নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

নিরিবিলি পরিবেশে, নিবিড় আবেশে!/আমি খুঁটিয়ে দেখেছি আমার আমিকে.../আমি চিন্তে চেয়েছি আমার সত্তাক!

সাজিদ আল সাহাফ

প্রতিদিন দেখি__ আমার জীবন থেকে হারিয়ে যাচ্ছে একটি করে দিন/অথচ আমার কাছে পাওনা আছে পৃথিবীর বহু ঋণ!

সাজিদ আল সাহাফ › বিস্তারিত পোস্টঃ

স্মৃতির পাতায় ছোটবেলা

১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১০:৪৮



এক বন্ধুর অফিসে গেলাম, বিভিন্ন বিষয়ে অনেকক্ষণ আলাপ করার পর, আমাকে বসতে বলে ও কী একটি কাজের জন্য বাইরে বেরুলো। আমি খোলা জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছি, এমন সময় কিছু বাচ্চাদের রোদের মধ্যে ক্রিকেট বল নিয়ে লাফালাফি ও ছুটাছুটি করতে দেখলাম। কিছুক্ষণ পরে এক বাচ্চার মা এসে বকুনি দিয়ে তার বাচ্চাকে বাসার দিকে নিতে যাচ্ছিলেন, এমন সময় বাচ্চাটা চিৎকার দিয়ে উঠলো, 'আমি যাবোনা, আমি যাবোনা, আমি ওদের সাথে খেলবো' বলে কান্না করতে লাগলো। বাচ্চার মা অনেক্ষণ জোরাজুরি করার পর একটা চড় দিয়ে বসলেন। জোর করে কোলে তুলে নিয়ে বাসার দিকে গেলেন।

একটি দীর্ঘনিঃশ্বাস বেড়িয়ে এলো হৃদয় থেকে! এই শহুরে শিশুদের দুষ্টমী দেখে শৈশবের সেই উরন্ত দুষ্টমী জীবনের কথা মনে পড়ে গেলো। আহ, যদি ছোট হয়ে যেতে পারতাম আবার! যদি সেই দুরন্ত জীবনে ফিরে যেতে পারতাম আবার! তবে কতই না ভালো হত। সেই ছোটকালে, কোনোরকমে স্কুল শেষ করে, বাড়িতে না গিয়েই নদীর পানে ছুটতাম বন্ধুরা মিলে একসাথে। ব্রিজ আর বড় বড় গাছের উপর থেকে লাফিয়ে স্রোতের মাঝে পড়তে কত যে আনন্দ ছিল, তা বলে বুঝাবার নয়। চোখ বুঝলেই যেন আজও সেই আনন্দে হৃদয় দুলে ওঠে।

যখন বর্ষাকাল আসতো, এমনও হয়েছে পড়া পারিনা, জানি স্কুলে গেলেই মার খেতে হবে, তখন ইচ্ছে করে হোঁচট খেয়ে কাপড় নষ্ট করে, ঢং করে পায়ে ব্যথা নিয়ে কান্নারত অবস্থায় ফিরে আসতাম বাড়িতে। প্রথম প্রথম পার পেতাম, কিন্তু যখন মা জানতে পারলো এসব আমার ঢং, তখন সেকি বকুনি আর মারুনি! উহ! পিঠটা বোধহয় আজও জ্বলছে!

আজ বুঝি, মায়ের ঐ শাসন আর নিয়মিত পরিকল্পিত পরিচর্যায়, আজ আমি খোকাটা একটু বড় হয়েছি। শৈশবের সেই স্মৃতি হাতড়াতে গিয়ে, হাসি-আনন্দের মিশ্র অনুভূতির মাঝে, মায়ের সেই অফুরন্ত ত্যাগ আর ধৈর্যের কথা স্মরণ হওয়া মাত্রই, হৃদযের আবেগটা উৎলে উঠে! চোখের কোণ দিয়ে কান্নারা নেমে আসে কপোল বেয়ে।

কখনো দুষ্টমী করে কারো সাথে কোনো অন্যায় করে ফেললে, তার ছেলেকে অন্যকেউ বকবে বা মারবে, মা তা সইতে পারতোনা। তাই অন্য কেউ বকার আগে মা নিজেই বকত এবং মারত। তারপর এক কোণায় বসে একা একা কাঁদতো!
এই হল 'মা'। যে মা আদর করে, বুকে আগলে রাখে, আবার মারে, মেরে নিজেই ব্যথা পেয়ে আবার একা একা কাঁদে! যে মা রাত কে রাত ঘুমহীন পার করে। যে মা সন্তানের সুখের জন্য নিজের সকল সুখকে বিসর্জন দেয়। সেই মায়ের জন্য, আল্লাহর কাছে নামাজান্তে মোনাজাতে কায়মনোবাক্যে বলি__

"রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বায়ানি সাগিরা" অকুর "রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বায়ানি সাগিরা"

__সাজিদ আল সাহাফ
১৩/০৫/১৫ই, কেরাণীগঞ্জ, ঢাকা।

মন্তব্য ৩ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (৩) মন্তব্য লিখুন

১| ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১১:৪১

সুমন কর বলেছেন: যে মা আদর করে, বুকে আগলে রাখে, আবার মারে, মেরে নিজেই ব্যথা পেয়ে আবার একা একা কাঁদে! যে মা রাত কে রাত ঘুমহীন পার করে। যে মা সন্তানের সুখের জন্য নিজের সকল সুখকে বিসর্জন দেয়। সেই মায়ের জন্য, আল্লাহর কাছে নামাজান্তে মোনাজাতে কায়মনোবাক্যে বলি__

"রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বায়ানি সাগিরা" অকুর "রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বায়ানি সাগিরা"

আরবী লাইনটুকু অর্থ আমি জানি না। তবে আপনার লেখা ভালো লাগল। ২য় প্লাস।

১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১১:৫১

সাজিদ আল সাহাফ বলেছেন: '' রাব্বির হাম হুমা কামা রাব্বায়ানি সাগিরা ''
অর্থ: "হে আমার প্রতি পালক, আমার বাবা মা আমাকে যেভাবে লালন পালন করেছেন, আপনিও তাদের তেমন ভাবে লালন পালন করুন।"

১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১১:৫২

সাজিদ আল সাহাফ বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ ভাই আপনাকে!

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.