নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

চিন্তাশীল মানুষ হওয়ার চেষ্টায় আছি

সাড়ে চুয়াত্তর

আমার লেখার মাঝে আমার পরিচয় পাবেন

সাড়ে চুয়াত্তর › বিস্তারিত পোস্টঃ

সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারের সমালোচনা

২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ দুপুর ২:২৮


পুরস্কার না পেলে একজন লেখক বা কবি কি সাহিত্য জগতে মর্যাদার আসন পেতে পারেন না? পুরস্কারটা কি খুব জরুরী? উত্তর হোল পুরস্কার পাওয়াটা জরুরী না তবে পুরস্কার একজন লেখক বা কবিকে আরও আত্মবিশ্বাসের সাথে লিখতে উৎসাহিত করে। পৃথিবীর অনেক বিখ্যাত কবি, সাহিত্যিক আছেন যারা তেমন ভালো কোন পুরস্কার পাননি অথচ তারা সাহিত্য জগতে চিরস্থায়ী আসন তৈরি করেছেন। অনেকে এমনও আছেন যারা তাদের জীবনকালে তেমন খ্যাতি পাননি ( জীবনানন্দ দাশ, সুকান্ত ভট্টাচার্য, জন কিটস প্রমুখ )। পৃথিবীতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সবচেয়ে সম্মানজনক ও আলোচিত সাহিত্য পুরস্কার দেয় নোবেল কর্তৃপক্ষ। তবে দেখা গেছে ভালোর মধ্যে ভালো বাছার ক্ষেত্রে অনেক সময় নোবেল কর্তৃপক্ষও সমালোচিত হয়েছেন। যাদেরকে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়েছে তারা অবশ্যই ভালো লেখক। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গেছে তার চেয়েও ভালো ও প্রতিষ্ঠিত লেখককে নোবেল কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে পুরস্কৃত করেনি যা সাহিত্যিক সমাজ সহজভাবে মেনে নিতে পারেনি ( যেমন লিও তলস্তয়, মার্ক টোয়েন, মেক্সিম গোরকি, ভারজিনিয়া উলফ – এরা নোবেল পুরষ্কার পাওয়ার যোগ্য ছিলেন )। লিও তলস্তয় ও মাক্সিম গোরকি ৫ বার নোবেলের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন কিন্তু তাদেরকে হতাশ করা হয়েছিল।

২০১২ সালে ওয়াল স্ট্রিট জারনালে প্রকাশিত প্রবন্ধে লেখক জোসেফ এপসটেইন নোবেল সাহিত্য পুরস্কারের সমালোচনা করে বলেছিলেন “নোবেল সাহিত্য পুরস্কার ছাড়াই কি সাহিত্য জগৎ ভালো থাকত? তবে এটা নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে নোবেল সাহিত্য পুরস্কার না থাকলেও সাহিত্য জগতের অবস্থা বর্তমানের চেয়ে খারাপ হতো না কারণ বর্তমানে দেয়া পুরস্কারগুলি না সত্যিকার সাহিত্যের জন্য মান (standard) তৈরি করে না সাহিত্যের মর্যাদা বৃদ্ধি করে।“ হয়ত উনি ক্ষোভ থেকে লিখেছেন। কিন্তু ওনার কথায় যুক্তি আছে।

আবার নোবেল পুরস্কারের মত পুরস্কার নিতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন এরকম পুরস্কার অমুখাপেক্ষী উন্নত দৃষ্টিভঙ্গির লেখকও আছে। ফরাসি দার্শনিক ও লেখক জঁ পল সার্ত্র এমনি একজন ব্যক্তি ছিলেন। অনেকে মনে করেন তার এক সময়ের বন্ধু আলব্যের কামুর তার আগে ১৯৫৭ সালে নোবেল প্রাপ্তিকে তিনি সহজভাবে নিতে পারেননি একারনে তিনি নোবেল প্রত্যাখ্যান করেছেন। কারণ তিনি মনে করেন কামুকে বিশ্বের কাছে পরিচিত করার ব্যাপারে তার অনেক জোড়াল ভূমিকা ছিল। ফলে ১৯৬৪ সালে তাঁকে নোবেল পুরস্কার দেয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই তিনি নোবেল কমিটিকে এই পুরস্কার যেন তাঁকে না দেয়া হয় এই মর্মে চিঠি লেখেন। তবে মনে হয় চিঠিটি যথা সময়ে না পৌঁছানোর কারণে বা চিঠিটা পরে দেখার কারণে তার নামে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। কিন্তু তিনি পুনরায় পুরস্কার না নেয়ার প্রকাশ্য ঘোষণা দেন এবং কারণ হিসাবে বলেন “তার এই সিদ্ধান্তের পেছনে যেমন ব্যক্তিগত কারণ রয়েছে, তেমনি রয়েছে বস্তুগত কারণও। কোনো লেখকেরই প্রাতিষ্ঠানিক পুরস্কার বা সম্মাননা গ্রহণ করা উচিত নয়। কারণ এ জাতীয় সম্মাননা লেখকের জন্য আপসকামিতার জন্ম দেয়। যে প্রতিষ্ঠান তাকে পুরস্কার দিচ্ছে, তার প্রভাব লেখকের সঙ্গে যুক্ত হোক—পাঠকের জন্য তা কাম্য নয়।“ ওনার পুরস্কার প্রত্যাখ্যানের কারণ ব্যক্তিগত ক্ষোভ হতে পারে আবার নাও হতে পারে। তবে তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন যে একজন প্রকৃত লেখক পুরস্কারের মুখাপেক্ষী নয়।

সাহিত্য পুরস্কার নিয়ে আমাদের দেশের প্রখ্যাত কথা সাহিত্যিক হাসান আজিজুল হককে সাক্ষাতকারের সময় প্রশ্ন করা হলে উনি বলেছেন।

প্রশ্ন: সাহিত্য পুরস্কার নিয়ে বিতর্ক সব সময়ই কম-বেশি থাকে। এখন খুব বেশি হচ্ছে। এ–সম্পর্কে আপনি কী ভাবছেন?

হাসান আজিজুল হক : সাহিত্য পুরস্কার নিয়ে ভাবাভাবির বেশি কিছু নেই। সত্যিকারের লেখক যিনি, তিনি কখনোই পুরস্কারের কথা মাথায় রেখে লেখেন না। তাঁর ধ্যান-জ্ঞান থাকে নিজের লেখাকে কীভাবে আরও উন্নত, আরও সমৃদ্ধ করা যায়। এই সমৃদ্ধ করার কোনো শেষবিন্দু নেই। কাজেই লেখকের সাধনারও কোনো শেষ নেই। পুরস্কারকে বলা যেতে পারে বাই-প্রডাক্ট। পুরস্কার পাওয়া বা না–পাওয়া প্রকৃত লেখককে ভাবিত করে না। পেলে মনে করতে হবে তিনি যে ধারায় কাজ করছেন, সে ধারাটিকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হলো মাত্র। অনেক বড় লেখক কোনো পুরস্কার না পেয়েই পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন। তাঁরা কেউ পুরস্কার না–পাওয়ায় নিজেদের লেখা বন্ধ করেননি বা তাঁদের রচনার সাহিত্যমূল্য কমে যায়নি। ( সূত্র – প্রথম আলো )

আসলে সাহিত্য চর্চা স্কুলের পরীক্ষার মত না। কেউ চাইলেই সাহিত্যিকদের মেধা ও কর্ম অনুসারে একটা মেধা তালিকা তৈরি করতে পারে না। নোবেল সাহিত্য পুরস্কারসহ পৃথিবীতে আরও যত আন্তর্জাতিক, জাতীয় ও অন্যান্য পর্যায়ের পুরস্কার আছে কোনটিই ত্রুটিমুক্ত ও সমালোচনার ঊর্ধ্বে না। এমন কোনও পদ্ধতি কোনও কর্তৃপক্ষই আবিষ্কার করতে পারেনি যার দ্বারা নিশ্চিতভাবে বলা যাবে যে যারা পুরস্কার পেয়েছেন তারাই একমাত্র শ্রেষ্ঠ লেখক।

নোবেল সাহিত্য পুরস্কার শুরু থেকেই ( ১৯০১ সালে) বিতর্ক তৈরি করেছে। অনেক সর্বজন স্বীকৃতি লেখক নোবেল কর্তৃপক্ষের অবহেলায় পতিত হয়েছেন রাজনৈতিক বা অন্য কোনও কারণে যা ঐ লেখকদের সাহিত্য সংক্রান্ত বিষয় ছিল না। লিও তলস্তয়, হেনরিক ইবসেন, এমিলি জোলা, এন্তন চেকভ ও মার্ক টোয়েনের মত লেখকরা মনোনীত হয়েও বাদ পড়েছেন। এর চেয়ে ওনাদের মনোনয়ন না দেয়াই বরং ভালো ছিল। কারণ এই মানের লেখকদের মনোনয়ন দিয়ে পুরস্কার না দেয়া এক ধরনের অপমান। রাশিয়ার প্রতি সুইডেনের দীর্ঘকালের বিদ্বেষের কারণে তলস্তয় ও এন্তন চেকভ নোবেল পুরস্কার পাননি বলে মনে করা হয়। প্রথম বিশ্ব যুদ্ধের সময় ও তার অব্যবহিত পরে নোবেল কমিটি যুদ্ধে জড়িত কোনও দেশের লেখককে পুরস্কার দেয় নি এই সংক্রান্ত তাদের সাময়িক নীতির কারণে। তাহলে দেখা যাচ্ছে যে আন্তর্জাতিক রাজনীতিও নোবেল সাহিত্য পুরস্কারকে প্রভাবিত করেছে। সাহিত্য মান নির্ণয় ও পুরস্কার প্রদানের ক্ষেত্রে এই রকম বিশ্ব রাজনীতি কখনই গ্রহণযোগ্য না।

নোবেল সাহিত্য পুরস্কারের বিরুদ্ধে আরেকটি অভিযোগ হোল ইউরোপীয়, বিশেষত সুইডিশ লেখকদের প্রতি পক্ষপাতিত্বপূর্ণ আচরণ। সুইডিশ পত্রিকাগুলি পর্যন্ত এই কাজের সমালোচনা করেছে বিভিন্ন সময়। সমগ্র এশিয়ার চেয়ে সুইডেনের লেখকরা বেশী পুরস্কার পেয়েছে। ২০০৮ সালে সুইডিশ নোবেল একাডেমীর তৎকালীন সেক্রেটারি হরেস এংদাহল বলেন যে “ইউরোপ এখনও সাহিত্যের কেন্দ্র”। তিনি সাহিত্যের ব্যাপারে আরও বলেন “যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত বিচ্ছিন্ন ও সঙ্কীর্ণ। তারা পর্যাপ্ত পরিমান অনুবাদ করে না এবং তারা সাহিত্যের বড় আসরগুলিতে ততটা অংশ গ্রহণ করে না।“

২০০৯ সালে ওনার জায়গায় যখন পিটার ইংলান্দ আসেন তখন তিনি এর বিপরীতে বলেন “বেশিরভাগ ভাষাতেই লেখকরা আছেন যারা নোবেল পুরস্কারের যোগ্য এবং যুক্তরাষ্ট্র ও বৃহত্তর আমেরিকাও এর মধ্যে শামিল।“ তিনি লেখা নির্বাচনের ক্ষেত্রে ইউরোপ কেন্দ্রিক প্রবনতা স্বীকার করেন ও বলেন যে “আমার মনে হয় এটা একটা সমস্যা। আমরা ইউরোপে লেখা ও ইউরোপের ঐতিহ্য, প্রথা ও আচার নিয়ে লেখাগুলিকে তুলনামুলকভাবে সহজে বুঝতে পারি।“ বোঝা যাচ্ছে নোবেল কমিটির অনেকের সাহিত্য সংক্রান্ত ধ্যান ধারণা ইউরোপকেন্দ্রিক ও অনেক ক্ষেত্রে ইউরোপের বাইরের লেখা ওনারা ইউরোপীয় লেখার মত সহজে বুঝতে পারেন না। এসব কারনেও সঠিক মূল্যায়ন হয় না।

লিও তলস্তয় ১৯০২ থেকে ১৯০৬ পর্যন্ত ৫ বার নোবেলের জন্য মনোনীত হন কিন্ত একবারও তাঁকে দেয়া হয়নি। এর আগে ১৯০১ সালে তাঁকে মনোনীত না করার জন্য নোবেল কমিটি ব্যাপক সমালোচনার মধ্যে পরে। ৪২ জন সুইডিশ লেখক তলস্তয়কে চিঠি লেখেন তাদের ক্ষোভ জানিয়ে। পরবর্তী বছরগুলিতেও লিও তলস্তয়কে নোবেল দেয়া হয়নি কারণ হিসাবে তলস্তয়ের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মতাদর্শের ব্যাপারে নোবেল কমিটির অনেকের দৃষ্টিভঙ্গি ও রাশিয়ার সাথে সুইডেনের তৎকালীন সম্পর্ককে দায়ী করেন সমালোচকরা।

২০১৮ সাল পর্যন্ত ১১৬ জনকে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয় যার মধ্যে ৭৫ জনই লিখেছেন ইউরোপীয় ভাষাতে। ২০১৮ এবং ২০১৯ সালেও যে দুইজনকে দেয়া হয়েছে তারা উভয়েই ইউরোপীয়। মনে হচ্ছে ইউরোপের ভুত নোবেল কমিটির মাথা থেকে যাচ্ছে না। ইউরোপের বাইরে ভালো সাহিত্য কম হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে তাদের পুরস্কার দেয়ার ধরণ দেখে।

২০১৯ সালে অস্ট্রিয়ার লেখক পিটার হ্যান্ডকেকে সাহিত্যে নোবেল দেয়া হয়। এই লেখক কনসেট্রেশন ক্যাম্প ও ফেসিজমের সমর্থক। তিনি দ্বিধাহীনভাবে ১৯৯০ এর দশকের বসনিয়ার মানুষের উপর সার্বদের নির্মম অত্যাচার সমর্থন করেছেন এবং আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধী স্লোবোডান মিলসেভিককে প্রশংসা করেছেন। এই লেখককে গত দুই দশক ধরে মানুষ ব্যাপকভাবে সমালোচনা করে আসছে তার এই ধরনের অবস্থানের জন্য। সাহিত্যের সাথে রাজনীতি বা লেখকের দৃষ্টিভঙ্গি মেশানো হয়ত ঠিক না। কিন্তু লেখক কর্তৃক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ও মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধের সমর্থন করাটাও কোনওভাবেই মেনে নেয়া যায় না। কারণ অন্যায়ের সমর্থনকারীরকে পুরস্কৃত করাটাও কতটা নৈতিক এই প্রশ্ন চলে আসে।

গায়ক ও গীতিকার বব ডিলানকে ২০১৬ সালে সাহিত্যে নোবেল দেয়া হয়। যদিও এই বিভাগে নোবেল দেয়ার কথা উপন্যাসিক, নাট্যকার, নন- ফিকশন লেখকদের। উনি মেধাবী একজন গায়ক ও গীতিকার তবুও এটা নিয়েও অনেক সমালোচনা হয় কারণ এই বিভাগের পুরস্কার গায়ক বা গীতিকারদের জন্য নয়। গানের কথা আর কবিতা এক কি না তা নিয়ে কিছু বিতর্কও আছে। সকলের মনে প্রশ্ন জাগে ২০১৬ সালে কি উপরোল্লিখিত বিভাগে দেয়ার মত আর কাউকে পাওয়া গেলো না। এটা মুলত নোবেল কমিটির একধরনের খামখেয়ালি কাজ।

বিখ্যাত কবি ও লেখক যারা নোবেল পুরস্কার পাননি তার মধ্যে লিও তলস্তয়, মেক্সিম গোরকি, মার্ক টোয়েন, ভারজিনিয়া উলফ, রবার্ট ফ্রসট, ভ্লাদিমির নবকব, এমিল জোলা, আন্তন চেকভ, হেনরিক ইবসেন, জেমস জয়স, ফ্রানয কাফকা, জর্জ লুই বরজিস, আর কে নারায়ণ, হারুকি মুরাকামি, টমাস হারদি, জন আপডাইক, আর্থার মিলার, বার্টল্ট ব্রেখ্ট, অগাস্ট স্ট্রিনবার্গ, ফ্রান্জ কাফকা, জোসেফ কনরাড, গার্সিয়া লোরকা, ডি এইচ লরেন্স, হেনরি জেমস, হোর্হে লুই বোর্হেস প্রমুখ উল্লেখযোগ্য। কয়েক বছর আগে মারা যাওয়া সাহিত্যিক চিনুয়া আচেব যাকে আধুনিক আফ্রিকান সাহিত্যের জনক বলা হয় এবং যিনি ১৯৫৮ সালে প্রকাশিত ‘থিংস ফল অ্যাপার্ট’ উপন্যাসটির মাধ্যমে দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বজুড়ে তার শক্তিমান অবস্থান ধরে রেখেছিলেন নোবেল কমিটি তাকেও নোবেল পুরস্কারের জন্য যোগ্য মনে করেনি। নোবেল কমিটির বিরুদ্ধে অনেকগুলো সমালোচনার একটি হচ্ছে তারা ‘ইউরোসেন্ট্রিক’ বা ইউরোপকেন্দ্রিক।

নোবেল পুরস্কার যেখানে সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয় সেখানে আরও যে সাহিত্য পুরস্কার দেশে-বিদেশে আছে সেগুলিও যে পুরোপুরি নিরপেক্ষ না এটা বোঝা যায়। কাজেই নোবেল বা অন্য সাহিত্য পুরস্কার না পাওয়া মানেই ভালো লেখক, কবি বা নাট্যকার না এমন মনে করার কোন কারণ নেই। কাজেই আমরা কামনা করবো লেখক ও কবিরা সাধারণ মানুষ ও সমাজের জন্যে লিখে যাবেন আপন মনে নিজের বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থেকে। মানুষের ভালোবাসা সবচেয়ে বড় পুরস্কার আর আনুষ্ঠানিক পুরস্কার প্রাপ্তি একটা বাড়তি সম্মান।

মন্তব্য ৩৬ টি রেটিং +১১/-০

মন্তব্য (৩৬) মন্তব্য লিখুন

১| ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ বিকাল ৩:১২

নীল আকাশ বলেছেন: ভালো টপিক নিয়ে লিখেছেন। নোবেল পুরষ্কার কালপ্রীট দের হাতে চলে গেছে।
হয়তো দেখবেন ট্রাম্পকেও শান্তি নোবেল দিয়ে দিতে পারে।
সাহিত্য মানদণ্ডে যারা যার নোবেল পেয়েছেন তাদের চাইতেও অনেক হাজারগুন ভাল লেখকরাও লিস্টে আসে নি।
কারণ হচ্ছে পাশ্চাত্যদেশগুলি তাবেদারী।
উদাহরণঃ রবীন্দ্রনাথ কে দেয়া হয়েছে কিন্তু নজরুল কে দেয়া হয় নি।

২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ বিকাল ৩:৩৭

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: নোবেল শান্তি পুরস্কার সাহিত্য পুরস্কারের চেয়ে বেশী বিতর্কিত বরাবরই। শুধু সাহিত্য পুরস্কার নিয়ে লিখলাম কারণ প্রত্যেকটার উপর পৃথক আলোচনা প্রয়োজন। পৃথিবীতে যারা যুদ্ধ আর অশান্তি করে এদের অনেককে দেয়া হয়েছে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার। হেনরি কিসিঞ্জারের মতো লোককে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেয়া হয়েছে অথচ মহাত্মা গান্ধীকে তারা যোগ্য মনে করেনি। আমার মতে অ্যামেরিকার কোনও রাষ্ট্রপতি এই পুরস্কারের যোগ্য হতে পারে না (যদিও দেয়া হয়েছে)। কারণ সারা বিশ্বে যুদ্ধ আর অশান্তির সবচেয়ে বড় কারণ যুক্তরাষ্ট্র। আর সেই দেশের প্রেসিডেন্ট এই ধরণের পররাষ্ট্রনীতির দায় দায়িত্ব এড়াতে পারে না।

২| ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ বিকাল ৩:৩০

রিনা রহমান বলেছেন: ইউনুস সাহেব কিভাবে শান্তিতে নোবেল পেলেন?

২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ বিকাল ৪:০৪

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ক্ষুদ্রঋণের ধারণা বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা পালনের জন্য ওনাকে ও গ্রামীণ ব্যাংককে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়েছে। ঐ সময় সাড়া বিশ্বে এই পুরস্কার নিয়ে কোনও বিরুপ সমালোচনা দেখা যায় নাই। এই ক্ষুদ্রঋণ সত্যিই কতটা কার্যকর সেটা নিয়ে বিতর্ক যদিও আছে। তবে ওনাকে অর্থনীতিতে না দিয়ে শান্তিতে কেন দেয়া হল তার ব্যাখ্যায় নোবেল কর্তৃপক্ষ বলেছেন যে শান্তি স্থায়ী হতে পারে না যদি না বৃহৎ দরিদ্র জনগোষ্ঠী দরিদ্রতা থেকে মুক্তির উপায় খুঁজে পায়। নোবেল শান্তি পুরস্কার লবিং ছাড়া হয় না বলে শুনেছি।

৩| ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ বিকাল ৪:১৫

রাজীব নুর বলেছেন: আপনার আলোচনা পড়লাম। ভালো আলোচনা। কোনো সমালোচনা তো খুঁজে পেলাম না।

২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ বিকাল ৪:৩৫

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: আপনার রসবোধের প্রশংসা না করে পারছি না।

৪| ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:২৩

শেরজা তপন বলেছেন: খুব ভাল লাগল- অনেক অজানা তথ্য ও ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ দারুন ছিল!

২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:০৮

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ ধৈর্য নিয়ে পড়ার জন্য। ভালো থাকবেন।

৫| ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ৯:০২

নেওয়াজ আলি বলেছেন: রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিল বাংলাদেশ নোবেল পেলো না । আফসোস

২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ৯:১৩

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: রহিঙ্গারা যখন সবাই এই দেশে আসবে তখন হয়ত ব্যাপারটা বিবেচনা করা হবে। কারণ রোহিঙ্গাদের আশা এখনও শেষ হয় নাই। তাই হতাশ হওয়ার কোন কারণ নাই।

৬| ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ৯:৪১

মনিরা সুলতানা বলেছেন: ভালো লিখেছেন।

২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ৯:৪৪

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: পোস্টটি পড়ার জন্য ও মন্তব্যের জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

৭| ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ১০:৪৭

রাজীব নুর বলেছেন: লেখক বলেছেন: আপনার রসবোধের প্রশংসা না করে পারছি না।

আমার বন্ধুরা কোথাও গেলে আমাকে সাথে নিবেই। আমি না গেলে তারাও যাবে না। আমি তাদের সাথে না গেলে নাকি তাদের ট্যুর আনন্দময় হবে না।

২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ১১:০৫

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: আপনাকে না দেখেই আমি তা বুঝে ফেলেছি। জীবনকে যে কোনও পরিস্থিতিতে কিভাবে উপভোগ করতে হয় তা আপনি জানেন। হুমায়ূন আহমেদেরও এই গুণ ছিল। আপনি তার যোগ্য পাঠক।

৮| ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ১:০০

অনল চৌধুরী বলেছেন: পৃথিবীর প্রায় প্রতিটা পুরস্কার রাজনৈতিক বিবেচনায় দেয়া হয়। সৎ উদ্দেশ্যে দেয়া হলে কোনো আপত্তি থাকে না, আপত্তি হয় হীন উদ্দেশ্যে দিলে।
নাগিব মাহফুজ বা নাদিম গর্ডিমাররা শত শত নোবেল পেলেও পাঠকদের কাছে চিরদিনই অপরিচিত থেকে যাবেন যেমন পরিচিত থাকবনে টলষ্টয়, গোর্কি আর নজরুলরা।
নোবেল শান্তি পুরস্কার পরিকল্পিভাবে পৃথিবীর নিকৃষ্ট অপরাধীদের দেয়া হয়। খুনী ইহুদী কিসিজ্ঞার আর আইজাক রবিন, সুদখোর ই্উনুস, পিশাচীনি সুকি আর কালো ভ্ড ওবামা নোবেল পাওয়াই প্রমাণ করে-্শান্তি পুরস্কারটা সবসময় বড় অশান্তি সৃষ্টিকারীদের জন্যই বরাদ্দ থাকে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা আর একুশে পুরস্কার দেয়া হয়েছে রাজাকার এবং মিডিয়ার পরিচিত কূখ্যাতদের।
এক মেয়ের দালাল এবং ৩ বছর ধরে হঠাৎ কবি হওয়া সংবাদ পাঠিকা নামধারী পেশাদার পতিতার পাওয়া পুরস্কারের তালিকা দেখলে রবীন্দ্রনাথও চমকে উঠতেন।
তবে লবিং-এর মতো টাকা বা ক্ষমতা নাই জন্য তারা এখনো নোবেল সাহিত্য পুরস্কার পায়নি।

২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ সকাল ৯:৪৭

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: আপনার পুরো বক্তব্যের সাথে আমি একমত। আমি যা বলতে চেয়েছি তা আপনি চাঁছাছোলাভাবে বলেছেন কোনও রাখঢাক না করে। ধন্যবাদ।

৯| ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ১:৫৫

কল্পদ্রুম বলেছেন: জ্যা পল সাঁত্রের বক্তব্যটা পছন্দ হলো। সাহিত্যের নোবেল পুরষ্কারও বেশ বিতর্ক তৈরি করছে। আগেও ছিলো দেখছি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নোবেল পুরষ্কার প্রাপ্তির ব্যাপারে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়কে একটি র‍্যান্ডম ইন্টারভিউতে (ঠিক ইন্টারভিউও নয়। এমনিতেই কাউকে কিছু কথার উত্তর দিচ্ছিলেন) বলতে শুনেছিলাম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর কালে সৌভাগ্যবান ছিলেন। ঐ সময়ে পশ্চিমারা এই অঞ্চলের সাহিত্যের প্রতি আগ্রহী হয়েছিলো বলেই তিনি এত পরিচিতি পেয়েছিলেন। নোবেল কমিটির কাছে তাঁর লেখা পৌছে ছিলো।
সুনীলের কথা সত্যি হলে আমার ধারণা রবীন্দ্রনাথের পরের সময়কালের সাহিত্যিকদের এই ভাগ্য হয়নি।

২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ সকাল ১০:০৬

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় মনে হয় ঠিকই বলেছেন। কারণ আসলে নোবেল কমিটির চিন্তাধারা ও আগ্রহের সাথে মিল থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দেখা গেছে অনেক ক্ষেত্রে তাদের চিন্তাধারা ও আগ্রহ অনেক মেধাবীকে বঞ্চিত করেছে তাদের নিজস্ব মানদণ্ডের কারণে। পৃথিবীর অঞ্চল ভেদে সাহিত্যের রীতি বা ধরনে বৈচিত্র্য আছে। আফ্রিকার একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর সাহিত্য উপাদানের সাথে শেক্সপিয়ারের সাহিত্য উপাদান মেলানো যাবে না। তাই বলে আফ্রিকার এই ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর সাহিত্যের উপাদানকে ছোট করে দেখারও কোনও সুযোগ নাই কারণ ঐ সমাজের জন্য তা প্রাসঙ্গিক। এই পার্থক্যের কারণে অনেক সময় অনেক বিদেশী সাহিত্য কর্ম আমাদের অনেক সময় আকর্ষণ করে না কারণ আমরা সেগুলির ভিতরে ঢুকতে পারি না আমাদের জন্ম থেকে গড়ে ওঠা আমাদের সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে।

১০| ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ সকাল ১০:১৬

নুরুলইসলা০৬০৪ বলেছেন: পড়লাম,জানলামএবং উপভোগ করলাম।সুন্দর লিখেছেন।

২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ সকাল ১০:৫২

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: উপভোগ করেছেন জেনে ভালো লাগলো। ধন্যবাদ।

১১| ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ দুপুর ১:০০

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: সুন্দর আলোচনা করেছেন। এক টলস্টয়ের ৫বার নমিনেশন পেয়ে একবারও নোবেল না দেয়াই প্রমাণ করে নোবেল কমিটি কতখানি একচোখা ও গোয়ারগোবিন্দ।

যদ্দূর জেনেছিলাম, একজনকে সাহিত্যে নোবেল দিতে হলে ৫ বছর আগে থেকে তার সাহিত্যকর্মের উপর পর্যালোচনা শুরু হয়। খুব গোপনে কাজটা চলে। রিজিয়ন ভিত্তিক সদস্য আছে এ কাজে সহায়তা করার জন্য।

সারাবিশ্ব থেকে বাছাই করে একজনকে নোবেল দেয়ার কাজটা এমনিতেও কঠিন। কারণ হলো, প্রথমত ভাষা। নিজ ভাষায় অনেক ভালো লেখেন, কিন্তু ইংরেজি অনুবাদ অরিজিন্যাল ভাষার মতো হয় নি; কিংবা যার সাহিত্য ইংরেজিতে অনুবাদই হলো না, তিনি 'বিচার' ছাড়াই নোবেল কমিটি থেকে বাদ পড়ে গেলেন। আবার, ভালো অনুবাদকের বদান্যতায় অপেক্ষাকৃত নিম্নমানের একজনের লেখা উৎরে যেতে পারে। এর বাইরে, পরিচিতিরও একটা ব্যাপার থাকে। সব মিলিয়ে বলা যায়, নোবেল প্রাইজ পেলেই যে তিনি সেরা লেখক, ব্যাপারটা তা হতে পারে না।

তবে, নোবেল প্রাইজ একটা স্ট্যান্ডার্ড সেট করে দেয়। বাংলায় এখন আপনি যত ভালোই লিখুন না কেন, নোবেল প্রাইজ না পর্যন্ত আপনার অবস্থান রবীন্দ্রনাথের নীচেই থাকবে। আর হঠাৎ আমি নোবেল প্রাইজ পেয়ে গেলে আমি নজরুল, জীবনানন্দ দাশকে এক লাফে ছাড়িয়ে যাব।

আমাদের দেশের দেশের সাহিত্য পুরস্কার এখন সবচাইতে বেশি সমালোচনার মুখে আছে, বিশেষ করে বাংলা একাডেমীর পুরস্কার। পুরস্কার প্রাপ্তিটা এখন এমন চোখে দেখা হয় যে, জেনুইন একজনে পুরস্কার পেলেও মনে হবে তিনি লবিং করেই পুরস্কারটা হাতিয়ে নিয়েছেন।

চমৎকার পোস্টটার জন্য অনেক অনেক শুভ কামনা রইল।

২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ দুপুর ২:২৮

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: অনুবাদের আর পরিচিতির ব্যাপারটা আপনি ঠিক বলেছেন। আমাদের অনেক ভালো লেখক আছেন কিন্তু তাদের লেখা অনুবাদ করে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেয়ার মতো উদ্যোগ কম। ফলে আমাদের দেশের লেখকরা বিশ্বের দরবারে তেমন পরিচিত না। অনুবাদের মানও একটা ব্যাপার। আর সাহিত্যের ক্ষেত্রে ( বিশেষ করে কাব্য) অনুবাদ কখনই মূল রচনায় একজন লেখক যে অনুভুতি ব্যক্ত করতে চান তা পুরোপুরিভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারে না। কারণ অনেক অনুভুতি আছে যেটা অন্য ভাষায় সঠিকভাবে বুঝানো সম্ভব না। রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং তার গীতাঞ্জলী অনুবাদ করেছিলেন। এরকম কাজ সবার পক্ষে সম্ভব না। অবশ্যই নোবেল পুরস্কার একটা মান নিশ্চিত করে। খারাপ লেখা লেখা নোবেল পেয়েছে বলে শোনা যায় না। নোবেল পাওয়ার পরে ঐ লেখকের বইয়ের বিক্রি বেড়ে যায়। এটা প্রমাণিত সত্য। আবার কোনও ভাষায় যখন নোবেল পুরস্কার বেশী আসে তখন ঐ ভাষার লেখার প্রতি বিশ্বের পাঠকদের নজর পরে ও ঐ ভাষার সাহিত্যকর্মগুলি বেশী পঠিত হয়।

১২| ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ দুপুর ১:২৭

রাজীব নুর বলেছেন: লেখক বলেছেন: আপনাকে না দেখেই আমি তা বুঝে ফেলেছি। জীবনকে যে কোনও পরিস্থিতিতে কিভাবে উপভোগ করতে হয় তা আপনি জানেন। হুমায়ূন আহমেদেরও এই গুণ ছিল। আপনি তার যোগ্য পাঠক।

হুমায়ূন আহমেদ আমার বস। তার তুলনা হয় না। যারা আমার বসকে মন্দ বলে তারা বসের কোনো বই ই পড়ে নাই। অয়ের মুখে শোনা কথা তারা ফুলিয়ে ফালিয়ে বলে।

২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ দুপুর ২:৩৩

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: আসলে গানের যেমন বহু ধরন আছে সাহিত্যের ক্ষেত্রেও তেমনি বহু রকমের ধারা আছে। সব ধরণের সাহিত্য সবার ভালো নাও লাগতে পারে। দেশ ও জাতি ভেদেও সাহিত্যের ধারা একরকম না। ফলে আমাদের সাহিত্য হয়তো ইউরোপীয়দের ভালো নাও লাগতে পারে এবং ভাইস ভারসা। হুমায়ূন আহমেদ নিজে একটি ধারা তৈরি করেছেন বলা যায়। সমালোচনার ঊর্ধ্বে কোনও লেখকই নন। বহু বড় বড় লেখককে নিয়ে অনেক সমালোচনা আছে। তবে সার্বিকভাবে একজন লেখক তার পাঠকদের কিছু দেতে পেরেছেন কি না এটা দেখা দরকার। এই ব্যাপারে হুমায়ূন আহমেদের অবদানকে ছোট করা ঠিক না।

১৩| ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ বিকাল ৩:৪৯

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: ভীষণ গোছানো এবং প্রসঙ্গিক আলোচনা। পাঠক হিসেবে মুগ্ধ হলাম।
++

শুভেচ্ছা নিয়েন প্রিয় সাড়ে চুয়াত্তর ভাই।

২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ বিকাল ৩:৫৩

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: পদাতিক দা লেখাটা পড়ে সন্তুষ্ট হয়েছেন মনে হয়। অনেক ধন্যবাদ প্লাস দেয়ার জন্য।

১৪| ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ৯:৫৫

মা.হাসান বলেছেন: শেষের আগের প্যারায় যে সব যোগ্য লেখক নোবেল পায় নাই এদের যে কয়েকটা উদাহরণ দিলেন তার মধ্যে ব্লগের কেউ নাই দেখে আমি হতাশ।

সাম্প্রতিক সময়ে নোবেলের কান্ডকারখান দেখে এটাকে ওভার রেটেড মনে হয় (অন্তত সাহিত্য এবং শান্তির ক্ষেত্রে)। লেখক নিজের তাড়না থেকে লেখেন, পাঠকের প্রতিক্রিয়া বা পুরস্কারের কারনে লিখলে লেখার স্বাভাবিকতা থাকে না। নোবেল বলেন, বুকার বলেন, সোলঝেনিতসিন বলেন- একজন লেখক যখন পুরস্কার পান তখন তার নাম আলোচনায় আসে, বই সহজলভ্য হয়, অনেকের পক্ষে পড়া সহজ হয়ে যায়। এটা ছাড়া পুরস্কারের ভালো দিক তেমন দেখি না। বাংলা একাডেমির বিষয়ে সোনাবীজ ভাই যা বলেছেন একমত। এই বিষয়ে বাংলা একাডেমিকে নোবেল দেয়া যায়।

২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ১০:১৬

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: ব্লগের কারও নাম দেয়নি কারণ কে কখন পেয়ে যান বলা তো যায় না। অনেকেই ছদ্ম নামে লেখেন। এই নামের আড়ালে রথি মহারথী কারা আছেন বোঝা ভার। তাই নাম উল্লেখ করলে আবার তা মোছার ঝামেলা থেকে যেত।

সমস্যা হোল এই ধরনের সাহিত্য পুরস্কারের ক্ষেত্রে যোগ্য লোক রেখে যখন অন্য লোককে পুরস্কার দেয়া হয় তখন প্রকৃত গুনি লেখকরা হতাশায় ভুগতে থাকেন। প্রকৃত গুণী লেখকরা অনেকেই অন্তর্মুখী ওনাদের প্রতিভার কথা ছড়াতে সময় লাগে।

১৫| ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:১৭

আমি সাজিদ বলেছেন: আমি আসলে বর্তমান সময়ে নোবেল পাওয়া লেখকদের বই পড়িনি। গাব্রিয়েলের অনুবাদ পড়ার চেষ্টা করেছিলাম।

২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ৮:০৯

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: আমিও নোবেল পাওয়া লেখকদের বই কমই পড়েছি। যারা পাচ্ছে তাদের লেখা হয়ত খারাপ না কিন্তু সমস্যা হোল আরও অনেকে যোগ্য হওয়া সত্যেও পাচ্ছেন না লবিং এর অভাবের কারণে।

১৬| ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ৮:৩৭

ভুয়া মফিজ বলেছেন: মানুষ জন্মগতভাবেই জ্ঞাতসারে কিংবা অজ্ঞাতসারে স্বজনপ্রীতির দোষে দুষ্ট। সুতরাং কোনও পুরস্কারই বিতর্কের উর্ধে না। বিতর্ক বিতর্কের জায়গায় থাকুক। পুরস্কার যারা পাচ্ছেন, তারা নিঃসন্দেহে মেধাবী। যারা পাচ্ছেন না, তাদের মধ্যেও মেধার অভাব নাই। আসলে সাহিত্য, শান্তি এ'জাতীয় ক্যাটাগরীগুলোর ক্ষেত্রে নোবেল কমিটির রিফর্মেশানের প্রয়োজন আছে। এতে করে সমালোচনা হয়তো বন্ধ করা যাবে না, তবে অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব।

২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ৮:৪৭

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: আপনার কথা ঠিক যে কিছু সমালোচনা থাকবেই। এটাকে শূন্যের কোঠায় আনা যাবে না। আর নোবেল যারা পাচ্ছে তারা মেধাবী নিঃসন্দেহে। তবে চেষ্টা করলে এই সমালোচনার মাত্রাকে গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে আনা সম্ভব যদি আপনি যে পরামর্শ দিয়েছেন সেটা করা হয় বা অন্য আরও কিছু উদ্যোগ নেয়া যায়। তবে নোবেল পুরস্কারকে সারা বিশ্বে যেহেতু মানুষ অনেক মূল্য দেয় তাই এটাকে গুটি কয়েক লোকের সিদ্ধান্ত থেকে কিভাবে আরও আরও গুনি লোকের মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার মধ্যে আনা যায় সেই চেষ্টা করা উচিত।

১৭| ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ বিকাল ৪:৪১

নাসরিন ইসলাম বলেছেন: লেখাটি পড়ে ভালো লাগলো। শুভেচ্ছা।

৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ বিকাল ৪:৫০

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: লেখাটি আপনার ভালো লেগেছে জেনে পরিশ্রমটা সার্থক মনে হচ্ছে। ভালো থাকবেন। ধন্যবাদ।

১৮| ১৫ ই অক্টোবর, ২০২০ রাত ৯:০২

আহমেদ জী এস বলেছেন: সাড়ে চুয়াত্তর,




সুন্দর বিশ্লেষিত লেখা।

এটা ইদানিং দিনের মতো পরিষ্কার যে, নোবেল পুরষ্কার এখন যতোটা না মেধার তারও চেয়ে বেশী যেন রাজনৈতিক ও ভৌগলিক পক্ষপাতিত্বমূলক চরিত্রের হয়ে উঠছে।

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই তার মন্তব্যের ২ ও ৩ নম্বর প্যারায় সাহিত্যের ব্যাপারে নোবেল প্রাপ্তির সাতকাহন ঠিকঠাক চিত্রিত করেছেন।

১৫ ই অক্টোবর, ২০২০ রাত ৯:১০

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: আহমেদ জি এস ভাই আপনার কথাটাই আমি বিস্তারিত বর্ণনা করার চেষ্টা করেছি। সোনাবীজ ভাইয়ের বিশ্লেষণ পোস্টের বক্তব্যকে আরও জোরালো করেছে। ধন্যবাদ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.