুরের পর একে একে আবেদনগুলো উত্থাপন করা হয়। তবে শেষ না হওয়ায় আগামী ২০ এপ্রিল পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করা হয়েছে।

সাকা চৌধুরীর যত অপরাধ

সাকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে যে ২৩টি অপরাধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে, সেগুলো হলো :

১. একাত্তরের ৪ বা ৫ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারীরা চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানার রামজয় মহাজন লেনের বাসিন্দা মতিলাল চৌধুরী, শান্তি কুসুম, সুনীলসহ আরো সাতজনকে ধরে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বাড়ি গুডহিলে নিয়ে যায়। তাঁদের মধ্যে মতিলাল চৌধুরীর কর্মচারী সুনীলকে ছেড়ে দেওয়া হয় মারাত্মক আহত অবস্থায়। কিন্তু মতিলাল, শান্তি কুসুমসহ বাকি ছয়জনকে নির্যাতন করে হত্যার পর লাশ গুম করা হয়।

২. একই বছরের ১৩ এপ্রিল চট্টগ্রামের রাউজান থানার মধ্য গহিরার হিন্দুপাড়ার লোকজনকে ধরে নিয়ে ডা. মাখন লাল শর্মার বাড়িত জড়ো করে মাখন লাল শর্মা, পঞ্চবালা শর্মাসহ পাঁচজনকে হত্যা করা হয়। সাকা চৌধুরীর উপস্থিতিতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ওই হত্যাকাণ্ড চালায়।

৩. একই দিন একই এলাকার কুণ্ডেশ্বরী ঔষধালয়ের নুতন চন্দ্র সিংহকে মন্দিরে প্রার্থনারত অবস্থায় ধরে নিয়ে নির্যাতন করে পাকিস্তানি সেনারা। পরে সাকা চৌধুরী গুলি করে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করেন।

৪. মুক্তিযুদ্ধের সময় ভীত-সন্ত্রস্ত হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন যখন নিজেদের জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করছিলেন, ঠিক তখন সাকা চৌধুরীর সহযোগী আবু মাবুদসহ দুই ব্যক্তি ১৯৭১ সালের ১৩ এপ্রিল রাউজানের মধ্যগহিরার জগৎমল্ল পাড়ায় কিরণ বিকাশ চৌধুরীর বাড়িতে হিন্দু সম্প্রদায়ের ব্যক্তিদের জড়ো করে। শান্তি কমিটির সভা করার নামে সেখানে তাঁদের জড়ো করা হয়। শান্তি কমিটির সভায় যোগ দিলে যদি জীবন বাঁচে_এ আশায় তাঁরা তাতে যোগ দেন। লোক জড়ো হওয়ার পর বিষয়টি জানানো হয় সাকা চৌধুরীকে। কিছুক্ষণ পর সাকা চৌধুরী পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে হাজির হন। এরপর সেনারা চালায় ব্রাশফায়ার। ঘটনাস্থলেই তেজেন্দ্র লাল নন্দী, সমির কান্তি চৌধুরী, কিরণ বিকাশ চৌধুরীসহ ৩২ জন নিহত হন। কয়েক দিন পর নিহতদের ওই বাড়ির উঠানেই গণকবর দেওয়া হয়। এ ছাড়া আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িতে।

৫. একই দিন দুপুর ১টার দিকে রাউজানের সুলতানপুরের বণিকপাড়ায় সাকা চৌধুরীর উপস্থিতিতে নেপাল চন্দ্র ধরসহ চারজনকে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর সেখানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

৬. হিন্দু সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ এলাকায় থাকবে কি থাকবে না, এমন অনিশ্চয়তার মধ্যে রাউজানের ঊনসত্তরপাড়ায় ক্ষিতিশ চন্দ্র মহাজনের বাড়ির পেছনে পুকুরপাড়ে ১৩ এপ্রিল ডাকা হয় শান্তি কমিটির সভা। এলাকার লোকজন সেখানে উপস্থিত হওয়ার পর সাকা চৌধুরীসহ পাকিস্তান বাহিনী সেখানে হাজির হয়। একপর্যায়ে সেনাবাহিনী ব্রাশফায়ার করে। এতে চরণ পাল, মন্তোষ মালী, বাবুল মালীসহ ৭০ জনের বেশি ব্যক্তি নিহত হন। তাঁদের মধ্যে ৫০ জনের নাম জানা গেছে। হত্যার পর সেখানেই গণকবর দেওয়া হয় লাশ।

৭. একই বছরের ১৪ এপ্রিল রাউজান পৌরসভা এলাকায় সতিশ চন্দ্র পালিতকে তাঁর বাড়িতে ঘরের মধ্যে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনার পর নিহত সতিশ চন্দ্রের পরিবারের সদস্যরা ভয়ে ভারতে চলে যায়।

৮. একাত্তরের ১৭ এপ্রিল চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ মোজাফফর আহমেদ ও তাঁর ছেলে শেখ আলমগীরকে হাটহাজারী বাসস্ট্যান্ড থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় সেনা ক্যাম্পে। সেখানে নির্যাতন চালিয়ে পিতা-পুত্রকে হত্যা করা হয়।

৯. মধ্য এপ্রিলে সাকা চৌধুরীর নির্দেশে রাউজান থানার কদুরখিল হিন্দুপাড়ার শান্তি দেবকে ধরে নিয়ে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়।

১০. রাউজানের ডাবুয়া গ্রামের মানিক ধরের বাড়িসহ ওই এলাকার হিন্দুদের বাড়িতে সাকা চৌধুরীর উপস্থিতিতে লুটপাট চালানো হয়।

১১. একাত্তরের ২২ এপ্রিল রাউজানের শাকপুরা গ্রামে ফয়েজ আহমেদ, আলাল আহমেদ, আহাম্মদ ছফা, নিকুঞ্জ শীলসহ অসংখ্য ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৫২ জনকে শনাক্ত করা গেছে। পাকিস্তানি বাহিনীর আগমনের খবর পেয়ে এলাকার লোকজন শাকপুরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে জঙ্গলে আশ্রয় নেয়। কিন্তু বর্বর সেনাবাহিনী সেখানে ব্রাশফায়ার চালায়। এতে ওইসব ব্যক্তি নিহত হয়। এ গণহত্যার পর অনেকে ভয়ে ভারতে চলে যায়। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও তাঁর পিতা ফজলুল কাদের চৌধুরীর উপস্থিতিতে ওই হত্যাকাণ্ড চালানো হয় বলে অভিযোগ আনা হয়েছে।

১২. রাউজানের জগতমল্লপাড়ায় বিজয় কৃষ্ণ চৌধুরী, হরেন্দ্র লাল চৌধুরীসহ চারজনকে পাকিস্তান সেনাবাহিনী হত্যা করে সাকা চৌধুরীর উপস্থিতিতে।

১৩. একাত্তরের ১০ মে ঘাসি মাঝিরপাড় এলাকায় সাকা চৌধুরী ও তাঁর পিতা ফজলুল কাদের চৌধুরীর উপস্থিতিতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী নুরুল আলম, আয়েশা খাতুন, জানে আলম ও আবুল কালামকে হত্যা করে। সেখান থেকে সাকা চৌধুরীর নেতৃত্বে তাঁর সহযোগীরা পাঁচ নারীকে ধরে নিয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে তুলে দেয়। সেখানে ওই মহিলাদের ধর্ষণ করা হয়।

১৪. একাত্তরের ২০ এপ্রিল রাউজানের কর্তার দিঘীরপাড় এলাকার মো. হানিফকে অপহরণ করে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়।

১৫. সে বছরের ৭ জুন ওমর ফারুক নামের এক ব্যক্তিকে অপহরণ করা হয়।

১৬. একাত্তরের ১৫ জুলাই চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানার হাজারী লেনের জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর বাড়ি থেকে নিজামউদ্দিনসহ সাতজনকে ধরে গুডহিলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। পরবর্তী সময়ে নিজামউদ্দিনকে কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

১৭. সে বছরের ১৩ জুলাই শিকারপুর ইউপি চেয়ারম্যান শামসুদ্দিনেক ধরে নিয়ে নির্যাতন করা হয়।

১৮. সে বছরের ২৭ জুলাই বোয়ালখালীর এখলাস মিয়াকে ধরে নিয়ে গুডহিলে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়।

১৯. ফজলুল হক চৌধুরী নামের এক ইউপি চেয়ারম্যানকে ধরে নিয়ে নির্যাতন করা হয়।

২০. মধ্য মে-তে চন্দরপুর থেকে শেখ মায়মুন অলী চৌধুরীকে ধরে গুডহিলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়।

২১. নূর মোহাম্মদ ও তাঁর ভাই নূর আলমকে হাটহাজারীর মিয়া বাড়ি থেকে ২৭ জুলাই গুডহিলে ধরে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। ১০ হাজার টাকা মুক্তিপণ নিয়ে এক ভাইকে ছেড়ে দেওয়া হলেও অন্যজনকে হত্যা করা হয়।

২২. একাত্তরের ২ সেপ্টেম্বর সলিমুল্লাহকে গুডহিলে ধরে নিয়ে নির্যাতন করা হয়।

২৩. সে বছরের আগস্টে নূর চৌধুরী নামের এক যুবককে ডবলমুরিং থানার সদরঘাট এলাকা থেকে ধরে নিয়ে গুডহিলে নির্যাতন করা হয়।

ফরমাল চার্জে ৪৩৭ ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগ :

রাষ্ট্রপক্ষ থেকে সাকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে একাত্তরে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত মাত্র পাঁচ মাসে রাউজানসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে কমপক্ষে ৪৩৭ ব্যক্তিকে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছিল ফরমাল চার্জে। তাঁর বিরুদ্ধে রাউজানের শাকপুরা, ঊনসত্তরপাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে গণহত্যা চালানোর অভিযোগ রয়েছে। শুধু রাউজানেই ৯টি গণহত্যা চালানোর অভিযোগ রয়েছে ফরমাল চার্জে। সাকা চৌধুরীর উপস্থিতি ও নির্দেশে তাঁর সহযোগীরা পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে ওইসব ঘটনা ঘটায় বলে অভিযোগ করে রাষ্ট্রপক্ষ। মূলত হিন্দু সম্প্রদায় ও আওয়ামী লীগ সমর্থকদের নিশ্চিহ্ন করা এবং হিন্দুদের দেশান্তরে বাধ্য করার জন্যই ওইসব হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয় বলে রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ। অভিযোগে বলা হয়, সাকা চৌধুরীর চট্টগ্রামের বাসভবন 'গুডহিল'কে টর্চার সেন্টার করা হয়েছিল। সেখানে ক্রমাগতভাবে শহরের মুক্তিযোদ্ধা, হিন্দু লোকজন, শিল্পী-সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও নারীদের ধরে নিয়ে টর্চারের পর হত্যা করা হতো।

তদন্ত সংস্থা তদন্ত শেষে সাকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে ৩২টি ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ এনে গত বছর ৪ অক্টোবর ১১৯ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে ট্রাইব্যুনালে। এর সঙ্গে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট দাখিল করা হয়। এরপর তদন্ত প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই করে সাকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে ২৫টি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গত ১৪ নভেম্বর ফরমাল চার্জ (আনুষ্ঠানিক অভিযোগ) দাখিল করে প্রসিকিউশন। ১৭ নভেম্বর সাকা চৌধুরীর অনুপস্থিতিতে ফরমাল চার্জ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল।

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাকা চৌধুরীকে গ্রেপ্তারের জন্য ২০১০ সালের ১৫ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনালে আবেদন করে তদন্ত সংস্থা। গাড়িতে অগি্নসংযোগের অভিযোগে একই বছরের ১৬ ডিসেম্বর ভোরে বনানীর একটি বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.