নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সংবাদ

শািব্বর েহােসন

এখন বলব না।

শািব্বর েহােসন › বিস্তারিত পোস্টঃ

জামায়াতের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে খোলা চিঠি

১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ১২:৫৬

জামায়াতের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে

খোলা চিঠি


জামায়াতের নেতা-কর্মীবৃন্দ ভাই ও বোনেরা - আস্‌সালামু আলাইকুম ওয়া রাহ্‌মাতুল্লাহ্‌।

দেশের যে পরিসি'তি তাতে আপনারা যে ভালো নেই তা তো দেখতেই পাচ্ছি। আপনাদের দল সরকারীভাবে নিবন্ধিত একটি রাজনৈতিক দল কোনো সন্দেহ নেই। গত কিছুদিন যাবত আপনাদেরকে যেমন কোনো অনুষ্ঠান করতে দেয়া হচ্ছে না এটা যেমন ঠিক তেমনি আপনারাও আইন নিজের হাতে তুলে নেবার মতো দুঃসাহস দেখিয়েছেন যা কাম্য নয়।

আপনাদের আন্দোলনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আপনারা কী পরিষ্কার ধারণা রাখেন? নাকি আবেগের বশবর্তী হয়ে সব কিছু করছেন?

আমার ক্ষুদ্র জ্ঞান ও বুঝে যা পেলাম তা হলো আপনারা আপনাদের কয়েকজন নেতার নামে যে অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছেন।

‘জন্মিলে মরিতে হইবে’ যেমন ঠিক তেমনি অপরাধ করলে শাসি- পেতে হবে এটাও একদম সত্য কথা। যার অপরাধ যত বড় তার সাজাও তত বড় হয় এটাই জগতের নিয়ম। শুধু জগতের কেন? আমরা বিভিন্ন কিতাবেও পড়েছি মৃত্যুর পর আমাদের সমস- কাজের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব নেয়া হবে। যাদের পাপ বেশি তাদের সাজাও বেশি হবে।

এ পর্যন- আপনাদের বড়জোর ১০/১২ জন নেতার নামে মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ উঠেছে। আজ সূর্যের আলোর মতো ধ্রুব সত্যে প্রমাণিত যে আপনাদের নেতৃবৃন্দ সেদিন ক্ষমার্হ অপরাধ করেছিলেন।

কোনো সন্দেহ নেই আপনাদের জ্ঞান, এলেম, বিচার-বুদ্ধি ক্ষমতা যথেষ্ট উন্নত। তাহলে কোন্‌ যুক্তিতে একজন অপরাধীর জন্য আপনারা নিজেদের মূল্যবান জীবনকে শেষ করে দিতে উদ্যত? একজন অপরাধীকে সমর্থন করে আপনাদের ইহকালীন ও পারকালীন কোনো ফায়দা আছে কী?

ধরা যাক, আপনাদের আন্দোলনে সরকার বাধ্য হলো আপনাদের নেতাদেরকে নির্দোষ হিসেবে ছেড়ে দিতে। এতে করে আপনাদের লাভ কী? নেতারা তো বেঁচে যাবেন কিন' আপনারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যা করলেন তার মূল্য কি পাবেন?

এটাই রাজনীতির খেলা। আপনাদের আন্দোলনে নেতারা যদি বেঁচেও (!) যান, আপনি নিশ্চিত থাকুন আপনাদের এ অবদানকে কেউ কোনো দিন মনে রাখবে না। অতীতেও রাখেনি আর ভবিষ্যতেও রাখবে না। তাহলে কেন স্রষ্টা প্রদত্ত আপনার এ সুন্দর জীবনটাকে আপনি ধ্বংস করতে যাচ্ছেন?

ভদ্র ঘরের সন-ান হয়েও আজ আপনাদেরকে জারজ থেকে শুরু করে কত জঘন্য গালি শুনতে হচ্ছে। কেন আপনারা ঐসব লম্পট অপরাধীদের জন্য নিজের বাবা-মা‘কে অসম্মানীত করবেন?

আজ শাহবাগে প্রজন্ম স্কয়ারে যে ঢেউ উঠেছে তার তপ্ত নিশ্বাস কী আপনারা শুনতে পান? বিরুদ্ধবাদীরা বহু অভিযোগ করছে। অমুকে পেছন থেকে আন্দোলনকে চাঙ্গা করেছে ইত্যাদি ইত্যাদি। সে যেই করে থাকুক না কেন - তারণ্যের যে জোয়ার আজ উঠেছে, যে গণদাবী নিয়ে তারা একত্রিত তার সুর কোথায় আপনারা কী শুনতে পান?

আমার মনে হয় আপনারা তা ঠিকভাবে শুনতে পাননি। কেননা আপনাদের কান আবেগ নামক শব্দে বন্ধ হয়ে আছে। ভালোভাবে শুনে দেখুন - তারুণ্যের মাঝে আমাদের স্বাধীনতা বিরোধীদের ব্যাপারে প্রচন্ড রকম ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ আজ কীভাবে ঘটছে। ৪০ বছর নয় ৪০০ বছর পরে হলেও তখনকার তারুণ্যের মাঝেও আপনারা একই রকম ঘৃণার প্রকাশ দেখতে পাবেন।

মাত্র হাতে গোনা কয়েকজন ব্যক্তির অপকর্মের কলংক আপনারা আর কতদিন বয়ে বেড়াবেন? আর কতদিন ঘৃণিত হবেন দেশবাসীর কাছে? আর কতদিন এভাবে ইসলামের নামে নেতাদের জন্য নিজের মূল্যবান জীবনটা দিবেন?

তারচেয়ে বরং আপনারাও এ সমস- কলংকিত খলনায়কদেরকে বর্জন করুন। আইনকে চলতে দিন তার নিজস্ব গতিতে। যদি আপনাদের নেতারা দোষী সাব্যস- হয়ে সাজা পায়, পেতে দিন। যার যার কর্মের ফল তাকেই পেতে হবে। হাশরের মাঠে কী আপনারা আপনাদের নেতাদেরকে বাঁচাবার জন্য কোনো কিছু করতে পারবেন? আপনাদের কলংকিত নেতাদেরকে দল থেকে মুক্তি দিয়ে বিচার প্রক্রিয়াকে সহজ করে দিন এবং নতুন নেতা (সমস- কলংকিতদেরকে বের করার পর) নির্বাচন করে নতুন ভাবে রাজনীতি শুরু করুন। তাতে জনগণকে পাশে পাবেন। পায়ে দগদগে ঘা হলে প্রয়োজনে পা কেটে ফেলে শরীরের অন্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে রক্ষা করাই হলো বুদ্ধিমানের কাজ। নতুবা একদিন ঐ ঘা বড় ধরণের ক্ষত সৃষ্টি করে অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকেও নষ্ট করে দেবে। এত বড় বোকা নিশ্চয় আপনারা নন।

আপনারা যদি আপনাদের অভিযুক্ত এসব নেতাদেরকে সত্যি সত্যিই ভালোবেসে থাকেন তবে রায় মেনে তাদেরকে সাজা পেতে দিন। তাদের অপকর্মের সাজা এখান থেকে কিছু পেয়ে গেলে আখেরাতে সাজা কম হবার সম্ভাবনা রয়েছে। নতুবা তাদের এ সমস- জঘন্য অপরাধের জন্য নির্ধারিত রয়েছে কঠিন যন্ত্রণাদায়ক শাসি-। আপনারা নিশ্চয় চাইবেন না আপনাদের নেতারা সেই অনন- জীবনে কঠিন শাসি-র মুখোমুখি হোক।

আজ সময় এসেছে যার যা প্রাপ্য তাকে তা বুঝিয়ে দেবার। আজকের তারুণ্য এটা অবশ্যই প্রমাণ করবে কেননা শহীদদের কাছে তাদের ঋণ তো প্রচুর। আজ এ ঋণ শুধতেই হবে। সকল শহীদদের কাছে আজকের তারুণ্য একটি বার্তাই পৌঁছে দিতে চায় - হে শহীদ সকল! তোমরা ঘুমাও শানি-তে, আমরা আজো জেগে আছি অতন্দ্র প্রহরীর মতো তোমাদের বদলা নিতে, আমরা ভুলে যাইনি তোমাদের ঋণ, হোক না যতই পাহাড় সম, শুধবোই একদিন।

মন্তব্য ২ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ১:১৫

("_") বলেছেন: ফাসিঁ ফাঁসি ফাঁসি চাই, রাজাকারের ফাসিঁ চাই..
ধর্মের নামে রাজনীতি নিষিদ্ধ কর... করতে হবে।

২| ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ সকাল ১০:০৫

আখিলিস বলেছেন: No point telling these bustards. They have already sold their Brain and Heart.

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.