নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সরদার মাটি মাসুম

সরদার মাটি মাসুম › বিস্তারিত পোস্টঃ

#রেমিটান্স কাকে বলে? দেহ কিংবা ইজ্জতের বিনিময়ে অর্জিত আরবিয়ান মুদ্রাকে রেমিটান্স বলে

১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ৮:০২

ঘটনাঃ ০১

আমার এক ভাবী গত রমযান মাসে মধ্যপ্রাচ্যের একটা দেশে গিয়েছিলেন; গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করবেন, এমন একটা ভিসায়। মূল প্রসঙ্গে যাওয়ার আগে ভাবী সম্পর্কে দুই চারটি কথা বলা প্রয়োজন মনে করছি। আমার সেই ভাবি চারিত্রিক ভাবে খুবই ভাল একজন মানুষ। ছোটবেলা থেকে দেখেছি ভাবীর আত্মসম্মানবোধ অনেক বেশি। ভাবী ইসলামী ভাবধারায় জীবন যাপনে অভ্যস্ত একজন মহিলা। সম্ভবত ক্লাশ নাইন কি টেন পর্যন্ত পড়ালেখা করেছেন।
সংসারে অভাব অনটন। তাই ধার দেনা করে ওনার স্বামী ওনাকে পরিচিত এক আত্মীয়ের মাধ্যমে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন । পরিচিত ওই লোকেরা ভাবীকে এই বলে আশ্বস্ত করেছিলেন ওখানে খারাপ কোন অবস্থার মধ্যে ওনাকে পড়তে হবে না। কিন্তু ওখানে যাওয়ার কয়েকদিন পর ভাবী খারাপ অবস্থার মুখোমুখি হলেন। তবে দৃঢ়চেতা আর সততার প্রতি অবিচল আমার সেই ভাবী নিজের কোন ক্ষতি হতে দিলেন না। বাসার মহিলার হাতে পায়ে ধরে দেশে চলে আসলেন।
ঘটনার শেষটা যদি এখানে হত তাহলে আমার ভাল লাগতো। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি ভাবী তার কপালের দুর্ভোগ এড়াতে পারলেন না। আমার ভাই তার স্ত্রীকে অর্থাৎ ভাবীকে অবিশ্বাস করতে শুরু করলেন। ভাবলেন নিশ্চয়ই তার স্ত্রী সতীত্ব নিয়ে দেশে ফিরতে পারেন নাই! বিভিন্ন ছুতা নাতায় ভাবীর উপর চালাতে লাগলেন বিভিন্ন মানসিক-শারীরিক নির্যাতন- যা এখন অব্দি চলছে।

ঘটনাঃ ০২
আমার পরিচিত আরেকটা বিধবা মহিলার কথা বলব। তিনিও দুবাই গিয়েছিলেন। ওনার পরিচয় প্রকাশ করতে পারলাম না বলে দুঃখিত। ঘটনা ওই ভাবীর মতই। তবে এই মহিলার কপালে দুর্ভোগ আরও বেশী ছিল। আমার ভাবীকে আল্লাহ্‌ হেফাজত করতে পারলেও, মহিলাকে কেউই হেফাজত করতে পারেন নাই। উনি প্রথম যখন দুবাই গিয়ে নামলেন ওনাকে দালালেরা প্রথমে তাদের মেসে নিয়ে গেল। সেখানে কয়েকদিন ধরে পালাক্রমে দালাল নরপশুরা নির্যাতন চালাল ওনার উপর। তারপর ওনাকে একটা বাসায় কাজে দিয়ে আসলো। সেই বাসার মালিক ওনাকে তার যৌন দাসী হিসেবে ব্যবহার করলো। শুধুমাত্র তাই নয়। বাসার মালিক তার বন্ধুদের দাওয়াত করে এনে ওই মহিলাকে মাঝে মধ্যেই ধর্ষণ করাতো। এমন কি গ্রুপ সেক্সসহ এমন কোন বিকৃত যৌনাচার নাই যা তাঁকে দিয়ে করানো হত না।
এই কথাগুলো আমার কাছে যখন মহিলাটি বলছিলেন কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছিলেন। আমিও কেঁদেছিলাম। একজন মানুষ কি করে পারে আরেকজন মানুষের সাথে এমন আচরণ করতে! মেয়েটির উপর যে শুধুমাত্র যৌন নির্যাতনই চালানো হয়েছিল তা কিন্তু নয়। একদিনে তাকে মাত্র তিন ঘণ্টা ঘুমাতে দেয়া হত। বেতন ঠিক মত দিত না। ওঠতে বসতে গায়ে হাত তুলত মালিকের পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু মেয়েটি ফিরে আসতে পারেন নি। কারন তাকে প্রথম দিকে তালা মেরে বাসায় রাখা হত। স্বামী নাই। বাড়িতে সন্তানেরা আছে। তাদের কথা চিন্তা করে সকল নির্যাতন সহ্য করে তিনি দুবাই রইলেন। পাঁচ বছর পরে দেশে আসলেন। তখনই আমার সাথে তার কথা।
কিছুদিন আগে উনি আবার লেবানন গিয়েছেন। যাওয়ার আগে আমি তাকে বললাম ওখানেও যদি আগের মত একই অবস্থা হয় তাহলে কি করবেন? উনি হেসে আমাকে উত্তর দিলেন, নিজের আর কি অবশিষ্ট আছে? ইজ্জত তো বহু আগেই হারিয়েছি। জাহান্নাম তো ফরয অনেক আগেই হয়ে গেছে। দেহের বিনিময়ে হলেও সন্তানদের ভবিষ্যৎ এর জন্য কিছু করবো।
উপরের দুইটি ঘটনাই আমার নিজের লোকদের মধ্যে ঘটেছে। আমি আফসোস করা ছাড়া আর কিছুই করাতে পারি নাই তাদের জন্য! কারন আমিও তো ওনাদের মত দরিদ্র পরিবারের সন্তান। নিয়তিকে দায়ী করা ছাড়া গরীব মানুষের আর কিইবা করার আছে?
এখানে একটা বিষয় খেয়াল করবেন, আমার ভাবী যদি ফিরে না আসতেন তাহলে হয়ত ওই মহিলার পরিনতি তাকেও বরণ করতে হত। অর্থাৎ অনিচ্ছা সত্তেও তিনি বাধ্য হতেন প্রস্টিটিউশন করতে। তিনি তা করেন নাই। তারপরও নির্যাতনের কিংবা অপবাদের হাত থেকে
তিনি রক্ষা পেলেন না। এই অপবাদের হাত থেকে বাঁচার জন্যই অনেক মেয়েরা বিদেশে গিয়ে ফিরে আসেন না। নিজের দেহের বিনিময়ে পয়সা পাঠান পরিবারের লোকজনদের জন্য। এই হচ্ছে বাংলাদেশের মহিলাদের রেমিটান্স পাঠানোর সঠিক চিত্র।
তাহলে এ প্রশ্ন ওঠা অস্বাভাবিক নয়, স্বাধীনতার পরে বাংলাদেশে আদৌ কি কোন সরকার ছিল? যদি একটা দেশের সার্বভৌমত্ব থেকে থাকে, নির্বাচিত হোক আর অনির্বাচিতই হোক একটা সরকার থেকে থাকে, তাহলে সেই দেশের নাগরিকদের কি এমন কঠিন পরিণতি হতে পারে? জেনে শুনে একটা দেশের সরকার কি করে পারে নিজের দেশের মেয়েদের বাধ্যতামূলক বেশ্যাবৃত্তিতে নিয়োজিত করতে? রেমিটান্সই কি সব কিছু? নারীদের ইজ্জতের কোনই মূল্য নাই?
৭১ সালে পাকিস্তানী জানোয়ারেরা তিন লাখ নারীর ইজ্জত লুট করে থাকলে, গত ৪৪ বছরে কত লাখ নারীর ইজ্জত লুট করেছে আরবের জানোয়ারেরা?ওদের কি মুসলমান বলতে পারি ? ওদের শুয়ারের বাচ্চা বললে কি অন্যায় হবে? আর যারা জেনে শুনে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের আশায় নারীদের বিদেশ পাঠায় তাদের কি বলা উচিত?
বাংলাদেশের দুই জন প্রধান নেত্রী মহিলা। দীর্ঘদিন ধরে তারা দুজনে পালাক্রমে দেশ শাসন করছেন। ভাবতে অবাক লাগে কি করে তারা পারছেন নিরীহ মেয়ে্দের হিংস্র হায়েনাদের সামনে লেলিয়ে দিতে? ক্ষমতাই কি সব কিছু? আপনাদের মন বলতে কিছু নাই?অসহায় ওই সকল মেয়েদের কথা ভেবে একটিবারও কি আপনাদের অন্তরাত্মা কেঁপে উঠে না?
একাত্তর সালে আমাদের দেশ কি মুসলমান নামধারী ওই সকল আরবিয়ানদের মেয়ে সাপ্লাই দেয়ার জন্য স্বাধীন হয়েছিল? উন্নয়ন দিয়ে কি করব? অসহায়, অশিক্ষিত, দরিদ্র, দুর্বল বাংলাদেশী মেয়েদের ইজ্জত হরণ করাচ্ছেন আপনাদের তথাকথিত মুসলমান বন্ধুদের দিয়ে; আর আমাদের উন্নয়নের ফিরিস্তি দেখাচ্ছেন? কিসের উন্নয়ন? কার জন্য উন্নয়ন?
আমরা কি কিছুই বুঝি না?৭১ সালের পর থেকে আপনারা অবিরাম ধর্ষণ করে চলেছেন ৫৬ হাজার বর্গমাইলকে, আর আপনাদের প্রিয় স্বজনদের দিয়ে ধর্ষণ করিয়ে চলেছেন আমাদের মা বোনদেরকে......
কাজেই আপনাদের সাথে আপনাদের আরবিয়ান বন্ধুদের কিইবা পার্থক্য আছে?

সরদার মাটি মাসুম

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.