| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আমি বন্ধুত্বে বিশ্বাসী , বুঝি বন্ধু জীবনের একনাম...
ছেলেবেলায় ঘুড়ি ওড়ায়নি এমন কাউকে পাওয়া সত্যি মুস্কিল। আমি নিজে ঘুড়ির পোকা ছিলাম। ছাদ থেকে ছাদে ছুটে বেড়াতাম ঘুড়ির জন্য।ঘূড়ি ওড়ানো আমার প্রচন্ড নেশা ছিলো্ আমার সে নেশা শেষ হয়েছে , কিন্তু ঢাকাবাসির ঘুড়ি ওড়ানো শেষ হয়নি। এখনো এখানে ওখানে ঘুড়ি ওড়ে , উৎসবের রঙে রঙিন হয় পুরান ঢাকার আকাশ। আগের সে মাতম না থাকলেও এখনো আকাশ - বাতাস কাঁপিয়ে আওয়াজ ওঠে ভোকাট্টা লোট!
উৎসব আর ঐতিহ্য বলতেই বোঝায় পুরান ঢাকাকে। নানা ঐতিহ্য ধারন করে বুক টানটান করে দাঁড়িয়ে আছে ঢাকা অরিজিনাল্ । ঘুড়ি উৎসব ঢাকা ও ঢাকাবাসীর তেমনি একটি ঐতিহ্যবাহি উৎসব।
ঘুড়ির আঞ্চলিক নাম গুড্ডি। গুড্ডি ওড়ানো , কাটাকাটি আর গুড্ডিকে নাক মারাতেই মজা।এজন্য দরকার ব্যাপক প্রস্তুতির। গুড্ডি্ ওড়ানোর জন্য প্রথম প্রয়োজন নাটাইয়ের। তারপর সূতা কিনে মাঞ্জা দিতে হয়। মাঞ্জা দেয়া সময়ের ব্যাপার ও কষ্টকর। শিরিষ , রঙ , বার্লি , ডিম , বিভিন্ন ডালের কষ , ভাতের মাড় ইত্যাদির সংমিশ্রন ঘটিয়ে প্রথমে ল্যাদ্দি বানাতে হয়। তার আগে কাচের বোতল ভেঙ্গে চুড় তৈরী করতে হয়। ল্যদ্দিতে সূতা ভিজিয়ে রাখতে হয়। দীর্ঘক্ষন ভেজানোর পর বোতল ভাঙ্গা চুড়ে সূতা ধরে তা একটি নাটইয়ে পেঁচিয়ে নিতে হয়। তারপর দুটি নাটইযের সাহায়্যে কড়া রৌদ্রে সূতা শুঁকিয়ে নিতে হয়। বিষয়টা সারাদিনের। সূতা শুকানো হলে বিকেল বেলা আয়েশ করে ঘুড়ি ওড়ানো হয়। সেসব ঘুড়ির কত্ত কত্ত নাম। পক্ষীরাজ , তেপাজ , দোপাজ , চোখদার , মালাদার , রুমালদার , চাপরাস , নাকপানদার , ভূয়াদার , চীনাপক্ষী , চাটাইদার , ইত্যাদিসহ লাল , নীল , কালা , সাদাসহ বিভিন্ন রঙের এবং বিহারি নামরেও একটি ঘুড়ি রয়েছে।
ঢাকার বিল্ডিং এখন আকাশ ছোঁয়া। সঙ্গে যান্ত্রিক জীবন যাত্রা কমিয়েছে ঘুড্ডি ওড়ানো। কিন্তু এমন একটা সময় ছিলো পুড়ান ঢাকার বিল্ডিংয়ের ছাদে , মাঠে-ময়দানে চলতো ঘুড্ডি ওড়ানো উৎসব। বিভিন্ন বাজিতে ভরে উঠতো সমগ্র এলাকা। অনুষ্ঠিত হতো ঘুড়ি ওড়ানোর প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতার সে নাম ছিলো হরিপ।
দুটি দলের অংশ গ্রহনে প্রতিযোগিতা হতো। উভয় পক্ষে সমসংখ্যক প্রতিযোগি , সমসংখ্যক নাটাই নিয়ে অংশ গ্রহন করতো। ১০জন করে ২০জন প্রতিযোগি হরিপে অংশ গ্রহন করত। কাটাকাটি আর নাকমারা ছিলো প্রতিযোগিতার মূল। এসব হিসাব রাখার জন্য বিচারক থাকতেন। একপক্ষ অন্য পক্ষের ঘুড্ডি দিয়ে নাকমারা খাওয়া অপমান জনক মনে করতো। এমন পরিস্থিতিতে সাধারনত দেখা যেত যে দল নাকমারা খেত সে দল লজ্জায় নাটাই থেকে ঘুড়ির সূতা ছিড়ে দিয়ে এমন লজ্জাস্কর পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাওয়ার চেস্টা করতো।
ঘুড়ি নাটাই দিয়েই ওড়ানো হয়। মাঝে মাঝে দেখা যেত হাতে সূতা পেঁচিয়ে কেউ কেউ ঘুড়ি ওড়াচ্ছে। আরেকটা মজাদার ব্যাপার ছিলো। নতুন জামাইদের প্রতিযোগিতায় ঘুড়ি ওড়ানোর জন্য শ্বশুর বাড়ি থেকে নাটাই সূতা ঘুড়ি পাঠানো হতো। সঙ্গে নানা রকম পিঠা। একটু ফিকে হলেও ঢাকাবাসি অনেক ঐতিহ্যের মতই ঘুড়ি ওড়ানো উৎসব ও প্রতিযোগিতা এখনও ধরে রেখেছে। কালের আবর্তে বহু পুরাতন এই ঘুড়ি উৎসব আবার নতুন হয়ে ফিরে আসছে ঢাকাবাসির হৃদয়ে!
২|
০৫ ই নভেম্বর, ২০১০ বিকাল ৪:৫৮
শান্তনু অাহেমদ বলেছেন: সে কথা আর বলতে হয়!
©somewhere in net ltd.
১|
০৫ ই নভেম্বর, ২০১০ দুপুর ২:৩৭
পাগলা যোদ্ধা বলেছেন: নস্টালজিক হয়ে গেলাম ফারুখ ভাই...... ঘুড়ি ওড়ানো নিয়ে কত স্মৃতি.. কত মারামারি, সাকরাইনের সেই দিন গুলো................