নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মৃনাল হাসান

মৃনাল হাসান › বিস্তারিত পোস্টঃ

চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটাঃ কোন মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য?

১১ ই জুলাই, ২০১৩ রাত ১১:০৬

নামঃ ভোগল, গ্রামঃ চরগরগড়ী, ডাকঃ বাশেরবাদা, থানা ঈশ্বরদী, জেলাঃ পাবনা। এই ভোগল একজন মুক্তিযোদ্ধা। গত শতাব্দীর ৯০ এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। ওই গ্রামের ছেলে আমি মৃনাল হাসান দেখেছি , মৃত্যুর আগে ভোগল তার রোগ সারানোর জন্য মানুষের কাছে ভিক্ষা করেছে। টাকার অভাবে বিনা চিকিতসায় ধুকে ধুকে মরতে দেখেছি আমি ওই ভোগলকে। যদি বিশ্বাস না হয়, ঠিকানা দিয়েছি খোজ নিয়ে দেখতে পারেন। রাষ্ট্র সেই ভোগলের দায়িত্ব নেয়নি। ভোগলের বড় ছেলেকে দেখেছি হাটে হাটে পান সুপারি বিক্রি করতে। রাষ্ট্র দায়িত্ব নিয়েছে এ কে খোন্দকারের। শুধু তার নয়, তার ছেলে সন্তান, নাতি নাত্নি সবার। এই এ কে খোন্দকার বিমানবাহিনীর প্রধান ছিলেন। প্রেসিডেন্ট জিয়ার সময়ে অষ্ট্রেলিয়ায় রাষ্ট্রদুত ছিলেন, এরশাদের মন্ত্রী ছিলেন, এখনও মন্ত্রী। মৃত্যুর পরে রাষ্ট্রিয় মর্যাদায় মুক্তিযোদ্ধদের জন্য সংরক্ষিত স্থানে সমাধিস্ত হবেন। কারন তিনি মুক্তিযোদ্ধা।

ওই ভোগলও তো মুক্তিযোদ্ধা? রাষ্ট্র তার খোজ রাখেনি। মৃত্যুর পরে চার তাকবীরে জানাযা দিয়ে তাকে আমরা কবরে নামিয়ে দিয়েছি আমরা, ২১ বার অথবা ৩১ বার তোপধধনি দিয়ে রাষ্ট্র তাকে গার্ড অব অনার দেয়নি। এই রকম হাজারো ভোগল চার তাকবীরে মাটির নিচে চলে গেছে। রাষ্ট্র তাদের দায়িত্ব নেয়নি। রাষ্ট্র দায়িত্ব নিয়েছে শাহরিয়ার কবির, মুনতাসির মামুন, জাহানারা ইমামদের।

এই ভোগলদের ছেলেরা পান সুপারি বিক্রি করে। বড় বড় ডিগ্রি নতে পারেনি। তাই কোন কোটাই তাদের চাকরির ব্যাবস্থা করতে পারেনা। এই কোটা পুরন হয় কাদের সিদ্দিকি, মেজর হাফিজ, নাসিরুদ্দিন বাচ্চুদের ছেলে সন্তান, নাতি নাত্নিদের মাধ্যমে।

আবার যদি এদেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য জীবন দিতে হয়, তাহলে ওই কোটার সুবিধাভোগীরা জীবন দেবে কিনা জানিনা, তবে হলপ করে বলতে পারি- ওই ভোগলের ছেলে তার পান সুপারির দোকান ফেলে দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য হাতে অস্ত্র তুলে নেবেই, জীবিন দেবেই, দেবে।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.