নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমি কখনো নিজের নাম লুকোই না। আকাইমা শব্দ দিয়ে বানানো ছন্ম নাম আমার পছন্দ নয়। মা-বাবা\'র দেয়া নাম দিয়েই প্রোফাইল খুলেছি।

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন

আমি কেউ না।একদা পথ শিশু ছিলাম। বড় হয়ে এখন পথ মানব হয়েছি। বাবা এক দিন স্বপ্ন দেখানোর সুরে বলেছিলেনঃ দেখিস, এক দিন আমাদেরও....! আমার দেখা হয়নি কিছুই । এখনো অপেক্ষায় আছি কিছু একটা হবো, কিছু একটা দেখবো।

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন › বিস্তারিত পোস্টঃ

আমার এক জন নেতা বন্ধুর গল্প ****************************

২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ বিকাল ৩:৪৯

ছাত্র জীবনে আমার এক বন্ধু ছিল । ছাত্র মোটামুটি ছিল তাও বলা যায় না। অনেকটা আদু ভাই না হলে আদু ভাইয়ের চেয়ে একটু ভাল ছাত্র ছিল সে।

তাকে ভবিষ্যতের কথা বলতেই বলত, আমি কোন চাকরি করব না।
কি করবি তাহলে?
ব্যবসা করব।
কিসের ব্যবসা?
জানি না । তবে ব্যবসা একটা করব এটা ঠিক।
কর। আমার উপায় নাই। গরীব মানুষ আমি। আমার চাকরি ছাড়া উপায় নাই। এম এ পাস করার পর বিরাট এক চাকরি ধরব।
ধর বিরাট চাকরিটাই ধর। আমি করব ব্যবসায়। অনেক বড় ব্যবসা।

কি জানি, হয়তো সব গরীব মানুষরাই চাকরি করে। কেননা তাদের পায়ের তলায় কোন মাটি নাই। মূলধন নাই। বেশীর ভাগ অসহায় মানুষরাই চাকরি করে। তাদের মতো মানুষ চাকর হবার জন্যই তো জন্মায়।

চাকরি করলে মানুষের ব্যক্তিত্ব বলতে আর কিছু অবশিষ্ট থাকে না। যেমন এই আমি আমার সব ব্যক্তিত্ব চাকরি করে করে শেষ করে দিয়েছি। আমার বন্ধুর সিদ্ধান্ত তাই সঠিক ছিল। সে অনেক বড় ব্যক্তিত্ববান। যে কাউকে থ্রেট করতে পারে।


আবার রাস্তায় বের হলে অজস্র সালাম পায়।
আমাকে আজ পর্যন্ত কেউ সালাম দেয়নি। সালাম দেয়া ওয়াজিব। আমি অনেক কে সালাম দিয়েছি। তারা মুখ তুলে চেয়ে একটা জবাবও দেয়নি। এখন কাউকে সালাম দিতেও শংকা হয়। যদি উল্টা বকা দিয়ে বসে!


আমার সেই বন্ধু যোগ দিল ছাত্র রাজনীতিতে। দারুণ অবাক করা ব্যাপার! তার চেহারাই গেল পাল্টে। টি শার্ট আর জিন্সে তাকে দারুণ দেখাতে লাগল। আমি মুগ্ধ হয়ে গেলাম। যেন নায়কের মতো দেখাচ্ছে তাকে। কলেজের অনেক সুন্দর সুন্দর মেয়ে তাকে আহলাদ করে ভাইয়া ভাইয়া করছে। দেখে আমার কি যে ভাল লাগত। বন্ধু বটে আমার একটা। আমি গর্বিত।


দোস্ত, তোকে দারুণ লাগছে।
তাই বুঝি!
হ্যাঁ,তাই। টি শার্ট আর জিন্সে তোকে সাংঘাতিক মানিয়েছে। আচ্ছা, তোদের বুঝি অনেক টাকা?
কেন, তোর কি টাকা লাগবে? লাগলে আমাকে বলিস। লজ্জা করিস না। টাকা আমার কাছে কোন বিষয়ই না।

আমি জীবনেও কারো কাছে টাকা ধার চাইনি। বরং ধার দিয়েছি। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে তা আর ফেরত পাইনি।আমি কেন আমার বন্ধুর কাছে টাকা ধার চাইতে যাব!


বন্ধুটি একদিন আমাকে বলল, তুই অনেক ভাল ছাত্র। পার্টি করিস না কেন?

কিভাবে পার্টি করব? আমি কাউকে ধমক দিতে পারি না, কাউকে চড় মারতে পারি না, কাউকে লাথি মারতে পারি না। আমাকে যদি পুলিশে ধরে নিয়ে তাহলে আমাকে কেয়ামত পর্যন্ত হাজতে থাকতে হবে। কেননা, আমার বাবা গরীব। তার টাকা টাকা নেই। সেও আমার মতো মাটির মানুষ। আজ পর্যন্ত একটা মুরগী পর্যন্ত জবাই করতে সাহস পায়নি। সেই আমি করব রাজনীতি!!


বন্ধুটি অনেক হাসল আমার কথা শুনে। যেন আমি অনেক মজার এক হাসির গল্প বলেছি। গোপাল ভাড়ের গল্পের চেয়েও অনেক মজার যেন আমার এই গল্প।


দোস্ত, আমি তোকে হেল্প করব। তুই রাজনীতি কর । এখনো সময় আছে। রাজনীতি ছাড়া পয়সা কামাতে পারবি না। সারা জীবন গরীব থাকতে চাস? বল চাস, তুই?


আমার বন্ধুর প্রশ্নের কোন সঠিক জবাব আমি দিতে পারিনি। আমার কখনো বড়লোক হতে ইচ্ছে করেনি। বেঁচে থাকার জন্য যে সামান্য টাকা পয়সা দরকার তার চেয়ে বেশী আমার কখনো কাম্যই ছিল না। সহজ সরল মানুষের যা স্বপ্ন থাকে আমারও তাই ছিল।


এসএসসি পরীক্ষার পর থেকে টিউশনী ধরেছি। মাস্টার্স পাসের পরও তা আর ছাড়তে পারিনি। চাকুরির জন্য হন্যে হয়ে ঘুরেছি। পুরনো জুতা পলিশ করে বছরের পর বছর ব্যবহার করেছি। প্রতি রাতে লিখেছি এক গাদা চাকরির দরখাস্ত। বাসের রড ধরে জিপিও-তে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে পোস্ট করেছি সব দরখাস্ত।


জিপিওর উল্টা দিকে বাটার মূল্য হ্রাসের দোকান থেকে জুতো কিনেছি। পয়সা ছিল না।


ফার্মগেট থেকে পিএসসি-তে ভাইভা দিতে গেছি পায়ে হেঁটে। হেঁটে। ওই রাস্তায় রিক্সা চলে না। ভিআইপি রোড ছিল ওটা। পাবলিক বাসে উঠা দায়। সে সব বাসে মহা ভীড়। সহজে ওঠা যায়না। যাদের শক্তি কম তারা তো উঠার কথা চিন্তাই করতে পারে না।


সিএনজি নেয়া তো স্বপ্নের ব্যাপার। হেঁটে হেঁটে কত বার যে গেছি পিএসসি-তে । বিসিএস টাইপের সব ধরনের পরীক্ষায় ভাইবা পর্যন্ত যাওয়া আমার জন্য যতটা সহজ ছিল ভাইবার উপরে যাওয়া তত সহজ ছিল না। কারণ, ভাইবার নীচের পরীক্ষাগুলোতে টাকা লাগে না। ভাইভায় টিকতে হলে টাকা লাগবে আর না হয় মামার জোর লাগবে। আমার মামাও ছিল না। ফলে হাহাকার করে ফিরেছি।

আর আমার সেই বন্ধুটি শানৈ শানৈ উন্নতি করতে লাগল। তার কোন চাকরি ছিলনা। কি ব্যবসা করে তাও জানি না। মাঝে মাঝে ফোন করলে বলত, দোস্ত, সাইটে আছি। পরে কল দিস। কথা হবে। ধীরে ধীরে সে অধরা হয়ে উঠে। তার কোন কুল কিনারা পাই না।

আজ আমি এক মাছি মারা কেরানী। প্রতি সন্ধ্যায় ভয়ে ভয়ে বাসায় ফিরি। এই বুঝি গিন্নি নতুন কোন বায়না নিয়ে আসে। ছোট্ট মেয়েটা যদি আবার কোন আব্দার করে বসে! জীবনের কাছে আমি প্রতিনিয়ত পলান্তি পলান্তি খেলছি।

আমার বন্ধুটি আমার মতো ভীতু নয়। সে পালিয়ে বেড়ায় না। অনেক বড় ঠিকাদার সে এখন। সম্প্রতি বিএমডব্লিউ গাড়ীও কিনেছে। ঢাকায় ফ্ল্যাট কিনেছে। বসুন্ধরায় প্লট আছে। সেখানে খুব শীঘ্রই বাড়ির কাজ শুরু করবে।

আর আমি আজো স্বপ্ন দেখি। বাড়ির স্বপ্ন দেখি। গাড়ীর স্বপ্ন দেখি।আমার স্বপ্নগুলো কেবলই অলীক। স্বপ্নে দেখি,সাড়ে তিন হাত আমার বাড়ি। আমার গাড়ির কোন চাকা নাই। চার জনে বয়ে নিয়ে যাচ্ছে আমার গাড়ী।

মন্তব্য ৬ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৬) মন্তব্য লিখুন

১| ২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ বিকাল ৫:৫২

সোনাগাজী বলেছেন:


এসব ডাকাতেরা দেশ চালাছ্ছে!

২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ সকাল ১০:৩৪

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন:



স্বাভাবিক গতিতে চলতে দিলে দেশের অনেক মানুষই ভালো কিছু করতে পারতো।
অথচ অনেক কিছুই চলে অস্বাভাবিক গতিতে।

২| ২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ সন্ধ্যা ৭:৩০

রাজীব নুর বলেছেন: আপনার বন্ধু যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলেছে।
আপনি পিছিয়ে গেছেন।

৩| ২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ রাত ৯:৪৭

ফিনিক্স পাখির জীবন বলেছেন: আপনার জন্য শ্রদ্ধা এবং ভালবাসা রইল। আল্লাহ আপনার দুনিয়া ও পরকালের জীবন সহজ করে দিন এবং শান্তিপূর্ণ করুন। শুভকামনা।

৪| ২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ রাত ১০:৪২

জ্যাক স্মিথ বলেছেন: আমি আপনার প্রতি পূর্ণ সহমর্মিতা জ্ঞাপন করছি।, আসলে আমরা নিষ্ঠূর এক পৃথিবীতে বসবাস করছি অবিচার যেখানে সর্বত্র, তবে যে কোন পরিস্থিতিতেই হাল ছাড়া যাবে না, যে কোন সময়ে একজন মানুষ নিজের ভাগ্যকে পরিবর্তন করতে পারে, শুধু চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। কোন অবস্থায়'ই অন্যের সাথে নিজেকে তুলনা করা যাবে না, প্রত্যকের প্রেক্ষাপট ভিন্ন তাই আপনার নিজ অবস্থানে থেকে চেষ্টা চালিয়ে যান, আলো আসবেই।

আপনার নিজের কাছে যদি টাকা না থাকে তাহলে আপনাকে টাকা কামানোর ভালো কিছু আইডিয়া জেনারেট করতে হবে আর তা যাদের কাছে টাকা আছে তাদের কাছে বিক্রি করতে হবে। টিকে থাকতে হলে আপনাকে কিছুটা ধূর্তও হতে হবে।

৫| ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ভোর ৪:৪৮

কামাল১৮ বলেছেন: যে কোন কাজে সফলতার জন্য সাহস একটা বিরাট বড় উপাধান।ভিতুরা সব সময় পেছনে পরে থাকে।সাহস করা মানে পজেটিভ চিন্তা করা।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.